কেশবপুরের বসুন্তিয়া সার্বজনীন বাসন্তী পূজা সমাপ্ত

কেশবপুরের বসুন্তিয়া সার্বজনীন বাসন্তী পূজা সমাপ্ত
Basuntiya public Basanti Puja of Keshabpur is over


ঋতু যাই হোক, মহাপুরুষরা বিপদকালে অশুভ শক্তির বিনাশের উদ্দেশ্যে আদ্যাশক্তির আরাধনা করেছেন। ‘রামায়ণ’-এ শ্রী রামচন্দ্র শরৎ কালে অশুভ শক্তি নাশ করতে দেবীর আরাধনা করেন। পুরাণ অনুযায়ী চিত্রবংশীয় রাজা সুরথ বসন্ত কালে দেবীর আরাধনা করেন। কালের পার্থক্য হলেও আরাধনা দেবী দুর্গারই। কালের প্রভেদের কারণে পূজা রীতির সামান্য পার্থক্য হলেও উভয় পূজার রীতি প্রায় একই। শরৎকালে শারদীয়া দুর্গাপূজা, বসন্ত কালে শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা।


কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বসুন্তিয়া গ্রামে ঐতিহ্যবাহী তারকেশ্বর পূজা মন্দিরে সার্বজনীন শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে সোমবারে শেষ হলো। 

আরো পড়ুন:  যে কারণে ১০ বছর মিডিয়া থেকে দূরে থাকেন বিজয়

পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি মাস্টার সুজিত কুমার সরকার জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পাঁচ দিন ব্যাপী শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত দুই বছর অত্যাধিকহারে করোনা ভাইরাস বৃদ্ধির কারণে ভক্তদের সমাগম ছিল কম। কিন্তু এবার করোনার প্রাদুর্ভাব না থাকায় পরিবেশ জাকজমকপূর্ণ হয়েছে। 


পূজা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার প্রদীপ কুমার দেবনাথ জানান, পঞ্জিকায় লেখক, গণক, চণ্ডী পাঠক ও গবেষক প্রয়াত তারকনাথ ভট্টাচার্যের নামানুসারে বাংলা ১৩৫৫ সালে এই মন্দিরটি স্থাপন করা হয়। সে অবধি এখানে চলে আসছে শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজাসহ আরও অনেক পূজা। লেখক, গণক, চণ্ডী পাঠক ও গবেষক হিসাবে তারকেশ্বর ভট্টাচার্যের নাম পঞ্জিকায় লিপিবদ্ধ ছিল। এখানে এই শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা ৭৩ বছরে পদার্পন করলো।  বহু দূর থেকে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ এখানে পূজা দেখতে আসেন। 


 তারকেশ্বর পূজা মন্দির কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিন্টু রায় জানান, প্রয়াত তারকনাথ  ভট্টাচার্যের স্মৃতি বিজড়িত মন্দিরটি নতুন করে নির্মান করা হচ্ছে কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এখনও সম্পন্ন করতে পারিনি। সকলের সহযোগিতা থাকলে অসমাপ্ত কাজটুকু করতে সক্ষম হবো। 


কেশবপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ হালদার বলেন, শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজায় সরকারীভাবে কোন  অনুদান নাই তবে, আগামীতে এ পূজার সময় যাতে কিছু অনুদান পাওয়া যায় তার জন্য আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে চেষ্ঠা করবো। 


পূজা উপলক্ষে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন, কেশবপুর উপজেলা, স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক আব্দুল গফুর গফ্ফার, এলাকা ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম, কেশবপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ হালদার, মঙ্গলকোট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও মঙ্গলকোট আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান, প্রধান অতিথির একান্ত সহকারী কনক রায়, মঙ্গলকোট বাসষ্ট্যাণ্ড বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি পরিতোষ কুমার সরকার, যুবলীগের কামরুজ্জামান মিন্টু, ছাত্রলীগের মাহফুজুর রহমানসহ অন্যান্য সফরসঙ্গীবৃন্দ।


প্রধান অতিথি পূজা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার প্রদীপ কুমার দেবনাথ-এর নিকট কিছু আর্থিক অনুদান তুলে দেন। তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


পূজায় নবমী ও দশমীর পূজা শেষে রাতে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে প্রত্যেক প্রতিযোগিকে পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতিযোগি সেজুতি সরদার বলে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতে পেরে সে খুব খুশি। বুড়ুলি গ্রামের জয়া পাল বলে, আমি পূজা দেখতে এসে অনুষ্ঠানে যোগদান করে একটি ভাল কাপসহ কিছু টাকা পেয়েছি। নরনিয়া গ্রামের পূজা রাহা জানায়, আমি এখানে পূজা দেখতে এসে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতে পেরে আমার খুব ভাল লেগেছে। আমি একটি ভাল কাপ উপহার পেয়েছি।



আরো পড়ুন:


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget