পঞ্চাশের উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে তরুণদের মনে | The tide of the fifties is flowing in the minds of the youth



রিপন হোসেন
বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
আজ আমরা সেই সব আলোকিত মানুষ কে স্মরণ করছি যাদের আলোর পরশে এসেছে মুক্তমনে বাঁচার অধিকার। প্রাণের মায়া ত্যাগে যারা দিল এ বিজয় তাদের হাজারো সালাম। কত অন্তরায় কত বাঁধা পেরিয়ে এ বিজয় অর্জন। জঞ্জালে উত্তপ্ত ছিলো এ মাটি। পূর্বপুরুষদের সংগ্রামে আমরা এই দেশ পেয়েছি, তাই দেশের কল্যাণে আমাদের সবার কাজ করা উচিৎ। মানব মুক্তির যোদ্ধা আমাদের তরুণ প্রজন্মকেই হতে হবে। আমাদের হাত ধরেই তরুণ সমাজ একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়বে একদিন।

সুবর্ণা আক্তার
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদেরকে একটি  স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিলেন তাদেরকে কেবল বিজয় দিবসে নয়, প্রতিদিনই প্রাণভরে স্মরণ করা উচিৎ।  পাশাপাশি তাদের রেখে যাওয়া আদর্শকে বুকে ধারণ করে  দেশকে  সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে উচ্চ আসনে উপস্থাপন করে শহীদদের মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। বিজয় দিবসে এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা।

মেহেদী হাসান অয়ন
ফিশারিজ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
৫০ মানেই বিশেষ একটি সংখ্যা আমাদের সবার কাছে। আর সেটা যদি হয় মাতৃভূমির বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপনের মাহেন্দ্রক্ষণ, তাহলে তো সেটা আরও বিশেষ কিছু। বিজয়ের ৫০ বছরে পা দিয়েছে আমাদের বাংলাদেশ। কিন্তু আমরা সেই স্বাধীনতার মর্যাদা ঠিক কতোটা রক্ষা করতে পেরেছি তা একবার ভেবে  দেখার সময় এসেছে। অনিয়ম, দুর্নীতি সহ নানান ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যায় দেশের মানুষ জর্জরিত। আমাদের উচিত ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়া। নিজেদের জায়গা থেকে এক হয়ে, ভুলগুলো শুধরে নিয়ে জাতি হিসেবে এক কাতারে দাঁড়ালেই হয়তো আমরা একদিন বিজয়ের আনন্দ ষোলো আনা উপভোগ করতে পারব।

 

মো. আরিফ হাসান
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমার কাছে বিজয় মানে স্বাধীন দেশের প্রতিটা নাগরিকের স্বপ্নপূরণ। একাত্তরের সেই নতুন সূর্যোদয়ের পর আমার এই প্রিয় দেশটা পেরিয়েছে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর। কিন্তু এখনও আমার দেশে রোজ সূর্যোদয়ের সাথে মিশে থাকে হাজারটা স্বপ্নভঙ্গের কান্না, মিশে থাকে দূর্নীতি-দুর্দশা কিংবা বাকস্বাধীনতা হারানো নির্বাক কিছু মানুষের গল্প। কিন্তু আশার ব্যাপার হলো, আমাদের তরুণ প্রজন্ম রংতুলির আঁচড়ে প্রতিনিয়ত রাঙিয়ে চলেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের এই সাদাকালো ক্যানভাস। ক্রিকেট বিশ্বে কিংবা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি —সব বিষয়েই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এনে দিচ্ছেন একের পর এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমাদের তরুণ প্রজন্মই সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এই দেশটাকে সোনার বাংলাদেশে পরিণত করতে পারবে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এটাই প্রত্যাশা।

 

মোঃ আশিকুর রহমান
আইবিএ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকৃত বিজয় তখনই অর্জিত হবে, যখন দেশের সকল মানুষের মৌলিক অধিকার আমরা নিশ্চিত করতে পারবো। আজ বিজয়ের পঞ্চাশ বছর পরে এসেও ফুটপাথে মানুষ না খেয়ে ঘুমায়, প্রচন্ড শীতের রাতে ছিন্নমূল মানুষ অসহায়ের মতো দিনযাপন করে, এখনও দেশের সকল শিশুকে শিক্ষার আওতায় আনা যায় নি। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে আমাদের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিজয়ের নতুন ভোরে আমরা সকলেই যেন এক হয়ে আমাদের আশেপাশের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য এগিয়ে আসার শপথ নিতে পারি। সকলে মিলে একসাথে সামনে এগিয়ে যাওয়াতেই প্রকৃত বিজয়। প্রতিটা মানুষের মাঝে বিজয়ের ছোয়া লাগুক। ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্রতা মুক্ত নতুন এক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক এটাই কামনা।

 

নোশিন তাহসিন সাজ
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমার কাছে বিজয় মানে নিজেদের ভূমি চিনতে শেখা। সেই ভূমির প্রতিটি কোণায় স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারার মঞ্চ তৈরি হওয়া। কারণ কথাদের কখনো মেরে ফেলা যায় না। মেরে ফেলা যায় না আমাদের মস্তিষ্কজাত শক্তিশালী শব্দগুচ্ছকে। যখন আমরা কথা বলতে জানব, তখনই হবে আমাদের বিজয়। একটা কথার ফুলকি উড়েই বারুদ হয়ে হয়ে ফুটবে। সারা শহর উথাল-পাথাল হয়ে ভীষণ রাগে যুদ্ধ হবে। নবারুণ যেমন বলেছেন, ঠিক তেমনি। মানুষ চিনে নিতে শিখবে, বুঝে নিতে শিখে কোনটা তাদের প্রাপ্য। ওটাই বিজয়। মানুষের বিজয়। ওটাই নতুন ভোর। যারা এই দেশটাকে ভালোবেসে প্রাণ দিয়েছিল, দিচ্ছে এবং দেবে, তারা আমাদের মাঝে ফিরে আসবে ঠিক সেই ভোরেই।

 

নাজমুন নাহার জেমি
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
১৯৭১ সালে মা-বোনেরা দেশের জন্য নিজেদের সতীত্ব হারিয়ে ছিল যাতে আর কোনো মা-বোনের সম্ভ্রমহানি না হয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরোলেও এদেশে এখনো চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ-নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে,  মনে হয় তাহলে কি বীরাঙ্গনাদের সব ত্যাগ-তিতিক্ষা বৃথা হয়ে যাচ্ছে!  স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা চাই দেশে যেন নীরারা নিরাপদ থাকে। আর  কোনো নারী যেন নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার না হয়।

 

জুবায়েদ মোস্তফা
লোক প্রশাসন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
আমাদের বিজয় তখন স্বার্থক হবে, যখন মত ভেদাভেদের অযুহাতে কারো জীবন অন্ধকারে পতিত হবে না, বন্ধ হবে সমস্ত প্রতিহিংসার পারদ, প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের মত করে তৈরি হবে সোনার বাংলাদেশ। আমি চাই, বাংলাদেশ মায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হোক। ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নেয়া সন্তান যেমন মায়ের কাছে সমান। তদ্রুপ এ দেশে জন্ম নেয়া সকল ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী, পেশার মানুষ যেন সমান অধিকার চর্চা করতে পারে এ বিষয়টি নিশ্চিত হোক।

 

মোমেনা আক্তার
বাংলা বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলার বীর যোদ্ধারা যে স্বাধীন মাতৃভূমি আমাদের উপহার দিয়ে গেছে সেই স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব এই প্রজন্মের তারুণ্যের হাতেই। স্বাধীনতা মানে শুধু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকেই বুঝায় না। 
ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে । তাইতো উঁচু-নিচু, জুলুম-শোষণ, দুর্নীতি -দুঃশাসন, দলীয় সংকীর্ণতা প্রভৃতিকে দূরে রেখে শান্তিপূর্ণ ও সম্ভবাময় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। বিজয়ের মাস জন্মের মাস, জন্মের মতোই নিষ্পাপ হয়ে উঠুক বাংলাদেশের প্রতিটি প্রাণ থেকে ধূলিকণা পর্যন্ত।

 

খায়রুল ইসলাম
ইংরেজি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ আজ বিজয়ের ৫০ বছরে পদার্পণ করেছে অথচ  বিজয়ের স্বাদ পুরোপুরি নিতে পেরেছে গুটিকয়েক মানুষ, বাকিরা রয়ে গেছে অনেক দুরে।আজ এই বিজয়ের স্বাদ ঘরে ঘরে মেহনতী মানুষের দ্বারে পৌঁছে  দিতে যাদের জাদুমন্ত্রের মত প্রয়োজন, তারা হল দেশের তরুণ প্রজন্ম । এই তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে তার কাঙ্খিত স্বপ্নের দ্বারে। তরুণদের উদ্দীপ্ত চেতনা বাংলাদেশের বিজয়কে নতুন রুপে অবতীর্ণ করবে। 

 

জেবা সামিহা তমা
হারাগাছ সরকারি কলেজ
নিজেদের বিজয় অর্জনের ৫০ বছর পূর্ণ হলো আজ। আমরা পুরো একটা জাতি নিজেদের অধিকার পেয়েছি৷ কিন্তু এখনো বোধহয় নিজেদের অর্জন করা অধিকার সুষ্ঠু বণ্টনে কিংবা বাস্তবায়নে কিছুটা হলেও আমরা ব্যর্থ। হ্যাঁ, এটা জানি যে সব কিছুই শতভাগ শুদ্ধ হয় না। কোথাও না কোথাও কমতি থেকেই যায়। কিন্তু যেটুকু কমতি থেকে যায় সেটা কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে ভাবা প্রয়োজন।  আমার মনে হয় প্রত্যেক ব্যক্তি না হোক, অন্তত বেশিরভাগ মানুষই যদি এ নিয়ে ভাবে তবে আমাদের বিজয় ও গৌরবের অর্জন সম্পূর্ণ হবে।

 

ফারিহা আলম লাবণ্য 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
কত শত বাঁধা পেরিয়ে, কত প্রাণের বিনিময়ে আমাদের এই আজকের বিজয়। বাংলার মাটিতে লুটপাট হয়েছিল মা বোনদের সম্ভ্রম। কি ভয়াবহ দিন অতিবাহিত করে, কত নির্যাতন সহ্য করে আমাদের জন্য বাংলার দামাল ছেলেরা ছিনিয়ে এনেছে এক টুকরো লাল সবুজের দেশ। পৃথিবীর সব স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা দিবস থাকলেও বিজয় দিবস থাকে না। বাংলাদেশ সেই বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী দেশ, যেটি বহু বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের পর রণাঙ্গনে শত্রুকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এ আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের চলার পাথেয়, আমাদের চেতনা৷



ডিসেম্বর এলেই  বিজয়ের সুবাস বইতে থাকে মনে প্রাণে। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। একাত্তরের এই দিনে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের বিজয় নিশ্চিত হয়েছিল। নানা আয়োজনে প্রতিবছরই বিজয় দিবস উদযাপন করা হলেও এবারের বিজয় দিবসের তাৎপর্য আলাদা। বাংলাদেশ এবার পা রেখে পঞ্চাশ বছরে। পঞ্চাশের উচ্ছাসের এই জোয়ার বইছে তরুণদের মনেও। সকল বাঙালি ও সকল বাংলা ভাষাভাষি মানুষের কাছেই দিনটি আনন্দের। বিজয়ের এই দিনে ইত্তেফাক অনলাইনের সঙ্গে আলাপে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন কয়েকজন তরুণ। নিজ নিজ অবস্থান থেকে তারা তাদের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন।

তরুণ কথাশিল্পী ও সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘নয় মাস যুদ্ধের পরে একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। অর্জিত সেই স্বাধীনতা নানাভাবে হরণ করার চেষ্টা করেছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। স্বাধীন দেশে স্বপরিবারে প্রাণ দিতে হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। নানাবিধ চক্রান্ত মোকবিলা করে বাংলাদেশ পঞ্চাশ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। আসুন আমরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার মান অক্ষুণ্ণ রাখার শপথ করি। সব ধরনের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হই।'

তরুণ পুষ্টিবিদ ও সংগঠক আজমেরী রহমান সিন্থিয়া বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাবনা ছিল—একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে চাই স্বাস্থ্যবান জাতি। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতকে শুধু গুরুত্ব দিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি, ব্যাপক সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। কয়েকটি পদক্ষেপের মধ্যে ১ টি হচ্ছে—সংবিধানে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা পাওয়াকে মৌলিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের কর্তব্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই সুরে তাল মিলিয়ে বলতে চাই, বিজয়ের ৫০ বছরের পূর্তিতে যাতে এ দেশের আনাচে কানাচে পুষ্টি ছড়িয়ে পড়ে সেই লক্ষ্যে সরকারীভাবে পুষ্টিবিদ নিয়োগ করা হোক। উন্নয়নশীল দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল নীতি হলো, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’। তাই স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে পুষ্টিবিদরাও মানুষকে সঠিক ও পুষ্টিকর খাদ্য নির্বাচন করতে সাহায্য করার মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারেন। এর মাধ্যমে দেশ রূপান্তরিত হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে।'

সামাজিক সংগঠক ও আলোর প্রদীপের চেয়ারম্যান এম এম মেহেরুল বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, মুক্তির দিবস। বিজয় দিবস আসলে আমাদের ভাবনা মনের হৃদয়ে উঁকি দিতে থাকে। আমার ভাবনা হলো সব ধরনের বৈষম্যহীন একটি নিরাপদ দেশ। যেখানে জাতি ধর্ম-বর্ণ সকলে সকল ভেদাভেদ ভূলে এক হয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে সোনার বাংলা গড়তে মনোযোগী হবে। স্বাধীন দেশ হবে মানুষের জন্য নিরাপদ। মাথার উপরের এক আকাশ আর পায়ের নিচের একই মাটির মানুষের মধ্যে থাকবে না কোনো দ্বন্দ্ব। সকল মানুষ অন্ন পাবে, বাসস্থান পাবে, সুচিকিৎসা পাবে, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আদর্শ জাতি গঠনে মনোযোগী হবে। ধর্মান্ধতার বীজ মূলোৎপাটন করে দেশটা হবে সকল মানুষের। এত কষ্টে অজির্ত বিজয়ের কেবল তখনই পূর্ণ মূল্যায়ন করা হবে যখন নিজেরা নিজেদের আপন ভাবতে পারব।

নাট্যকর্মী সিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম তারুণ্য নির্ভর সম্ভাবনাময় দেশে পরিণত হয়েছে জন্মের পঞ্চাশ বছরে এসে। দেশি বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় বারবার লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ ভূখণ্ড। পাঁচ দশকে রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা এবং অনৈক্যের বলি হয়েছে তরুণরা।  বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে এই তরুণ প্রজন্মকে কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। দেশের লাখ লাখ উচ্চ শিক্ষিত বেকারসহ সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে সরকারি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিলে আগামী বিশ বছরেই উন্নতির চরম শিখরে যেতে পারে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকে অনেক বড় বড় সফলতা অর্জিত হয়েছে যা অস্বীকার করা অনুচিত। কিন্তু এত বড় বড় উন্নয়ন ম্নান হয়ে যায় রাজনৈতিক অস্থিরতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সাম্প্রদায়িক ও কুচক্রী মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকারকারী মহলের অপতৎপরতায়। বিভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অসাম্প্রদায়িক, অপসংস্কৃতিমুক্ত, সুখি ও স্বনির্ভর দেশ গঠনে নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে রাষ্ট্র তরুণদের কাজে লাগাবে এটাই সুবর্ণজয়ন্তীর প্রত্যাশা।

সমাজকর্মী রাশেদুজ্জামান রণ বলেন, ‘সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে দেশের মানুষের নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত চাহিদা আমাকে কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে। আশাকরি পরবর্তী প্রজন্ম নীতি ও আদর্শ মেনে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে। আমাদের ছোট ছোট পদক্ষেপে সাফল্য আসবে। লাল-সবুজ আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বিশ্ব দরবারে। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’

তরুণ শেফ আসিফ রাহী বলেন, ‘বাংলাদেশ সারা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম একটি উন্নয়নশীল দেশ। কিন্তু আমরা শুধু তরুণ প্রজন্মকে দোষারোপ করতেই অভ্যস্ত। আর তাদের দোষ একটাই এই যে, ২০-২৫ বছর বয়সে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা শূন্যের কোঠায়, অপরদিকে তাদের কাছে চাকরির জন্য চাওয়া হয় ৮-১০ বছরের অভিজ্ঞতা। আর এ সকল কিছুর সংঘাতে যখন উচ্চ শিক্ষার জন্য সে বিদেশে গমন করে এর পাশাপাশি কাজও করা শুরু করে তখন আমরা এর জন্য অনুশোচনা করি। আসুন সময়ের সাথে নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তন করে তরুণ প্রজন্মকে আগলে রাখতে শুরু করি। এটাই বিজয় দিবসে আমার চাওয়া।'

তরুণ গল্পকার সাকি সোহাগ বলেন, 'বিজয়ের অর্ধশতবর্ষী বাংলাদেশকে অভিনন্দন। দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে পরা একটি লাল সবুজ যেভাবে এগিয়ে এসেছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে সেটাই অব্যাহত থাকুক। দেশের শিল্প কলকারখানাগুলোয় বিনিয়োগ যেভাবে বেড়ে চলছে তাতে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশে অগ্রসর হতে যাচ্ছে এবং হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিকচক্র বেশ মজবুত হচ্ছে। বেলাশেষে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রায় দেশের কৃষি খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে। সরকারিভাবে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তবেই বাংলাদেশের এগোনোটা আরও সহজ সমৃদ্ধ হবে বলে আমি আশাবাদী। পঞ্চাশে পদার্পণ করা বাংলাদেশের এই এগিয়ে যাওয়া, এই উন্নয়নধারা অব্যাহত থাকুক এই কামনা করছি।'

গণমাধ্যমকর্মী খালিদ সাইফুল্লাহ্ বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমার একমাত্র প্রত্যাশা এদেশ দুর্নীতিমুক্ত হোক। ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে এসেছে আমাদের এই স্বাধীনতা। একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসে দেশের প্রায় সকল সেক্টরে দুর্নীতি ও অনিয়ম দেখতে দেখতে এই প্রবাদটিই আমার মনে পড়ছে। ১৯৭১ সালে যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাগণ বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছেন সেই সোনার বাংলাদেশ আমরা এখনো পাইনি। আমরা এখনো উন্নত নাগরিক সেবা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত। দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রাপ্য সুযোগের অভাবে দেশের মেধাবীরা পাড়ি জমাচ্ছেন বিদেশে। দেশের সামগ্রিক অবস্থার পরিবর্তন না ঘটলে এই ধারা চলতেই থাকবে। তাই বিজয়ের পঞ্চাশে আমার একমাত্র প্রত্যাশা এদেশ দুর্নীতিমুক্ত হোক।'

লেখক নূরে জান্নাত বলেন, ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পার করে একান্নতে পা দেবে সোনায় মোড়ানো আমার মা, ভালোবেসে সোনার বাংলা ডাকি আমরা সব সন্তানেরা, সংক্ষেপে বাংলা। বাংলাকি সত্যিই সোনার আছে? নাকি ক্ষুধা, দারিদ্রতা, ধর্ষণ, বেকারত্ব, হানাহানি, দূর্নীতি, অনিয়মের আগুনে পুরে ছাই! যে শান্তি ও সমতার স্বপ্ন নিয়ে ত্রিশ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হলো, দুই লক্ষ মায়েরা সম্ভ্রম হারালো, সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল স্বাধীনতার এই এত পথ পেছেনে ফেলে আসার পরেও। স্বধীনতা শব্দটা পরাধীন এই সকল সমস্যার কাছে। বিজয়ের গৌরব অটুট থাকুক ক্ষুধা, দারিদ্রতা, বেকারত্ব, ধর্ষণ, হানাহানি, দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ হয়ে। হাসি থাকুক সবার মুখে এই বিজয়ে।'

সবাই তাল মিলিয়ে বলেছেন, সোনার বাংলাদেশ হোক ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত। হোক অসম্প্রদায়িক চেনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যেখানে বসবাস করবে সকল ধর্মের বর্ণের শ্রেনীর মানুষ। যেখানে থাকবেনা কোনো দুর্নীতি, খুন খারাপি, সন্ত্রাসী রাহাজানী। বিজয়ের পঞ্চাশে এইটাই সকলের চাওয়া। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবি হোক।


সূত্রঃ ইত্তেফাক

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget