পিকআপ চাপায় পাঁচ ভাইয়ের মৃত্যু, পলাতক চালক আটক | Five brothers killed by pickup truck, fugitive driver arrested


চালককে এক বছর আত্মগোপনে থাকার পরামর্শ দেন গাড়ির মালিক


কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাবার শ্রাদ্ধের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বেপরোয়া গতির পিকআপের চাপায় পাঁচ ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় চালক সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।


র‌্যাব জানায়, দুই বছর ধরে গাড়ি চালালেও পিকআপ ভ্যানের চালক সাইফুলের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। চার বছর ধরে গাড়িটিরও ফিটনেস এবং তিন বছর ধরে রুট পারমিট নেই।

ঘন কুয়াশার মধ্যে লাইসেন্সহীন চালক বেপরোয়া গতিতে পিকআপ চালানোয় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল তাঁদের বলেন, ঘটনার দিন চকরিয়া থেকে কক্সবাজারে সবজিবোঝাই পিকআপ নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। রাস্তায় ঘন কুয়াশা সত্ত্বেও তিনি দ্রুত সবজি পৌঁছে দিতে ৬৫-৭০ কিলোমিটার গতিতে পিকআপ চালাচ্ছিলেন। ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণে মালুমঘাট বাজারের নার্সারি গেটের সামনে রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষারত পাঁচ ভাইকে চালক সাইফুল দূর থেকে দেখতে পাননি। কাছাকাছি এসে দেখলেও গতি বেশি থাকায় তিনি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। গতি এতই বেশি ছিল যে তিনি ব্রেক করলেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি প্রায় ১০০ ফুট সামনে চলে যায়।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনার সময় পিকআপ ভ্যানের মালিক মাহমুদুল করিমের ছেলে তারেক ও ভাগ্নে রবিউল গাড়িতে ছিলেন। চালক পিকআপ থেকে নেমে নিহতদের দেখতে এলেও মালিকের ছেলে তারেকের নির্দেশে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পরপরই সাইফুলকে ডেকে তারেক বলেন, এখানে না থেকে পালানো উচিত। আহতদের হাসপাতালে না নিয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে একটি বাজারে এসে মালিক মাহমুদুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন সাইফুল। মালিক তাঁকে পিকআপটি কোনো স্টপেজে রেখে লোকাল বাসে করে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বলেন।

খন্দকার মঈন বলেন, মালিকের নির্দেশনা অনুযায়ী সাইফুল ডুলাহাজারায় পিকআপ ভ্যান রেখে বাসে করে চকরিয়ায় গিয়ে মালিকের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় পিকআপের মালিক মাহমুদুল তাঁকে অন্তত এক বছর আত্মগোপনে থাকার পরামর্শ দেন। মালিকের পরামর্শে প্রথমে তিনি বান্দরবানের লামার রাবার বাগানে আত্মগোপনে যান। পরে জানাজানির ভয়ে ঢাকায় আসেন। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।


সাইফুলের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই জানিয়ে আল মঈন বলেন, লাইসেন্স ছাড়া দুই বছর ধরে তিনি পিকআপ ভ্যান, চাঁদের গাড়ি ও তিন টন ট্রাকসহ নানা ধরনের গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এর আগে তিনি বান্দরবানের লামায় রাবার বাগানে চাকরি করতেন। সর্বশেষ তিনি পিকআপ ভ্যানটি সাত দিন ধরে চালাচ্ছিলেন। এতে তিনি দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি পেতেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ২০১৬ সালে মাহমুদুল পিকআপ ভ্যানটি কেনেন। তিনি সবজি পরিবহনের ব্যবসা করেন। চকরিয়ার সবজির আড়ত থেকে কক্সবাজার সদর ও মহেশখালী এলাকায় সবজি সরবরাহ করতেন তিনি। তাঁর ছেলে তারেক সবজি সরবরাহ তদারক করেন, ভাগ্নে রবিউল তারেকের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না, জানতে চাইলে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে সাইফুল দাবি করেছেন, নিহত ব্যক্তিদের কেউ বা তাঁদের পরিবারের কোনো সদস্য তাঁর পূর্বপরিচিত নন। মালিকের সঙ্গে এই পরিবারের কোনো পরিচয় আছে কি না, সাইফুল বলতে পারেননি।

পিকআপের মালিক, তাঁর ছেলে তারেক ও ভাগ্নে পলাতক জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি যদি মনে করেন ঘটনায় আর কারো সংশ্লিষ্টতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তাহলে তিনি বিষয়টি দেখবেন।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিকআপের চালক সাইফুল পাঁচ ভাইকে গাড়িচাপা দেওয়ার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তাঁর কাছ থেকে পিকআপের চাবি উদ্ধার করা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget