অলরাউন্ড সাকিবের নৈপুণ্যে শীর্ষে বরিশাল | Barisal is at the top with all-round Shakib skill


ম্যাচ শুরুর পরপরই প্রেসবক্সে আলোড়ন। অনুশীলন মাঠ থেকে উইল জ্যাকসের শটে বল উড়ে এসে ভেঙে দিয়েছে প্রেসবক্সের পেছনের অংশের কাঁচ! 

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ব্যাটসম্যান যখন পাওয়ার হিটিংয়ে মাতাচ্ছেন নেট সেশন, মূল মাঠে তখন হাতের জোর দেখাচ্ছেন মুনিম শাহরিয়ার। তরুণ ওপেনারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সঙ্গে পরে যোগ হলো সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। দুজনের নৈপুণ্যে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে শীর্ষে উঠে গেল ফরচুন বরিশাল।

বিপিএলে সিলেট পর্বের প্রথম ম্যাচে কুমিল্লার বিপক্ষে বরিশালের জয় ৩২ রানে।

৮ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে বরিশাল এখন সবার ওপরে। এক ম্যাচ কম খেলে কুমিল্লার পয়েন্ট ৯।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সোমবার ১৫৫ রানের পুঁজি নিয়ে বরিশাল ১২৩ রানে আটকে দেয় কুমিল্লাকে।

বিপিএলে মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় মুনিম খেলেন ২৫ বলে ৪৫ রানের ইনিংস। ৪৫ ম্যাচের খরা কাটিয়ে আগের ম্যাচে ফিফটি করা সাকিবের ব্যাট থেকে আসে আরেকটি পঞ্চাশ। সঙ্গে বল হাতে ২ উইকেটে আবার তিনি ম্যাচের সেরা।

এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচে ম্যান অব দা ম্যাচের পুরস্কার উঠল বরিশাল অধিনায়কের হাতে।

ম্যাচের আগে কৌতূহলের কেন্দ্রে ছিল উইকেট। গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের একদিনের ম্যাচের টুর্নামেন্টে ভীষণ মন্থর ও অসম বাউন্সের উইকেট ছিল এখানে। বিপিএলে উইকেটের মান নিয়েও তাই শঙ্কা ছিল। ম্যাচ শুরুর পর সেই শঙ্কা একটু একটু করে দূর হতে থাকে। ব্যাটিং স্বর্গ না হলেও ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে বল ব্যাটে এলো ভালোভাবেই।

সেই উইকেটে নিজের সাহস আর শটের পরিধি মেলে ধরেন মুনিম। গত ঢাকা লিগ টি-টোয়েন্টিতে দারুণ খেলেও এবার বিপিএলের ড্রাফটে দল পাননি তিনি বিস্ময়করভাবে। পরে তাকে দলে নেয় বরিশাল। একাদশে সুযোগ পেতেও করতে হয় অপেক্ষা। কয়েকটি ওপেনিং জুটি ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে সুযোগ মেলে তার। কিন্তু প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হন তিনিও। তাতে আবার একাদশের বাইরে। অবশেষে দ্বিতীয় সুযোগে জ্বলে উঠতে পারলেন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।

আঁটসাঁট বোলিংয়ে টুর্নামেন্টে এবার ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস তোলা নাহিদুল ইসলামের ওপরই বেশি চড়াও হন মুনিম। ম্যাচের প্রথম ওভারে এই অফ স্পিনারকে বাউন্ডারি দিয়ে শুরুর পর তৃতীয় ওভারে মারেন দুটি ছক্কা।

ক্রিস গেইল (৮ বলে ১০) ভাঙতে পারেননি ব্যর্থতার বৃত্ত। বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলামকে কাট করে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান ধরা পড়েন পয়েন্টে। সহজ ক্যাচ ৫-৬ দফার চেষ্টায় হাতে জমান সুমন খান।

এই সুমনকেই বোলিংয়ে এক ছক্কা ও দুই চারে স্বাগত জানান মুনিম।

তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত ফেরেন ১ রানেই। তবু মুনিমের সৌজন্যে পাওয়ার প্লেতে ৫৩ রান তোলে বরিশাল।

হাতের জোর, দারুণ টাইমিং আর উদ্ভাবনী কিছু শট মিলিয়ে মুনিম মেলে ধরেন নিজের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য।

আলগা শটে বিদায় নিয়ে অবশ্য ইনিংসটাকে পূর্ণতা দিতে পারেননি তিনি। মইন আলির বলে ফ্লিক করে ধরা পড়েন তিনি মিড উইকেটে। ওই ওভারেই দারুণ এক ইনসাইড আউট শটে ছক্কায় সাকিব জানিয়ে দেন, দলকে এগিয়ে নিতে তিনি তৈরি।

মাথা খাটিয়ে দারুণ হিসেবি ব্যাটিংয়ে এ দিন নিজের ইনিংস গড়েন তিনি। সুনিল নারাইন, মইনের মতো স্পিনারদের সামলে নেন দারুণ দক্ষতায়। মুস্তাফিজুর রহমানের দুটি স্লোয়ারে টানা দুটি বাউন্ডারিতে পৌঁছে যান তিনি ফিফটির কাছে। পঞ্চাশে পা রাখেন ৩৬ বলে। তবে আগের ম্যাচের মতোই আউট হয়ে যান ৫০ ছুঁয়েই।

সাকিবের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়েন তৌহিদ হৃদয়। তবে প্রথম বলে বাউন্ডারির পর তরুণ এই ব্যাটসম্যান পারেননি ইনিংসকে প্রত্যাশিত গতি দিতে। এমনকি শেষ দিকেও পারেননি দ্রুত রান তুলতে।



শেষ ৬ ওভারে বরিশাল তুলতে পারে স্রেফ ৩৮ রান। হৃদয় ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন ৩৭ বল খেলে!

বরিশালের বোলিং আক্রমণ অবশ্য ওই স্কোরকেই অনায়াস জয়ের জন্য যথেষ্ট বানিয়ে ছাড়ে। এখানেও সামনে থেকে নেতৃত্বে সাকিব। কুমিল্লার দুই ওপেনারই তার শিকার।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ইমরুল কায়েসকে ফেরান সাকিব। আরেক প্রান্তে লিটন দাস শুরুটা করেন দারুণ। বিশেষ করে মুজিব উর রহমানের বলে চোখধাঁধানো কয়েকটি শট তিনি খেলেন। কিন্তু সাকিবকে আক্রমণের চেষ্টায় তার ইনিংস থামে ১৯ রানে স্টাম্পড হয়ে।

দাঁড়াতে পারেননি কুমিল্লার পরের দিকের ব্যাটসম্যানরাও। ফাফ দু প্লেসি এ দিন একাদশে ছিলেন না। আগের ম্যাচগুলোয় ওপেনিংয়ে দারুণ খেলার পর মাহমুদুল হাসান জয় এ দিন চারে নেমে ৫ রানেই আউট হয়ে যান ডোয়াইন ব্রাভোর বাউন্সারে। মইন, নাহিদুল, নারাইনরাও ব্যর্থ।

তিনে নেমে একপ্রান্ত অনেকক্ষণ আগলে রেখে মুমিনুল হক ফেরেন ৩০ বলে ৩০ করে।

শেষের বেশ আগেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচের উত্তেজনা। পরে করিম জানাত (১৩ বলে ১৭) ও তানভির ইসলামের ব্যাটে (১৪ বলে ২১) খানিকটা কমে ব্যবধান।

দুই দলের প্রথম লড়াইয়ে বরিশালকে গুঁড়িয়ে দিয়ে জিতেছিল কুমিল্লা। এবার বরিশালের জবাবটা মন্দ হলো না!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ফরচুন বরিশাল: ২০ ওভারে ১৫৫/৫ (মুনিম ৪৫, গেইল ১০, শান্ত ১, সাকিব ৫০, হৃদয় ৩১*, ব্রাভো ১০, সোহান ৩*; নাহিদুল ৩-০-৩০-০, মুস্তাফিজ ৪-০-৩০-১, তানভির ৩-০-২২-২, সুমন ১-০-১৬-০, নারাইন ৪-০-২৫-০, মইন ৩-০-২১-১, করিম ২-০-৬-২)

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ২০ ওভারে ১২৩/৯ (লিটন ১৭, ইমরুল ১, মুমিনুল ৩০, মাহমুদুল ৫, মইন ৬, নাহিদুল ১, নারাইন ৩, করিম ১৭, সুমন ৮, তানভির ২১*, মুস্তাফিজ ৭*; মুজিব ৪-০-২৭-০, সাকিব ৪-০-২০-২, ব্রাভো ৪-০-২৯-২, নাঈম ৪-০-২৯-৩, শান্ত ২-০-৫-১, গেইল ২-০-১০-০)

ফল: ফরচুন বরিশাল ৩২ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: সাকিব আল হাসান

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Holy Foods ads

Holy Foods ads

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget