মুরাদের বিরুদ্ধে চার জেলায় ডিজিটাল আইনে মামলা | Cases against Murad under digital law in four districts


সদ্য পদত্যাগ করা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চার জেলায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ সকালে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাগুলো করেন চার আইনজীবী।


ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা বার ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী। মামলায় উপস্থাপক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন হেলাল নাহিদ নামের এক যুবককেও আসামি করা হয়েছে। আগামীকাল এই মামলার শুনানি হতে পারে।


এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা ফেসবুক লাইভে ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে জিয়া পরিবার এবং ব্যারিস্টার জাইমা রহমান সম্পর্কে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, নারী বিদ্বেষী এবং যেকোনো নারীর জন্য মর্যাদাহানিকর ভাষা’ ব্যবহার করেছেন।


এতে বলা হয়েছে, ডা. মুরাদ হাসানের প্রদেয় এবং মুহাম্মদ মহিউদ্দিন হেলাল নাহিদ কর্তৃক ধারণকৃত সাক্ষাৎকারটি পরবর্তীতে মুরাদ হাসান তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রচার ও প্রকাশ করে জিয়া পরিবার তথা জিয়া পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং সর্বোপরি নারী সমাজের প্রতি অবমাননাকর, অপমানজনক এবং আইনত শাস্তিযোগ্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অত্র মামলাটি দায়ের করা হলো।
এতে আরও বলা হয়, আসামিরা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ এবং প্রচারের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা, বিদ্বেষ ও মানহানিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫/২৯/৩১/৩৫ ধারার অপরাধ করেছেন বলে এই মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলার আবেদন করা হয়েছে। মামলায় কথিত ইউটিউবার মহিউদ্দিন হেলালকেও ( নাহিদ রেইন্স) আসামি করা হয়। আজ চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট বদরুল আনোয়ার মামলার আবেদন করেন।


জানা যায়, বাদীপক্ষের মামলার আবেদনের পর শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের বিচারক অতিরিক্ত জেলা জজ এস. কে. এম. তোফায়েল হাসান মামলাটি আদেশ এর জন্য রেখেছেন।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, উপমহাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ( বীর উত্তম) ও সাবেক তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি এবং তাঁদের জোষ্ঠ পুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমান এর একমাত্র কন্যা ব্যারিষ্টার জাইমা রহমান ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য মূলকভাবে বিগত ১ ডিসেম্বর ২০২১ ইং আসামিদ্বয় ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে সামাজিক ও ব্যক্তিগত ভাবে অপমান অপদস্ত ও হেয় প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীলভাবে এবং নারীবিদ্বেষী ভিডিওটি প্রকাশ ও প্রচার করেছেন । যা সার্বিকভাবে জিয়া পরিবারের সদস্যদের সাথে সমগ্র নারী সমাজের জন্য মানহানিকর এবং অপমানজনক।
শিষ্টাচার বহির্ভূত এই ভিডিওটি দেশে রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা ঘৃণা বিদ্বেষ অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। দেশের আপামর সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে দেশে ব্যাপক আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এই বিষয়ে এডভোকেট বদরুল আনোয়ার মানবজমিনকে বলেন, জাইমা রহমানের বিরুদ্ধে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের অশ্লীল মন্তব্য ও তাকে প্ররোচিত করার ঘটনায় ইউটিবার মহিউদ্দিন হেলালের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার আবেদন করা হয়েছে। মহামান্য আদালত শুনানি শেষে রায়ের জন্য রেখেছেন।

ওদিকে স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে জানান, ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে সিলেটে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার দুপুরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট তানভীর আক্তার খান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী ছাড়া ‘নাহিদ রেইন্স পিকচার্স’ এর নাহিদ রেইনকে আসামি করা হয়েছে।

বাদী পক্ষের মামলা দায়ের করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এড. ওবায়দুর রহমান ফাহমি। ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবুল কাশেম মামলাটি আমলে নিয়েছেন এবং ১৫ই ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মুরাদ হাসানের কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল ভাষায় নারীবিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে বিচার চেয়ে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড.এ টি এম ফয়েজ, সাধারণ সম্পাদক এড ফজলুল হক সেলিম, সিনিয়র আইনজীবী আশিক উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, আতিকুর রহমান সাবু, এমরান আহমদ চৌধুরী, সাইদ আহমদ, এজাজ উদ্দিন, খালেদ জোবায়ের, আল আসলাম মুমিন, ইকবাল আহমদ, সাজেদুল ইসলাম সজিব, জাফর ইকবাল তারেক, আলী হায়দার ফারুক,জালাল আহমদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ ত্যাগ করেন ডা. মুরাদ হাসান। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যামিরেটসের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে কানাডার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কিন্তু কানাডায় প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে আবারও ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মুরাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget