সৌরঝড়ের পূর্বাভাষ দিতে নতুন উদ্যোগ

সূর্যই আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র৷ মহাজাগতিক এই বস্তুর মধ্যে তুমুল আলোড়ন চলে৷ গোটা মানবজাতি সারা বছর যত পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে, সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সূর্যের মধ্যে একই পরিমাণ জ্বালানি সৃষ্টি হয়৷ আকার-আয়তনের তুলনায় সূর্যের কাছে পৃথিবী অত্যন্ত ক্ষুদ্র৷


সূর্য থেকে বৈদ্যুতিক কণায় ভরা মেঘ বার বার মহাকাশে বেরিয়ে আসে৷ তার থাবা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছতে পারে৷ এমন সৌর ঝড়ের ফলে স্যাটেলাইটের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে৷ এমনকি ১৯৮৯ সালে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল৷ সৌর পদার্থবিজ্ঞানী ড. আলেক্সান্ডার ভারমুট সেই ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ‘‘সে সময়ে ক্যানাডার কুইবেক প্রদেশে ট্রান্সফর্মার গলে যাওয়ায় গোটা বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক বিকল হয়ে পড়েছিল৷ ফলে শীতকালের চরম আবহাওয়ার মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ আচমকা বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন৷''জার্মানির পটসডাম শহরের পদার্থবিদরা সংবেদনশীল প্রযুক্তির সুরক্ষার লক্ষ্যে সৌর ঝড় সম্পর্কে পূর্বাভাষ দিতে চান৷ সেই লক্ষ্যে তাঁদের আরও ভালোভাবে সূর্য পরীক্ষা করতে হবে৷ একাধিক স্যাটেলাইট এর মধ্যেই সূর্য ও তার ঝোড়ো বায়ুমণ্ডলের অতি সূক্ষ্ম ছবি সরবরাহ করেছে৷ লাইবনিৎস ইনস্টিটিউটের সৌর পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান প্রো. ড. গটফ্রিড মান বলেন, ‘‘এমন ছবি সত্যি খুব বিস্ময়কর৷ এটাই সৌর পদার্থবিদ্যার বৈশিষ্ট্য৷ যে সহকর্মীরা নক্ষত্র বা ছায়াপথের পদার্থবিদ্যা নিয়ে চর্চা করেন, তাঁরা এত কাছ থেকে প্রক্রিয়াগুলি দেখতে পারেন না, যেমনটা সূর্যের ক্ষেত্রে সম্ভব৷ তাছাড়া তাঁদের কাছে সময়ের মানদণ্ডও অন্য রকম৷''
সোলার অর্বিটার মহাকাশযানের মাধ্যমে গবেষকরা এই প্রথম সৌর ঝড়ের উৎপত্তি পর্যবেক্ষণ করতে চান৷ তার জন্য এই স্যাটেলাইটকে সূর্যের কাছে গিয়ে ১০ দিন ধরে একই অংশের দিকে নজর রাখতে হবে৷
এই স্যাটেলাইটের জন্য পটসডাম শহরের পদার্থবিদরা গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র সৃষ্টির কাজে অংশ নিয়েছেন এবং আইনস্টাইন টাওয়ারে তা পরীক্ষাও করেছেন৷ ৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে সৌর গবেষণার কাজ চলছে৷ এই ঐতিহাসিক ভবনে তাঁরা এখন বিশেষ ধরনের টেলিস্কোপের জন্য জটিল যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করছেন৷
জোরালো রশ্মি থেকে সোলার অর্বিটার যান রক্ষা করতে বিশেষ এক তাপ নিরোধক বর্ম রয়েছে৷ যানের মধ্যে একটি টেলিস্কোপ ভালো করে সূর্য পর্যবেক্ষণ করবে এবং তার বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে উত্তপ্ত অংশগুলি পরীক্ষা করবে৷ সেই সব জায়গায়ই সৌর ঝড় সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা বেশি৷
সূর্যের মধ্যে বিশাল মাত্রায় যে তোলপাড় কাণ্ড চলে, বিজ্ঞানীরা প্রতিদিন তা লক্ষ্য করেন৷ এই জ্ঞান কি পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা বদলে দেবে? প্রো. ড. গটফ্রিড মান মনে করেন, ‘‘এমন উপলব্ধি হলে নিজেকে অতি তুচ্ছ মনে হয়৷ বোঝা যায় বিশ্মব্রহ্মাণ্ডে আমরা কতটা গুরুত্বহীন৷ মানুষ হিসেবে প্রায়ই আমরা প্রত্যেকেই নিজেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করি৷ কিন্তু বাস্তবে আমরা ধুলিকণার মতো৷ প্রাকৃতিক নিয়মের সামনে সম্পূর্ণ অসহায়৷''
২০২০ সালে নতুন এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে৷ গবেষকরা এখন থেকেই এই অভিযান থেকে প্রাপ্য তথ্যের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন৷ কারণ তা থেকে সূর্যের কর্মপ্রণালী সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুন জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবে৷
কর্নেলিয়া বরমান/এসবি

(Dw)

লেবেলসমূহ:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget