স্বার্থের সম্পর্কে হালকা টানাপোড়েন

0
15

 

%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%20%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A6%BE%20%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A7%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8

স্বার্থের সম্পর্কে হালকা টানাপোড়েন

জো বাইডেন তখনো প্রেসিডেন্ট হননি। নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত তিনি। তাঁর প্রতিপক্ষ ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবের প্রতি তাঁর বিশেষ ‘দুর্বলতা’ সবার জানা। নির্বাচনে ট্রাম্পকে ধরাশায়ী করার কৌশলের অংশ হিসেবে ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার পর্বে বাইডেন সৌদির মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশটির শাসকদের বিরুদ্ধে সরব হন। বাইডেন ঘোষণা দেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে সৌদির সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বাইডেন তাঁর সরকারের যেসব নীতির কথা জোর গলায় ঘোষণা দেন, তা ছিল স্পষ্টত সৌদির জন্য প্রতিকূল। এমনকি তিনি সৌদির ঘোর আপত্তি সত্ত্বেও খাসোগি হত্যা নিয়ে গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। খাসোগি হত্যার মিশনে সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সরাসরি অনুমোদন ছিল বলে প্রতিবেদনটিতে উঠে আসে। খাসোগি হত্যার ‘নির্দেশদাতা’ সৌদির যুবরাজের সঙ্গে কথা বলতে পর্যন্ত অস্বীকৃতি জানান বাইডেন।

বাইডেনের এমন কঠোর মনোভাবে সবাই ভাবতে বসেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সৌদি নীতিতে এবার বুঝি বদল আসছে। রিয়াদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সুর হয়তো কেটে যাচ্ছে।

সেই বাইডেনকেই গত জুলাই মাসে দেখা গেল এক ভিন্ন রূপে। ঘরে-বাইরে তীব্র সমালোচনা উপেক্ষা করে তিনি যান সৌদিতে। সেখানে গিয়ে দেন এক ‘চমক’। তিনি দেশটির কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ‘ফিস্ট বাম্প’ করেন।

আসলে তখন বাইডেন সৌদি গিয়েছিলেন স্বার্থ হাসিলের জন্য। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে তেলের জন্য সৌদিকে খুব দরকার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। তাঁর সৌদি সফরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুসহ তেলের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব পায়। এমনকি তখন সমালোচকেরা বলাবলি করছিলেন, সৌদির তেলের কাছে বিক্রি হয়ে গেল বাইডেন প্রশাসন।

সৌদির নেতৃত্বাধীন ওপেক প্লাস সম্প্রতি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন দিনে ২০ লাখ ব্যারেল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জোটে রাশিয়াও আছে। ওপেক প্লাসের এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নিশ্চিত ধাক্কা। কারণ, সরবরাহ কমলে তেলের দাম বাড়বে। ইতিমধ্যে তেলের দাম চড়তেও শুরু করেছে।

আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে বাইডেন ও তাঁর ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য এ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বাড়ুক, মূল্যস্ফীতি আরও নাজুক পরিস্থিতিতে যাক, তা কোনোমতেই চান না বাইডেন।

তা ছাড়া ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তটি রাশিয়ার পক্ষে গেছে। ইউক্রেনে হামলার জেরে তেলের দিক থেকে রাশিয়াকে দমানোর যে চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা করে আসছে, ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তে তা হোঁচট খেতে পারে। এ বিষয়ও বাইডেনকে ক্ষুব্ধ করেছে।

আরো পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here