জেব্রাকে পরিকল্পিত হত্যা? | Planned assassination of zebra?


একের পর এক জেব্রা মারা যাচ্ছে। কিন্তু হত্যার কারণ নিয়ে এখনও কর্তৃপক্ষের কাছে সঠিক তথ্য নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে একে একে ১১টি জেব্রার মৃত্যুতে প্রাণিবিজ্ঞানীরা হকচকিত। 
বিতর্কের মুখে পার্কের কর্মকর্তারাও। 

শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছে

জেব্রার মৃত্যুর পেছনে কি খাদ্যে বিষক্রিয়া, ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ? সেই রহস্যের আগুনে ঘি ঢাললেন সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ। কর্মীদের কোন্দলের জেরে নিরীহ ওই প্রাণীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। শুধু তাই নয়, এরই মধ্যে পার্কে থাকা একটি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। সে তথ্যও গোপন রাখার অভিযোগে এমপি অভিযুক্ত করলেন কর্তৃপক্ষকে।

শ্রীপুরের ইন্দ্রবপুর এলাকায় জাতির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত সাফারি পার্ক পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ। প্রায় সাড়ে ১১ হাজার বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা পার্কে হঠাৎ করেই ১১ জেব্রার মৃত্যু ও সার্বিক পরিস্থিতি দেখার জন্যই তার সেখানে যাওয়া। 

পার্কের অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বে অবহেলা ও কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা দেখে ক্ষুব্ধ হন তিনি। ঐরাবতী বিশ্রামাগারে বসে এমপি সবুজ বলেন, 'পার্কের ১১টি জেব্রা মারা যায়নি, হত্যা করা হয়েছে। কর্মীরা কোন্দলে জড়িয়ে একে অন্যকে ফাঁসানোর জন্য এই প্রাণীগুলোকে হত্যা করে। 

শুধু তাই নয়

জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় পার্কের একটি বাঘও মারা যায়। অথচ বাঘ মৃত্যুর খবরটি দিব্যি কর্তৃপক্ষ গোপন রেখেছে।' এ সময় পার্কের প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল করিম উপস্থিত সংসদ সদস্যকে বাঘ মারা যাওয়ার খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত ১২ জানুয়ারি একটি পুরুষ বাঘ মারা যায়। প্রায় দেড় মাস অসুস্থ থাকার পর বাঘটির মৃত্যু হয়। কিন্তু এ তথ্য কেন গোপন রাখা হয়েছিল, সে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক ছাড়াও কমিটির সদস্য উপসচিব (পরিবেশ-২) মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ড. মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খান ও প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল করিম সেখানে ছিলেন। 

তদন্ত কমিটির প্রধান সঞ্জয় কুমার ভৌমিক জানান, কমিটি গঠন করার পর প্রথমবারের মতো তারা পার্ক পরিদর্শনে আসেন এদিন দুপুরে। কাকতালীয়ভাবে সংসদ সদস্যকে পেয়ে যান তারা। কমিটির উপস্থিতিতে এমপি সবুজ বলেন, 'প্রাণীগুলো হত্যা করা যেহেতু একটি ক্রিমিনাল অফেন্স (ফৌজদারি অপরাধ), সেহেতু আমি নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করব। 

চোরের কাছ থেকে চুরির ঘটনা শুনে কখনও সঠিক তদন্ত করা যায় না। পার্কে যারা দায়িত্বে আছে, তাদের স্বপদে রেখে কখনও সঠিক তদন্ত হতে পারে না। এ জন্য প্রথমে তাদের এখান থেকে সরিয়ে দিতে হবে।'

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, সংসদ সদস্যের প্রতিটি অভিযোগ মাথায় নিয়েই আমরা তদন্তকাজ সম্পন্ন করব। কী কারণে জেব্রার মৃত্যু হয়েছে, কারা এই মৃত্যুর পেছনে দায়ী- এ কারণ উদ্ঘাটন ছাড়াও ভবিষ্যতে প্রাণীগুলোকে নিরাপদে রাখতে কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, সে বিষয়ে একটি সুপারিশ করবে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির কাছে অভিযোগ করে এমপি সবুজ আরও বলেন, হাতির জন্য সরবরাহ করা খাবার সীমানাপ্রাচীর দিয়ে বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে। মৃত জেব্রাগুলোর নমুনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছিল, অথচ একটি ল্যাবে পরীক্ষা করা প্রতিবেদনে মৃত জেব্রার পয়জনিং পাওয়া গেছে। 

ওই ল্যাবের রিপোর্টটিও গোপন রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, মৃত একটি জেব্রার পেটে একটি ছিদ্র ছিল। যেহেতু জেব্রার শিং নেই, তাহলে ছিদ্র হলো কীভাবে। এসব বিষয় আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়ে এমপি সবুজ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এ পার্কের নামকরণ করা হয়েছে। এ

টা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়ার বিষয় নয় কিংবা ছোট করে দেখার নয়। প্রকল্প পরিচালক জাহিদুল করিম বলেন, 'আমাকে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক- তাতে কোনো আপত্তি নেই। তবে জেব্রাগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করার জন্য বিশেষ অনুরোধ করছি।'

গত এক মাসে সাফারি পার্কে ১১টি জেব্রার 'রহস্যজনক' মৃত্যু হয়। ৯টি জেব্রা মৃত্যুর ২২ দিন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ সে তথ্য গোপন করে রাখে। পরে শনিবার সকালে একটি ও সন্ধ্যায় আরও একটি জেব্রার মৃত্যু হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Holy Foods ads

Holy Foods ads

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget