দৈনিক জনতা https://www.dainikjanata.com/2022/04/Rangs-work-is-going.html

কেশবপুরের বসুন্তিয়া সার্বজনীন বাসন্তী পূজায় চলছে রং-এর কাজ, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু পূজা

কেশবপুরের বসুন্তিয়া সার্বজনীন বাসন্তী পূজায় চলছে রং-এর কাজ, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু পূজা
Rang's work is going on in Basuntia Public Basanti Puja of Keshabpur, Puja starts from Thursday


ঋতু যাই হোক, মহাপুরুষরা বিপদকালে অশুভ শক্তির বিনাশের উদ্দেশ্যে আদ্যাশক্তির আরাধনা করেছেন। ‘রামায়ণ’-এ শ্রী রামচন্দ্র শরৎ কালে অশুভ শক্তি নাশ করতে দেবীর আরাধনা করেন। পুরাণ অনুযায়ী চিত্রবংশীয় রাজা সুরথ বসন্ত কালে দেবীর আরাধনা করেন। কালের পার্থক্য হলেও আরাধনা দেবী দুর্গারই। কালের প্রভেদের কারণে পূজা রীতির সামান্য পার্থক্য হলেও উভয় পূজার রীতি প্রায় একই। শরৎকালে শারদীয়া দুর্গাপূজা, বসন্ত কালে শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা।


কেশবপুরের উপজেলার  মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বসুন্তিয়া গ্রামে সার্বজনীন তারকেশ্বর পূজা মন্দিরে  শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে সোমবার পর্যন্ত চলবে। মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, একদিকে চলছে প্রতিমার রংঢং এবং অন্যদিকে প্যাণ্ডেল তৈরীর কাজ। কেশবপুর উপজেলার কন্দর্পপুর গ্রামের যতিন্দ্র নাথ পালের ছেলে শিল্পী কার্তিক পাল (৫২) জানান, কেশবপুর, ডুমুরিয়া, সাতক্ষীরা, কলারোয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় ৩০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরীর কাজ করে আসছি। এখানে দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিমা তৈরীর কাজ করেছি। আজ থেকে রং টানা শুরু করলাম। বৃহস্পতিবারে পূজার আগেই সমস্ত শিল্পায়নের কাজ শেষ হয়ে যাবে। সহযোগী হিসাবে ছিলেন একই উপজেলার নারায়ন পাল (৩০)। প্যান্ডেল ও গেট নির্মান কাজে নিয়োজিত আছাদুল ইসলাম ও রেজাউল ইসলাম বলেন, আমরা বুধবারের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে দেব।

আরো পড়ুন: সন্তানের সামনে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় আদালতে মামলা

পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি মাস্টার সুজিত কুমার সরকার জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার পাঁচ দিন ব্যাপী শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত দুই বছর অত্যাধিকহারে করোনা ভাইরাস বৃদ্ধির কারণে ভক্তদের সমাগম ছিল কম। কিন্তু এবার করোনার প্রাদুর্ভাব না থাকায় পরিবেশ জাকজমকপূর্ণ থাকবে বলে আশা করি। 


পূজা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার প্রদীপ কুমার দেবনাথ জানান, পঞ্জিকায় লেখক, গণক ও গবেষক প্রয়াত তারকেশ্বর ভট্টাচার্যের নামানুসারে বাংলা ১৩৫৫ সালে এই মন্দিরটি স্থাপন করা হয়। সে অবধি এখানে চলে আসছে শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজাসহ আরও অনেক পূজা। লেখক, গণক ও গবেষক হিসাবে তারকেশ্বর ভট্টাচার্যের নাম পঞ্জিকায় লিপিবদ্ধ ছিল। এখানে এই শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা ৭৩ বছরে পদার্পন করলো।  বহু দূর থেকে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ এখানে পূজা দেখতে আসেন। 

তারকেশ্বর পূজা মন্দির কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মিন্টু রায় জানান,  প্রয়াত তারকেশ্বর  ভট্টাচার্যের স্মৃতি বিজড়িত মন্দিরটি নতুন করে নির্মান করা হচ্ছে কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে এখনও সম্পন্ন করতে পারিনি। সকলের সহযোগিতা থাকলে অসমাপ্ত কাজটুকু করতে সক্ষম হবো।

কেশবপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ হালদার বলেন, শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজায় সরকারীভাবে কোন  অনুদান নাই তবে, আগামীতে এ পূজার সময় যাতে কিছু অনুদান পাওয়া যায় তার জন্য আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করে যাব।



আরো পড়ুন:




অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

দৈনিক জনতা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম