সুষ্ঠু হবে নির্বাচন মাথা ঘামানোর দরকার নেই বিদেশিদের

0
52

বিএনপির নালিশের ওপর ভর করে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের মাথা না ঘামানোর আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কূটনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বিএনপি যতই নালিশ করুক, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমার দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, পক্ষপাতহীন এবং অংশগ্রহণমূলক একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন হবে। আপনাদের কারও এ নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই। হাঁটু ভাঙা, কোমর ভাঙা (বিএনপি) দল যতই কাকুতি-মিনতি করুক, এদের প্রলাপ শুনে লাভ নেই।

Untitled design 8

বিএনপি যতই নালিশ করুক আমার দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, পক্ষপাতহীন এবং অংশগ্রহণমূলক একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন হবেওবায়দুল কাদের

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কয়েক মাস ধরেই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা। তাঁদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। এসব আলোচনায় তাঁরা নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছেন। এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে। যদিও বিএনপি এসব বৈঠকে জানিয়েছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলেছে, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। কূটনীতিকদের দেশের জনগণের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কথা বলুন জনগণের সঙ্গে গিয়ে। এ নগরীতে জনস্রোতের মধ্যে কূটনীতিক বন্ধুরা আপনারা সিভিলে গিয়ে কথা বলুন। মানুষ কী চায়।’

নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশ থেকে কেনাকাটা না করার যে বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যার সাহস আছে। কাউকে ছেড়ে কথা বলেন না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা সত্যের প্রশ্নে আপস করেন না। অসত্যের কাছে নত নাহি হবে শির, ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ, লড়ে যায় বীর।’

প্রায় এক যুগ বিএনপির সম্মেলন হয় না দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে কোনো সম্মেলন ছাড়া মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের তিনটা সম্মেলন হয়েছে। ঘরে যাদের গণতন্ত্র নেই, তারা দেশে গণতন্ত্র কীভাবে দেবে? তিনি বলেন, ‘কূটনীতিক বন্ধুদের বলব, এই কথাটা তাদের জিজ্ঞেস করুন। তাদের ঘরে গণতন্ত্র নেই কেন?’

পাল্টাপাল্টি নয় পাল্টাপাল্টি নয়

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, আওয়ামী লীগ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি করছে না। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যেখানেই আওয়ামী লীগ কর্মসূচি দিয়েছে, সেখানেই বিএনপির সহযোগী সংগঠন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে পণ্ড করে দিয়েছে। এখন তো তা হচ্ছে না।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, আফজাল হোসেন, ত্রাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর।

এখন ওয়ার্মআপ, ফাইনাল খেলা পরে

বিএনপির আন্দোলনের ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন ওয়ার্মআপ ম্যাচ হচ্ছে। আসল খেলা হবে আরও পরে। এ জন্য নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, প্রস্তুত থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নির্বাচনও ঘনিয়ে আসছে। তারা (বিএনপি) যত চেষ্টাই করুক, বাংলাদেশে সময় আর স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। সংবিধান আর নির্বাচন কারও জন্য বসে থাকবে না। বাংলাদেশের সংবিধানই বলে দেবে কীভাবে নির্বাচন হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। শেখ হাসিনার পেছনে বাংলাদেশের মানুষ আছে।’

বিএনপি আন্দোলনে ও নির্বাচনে পরাজিত হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগেরবার ড. কামাল হোসেন ছিলেন। এবার তো তিনিও নেই। আন্দোলনেও নেতা নেই, নির্বাচনেও নেতা নেই।

বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি আসলে অন্তিমযাত্রা। ওপরে ওপরে পদযাত্রা, তলে তলে সহিংসতার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আগুন–সন্ত্রাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তুত। সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিএনপি নেতারা বিদেশিদের কাছে নালিশ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা বিদেশিদের কাছে নালিশ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। শেখ হাসিনার পতন ঘাটাতে তারা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা বলছে আওয়ামী লীগ রোষানলে পড়বে। তারা জনরোষে পড়েছে? আবারও মানুষের জানমালের ক্ষতি করতে এলে তাদের বিরুদ্ধে জনরোষ সৃষ্টি হবে। খেলা হবে। আসল খেলা এখনো বাকি।

বিএনপির দুটি গুজবের কারখানা আছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি গুজবের কারখানা গুলশানে (বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়)। সেখান থেকে প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করছে। আরেকটি মিথ্যার কারখানা হচ্ছে নয়াপল্টনে (বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়)। সেখানে মাইক লাগিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে অনবরত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিশ্বনেতা

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, বিশ্বনেতায় রূপান্তরিত হয়েছেন।
চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশন শুরু উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী। এরপর বিএনপি নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

Untitled design 9

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, বিশ্বনেতায় রূপান্তরিত হয়েছেনতথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিএনপির মহাসচিবসহ অন্য নেতারা বিশ্বময় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে গ্রহণযোগ্যতা, তাঁর প্রতি বিশ্বনেতাদের এবং বিশ্ব অঙ্গনের যে আস্থা, সেটি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে অত্যন্ত সফল সফর করে এসেছেন। পদ্মা সেতু থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বিশ্বব্যাংক নিজেরাই বাংলাদেশকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা ঋণসহায়তার প্রস্তাব করেছে। জাপান বিভিন্ন প্রকল্পে তিন হাজার কোটি ইয়েন সাহায্য করবে। আর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বলেছেন যে “আপনি আমাদের আইডল, আমার মেয়েদেরও আইডল।” আর বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে ১৬ মে জাতিসংঘ “দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ” প্রস্তাব এনে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে, সেই প্রস্তাব বাংলাদেশের সঙ্গে ৭১টি দেশ কো-স্পন্সর করেছে, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বময় আছে কি না, তা বলার কোনো প্রয়োজন নেই। যাদের বুদ্ধি, বোধশক্তি আছে, তারা এগুলো বুঝতে পারে, শুধু বিএনপি নেতারাই তা বোঝেন না। দৃষ্টিহীনতা ও শ্রবণহীনতার সঙ্গে তাঁরা বোধশক্তিহীনও হয়ে গেলেন কি না, সেটি আমার বোধগম্য নয়।’
বিএনপির আন্দোলন প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, গাড়ি বসে গেলে সেটিকে মাঝেমধ্যে যেমন স্টার্ট দিতে হয়, বিএনপির আন্দোলনের কর্মসূচিও সে রকম। কারণ, বিএনপি দলটাই তো বসে গেছে। যাতে জং ধরে না যায়, সে জন্য মাঝেধ্যে স্টার্ট দেওয়ার মতো তারা আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়। এ ছাড়া অন্য কোনো কিছু নয়।

শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার স্বীকৃতি জাতিসংঘেও

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তাপ্রসূত কমিউনিটি ক্লিনিকব্যবস্থা জাতিসংঘে ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ শিরোনামে প্রস্তাব হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয়, আজকে জাতিসংঘ শেখ হাসিনার প্রশংসা করে এবং তাঁর সরকার পরিচালনার ধরন এবং জনগণের জন্য তাঁর যে কাজ, এটিকে জাতিসংঘও স্বীকৃতি দেয়।

Untitled design 10

আজকে জাতিসংঘ শেখ হাসিনার প্রশংসা করে এবং তাঁর সরকার পরিচালনার ধরন এবং জনগণের জন্য তাঁর যে কাজ, এটিকে জাতিসংঘও স্বীকৃতি দেয়যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ

মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘে ১৬ তারিখে যখন “শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ” প্রস্তাবটি পাস হয়েছে, তখন আমাদের এখানে ১৭ তারিখ অর্থাৎ কাকতালীয়ভাবে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন। বিশ্বের ৭১টি দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে এই প্রস্তাব কো-স্পনসর করেছে, যা জাতিসংঘে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।’
বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান বলেন, সব কূটনীতিককে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। কিন্তু দেশে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার পর কয়েকজন কূটনীতিককে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার অত্যন্ত সফলভাবে জঙ্গিদের দমন করতে সক্ষম হয়েছে। এখন যেহেতু প্রয়োজন নেই, তাই বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের নিরাপত্তা অব্যাহত আছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্য ‘মোখা’র মতো রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা ঝড় আসছে—এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আশ্চর্যের বিষয়, একটি প্রাকৃতিক ঘূর্ণিঝড় আমাদের দেশের উপকূলে আঘাত হানার পূর্বক্ষণে মানুষ যখন আতঙ্কিত-শঙ্কিত, মানুষ যখন জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত, সে সময় কোথায় মোখা যাতে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে জন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা, সেটি না করে বরং সেটিকে নিয়ে রাজনীতির সঙ্গে মেলানো এবং উপহাস করা একজন রাজনীতিবিদের সাজে না।’
হাছান বলেন, ‘তদুপরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটাও সুস্পষ্ট করেছেন, কেউ যদি বাড়তি নিরাপত্তা সরকারের কাছে চায় এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করে, তাদের সেটি দেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো বিষয় নেই, এটি রুটিন ওয়ার্ক।’

জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলে তিনি তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন। এর আগে ১৯৯৬ সালে এবং ২০০৯ সালে দুই দফা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতিও তিনি। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। 

Untitled design 11

শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড়। 

শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রসংসদের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি ছিলেন। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সব গণ-আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা সে সময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান। পরবর্তীকালে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছয় বছর ভারতে অবস্থান করেন। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থেকে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন। 

১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনা তিনটি সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেখ হাসিনা নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনেরও নেতৃত্ব দানকারীদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৯১ সালের সংসদীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। তিনি রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংগঠিত করেন। ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনা বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। 

Untitled design 12

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই বছরের ১৬ জুলাই কারাবন্দী হন শেখ হাসিনা। মুক্তি পান ১১ জুন। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাঁর দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসে। এ ছাড়া ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে আটক করে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি এবং নভেম্বর মাসে তাঁকে দুবার গৃহবন্দী করা হয়। ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ তাঁকে আটক করে প্রায় তিন মাস গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে তিনি ১৫ দিন গৃহবন্দী ছিলেন। ১৯৮৭ সালে ১১ নভেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করে এক মাস অন্তরীণ রাখা হয়। ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হয়ে গৃহবন্দী হন। ১৯৯০ সালে ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধু ভবনে অন্তরীণ করা হয়। 

 ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তাঁকে হত্যার উদ্দেশে বড় ধরনের হামলা হয়। ওই দিন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে এক জনসভায় বক্তব্য শেষ করার পরপরই তাঁকে লক্ষ্য করে এক ডজনেরও বেশি আর্জেস গ্রেনেড ছোড়া হয়। লোমহর্ষক সেই হামলায় শেখ হাসিনা প্রাণে রক্ষা পেলেও আইভি রহমানসহ তাঁর দলের ২২ নেতা-কর্মী নিহত হন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন। শেখ হাসিনা নিজেও কানে আঘাত পান। 

শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বিশ্বের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন ডিগ্রি এবং পুরস্কার প্রদান করে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেসকো তাঁকে ‘হুপে-বোয়ানি’ (Houphouet-Boigny) শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা পালনের জন্য শেখ হাসিনাকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। এ ছাড়া তিনি ব্রিটেনের গ্লোবাল ডাইভার্সিটি পুরস্কার এবং দুবার সাউথ সাউথ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৪ সালে ইউনেসকো তাঁকে ‘শান্তির বৃক্ষ’ এবং ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরাম নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তাঁকে রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কারে ভূষিত করে। বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন, খাদ্য উৎপাদনে সয়ম্ভরতা অর্জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদানের জন্য আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সালে তাঁকে সম্মাননা সনদ প্রদান করে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here