‘নরকের দরোজা’ বন্ধ করবে তুর্কমেনিস্তান | Turkmenistan will close the 'gates of hell'


‘নরকের দরোজা’ নামে পরিচিত মরুভূমিতে থাকা বিশাল একটি অগ্নিকুণ্ডকে নিভিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তান। বিশ্বের অসংখ্য পর্যটক আকর্ষণকারী প্রাকৃতিক এ আগুনের গর্তটি আর হাতছানি দেবে না পর্যটকদের।

 

রহস্যময় এ অগ্নিকুণ্ডটি বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত কারণে এবং একইসাথে গ্যাস রফতানি বাড়ানোর জন্যই এটি বন্ধ করে দিতে চান প্রেসিডেন্ট গুরবাঙ্গুলী বার্দিমুহামেদা।

 

আগুনের এ গর্তটি মূলত একটি জমে থাকা গ্যাসের গর্ত। কয়েক দশক ধরে এটি জ্বলছে। ভয়ানক এ প্রজ্জ্বলিত আগুনের গর্ত দেখতে অনেকেই ছুটে যান নানা দেশ থেকে।কারাকুম মরুভূমিতে ‘দারভাজা’ নামের এই গর্তটিকে ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য।

 

অনেকে বিশ্বাস করেন যে, ১৯৭১ সালে সোভিয়েত সামরিক মহড়ার সময় কোনো ভুল পদক্ষেপের কারণে এ আগুনের গর্ত তৈরি হয়। কিন্তু কানাডার অভিযাত্রী জর্জ কাউরুনিস ২০১৩ সালে গর্তের গভীরতা পরীক্ষা করে বলেছিলেন যে, এটি কিভাবে শুরু হয়েছিল তা আসলে কেউ জানে না।

স্থানীয় ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, বিশাল গর্তটি ১৯৬০-এর দশকে তৈরি হয়েছিল কিন্তু শুধুমাত্র ১৯৮০-এর দশকে এটির ভেতরে আগুন জ্বলে ওঠে। অগ্নিকুণ্ডটি তুর্কমেনিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র।

দেশটির প্রেসিডেন্ট এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘আমরা মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ হারাচ্ছি যার মাধ্যমে আমরা উল্লেখযোগ্য মুনাফা পেতে পারি এবং আমাদের জনগণের কল্যাণে সেসব ব্যবহার করতে পারি।’

কর্মকর্তাদের ‘আগুন নেভাতে একটি সমাধান খুঁজে বের করার’ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর আগেও আগুন নেভানোর জন্য অসংখ্যবার চেষ্টা করা হয়েছে। দশকের পরে দশক ধরে জ্বলছে এই অগ্নিকুণ্ডটি।

২০১০ সালেও প্রেসিডেন্ট বার্দিমুহামেদা বিশেষজ্ঞদের আগুন নেভানোর জন্য একটি উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর ‘শাইনিং অব কারাকুম’ নামকরণ করেন তিনি।

লেবেলসমূহ:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget