দৈনিক জনতা https://www.dainikjanata.com/2022/04/Eggplant-cultivation-in.html

কেশবপুরে হনুমানের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বেগুনের আবাদ

কেশবপুরে হনুমানের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে বেগুনের আবাদ
Eggplant cultivation in Keshabpur to meet Hanuman's food needs


খাবারের সন্ধানে যশোরের কেশবপুরের হনুমানের দল এখন যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেশবপুরসহ পার্শ্ববর্তী মণিরামপুর, অভয়নগর, চুকনগর, কলারোয়ায় তাদের ঘোরাফেরা বেশি। গত কয়েক বছর ধরে হনুমান দলবেঁধে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থাসহ স্থানীয়রা সাধ্যমত তাদের খাবারের ব্যবস্থা করলেও হনুমানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন তারা। হনুমান বাড়িতে বা সবজি খেতে ঢুকে উৎপাত চালাচ্ছে বলে গ্রামবাসী অভিযোগ করছেন। তাদের খাদ্যের চাহিদা মটানোর জন্য কেশবপুরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৩ শতক জমিতে বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমানের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে বেগুনের আবাদ করা হয়েছে।


উপজেলা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক শ বছর ধরে কেশবপুর সদর এবং পাশের ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ৪০০ বিরল প্রজাতির  কালোমুখো হনুমান বাস করছে। বর্তমানে উপজেলা পরিষদ চত্বর, হাসপাতাল, পাইলট স্কুল এলাকা, ভোগতীনরেন্দ্রপুর, মধ্যকুল, রামচন্দ্রপুর, ব্রহ্মকাটিসহ ১২টি এলাকায় তাদের বিচরণ রয়েছে।

আরো পড়ুন: সন্তানের সামনে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় আদালতে মামলা

বনবিভাগ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন হনুমানের জন্য ৫৪ কেজি কলা, ৮ কেজি বাদাম ও ৬ কেজি পাউরুটি দেওয়া হয়। তবে এতসংখ্যক হনুমানের বিপরীতে ওই খাবার সবার মাঝে পৌঁছায় না। এ জন্য চলতি মৌসুমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এডিপির অর্থায়নে হনুমানের খাদ্য চাহিদা মেটাতে বেগুনের আবাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই খেত থেকে প্রথমবার ৬ কেজি টাটকা বেগুন তোলা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন নিজ হাতে পরিষদ এলাকায় বিচরণ করা হনুমানদের খেতে দেন। ৩০ থেকে ৩৫টি হনুমানকে টাটকা বেগুন খাওয়ার সময় আনন্দে লাফালাফি করতে দেখা যায়। বেগুন খেতে দেওয়ার সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, চলতি বছর হনুমানের জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরে যত্নসহকারে ৩ শতক জমিতে বেগুনের আবাদ করা হয়। মঙ্গলবার প্রথম ওই খেত থেকে ৬ কেজি টাটকা বেগুন তুলে হনুমানদের খেতে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “দুই-তিন দিন পর পর বেগুন উত্তোলন করা যাবে। এ খেতের উৎপাদিত সব বেগুন হনুমানগুলোকে খাওয়ানো হবে।'


কেশবপুরে হনুমানের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৩ শতক জমিতে বেগুনের আবাদ করা হয়েছে। ক্ষেত থেকে তোলা বেগুন হনুমানদের খেতে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা।



আরো পড়ুন:




অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

দৈনিক জনতা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম