চলে গেলেন সাবেক বিচারপতি টিএইচ খান | Former Justice TH Khan has passed away


সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিচারক তাফাজ্জাল হোসেন (টি এইচ) খান (১০২) আর নেই। আজ রবিবার বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

আগামীকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল। 

কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, 'টিএইচ খান সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণতম আইনজীবী। গত ২১ অক্টোবর ছিল তাঁর ১০২তম জন্মদিন। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পারিবারিকভাবেই জন্মদিনটা পালন করা হয়েছিল।'

কাজল বলেন, 'আগামীকাল বেলা সাড়ে ১১টায় প্রবীণ এই আইনজ্ঞের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে মরহুমের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে গ্রামের বাড়িতে তাঁর লাশ দাফন সম্পন্ন হবে।' 

তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন টি এইচ খান। তাঁর বড় ছেলে আফজাল এইচ খান সাংবাদিকতা ছেড়ে এখন আইন পেশায় আছেন। মেজো ছেলের নাম ফজলে এলাহী খান, ছোট ছেলের নাম ফায়সাল এইচ খান। মেয়ে চিকিৎসক মাহমুদা ফাতেমা খান। ২০১১ সালে মারা যান টি এইচ খানের স্ত্রী বেগম রওশন আরা জোবায়দা খানম।

টি এইচ খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এক শোক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি টি এইচ খানের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। 

এ ছাড়া টি এইচ খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।  টি এইচ খানের মৃত্যুতে আইন অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে শোক সমিতির শোক বার্তায়। 

টি এইচ খানের ছেলে আফজাল এইচ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রবিবার ভোরে কল্যাণপুরে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় আব্বাকে। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতাসহ শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।  বিকেল ৫টার দিকে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।'  

এর আগে, গত ৯ ডিসেম্বর ভর্তি করানো হলে ৬ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হয় বলে জানান আফজাল এইচ খান।    

১৯২০ সালের ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলাধীন ঔটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন টি এইচ খান।  ১৯৪০ সালে  ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর  ১৯৪২ সালে তৎকালীন কলকাতা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ অনার্সে ভর্তি হন।

১৯৪৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স এবং ১৯৪৬ সালে এমএ পাস করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৫১ সালের ১৪ মার্চ তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী হন। পরে ১৯৬৮ সালে  পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টে  বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি হাইকোর্টে স্থায়ী বিচারপতি হন। 

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালের জুলাই মাস থেকে আইন পেশায় ফিরে আসার পরের বছর সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর আইন, শিক্ষা, ধর্ম, ভূমি ও রাজস্ব এবং ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

১৯৮২ সালে এরশাদ ক্ষমতায় এলে রাজনীতির পাশাপাশি  আইন পেশা চালিয়ে যান। ১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে বিরোধিতা করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

টিএইচ খান ১৯৯২ সালে জাতিয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির সভাপতি হিসেবে তিনি ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির প্রথম ভাইস চেয়ারম্যান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Holy Foods ads

Holy Foods ads

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget