সুগন্ধার বাতাসে লাশের গন্ধ | The smell of corpses in the fragrant air


চিরশান্ত সুগন্ধা। কালেভদ্রেও এখানে ঢেউ নেই। এর আগে বিষখালী পরে কীর্তনখোলা। দূর থেকে সুগন্ধাকে দেখে মনে হবে মায়াময় দীর্ঘ জলের প্রলেপ। আইলা-সিডরেও একে কেউ অশান্ত হতে দেখেনি। গতকাল সর্বনাশা এক বিস্ফোরণ কলঙ্ক লেপে দিলো সেই সুগন্ধায়। সেখানকার বাতাসে এখন কেবলই লাশের পোড়া গন্ধ আর স্বজনদের আহাজারি। রাতের অন্ধকারে সেই শান্ত সুগন্ধায় নেমে আসে বিভীষিকা।

দাউ দাউ আগুনে বাঁচার আকুতি নিয়ে শত শত মানুষ লাফিয়ে পড়ে সুগন্ধা নদীর দিয়াকুল নামক স্থানে। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপ দিলেও হারিয়ে যায় চিরতরে। কেউ হারিয়েছেন সন্তান, কেউ পিতা-মাতা।

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতদের  খোঁজে নদীর পাড় ও হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনেরা। এ সময় প্রিয়জনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে সেখানকার পরিবেশ। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঝালকাঠি সদরের দিয়াকুল গ্রামের কাছে সুগন্ধা নদীতে লঞ্চটিতে আগুন লেগে যায়।

লঞ্চটি প্রায় ৮০০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে ঝালকাঠিতে ওই দুর্ঘটনার শিকার হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, শুক্র ও শনিবার দু’দিন বন্ধ থাকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে  বেশি যাত্রী ছিল লঞ্চে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লঞ্চটি থেকে ৩৬ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় দগ্ধ প্রায় ৭৫ জনকে বরিশালের শের-ই-বাংলা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ১৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। দুর্ঘটনার পর থেকে পৌর মিনিপার্কে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে পোড়া মরদেহ। কান্নায় ভারি হচ্ছে চারপাশের পরিবেশ। কেউ বা শোকে পাথর। অনেকই আপনজনের খোঁজে ছুটছেন লাশের স্তুপ থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত। কেউ সুগন্ধা নদীর তীরে খুঁজে বেড়াচ্ছেন স্বজনদের। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে এমনটাই দাবি স্বজনদের। এ দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলে ভীড় করা সাধারণ মানুষের চোখেও ঝরছে পানি।

গতকাল দুপুর ৩টায় পার্কে গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলো নদীর পার্শ্বের অংশে সারিবদ্ধভাবে রাখা। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘিরে রেখেছে লাশ। রেড ক্রিসেন্টসহ বন্ধুসভার স্বেচ্ছাসেবী সদস্যারা স্বজন হারানো ব্যক্তিদের বিভিন্নভাবে তথ্য দিচ্ছেন ও নিচ্ছেন। মৃতদের অধিকাংশ পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়ায় অনেকেরই পরিচয় শনাক্ত হয়নি। স্বজনরা পোড়া দেহ দেখতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাগ খুলে দেখাচ্ছেন। এ সময় পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। অনেকেই তা সহ্য করেই খুঁজে বেড়াচ্ছেন প্রিয় মানুষটিকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে, সাজিয়ে রাখা মরদেহের মধ্যে একটি ব্যাগে দুটি লাশ রাখা হয়েছে। সাজিয়ে রাখা ২৬ নম্বর মরদেহটি বয়স্ক কোনো নারী কিংবা পুরুষের। তার বুকের উপর একটি শিশুর মরদেহ দেখা গেছে। যার নম্বর ৩৬। সেখানে দেখা যায়, ২৬ নম্বর ব্যক্তি ৩৬ নম্বরধারী শিশুটিকে জড়িয়ে ধরেছেন। দুজনের শরীর পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। তাদেরকে শনাক্ত করার মতো কোনো উৎস খুঁজে পাচ্ছেনা দায়িত্বে থাকা লোকজন।

নিখোঁজদের ছবি নিয়ে বিলাপ করছেন কারও মা,বাবা, ভাই-বোন। তাদের একজন রুহুল আমিন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গতকাল ঢাকা থেকে বরগুনার পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে ছেলে মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে লঞ্চে উঠি। মধ্যরাতে চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে দেখি লঞ্চে আগুন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার স্ত্রী ও মেয়েকে দেখি লঞ্চের মধ্যে ছোটাছুটি করছে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তারা ধোয়ায় হারিয়ে যায়। তাদেরকে আর দেখতে পাইনি। কোনো কিছু ভেবে না পেয়ে ছেলেকে নিয়ে পানিতে লাফ দেই। কিন্তু মেয়ে ও স্ত্রীকে আর পাইনি। এখন তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছি। কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। খোঁজ নিয়েছি কোনো হাসপাতালে নাই। আল্লাহ জানে তারা কি বেঁচে আছে নাকি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আল্লাহ আর সহ্য করতে পারছি না। জানিনা ভাগ্যে কি আছে।

এদিকে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৬ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কারও মরদেহ হস্তান্তর করা হয়নি।

এদিকে সন্তানকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন বরগুনার বামনা উপজেলার বুকাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা গীতা রানী। বিভিন্ন জায়গায় ছুটে বেড়ালেও সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে আহাজারি করছিলেন গীতা। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমার দুই সন্তান স্বপ্নীল চন্দ্র হালদার ও প্রত্যয় (৬) কে নিয়ে বরগুনায় গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলাম। আগুন লাগার কিছু আগে স্বপ্নীল লঞ্চের টয়লেটে যায়। এরপরই আগুন লাগে। যাত্রীরা আত্মরক্ষায় বিভিন্নদিকে ছুটতে থাকে। আগুনের তাপ সহ্য করতে না পেরে প্রত্যয়কে নিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করি। এক পর্যায়ে মানুষের ধাক্কায় ছেলে আমার হাত থেকে ছুটে যায়। আর তাকে পাইনি। ঘটনাস্থল থেকে শুরু করে বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজেও তাকে পাইনি।

সূত্রে জানা যায়, এর আগে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৩টায় ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলাধীন সরই এলাকা সংলগ্ন সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের ইঞ্জিন রুম থেকে আগুন লাগে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অগ্মিদগ্ধ হয়ে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭০ জন। এরমধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে ১৬ জনকে।
শেবাচিম হাসপাতালের সব চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের ছুটি বাতিল

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, লঞ্চ দুর্ঘটনার কারণে ভর্তি হওয়া অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামক লঞ্চের ইঞ্জিন থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হয়েছেন বহু মানুষ। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৪০ জন। অগ্নিদ্বগ্ধ প্রায় শতাধিক। ভোর ৫টা থে?কে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লঞ্চে আগুনে দগ্ধ রোগীরা আসতে শুরু করে। কিন্তু শেবাচিম হাসপাতালে বার্ন ইউনিট থাকলেও কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিল না। সাধারণ চিকিৎসক ও নার্স দিয়েই চলছে চিকিৎসা। হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ৭০ জন দগ্ধ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আশঙ্কাজনক ১৬ দগ্ধ রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসার সুবিধার্থে সব চিকিৎসক ও নার্সের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এদিকে, সন্ধ্যায় হাসপাতালে অগ্নিদ্বগ্ধ রোগীদের দেখতে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, স্বাস্থ্যসচিব মো. লোকমান হোসেন। তারা রোগীদের সুচিকিৎসার সব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

দুই বছর পর তালা খুললো শেবাচিম বার্ন ইউনিটের: ওদিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ শতাধিক রোগী বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর প্রায় বাধ্য হয়েই বার্ন ইউনিটের তালা খোলা হলো। দুই বছর আগে এ বার্ন ইউনিটটি উদ্বোধন করা হলেও কোনো চিকিৎসক না থাকায় অব্যবহৃতই ছিল এটি। গতকাল শুক্রবার সকালে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এ ইউনিটে ভর্তি হওয়া বিপুলসংখ্যক অগ্নিদগ্ধ রোগী নিয়ে বিপাকে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শেষ পর্যন্ত ঢাকা থেকে রোগীর চিকিৎসায় আনা হলো চার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। গতকাল বিকালে ফ্লাইটযোগে তারা বরিশাল আসেন। দেশের ১৪টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার ব্যাপারে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। সকালে ঘটনা শোনার পর ঢাকা থেকে সড়কপথে বার্ন ইউনিটের চারজন চিকিৎসককে বরিশাল পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। সড়কপথে ফেরি পারাপারসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাদের ফ্লাইটযোগে বরিশাল পাঠানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মালদ্বীপে সফররত স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও তার সঙ্গে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে পোড়া রোগীদের চিকিৎসায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা ও নির্দেশনা প্রদান করেন বলে তিনি জানান।

বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট দুই বছর আগে খোলা হলেও বর্তমানে কেন সেটি বন্ধ রয়েছে- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. সামন্ত লাল সেন মিডিয়াকে জানান, ইউনিটটি চালুর সময় একজন চিকিৎসক ছিলেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরে আত্মহত্যা করলে নতুন করে আর কাউকে সেখানে নিয়োগ দেয়া হয়নি। বার্ন চিকিৎসককে নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারে একাধিকবার প্রচেষ্টা নিলেও চিকিৎসক পদায়নে সফল হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টায় ঝালকাঠী সংলগ্ন সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪০ জন নিহত হন। শতাধিক যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদের বেশিরভাগই বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সন্তানদের খুঁজে না পেয়ে পাগলপ্রায় দুই মা: ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ দুই সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে পাগলপ্রায় দুই মা।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে ঢাকা উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী স্বপ্নিল চন্দ্র হাওলাদার (১৬)।  সে তার মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি বরগুনার বামনায়  বেড়াতে যাচ্ছিল। নিখোঁজ অপর শিশুসন্তান হচ্ছে- আড়াই বছরের তাবাস্‌সুম। তার বাবা বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ছোট পাথরঘাটা গ্রামের একটি মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ নাছরুল্লাহ্‌ (২৭)।

ওই দুই সন্তানের মা-বাবা তাঁদের সন্তানদের খোঁজে কখনো সুগন্ধার পাড়ে, আবার কখনো সদর হাসপাতালে ছুটছেন। তাদের কান্নায় হাসপাতাল ও সুগন্ধার পাড়ের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। প্রশাসন বলছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে সর্বাত্মক  চেষ্টা চলছে।

মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ নাছরুল্লাহ বলেন, ‘লঞ্চের মধ্যে ধোঁয়ায় টিকতে না পেরে আমি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তিনতলার ছাদে উঠে যাই।  সেখানে কুয়াশার মধ্যে নদীর কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এ অবস্থায়ই আমরা মেয়েসহ নদীতে ঝাঁপ দিই। পরে তীরে ওঠার আগেই মেয়েকে হারিয়ে  ফেলি।’ একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে স্ত্রী সোনিয়াও বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, ‘আমার মেয়েকে যেন প্রশাসন খুঁজে বের করে দেয়। আমার সোনার মানিককে আপনারা আইনা দেন।’
শিক্ষার্থী স্বপ্নিল চন্দ্র হাওলাদারের মা স্বপ্না হাওলাদার বলেন, ‘লঞ্চে আগুন লাগার আগমুহূর্তে আমার ছেলে স্বপ্নিল  শৌচাগারে যায়। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আমি আমার  ছোট ছেলেকে নিয়ে কেবিন  থেকে লঞ্চের সামনে যাই। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করলেও আমার ছেলেকে খুঁজে পাইনি।’
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা  থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া বরিশালের শের-ই-বাংলা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে শতাধিক যাত্রী দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। বৃদ্ধ, শিশুসহ অনেকে নিখোঁজ। লঞ্চে আট শতাধিক যাত্রী ছিল।

লেবেলসমূহ:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget