জাবিতে ইবি হ্যান্ডবল টিমের ওপর হামলা, আহত ১১

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) হ্যান্ডবল টিমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইবি টিমের ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, ক্রীড়া বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহেল ও ৯ খেলোয়াড় আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে রাব্বি ও ইমনের হাত ও কোমর ভেঙে গেছে জানিয়েছে ইবি খেলোয়াড়েরা।
অন্য আহতরা হলেন- আশিক, শিমুল, সাকিব, সালমান, জাকারিয়া, দিপন, শোভন, সালফি, সৌরভ। তাদের সবাই সাভার এনাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজন জাতীয় হ্যান্ডবল দলের খেলোয়াড়।


ইবির খেলোয়াররা জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জাবির মাঠে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল খেলার সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় ইবি তিন পয়েন্টে এগিয়ে গেলে ফাউল করতে থাকে জাবির খেলোয়াড়রা। এ সময় ইবির খেলোয়াড়রা রেফারির কাছে ফাউলের আবেদন করেন। এতে জাবির খেলোয়াড় ও দর্শকরা তাদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইবির খেলোয়াড়দের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় তারা। ইবির শিক্ষক, কোচ ও কর্মকর্তারা ঠেকাতে গেলে তারাও হামলার শিকার হন।
ইবি টিমের ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, খেলার মাঠে নূন্যতম নিরাপত্তা ছিল না। তারা আমাদের খেলোয়াড়দের ওপর সন্ত্রাসী হামলা শুরু করলে আমরা থামাতে যাই। এ সময় আমি নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিলেও তারা থামেনি। 
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা লজ্জিত ও দুঃখ প্রকাশ করছি। নিরাপত্তা দিতে না পারায় আমরা মর্মাহত।
জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনায় আমি সত্যি লজ্জিত। জড়িতদের চিহ্নিত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইবি উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, আমরা এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানাই। সেই সঙ্গে সব ধরনের খেলাধুলার ক্ষেত্রে জাবিকে কালো তালিকায় রাখার দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে এই ঘটনায় ইবি শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে প্রায় সাত কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে জ্যাম সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে ইবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন ও প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আনিছুর রহমান এসে এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।
(samakal)
লেবেলসমূহ:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget