ফেব্রুয়ারী 2022


ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের তৃতীয় দিনে শনিবার রাজধানী কিয়েভের পাশে একটি জ্বালানি তেলের ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।


ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ভালসিলকিভে ওই তেলের ডিপোটির অবস্থান। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে সেখানে মিসাইল হামলা চালায় রাশিয়া। খবর আনাদোলুর।


ভালসিলকিভ শহরটি রাজধানীর কিয়েভের খুব কাছে অবস্থিত। শনিবার ভোর থেকেই কিয়েভের চারদিক ঘিরে ফেলে রুশ বাহিনী।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল এক ভিডিওতে দেখা যায়, ভালসিলকিভে মেয়র নাটালিয়া বালাসিনোভিচ তেলের ডিপোতে হামলার পর সবাইকে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিসাইল হামলার পর বিকট শব্দে আগুন ধরে যায় তেলের ডিপোতে। এর পর এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।



রাজধানী কিয়েভ থেকে ভালসিলকিভ শহরটির দূরত্ব মাত্র ৩৫ কিলোমিটার।


এদিকে রুশ সেনাদের এ আগ্রাসন ঠেকাতে এবার ইউক্রেনের নারীরা নিজেদের রক্ষা করতে বিশেষ কৌশল নিয়েছেন।


মরোটভ ককটেল (পেট্রল বোমা) বানাচ্ছেন। শহরটিতে রাশিয়ান সৈন্যদের আগ্রাসন রুখে দিতে এবং রাস্তায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পেট্রল বোমা বানাচ্ছেন তারা।


ইউক্রেনের ওই শহরটির নাম ডিনিপ্রো। জড়ো হয়ে ঘাসের ওপর বাড়িতে বসে নারীরা পেট্রল বোমা বানাচ্ছেন। তাদের মধ্যে শিক্ষক, আইনজীবী ও গৃহিণী রয়েছেন। তারা কাচের বোতল, ন্যাকড়া ও জ্বালানি তেল নিয়ে বসেছেন।

তারা বলছিলেন, তারা আসলে কী করছে সে ব্যাপারে খুব গভীরভাবে ভাবছেন না। কারণ এক নারী বলেছেন, এটি খুবই ভয়ঙ্কর।


তারা জানিয়েছেন, তারা যে কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে চান। এই শহরটিতে এখনো আক্রমণ চালানো হয়নি। কিন্তু এটি ইতোমধ্যে যুদ্ধের মূল্য বুঝতে পারছে। শহরটির ৪০০ শয্যার সামরিক হাসপাতালের সব শয্যাই পুরো উত্তর ইউক্রেন থেকে আসা আহত সৈনিকে পরিপূর্ণ।


রাশিয়ার উপর আর্থিক প্রতিবন্ধকতা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেন। রাশিয়ার ব্যাঙ্কগুলিকে আন্তর্জাতিক লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে।

সামরিক অভিযানের চতুর্থ দিনে খারকিভ এবং ইউক্রেনের রাজধানী কিভে প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে রুশ সেনাকে। এই দুই জায়গায় জোর লড়াই চলছে দু’পক্ষের সেনার মধ্যে। একের পর এক রকেট হামলা চালিয়ে খারকিভে গ্যাস পাইপলাইন উড়িয়ে দিয়েছে রুশ সেনা। অন্য দিকে, কিভে তেল ভান্ডারেও বিস্ফোরণ ঘটানোর খবর পাওয়া গিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে।



ইতিমধ্যেই রাশিয়ার উপর আর্থিক প্রতিবন্ধকতা জারি করেছে আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেন। রাশিয়ার ব্যাঙ্কগুলিকে আন্তর্জাতিক লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে। গত কয়েক দিন ধরে পশ্চিমের দেশগুলি রাশিয়াকে নানা ভাবে হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল, সামরিক অভিযান বন্ধ না করলে তার মাশুল গুনতে হবে। এ বার আর হুঁশিয়ারি নয়, রাশিয়াকে আর্থিক দিক থেকে পঙ্গু করে দেওয়ার কাজ শুরু করে দিল পশ্চিমের দেশগুলি।


শনিবারই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল মাকরঁ, তুরক্সের প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁদের কাছে সহযোগিতার আর্জি জানিয়েছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোকে ফোন করে সে দেশ থেকে রুশ সেনা সরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর দেশের স্টেট ডিপার্টমেন্টকে নির্দেশ দিয়েছেন যত দ্রুত সম্ভব ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাতে হবে। জার্মানি এবং ফ্রান্সও অস্ত্র এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করা শুরু করেছে।


রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডেকেছে। রাশিয়ার আগ্রাসনী নীতি এবং সামরিক অভিযান নিয়ে সোমবার সদস্য দেশিগুলির মধ্যে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।



ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া এলাকার মেলিটোপল শহর দখল করেছে রুশ সেনারা। এমন দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মেলিটোপল শহরটি মূলত একটি মধ্য আকারের শহর। যা ইউক্রেনের অন্যতম মোরিউপুল বন্দরের নিকট অবস্থিত।

এদিকে, ইউক্রেনে সংঘাতের সময় রুশ বাহিনীর অন্তত সাড়ে তিন হাজার সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। 


বিবিসি জানায়, রুশ আগ্রাসঙ্গে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ রাশিয়ান সেনা নিহত হয়েছে এবং ২০০ বন্দি পালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরোধে ১৪টি বিমান, ৮টি হেলিকপ্টার ও ১০২টি ট্যাঙ্ক হারিয়েছে রুশ বাহিনী।

তবে, রাশিয়া এসবের কোনোটিই এখন পর্যন্ত স্বীকার করেনি।


বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হচ্ছে।



ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছাড়াও, ইউক্রেনের বেশকিছু স্থানে এয়ার স্ট্রাইক করা হচ্ছে। যা গত কয়েকদিনের নির্মমতা থেকেও বেশি বলে দাবি করছে বিবিসি।


রাজধানী কিয়েভের একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলা করেছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেন সেনাবাহিনী জানায়, কিয়েভ সামরিক ঘাঁটিতে রাশিয়ার সৈন্যরা হামলা চালিয়েছে। তবে ইউক্রেন সে হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।


অন্যদিকে, ইন্টারফ্যাক্স ইউক্রেন বার্তা সংস্থা বলেছে যে রাশিয়ান সৈন্যরা শহরের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করছে।


প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কিয়েভ শহরের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দুরে ঘন ঘন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তবে কোথায় বিস্ফোরণ ঘটছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের আজ তৃতীয় দিন। ইউক্রেনে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। শুক্রবার মধ্যরাতে রাজধানী কিয়েভের চারদিক ঘিরে ফেলেছেন রুশ সেনারা। এ সময় মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে গোটা কিয়েভ। 

স্থানীয় সময় শনিবার সকালে কিয়েভ সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন রাস্তায় লড়াই চলছে।


লড়াইয়ের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাইহাইলো পোডোলিয়াক। তিনি বলেন, রুশ সেনারা কিয়েভে সর্বোচ্চ পরিমাণ অস্ত্র নিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়েছেন।


তবে কিয়েভের উপকণ্ঠের বর্তমান পরিস্থিতি তাদের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।  


ইউক্রেনের টেলিভিশনে এক বার্তায় তিনি বলেন, শত্রুরা একাধিক জায়গায় আক্রমণ করেছে। তবে পুলিশ ও আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।


এদিকে শুক্রবার রাতে কিয়েভে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের মোবাইলে ভিডিওবার্তা দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি বলেন, আমরা সবাই এখানে। আমাদের সামরিক বাহিনী এখানে, সমাজের নাগরিকরা এখানে। আমরা সবাই দেশ ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করছি এবং এভাবেই লড়াই করব। 


হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনের আটশ’র বেশি সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।


রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। খবর আল জাজিরার।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ বলেন, ১৪টি সামরিক বিমানঘাঁটি, ১৯টি কমান্ড পোস্ট, ২৪টি এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ৪৮টি রাডার স্টেশন ধ্বংস করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের ৮টি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে ‘সামরিক অভিযানের’ ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকে ভয়াবহ সংঘাত চলছে।


ইউক্রেন সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজে এক পোস্টে দাবি করা হয়, আক্রমণে জড়িত রাশিয়ার তিন হাজার ৫০০ সেনা নিহত হয়েছে এবং দুইশ সেনা সদস্যকে বন্দি করা হয়েছে।


ইউক্রেনজুড়েই চলছে তুমুল যুদ্ধ। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে পশ্চিমা কোনো দেশই মাঠে নামেনি।

তাই একাই রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন সেনারা।  

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ আগ্রাসনের তৃতীয় দিন শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলা শুরুর পর থেকে ৩ হাজার ৫০০ রুশ সেনা নিহত হয়েছে। তাদের মরদেহ সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা রেড ক্রসকে আহ্বান জানানো হয়েছে।  


টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এই আহ্বান জানান ইউক্রেনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেসচুক। তিনি বলেন, দখলদারদের হাজার হাজার মরদেহ ইউক্রেনে পড়ে আছে। মানবিক কারণে তাদের মরদেহ সরিয়ে নিতে হবে। তাই মরদেহগুলো রুশ ফেডারেশনে পৌঁছে দিতে রেড ক্রসের সহায়তা দরকার।  


ইউক্রেন সেনাবাহিনী ফেসবুক পোস্টে জানায়, এ পর্যন্ত হামলায় জড়িত সাড়ে তিন হাজার রুশ সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। বন্দি করা হয়েছে আরও ২০০ সেনা সদস্যকে। একই সঙ্গে রাশিয়ার ১৪টি যুদ্ধবিমান, ৮টি হেলিকপ্টার এবং ১০২টি ট্যাংক ধ্বংস করেছে ইউক্রেন।



তবে দেশটির এই দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিক যাচাই করতে পারেনি বিবিসি। অপরদিকে রাশিয়া এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য জানায়নি।

যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৯৮ জন নিহত  

মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ সেনাবাহিনীর আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ১৯৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এক লাখের বেশি বাসিন্দা।   


শনিবার ইউক্রেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভিক্টর লিয়াশকো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিক থেকে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। তাদের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয় বৃহস্পতিবার। এতে ১৯৮ জন নিহত এবং ১ হাজার ১১৫ জন আহত হন।  


প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ৩৩ জন শিশু রয়েছে। তবে হতাহতদের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না, তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।  


জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা বলছে, প্রতিবেশী দেশে রাশিয়ার আক্রমণ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের ১ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা পাশের দেশগুলোতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে।  

শনিবার তৃতীয় দিনের মতো ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে রুশ বাহিনী। তারা শুক্রবারই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্রবেশ করেছে। রুশ বাহিনীকে প্রতিহত করতে ইউক্রেনের সেনারা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।  


জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক ডেপুটি হাইকমিশনার কেলি ক্লেমেন্টস সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।  


কেলি ক্লেমেন্টস বলেন, ইউক্রেনের ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি বাসিন্দা পাশের দেশে গেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যে অভ্যর্থনা পাচ্ছে, তা অসাধারণ। কিন্তু সামনের দিনগুলোর কথা চিন্তা করে আমরা সত্যিই শঙ্কিত।  


জানা গেছে, ইউক্রেনের বেশিরভাগ বাসিন্দা শরণার্থী হয়ে পাশের দেশ পোল্যান্ড, মলদোভা, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরিতে যাচ্ছে।

তৃতীয় দিনেও তুমুল যুদ্ধ

যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, কিয়েভে তুমুল যুদ্ধের মধ্যে একটি সড়কে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শহরের একটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  


রাজধানীর মাইডান স্কয়ারের কাছে একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া শহরের ত্রয়েশ্চিনা এলাকায় পাওয়া গেছে একাধিক বিস্ফোরণের খবর। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলার শব্দ এত তীব্র ছিল যে, শহরের কেন্দ্র থেকে কয়েক মাইল দূর পর্যন্ত শব্দ পেয়েছেন তারা।


কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, শহরের চিড়িয়াখানার কাছে এবং শুলিয়াভকা শহরের আশপাশে ৫০টিরও বেশি বিস্ফোরণ এবং ভারী মেশিনগানে গোলাগুলি হয়েছে।    


আল-জাজিরা জানায়, পোল্যান্ডের সীমান্তের কাছে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভের মেয়র বলেছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী শহরে রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করেছে।


লভিভের মেয়র আন্দ্রে সাডোভি টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে লিখেছেন, ইউক্রেনের সপ্তম বৃহত্তম নগর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫৬ মাইল দূরের ছোট শহর ব্রডিতে তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে অবতরণ করেছে প্রায় ৬০ জন রুশ সেনা।


মেয়র বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দখলদারদের তাড়িয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’।  


রুশ সেনাদের ঠেকাতে মারিউপল শহরের অনেক সড়কে গাছ ফেলে বন্ধ করে দিয়েছে ইউক্রেনের সেনারা। এমন অবরোধ পরিস্থিতির মধ্যেও সেখানকার অনেক বাসিন্দা আহতদের রক্ত দিতে হাসপাতালে ভিড় করছেন।


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মাইখাইলো পোডোলিয়াক বলেছেন, মারিউপলে তীব্র যুদ্ধ চলছে। রাশিয়া এই শহরকে জিম্মি বা আত্মসমর্পণ করাতে পারবে না।   

অস্ত্র হাতে যুদ্ধের ঘোষণা পার্লামেন্ট সদস্যের

চলমান যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদেরও অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।  


সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইউক্রেনের পার্লামেন্ট সদস্য ও গলস পার্টির নেতা কিরা রুদিক বলেছেন, রাজধানী কিয়েভ ছেড়ে তিনি কোথাও যাবেন না। তার কাছেও অস্ত্র আছে। যুদ্ধের জন্য তিনি প্রস্তুত।  


মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনকে কিরা রুদিক বলেন, ‘আমি পার্লামেন্টের সদস্য। আমার দায়িত্ব রাজধানী কিয়েভে অবস্থান করা। ইউক্রেন সেনাবাহিনীর প্রতি আমার বিশ্বাস রয়েছে। তাদের হাতে অস্ত্র আছে। অস্ত্র আমার হাতেও আছে। আমি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত’।  


কিয়েভের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে এই পার্লামেন্ট সদস্য বলেন, কিয়েভের আকাশে এখন একের পর এক বিমান হামলা হচ্ছে। বিস্ফোরণের শব্দে জানালা কেঁপে উঠেছে। তার বাড়ির পাশেও পরপর কয়েকটি বিমান হামলা হয়েছে। তবে এতে কেউ নিহত হয়নি।  

ইউক্রেনের একটি শহর দখলের দাবি রুশ সেনাদের

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে মারিউপল বন্দরের পাশের শহর মেলিটোপল দখলে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়ার সেনারা। শনিবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দাবি করেছে বলে রয়টার্স ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়।


রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় ২৬ ফেব্রুয়ারি রুশ সেনারা কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই মেলিটোপলে প্রবেশ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা শহরে টহলরত রুশ সেনাদের স্বাগত জানাচ্ছে।  


২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর দেশটির প্রথম কোনা শহর দখলে নেওয়ার ঘোষণা দিল রাশিয়া।


প্রসঙ্গত, ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। এর কয়েক মিনিট পরই ইউক্রেনে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। এরপর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে।


চিকিৎসা না দিয়ে রোগীকে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়ার দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। ওই রোগীর নাম মোশারফ হোসেন। তার বাড়ি ঝিনাইদাহ জেলার শৈলকোপা এলাকায়। ঘটনাটি শুক্রবার দুপুরের।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার এসআই সুজন জানান, মোশারফ হোসেন ঝিনাইদাহ থেকে ফরিদপুরে দিন মুজুরের কাজে এসেছিল। গত ২৫দিন আগে জেলার মধুখালী উপজেলায় সড়ক দূর্ঘটনায় মারাতœক আহত হয়ে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হন। এসময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। এরপর থেকে ওই রোগী ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শুক্রবার সকালে হাসপাতালে আয়া ট্রলিতে তাকে নিয়ে এসে মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকের সামনে ফরিদপুর-বরিশাল সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে যায়। 
ওই স্থানে অবস্থানকারীরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পরবর্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টেলিভিশনের ক্যামেরা দেখে তড়িঘরি করে তাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করে।
অসুস্থ মোশারফ হোসেন জানায়, আমি অনেক অনুনয় বিনয় করলেও হাসপাতালের ডাক্তার আমাকে কোন চিকিৎসা সেবা দেয় নাই। আমাকে একটি ট্যাবলেটও দেয় না দিয়ে রাস্তার মধ্যে ফেলে দিয়ে গেছে।

স্থানীয়রা মনে করেন, একজন আসহায় মানুষকে সেবা না দিয়ে উল্টো রাস্তায় ফেলে দেয়া মানবাধিকার লংঘন।  এ ঘটনায় তারা দায়ীদের শাস্তি দাবী করেন । এছাড়া তারা হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তাকে দায়ী করে তাদের শাস্তি হিসেবে অন্যত্র বদলী দাবি করেন


বদলে যাচ্ছে আসমানীদের জীবনঃ পর্ব- ০১

আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও /রহিমদ্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।/ বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি,/ একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। /একটুখানি হওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে, / তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে’ আসমানীকে সামনে রেখে পল্লী কবি জসীম উদদীন তার আসমানী কবিতায় এভাবেই ফরিদপুরের হত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন যাত্রা তুলে ধরেছিলেন প্রায় ৬৭ বছর আগে। সময়ের পরিবর্তনশীলতায় অনেক কিছু বদলালেও ফরিদপুরের আসমানীদের চিত্র এ যাবৎকালে রয়ে গিয়েছিল এভাবেই।


এখন সময় বদলেছে-পরিবর্তন হয়েছে আসমানীদের জীবনের; ভেন্না পাতার ছাউনী থেকে তারা এখন বসবাস করছে রঙ্গিন টিন আর পাকা দেয়ালের আধাপাকা বাড়িতে। সেই বাড়িতেই করছে শাক- সবজির আবাদ। কেউবা করছে হাঁস মুরগি-ছাগল-গরু পালন। সন্তানদের পাঠাচ্ছে স্কুলে। বসতির দুশ্চিন্তা ছেড়ে নিশ্চিন্ত মনে কাজ করে এগিয়ে নিচ্ছে সংসার। সংসারে এসেছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ভূমি ও গৃহ প্রদান করায় ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী, সালথা, নগরকান্দা, ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে হাজার হাজার মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টে যাওয়ার এ চিত্র সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করা গেছে।


আশ্রয়ণ প্রকল্পকের বাসিন্দারা গঠন করেছে সমবায় সমিতি; নিয়মিত নিচ্ছে প্রশিক্ষণ; অনেকের একাডেমিক শিক্ষা না থাকলেও নানা প্রশিক্ষণে তারা হয়ে উঠছে স্বশিক্ষিত। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকিতে ক্রমেই সময়ের সাথে সাথে উন্নয়নের নানা দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। বদলে যাওয়া সেই আসমানীদের অর্থনৈতিক পরিবর্তন চিত্রের কিয়দাংশ ফুটে উঠেছে আলফাডাঙ্গা উপজেলার স্বপ্ন নগরের সুফিয়াকে নিয়ে আজকের প্রতিবেদনে।



খামার করে ভাগ্যের পরিবর্তন করছে আলফাডাঙ্গার সুফিয়া


এক মুঠ ঘাস উঠালেই তেরে আসত ক্ষেতের মালিক। বিশ্রি ভাষায় করতো গালিগালাজ। মা-বাপ তুলে গালি দিতেও মুখে বাধতো না। সেই জন্যই মনের মধ্যে খুব শখ থাকলেও বোয়ালমারীর বনমালীতে থাকাকালীন গরু ছাগল পালন করতে পারেন নাই। শুধু গরু ছাগলই নয় হাস মুরগি পালনেও ছিল বাধা। কারো বাড়িতে গেলেই ঝগড়া বাধিয়ে দিত। হাস মুরগিকে নুলা করে দিত। তাই কোন কিছু না করেই মনে ‍দুঃখ নিয়ে স্বামীর সামান্য উপার্জনেই এতকাল অন্যর জমিতে বাসবাস করত। উপার্জনের আশা থাকলেও এগিয়ে যেতে না পারা নিজের জীবনের কথা জানাচ্ছিলেন সুফিয়া বেগম (৪৩)।


তবে এখন সুফিয়ার ভাগ্যের বদল ঘটতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া জমিসহ ঘর পেয়েছে আলফাডাঙ্গার স্বপ্ন নগরে। এখন আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে। গুছিয়ে আনছে নিজের সংসার। সাজিয়েছে নিজের মতো করে একটি খামার। গরু ছাগল ‍মুরগির পরিচর্যা করে কেটে যাচ্ছে দিনের অধিকাংশ সময়। নিজে সময়মত না খেলেও ওদের খাওয়াচ্ছে সঠিক সময়ে।


১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ সোমবার দুপুরে কথা হয় এ প্রতিবেদকের সাথে। সে জানায় তার অতীতের কষ্টের কথা। বলে বর্তমানের ব্যস্ততার কথা। প্রকাশ করে ভবিষ্যত স্বপ্নের পরিকল্পনা।



জানায়, বোয়ালমারীতে কখনো সরকারি খাস জমিতে আবার কখনোবা কারো জমিতে খুপরি তুলে থাকতো স্বামীসহ ৫ ছেলে মেয়ে নিয়ে। স্বামী মিলন মোল্লা নসিমন চালক। তার আয়ে চাল-ডাল-লবন তরকারি কিনতেই সব উপার্জন শেষ হয়ে যেত। তাই সব সময় বাড়তি কিছু উপাজর্নের চিন্তা করতো সে। কিন্তু নানা বাধায় পারতো না। গত বছর যখন আলফাডাঙ্গার স্বপ্ন নগরে জমিসহ ঘর পায় তখনই শুরু করে স্বপ্নের বাস্তবায়ন। ঘরের পেছন সংলগ্ন এক চিলতে জায়গায় ১০ ফুট পুরাতন টিন কিনে বারান্দা দিয়ে ১টি গাভী পালন শুরু করে। তিন মাস আগে একটি বাছুর দেয় গাভীটি। গাভীর দুধ বেচে ১ টি বকরিও কিনে সে। সেটিও বাচ্চা দিয়েছে। এখন মোট ছাগলের সংখ্যা দাড়িয়েছে ছোট বড় মিলে ৫টি। মুরগিও রয়েছে বেশ কয়েকটি। সবজির অভাব মেটাতে এখন শুরু করেছেন লাউ আর সিম গাছ রোপন। এসবের পরিচর্যা করেই তার দিন কেটে যায়। আগামীতে সে তার গরু ছাগলের খামারটিকে আরো বড় করবে বলে জানায়।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকারকে ধন্যবাদ জানান তাকে জমিসহ ঘর দেয়ায়। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত তার খোজ খবর রাখার জন্য।


ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের মোল্যাপাড়া নতুন রাস্তা,সংস্কার ও জলাবন্ধতা নিরশনের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)  বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলার কামারখালী মুরগি বাজার থেকে মোল্যাবাড়ী পর্যন্ত প্রায় দেড় কি.মি নতুন রাস্তার ,সংস্কার ও জলাবন্ধতা নিরশনের দাবিতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার শতাধিক এলাকাবাসী ঘন্টা ব্যাপিএ মানববন্ধনে অংশ নেন। জানা যায়, রাস্তাটি তৈরি হওয়ার পর থেকে এ সময়ের মধ্যে কোন কাজ করা হয়নি। মাত্র দের কিলোমিটার রাস্তা ঘিরে প্রায় ৫শ পরিবারের ৫/৬ হাজার মানুষের বসবাস। রাস্তাটি দিয়ে কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। 

মানবন্ধনে এলাকাবাসী বলেন, দুইশত বছরের পুড়ানো জনপথ এটি। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় আগে রাস্তাটি নির্মাণ করা হয় ইট দিয়ে। এরপরে আর কোন সংস্কার করা হয়নি। অনেকে আশার বানি শুনালেও তার কোন বাস্তবায়ন নেই। বর্তমানে রাস্তাটি ভাঙ্গাচুরা ও বেহাল দশায় পরিণত হওয়ায় গ্রামের মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। লাশ, রোগী নিয়ে সময়মত হাসপাতালে যাওয়া যায় না। আর বর্ষা মৌসুমে তো পানির মধ্যে দিয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। 

দ্রত রাস্তাটি সংস্কার করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা এখন সকলের প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে। মানববন্ধনে এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন মোঃ ফরিদুল ইসলাম, তালহা জুবায়ের, মোঃ সবুজ, কবির, রিয়াদ, শামীম, দোলেনা, ইয়াসমিন, দবির, সাথী, শিল্পী প্রমূখ। এসময় দ্রæত ভাঙ্গা রাস্তাটি পূর্ননির্মান ও পাকাকরণের দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে উপজেলা চেয়ারম্যানের নিকট ৫২৫ জনের সাক্ষর সহ স্বারকলিপি প্রদান করেন।

 

‘অর্জুন রেড্ডি’ দিয়ে এ দেশের দর্শকের কাছে তুমুল পরিচিত দক্ষিণী সুপারস্টার বিজয় দেবরাকোন্ডা। অন্যদিকে, রশ্মিকা মান্দানা’র ‘পুষ্পা’র নাচ এখনও নাচছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। 

তাদের প্রেমের গুজব বহু দিন ধরেই। একসঙ্গে দুটি ছবিতে কাজ করেছেন তারা। অনস্ক্রিন ও অফস্ক্রিন বন্ধুত্ব বা ‘সম্পর্কের’ কথা কারোরই অজানা নয়। 

তবে সম্প্রতি তাদের মেলামেশা নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। এমনকি ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, চলতি বছরের শেষেই বিয়ের পিঁড়িতে দেখা যাবে দক্ষিণ ভারতের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত এ জুটিকে।

আর এখন জমিয়ে করছেন প্রেম। যার নজির পাওয়া গেছে সম্প্রতি। কিছু দিন আগে দুই তারকা মুম্বাইয়ে পাপারাজ্জিদের কাছে লেন্সবন্দি হন। অনেকের দাবি, বেশ ডেটিং করছেন তারা।

জানা যায়, বিগত কয়েক দিন ধরেই হিন্দি ছবি ‘লাইগার’র শুটিংয়ের জন্য শহরটিতে রয়েছেন বিজয়। অন্যদিকে, মুম্বাইয়ে নতুন বাড়ি কিনেছেন রশ্মিকা।

তবে তাদের ‘বন্ধুত্ব’র শুরু ‘গীত গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’ ছবি দুটোর কারণে। এগুলোতে অভিনয় করেছেন বিজয় ও রশ্মিকা। দুটি ছবিই ছিল সুপারহিট। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়, পর্দার রসায়ন বাস্তবে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। বছরের শুরুটা নাকি গোয়ায় ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে বিজয়ের ভাই আনন্দও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, নায়কের মায়ের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রশ্মিকার। 

শোনা যাচ্ছে, এই বছরের শেষেই সাতপাকে বাঁধা পড়তে পারেন রশ্মিকা ও বিজয়। নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে যদিও এখন পর্যন্ত মুখ খোলেননি তারা। উভয় তারকাই এই মুহূর্তে তাদের কাজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত।

 

ফের পরিণয় বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন হৃত্বিক রোশন! সাম্প্রতিককালে এক্টর-সিঙ্গার সাবা আজাদের সাথে তার চর্চিত রেলেশনশিপ নিয়ে নানান তথ্য সামনে আসতেই রয়েছে, আর ঠিক সেই সময় “বলিউড লাইফ”এর সূত্র ধরে এলো সেই খবর যা বর্তমানে রয়েছে প্রত্যেক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন বলিউডের হার্টথ্রব হৃত্বিক রোশন। টানা 12 বছর পর ফের সম্পর্কের গাঁটছড়ায় আবদ্ধ হতে চলেছেন তিনি।

ঋত্বিক এবং সাবার সম্পর্কের সমীকরণ বেশ কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও সূত্রের খবর অনুযায়ী তাকে বিয়ে করার মুডেই রয়েছেন বলিউডের “গ্রিক গড”। এখনো নিশ্চিত কোনো খবর না পাওয়া গেলেও অতিসম্প্রতি চার হাত এক হতে চলেছে তাদের। শোনান খবর অনুযায়ী ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিয়ে-সংক্রান্ত নানান প্রস্তুতি আর সেই জল্পনায় সীলমোহর লাগিয়ে রোশান পরিবারের সাথে সাবার একছাদের তলায় কাটানো মুহূর্তকে লেন্সবন্দী করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করলেন হৃত্বিক এর কাকা রাজেশ রোশন।

অতিসম্প্রতি সাবাকে রোশান পরিবারের সাথে একটি মধ্যাহ্নভোজন এর অনুষ্ঠান কাটাতে দেখা গিয়েছে। যেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় সারা রোশন পরিবারকে। রবিবারের ছুটির দিনে পরিবারের সাথে কাটানো কিছু কোয়ালিটি টাইম এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন রাজেশ যেখানে সাবা কমেন্ট করেন “বেসটেস্ট সানডে এভার” অন্যদিকে উক্ত ছবিতে রিএকশন দিতে দেখা যায় বলিউডের গ্রিক গডকে। সব মিলিয়ে পারিবারিক সময় কাটানো থেকে শুরু করে ছোটখাটো আউটিং ধীরে ধীরে সম্পর্কের ভীত মজবুত করতে মরিয়া ঋত্বিক।

কয়েক সপ্তাহ আগেই হৃত্বিকের আপকামিং মুভি “বিক্রম বেধা”এর ফার্স্টলুক প্রকাশিত হয়েছিল যেখানে দীপিকা পাডুকোন এর বিপরীতে অভিনয়কৃত এই মুভির সম্প্রচারেই এখন ব্যস্ত রয়েছেন অভিনেতা। অন্যদিকে ইতিমধ্যেই লঞ্চ করেছে সাবা অভিনীত “রকেট বয়েজ” সিরিজ। তবে সূত্রের পাওয়া খবর অনুযায়ী খুব একটা বড় করে না হলেও শিবানি দান্দেকার এবং ফারহান আক্তারের মতোই ছোটখাটো ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছেন বলিউডের এই নতুন প্রজন্মের জুটি!

নেটমাধ্যমের পোস্টে সোজাসাপ্টা বার্তা দিয়েছিলেন সামান্থা আর নাগা। ‘অনেক আলোচনা এবং চিন্তাভাবনার পরে আমি এবং স্যাম (সামান্থা) আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমরা বন্ধু। আমি বিশ্বাস করি, সেই বন্ধুত্বই আমাদের মধ্যে এক বিশেষ সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখবে।’

মাস খানেক পরে নাগা চৈতন্যর সঙ্গে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী সামান্থা প্রভু। হলিউডের অভিনেতা উইল স্মিথের লেখা ধার করে সামান্থা লিখেছেন, “বিগত ৩০ বছর ধরে আমরা সবাই ব্যর্থতা, বিচ্ছেদ, অপমান, মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। আমি খুনের হুমকি পেয়েছি। আমার টাকা নষ্ট হয়েছে। আমার পরিবার ভেঙে গিয়েছে। আমার ব্যক্তিগত সব কিছু প্রকাশ্যে এসেছে। সব ভেঙেছে। আবার একটা একটা করে ইট গেঁথেছি। জীবনে যা-ই ঘটুক না কেন, তোমার সামনে আবার ইট থাকবে। বিষয়টা হল, তাকে তুমি আবার নতুন করে গাঁথবে কি না!”

এখানেই থামেননি সামান্থা। উইল স্মিথের বইয়ের ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘পরিশ্রম কর। ভুল থেকে শিক্ষা নাও। আত্মবিশ্লেষণ করে নিজেকে আবার কাজে নিয়োজিত কর। কখনও ভেঙে পোরো না। হাসি ঠাট্টায় থাক।’ বইয়ের মাধ্যমেই নিজের মনের ভাব প্রকাশ করেছেন সামান্থা।

২রা অক্টোবর নেটমাধ্যমের পোস্টে সোজাসাপ্টা বার্তা দিয়েছিলেন সামান্থা আর নাগা। ‘অনেক আলোচনা এবং চিন্তাভাবনার পরে আমি এবং স্যাম (সামান্থা) আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমরা বন্ধু। আমি বিশ্বাস করি, সেই বন্ধুত্বই আমাদের মধ্যে এক বিশেষ সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখবে।’

 

বলিউডে অনেক তারকা দম্পতির সংসার ভেঙে গেলেও টিকে আছে অজয় দেবগণ ও কাজল দেবগণের সংসার। দাম্পত্য জীবনের ২৩ বছর পার করে ফেলেছেন তারা। আজ এই দম্পতির বিবাহবার্ষিকী। বিশেষ এই দিনে সামাজিক মাধ্যম টুইটারে কাজলকে নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন অজয়।

টুইটারে অজয় ছোট একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে কাজলকেও দেখা গেছে। সেখানে অজয় বলছেন, ‘কাজল এখনও আমার সঙ্গে আছে, এতেই আমি অবাক।’ ভিডিওর ক্যাপশনে অজয় লিখেছেন, ‘১৯৯৯-পেয়ার তো হোনা হি থা। ২০২২-পেয়ার তো অলওয়েজ হ্যায়’! হ্যাপি অ্যানিভার্সারি।’

বলিউড নায়িকা হিসেবে খ্যাতির শিখরে থাকাকালীন হঠাৎ অজয়কে বিয়ে করেন কাজল। ১৯৯৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সাতপাঁকে বাঁধা পড়েছিলেন তারা। দুই বছর পর মেয়ে নাইসার জন্ম। এর পর বহু বছর পর্দা থেকে দূরে ছিলেন কাজল।

বর্তমানে দুই ছেলে-মেয়ে নাইসা ও যুগকে নিয়ে গোছানো সংসার অজয়-কাজল দম্পতির। কাজের ব্যস্ততার পাশাপাশি সংসারটাকেও সুন্দরভাবে আগলে রেখেছেন এই যুগল।


নোরা ফাতেহি আর বেলি ডান্স যেন একে অপরের সমার্থক। তাঁর বেলি ডান্স ঘায়েল করেছে তাঁর লাখো অনুরাগীকে। এই মরোক্কন সুন্দরীর নাচ মাতোয়ারা এই মুহূর্তে গোটা বলিউড। ‘সত্যমেব জয়’-তে ছবির ‘দিলবার গান’ (Dilbar Song) দিয়ে একেবারে কোটি কোটি দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন নোরা। এবার ভাইরাল (Viral) হল নোরা ফতেহির একটি পুরনো ভিডিয়ো। বিগ বস ৯-এর (Bigg Boss 9) ঘরে থাকাকালীন নোরা ফতেহি (Nora Fatehi) যখন সেখানকার প্রতিযোগীদের সামনে বেলি ডান্স করেন, সেই ভিডিয়ো এবার ভাইরাল হয়। সলমনের খানের (Salman Khan) শোয়ে থাকাকালীন সময়ে নোরার (Nora Fatehi) ওই ভিডিয়ো এবার মন কেড়ে নেয় নেটিজেনদের। কিন্তু নিন্দুকের এর মধ্যেও ঠিক খুঁত খুঁজে বের করেছেন।


বিগ বসের ঘরে থাকাকালীন নোরার এই ডান্স ভিডিয়ো দেখে যেমন ভালাবাসা পাঠিয়েছেন তাঁর অনুরাগীরা। তেমনই কেউ কেউ আবার নোরা নো মেক আপ লুককে কটাক্ষও করেছেন। কেউ লেখেন, “এটা নোরা, (Nora Fatehi) মেকআপ ছাড়া ওকে চেনাই যায় না”।আরেকজন লেখেন, “পয়সা মানুষ কে কীভাবে বদলে দেয়, পয়সা হয়ে যাওয়ার পর নোরারও সব বদলে গিয়েছে”। আবার কারো মন্তব্য, “প্লাস্টিক সার্জারি ছাড়া নোরার মুখ”।


সম্প্রতি আচমকাই ইনস্টাগ্রাম থেকে গায়েব হয়ে যায় নোরার (Nora Fatehi) অ্যাকাউন্টের সব পোস্ট। নায়িকার হাজার হাজার পোস্ট নিমেষে উধাও! বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে যায় ভক্তদের মধ্যে। আচমকা কাউকে কিছু না জানিয়ে কি ইনস্টাগ্রাম থেকে সরে গেলেন নোরা (Nora Fatehi)? ডি-অ্যাক্টিভেট করে দিলেন নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট? এরপর গভীর রাতে ফিরে আসে নোরার (Nora Fatehi) ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, দেখা যায় ফিরে এসেছে পুরোনো সব পোস্ট। পরে নোরা (Nora Fatehi) জানান, ‘সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমার ইনস্টাগ্রাম হ্যাক করার চেষ্টা হয়েছিল। সকাল থেকেই কোনও ব্যক্তি আমার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে।’ বর্তমানে নোরা (Nora Fatehi) ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় চার কোটি ছুঁই ছুঁই।

সম্প্রতি সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে নাম জাড়ায় নোরা ফতেহির। অভিনেত্রীকে বহুমূল্যেক গাড়ি উপহার দেন এই কনম্যান সুকেশ এমনটাই দাবি ছিল সুকেশের। তবে সে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন নোরা।

সম্প্রতি নোরার' খুসু খুসু' ও 'নাচ মেরি রানি' গানটি ব্যপক জনপ্রিয়তা পায়।

 

Alia Bhatt-Ranbir Kapoor Marriage Date: আলিয়া ভাট এবং রনবীর কাপুর বছর খানেক ধরে একে ওপরকে ডেট করছেন। নানা সময়ে তাঁদের একান্তে সময় কাটানোর জন্য দেশের বাইরে উড়ে যেতেও দেখা গিয়েছে। একে অপরের পরিবারের সঙ্গেও সময় কাটাচ্ছেন।

*যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই একই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। 'কবে বিয়ে করছেন? কবে বিয়ে করছেন? কবে বিয়ে করছেন?' জবাব দিতে দিতে বিরক্ত ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। তাই বিয়ের দিন নিয়ে সাফ জবাব দিলেন একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের সময়ে। 

*আলিয়া ভাট এবং রনবীর কাপুর বছর খানেক ধরে একে ওপরকে ডেট করছেন। নানা সময়ে তাঁদের একান্তে সময় কাটানোর জন্য দেশের বাইরে উড়ে যেতেও দেখা গিয়েছে। একে অপরের পরিবারের সঙ্গেও সময় কাটাচ্ছেন। ফলে দু'জনে কবে বিয়ে করবেন তা জানতে মুখিয়ে রয়েছেন সকলেই। 

*সাক্ষাৎকারে আলিয়া জানিয়েছেন, 'কবে আমরা বিয়ে করব, সেটা একেবারেই আমাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাতে কারও মাথাব্যাথার কোনও কারণ নেই। আর যদি মনের দিক থেকে বলতে হয়, তাহলে আমি সম্পর্কের যে স্তরে রয়েছি, তাতে মনে হয় আমি বিবাহিত। তাই কবে বিয়ে হবে, সেটা নিয়ে ভাবি না। আমার আর রনবীরের ভাগ্যে যা রয়েছে, সেটাই হবে।

*তবে আলিয়ার দাবি, যখন তিনি স্যুইট গার্ল ছিলেন, সেই সময়ে দিন তিনি রনবীরকে প্রথম দেখেছিলেন, সে দিনেই তিনি সাত পাকে বাঁধা পড়তে চান। তবে সেই দিনটি কবে তা নিয়ে খোলসা করেননি 'গাঙ্গুবাই' নায়িকা। ফলে নেটিজেনরা তাদের প্রশ্নের উত্তর আংশিক পেলেও, কবে তাঁরা বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন, তার উত্তর অধরাই থেকে গিয়েছে। 

*আলিয়া আরও বলেন, 'মজার বিষয় আমি যখন ছোট ছিলাম, টিভিতে রনবীরকে দেখে ভাবতাম, আমি ওঁকে বিয়ে করব। তখন থেকেই তাই সেটাই মাথায় ছিল। আর এখন যখন আমাকে সকলে জিজ্ঞাসা করে বিয়ে নিয়ে, সততার সঙ্গে আমি বিশ্বাস করি আমি বিবাহিত। আমি মানসিভাবে সেই অবস্থাতেই আছি।'  


*বিয়ে নিয়ে কি কোনও চাপ আছে? সাক্ষাৎকারে আলিয়া বলেন, 'না বিয়ে নিয়ে কোনও চাপ নেই। তবে মাঝে মাঝে একই প্রশ্নের জন্য অত্যন্ত বিরক্ত হই। কখনও মনে হয়, আমি সেলিব্রিটি মানুষের আমাদের নিয়ে কৌতুহল থাকবেই। আবার কখনও মনে হয় যা হওয়ার হবে, কিছু পরোয়া করি না।' 

*প্রসঙ্গত, অয়ন মুখোপাধ্যায়ের 'ব্রহ্মাস্ত্র'-এর শ্যুটিং ফ্লোর থেকেই আলিয়া ভাট এবং রনবীর কাপুরের ঘনিষ্ঠতার সূত্রপাত। সেখান থেকেই প্রেম, তারপরে বিয়ের সিদ্ধান্ত। সেই  'ব্রহ্মাস্ত্র' মুক্তি পেতে পারে ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর।


ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের ভর্তি এক রোগীর স্বামীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।


বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) রাত ৮ টার দিকে নারী ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

দায়িত্বরত নার্সের সাথে কথা কাটাকাটির জেরে ওই নার্স সন্ত্রাসীদের ডেকে এনে তার স্বামীকে কুপিয়ে জখম করেছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় , শহরের টেপাখোলা বৃন্দাবনের মোড় এলাকার বাসিন্দা রাসেল তার স্ত্রী হীরাকে নিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারী থেকে ভর্তি আছেন ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে। স্ত্রী হীরাকে চিকিৎসক প্রতিদিন দুবার রক্ত পরীক্ষার নির্দেশনা দেন। রাতে জেনারেল হাসপাতালের প্যাথালজি ল্যাব বন্ধ থাকায় বাইরের বেসরকারী ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য সিস্টারকে সিরিঞ্জে রক্ত টেনে দিতে বলেন হীরার স্বামী রাসেল। দায়িত্বরত সিস্টার ইলা সিকদার রক্ত টেনে দেয়া তার দায়িত্ব না জানিয়ে রাসেলের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এই সময়ে রাসেল ওই সিস্টারকে উদ্যেশ্য করে বলেন, ‘সরকারী বেতন খান, রক্ত টানবেন না কেন?’।
 এর পরে সিস্টার ইলা শিকদার নার্স সুপারভাইজার এর কাছে রাসেলের নামে নালিশ জানান এবং একই সাথে শহরের খাবাসপুর এলাকার যুবলীগ কর্মী দেবাশীষ নয়নকে ফোন করে ডেকে আনেন।রাসেল নার্স সুপারভাইজার এর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বের হওয়ার পর পরই দেবাশীষ নয়ন ও তার সাথে থাকা আরো ২/৩ জন রাসেলকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে চলে যায়। 


খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। 

আহত রাসেলের স্ত্রী হীরা জানান, তার শরীরের এক সাইড প্যারালাইজড। প্রতিদিন দুই বার তাকে রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। কাল সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করলে দেরী হয়ে যাবে বিধায় সিস্টারকে অনুরোধ করা হয়েছিল রক্ত টেনে দিতে। তিনি অভিযোগ করেন, সিস্টার ইলা শিকদারই দেবাশীষ নয়নকে ডেকে এনে তার স্বামীকে কুপিয়েছে।

নার্স সুপারভাইজার জহুরা বেগম জানান, রুগী ও নার্সের সাথে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, সেটা মিটমাট করেছি, কিন্ত এই ঘটনায় নার্স ইলা জড়িত কিনা সেটা আমার জানা নেই।

এ ঘটনায় নার্স ইলা রানী আত্মগোপনে থাকায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।



এদিকে দেবাশীষ নয়নের ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইফুজ্জামান বলেন, আহত রুগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার প্রচুর পরিমানে ব্লিডিং হয়েছে। এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল সুমন রঞ্জন সরকর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামীদের ধরতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান জানান, আমি বিষয়টি উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। এ ঘটনার পর ঐ নার্স আত্মগোপনে আছেন। ঘটনার তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আমি আহত রোগী ও তার স্ত্রীর খোজ খবর নিচ্ছি।






পূর্ব ইউক্রেনের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দুটি অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতি নিজেদের সমর্থন জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সিরিয়া। এদিকে রাশিয়া ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ।

বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন গণমাধ্যম এ কথা জানায়।

রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ফয়সাল মেকদাদ বলেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার স্বঘোষিত দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক (ডিপিআর) এবং লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিককে (এলএনআর) সব ধরনের ‘সহযোগিতা করার’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।



পূর্ব ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার রাজনীতিবিদ দিমিত্রি সাবলিনের সঙ্গে বাশার আল-আসাদের আলোচনা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী একথা জানান।


আরআইএ নভোস্তি সংবাদ সংস্থাকে সাবলিন বলেন, ২০০৮ সালে রাশিয়া-জর্জিয়া যুদ্ধের পরে সিরিয়া যেভাবে [জর্জিয়ান অঞ্চলের] দক্ষিণ ওসেটিয়া এবং আবখাজিয়াকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ঠিক একইভাবে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ট্যাঙ্ক ও সেনা পাঠাতে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ বলেছেন, মূলত এর মাধ্যমে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।

স্কাই নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাজিদ জাভিদ বলেন, আজ ইউরোপের জন্য খুব অন্ধকার একটি দিন। আমরা যা দেখেছি এবং জানতে পারছি, তাতে এটা পরিষ্কার যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সার্বভৌম ইউক্রেন এবং তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর হামলা করেছেন। যুক্তরাজ্য সবসময়েই বলে আসছে ইউক্রেনের প্রতি মস্কোর এমন পদক্ষেপ কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।


তিনি আরো বলেন, 'আমরা দেখেছি পুতিন ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী এলাকাগুলোকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছেন। এখন তারা সেখানে সেনা পাঠাতে শুরু করেছে। এ থেকে এটা বোঝা যায় যে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করেছে রাশিয়া।


দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯৯৫ জনে। এ সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ২৯৮ জনের। ফলে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৫ জনে।

আজ বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শনাক্তের হার ৫.৫৮ শতাংশ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


এর আগে গতকাল মঙ্গলবার করোনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়। করোনা শনাক্ত হয় এক হাজার ৫৯৫ জনের। শনাক্তের হার ছিল ৬.৭৭ শতাংশ।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে আট হাজার ৭২ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় ২৩ হাজার ৯২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ২৩ হাজার ২৭৪টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫.৫৮ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪.৫৯ শতাংশ।



পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠাতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আরও জানান, র‌্যাব ইস্যুতে তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যস্থতা চায় না সরকার। এ বিষয়ে আমরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। মামলা লড়তে প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমরা তিনটি আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলেছি। সেখান থেকে আমরা সর্বোত্তম পরামর্শ নেব। এ সপ্তাহের মধ্যেই আমরা একটা সিদ্ধান্তে আসব। তিনি আরও বলেন, আইনি ও কূটনৈতিক দুই প্রক্রিয়াই চলমান এপ্রিল ও মে মাসে সচিব ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আছে। এসব বৈঠকে ওই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা আমাদের জন্য সহায়ক হবে।

র‌্যাবের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উঠাতে কূটনৈতিক চেষ্টার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া আবশ্যক বলে মনে করে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে লবিস্ট, আইনজীবী নিয়োগের পাশাপাশি মার্কিন আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোতে র‌্যাব এবং বাংলাদেশ নিয়ে যাতে নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয় সেজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ঢাকা। চলতি সপ্তাহে ভারত সফরে দেশটির থিংকট্যাংকের কাছে র‌্যাবের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ব্রিফ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনায় বিষয়গুলো ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে ভারত বা অন্য কোনো দেশের মধ্যস্থতার প্রয়োজন নেই। এটা মোকাবিলা করার যথেষ্ট সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। আইনগত অথবা কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। এখানে আমরা তৃতীয় কোনো দেশকে জড়াতে চাই না।


মুক্তির আগেই বিতর্কে জড়ালেন আলিয়া ভাট অভিনীত ছবি 'গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি'। পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালিকে আরও একটি সিনেমার নাম বদলের জন্য বলা হল। এবার খোদ সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ আদালত পরামর্শ দিয়েছে যে শুক্রবার মুক্তি পাওয়ার আগেই এই ছবির নাম যেন বদলে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, ছবি মুক্তি স্থগিত করার জন্য আদালতে বিচারাধীন বেশ কয়েকটি মামলার আগে এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


বনশল প্রযোজনার আইনজীবী সিদ্ধার্থ ডাভে শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছেন যে তিনি এই পরামর্শ নিয়ে তাঁর মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। আগামীকাল সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে শুনানি চলবে। এই সিনেমা মুক্তি স্থগিত করার জন্য বহু মামলা দায়ের হয়েছে আদালতে। হুসেন জাইদির বিখ্যাত উপন্যাস 'মাফিয়া কুইনস অফ মুম্বই’-এর অবলম্বনে তৈরি হয়েছে 'গাঙ্গুবাঈ কাঠিয়াওয়াড়ি’। একজন যৌনকর্মী কীভাবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁর জায়গা তৈরি করেন, তারই বাস্তবচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। মুম্বইয়ের কামাথিপুরার ঘটনা এটি। এই মামলাগুলির মধ্যে একটি মামলা করেছেন প্রকৃত গাঙ্গুবাইয়ের দত্তক পুত্র বাবু রাবজি শাহ।



তাঁর দাবি, ছবিতে তাঁর মা’কে যেভাবে দেখানো হচ্ছে তা একদমই নয়। ফলে তাঁদের পরিবারকে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। কার্যত পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে বলে তিনি জানান। গাঙ্গুবাইয়ের পরিবারের অভিযোগ, তিনি একজন সমাজকর্মী ছিলেন কিন্তু তাঁকে এখানে যৌনকর্মী হিসেবে দেখানো হয়েছে। যার কোনও ভিত্তি নেই। ফলে গাঙ্গুবাইয়ের পরিবারকে কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে। এ বিষয়ে গাঙ্গুবাঈয়ের দত্তক ছেলে মানহানির মামলাও দায়ের করেন। তবে কেউ কোনও ভ্রুক্ষেপ করেনি।


অন্যদিকে এই ছবিতে কামাথিপুরাকে যৌনপল্লি হিসেবে ব্যাখ্যা করায় ক্ষুব্ধ মহারাষ্ট্রের বিধায়ক আমিন প্যাটেল। অভিযোগ, ছবিতে কামাথিপুরা এলাকার সম্পর্কে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে। কামাথিপুরা মানেই যৌনপল্লি নয়। এখানকার মহিলারা নিজেদের ক্ষমতায় সম্মানে বাঁচেন। এর প্রতিকার চেয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মহারাষ্ট্রের বিধায়ক। তাঁর দাবি, কামাথিপুরা নামের ব্যবহার ছবিতে করা যাবে না। তার বদলে কোনও কাল্পনিক নাম ব্যবহার করা যেতে পারে বা নামের অংশটি মিউট করে দেওয়া যেতে পারে। তবে যদি পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালিকে গাঙ্গুবাইয়ের নাম বদলাতে হয় তবে এটা তাঁর তৃতীয় ছবি হবে। এর আগে গোলিও কা রাসলীলা রাম–লীলা ও পদ্মাবত ছবির নামও বদলে দিতে হয়েছিল বিতর্কের জেরে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেতে চলেছে '‌গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি।’‌


চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২: বাংলাদেশের  জয়ের পিছনে  আফিফ হোসেন-মেহেদি হাসান মিরাজ জুটিকে পুরো কৃতিত্ব  দিয়েছেন আফগানিস্তান অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শাহিদি।  এ জুটির অসাধারন  ব্যাটিং নৈপুন্যে  চার উইকেটের অবিশ^াস্য  জয় পায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।  

প্রথমে ব্যাট করে ৪৯ দশমিক ১ ওভারে ২১৫ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। এরপর অনেকেরই বিশ^াস ছিল ২১৬ রানের টার্গেট সহজেই টপকে যাবে বাংলাদেশ।  কিন্তু লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ফজল হক ফারুকির বোলিং তোপে ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। 

এমন অবস্থায়  বাংলাদেশের জয় পাওয়াটা  বলতে গেলে  শেষই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আফিফ ও মিরাজ হাল ছাড়েননি। রশিদ খান, মুজিব উর রহমান এবং মোহাম্মদ নবির মতো সেরা  স্পিনারদের   বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাট করে শেষ পর্যন্ত দলকে অবিশ^াস্য জয় এনে দেন আফিফ-মিরাজ। 

তাই ম্যাচ শেষে আফিফ-মিরাজের প্রশংসা করেছেন শাহিদি। তিনি বলেন, ‘আমাদের শুরুটা ভালো ছিল, কিন্তু তারা কোন সুযোগ না দিয়ে খুব ভালো খেলেছে, এক কথায় যা অবিশ্বাস্য।’

এ ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেছেন আফিফ-মিরাজ। ১১৫ বলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কায় অপরাজিত ৯৩ রান করেন আফিফ। আর ১২০ বল খেলে ৯টি চারে অপরাজিত ৮১ রান করেন মিরাজ।



বাংলাদেশের পক্ষে সপ্তম ও ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিতীয় সেরা ১৭৪ রানের  জুটি গড়েন আফিফ-মিরাজ। এ জুটির সামনে কেবলমাত্র ইংল্যান্ডের জশ বাটলার ও আদিল রশিদের ১৭৭ রান। ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৭ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। 

মিরাজ ও আফিফের প্রশংসা করতে গিয়ে আফগান অধিনায়ক বলেন, তার দলের   ব্যাটরার ভুল করেছে। তার মতে, তারা  ৩০ রান কম করেছে, যা ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

শাহিদি বলেন, ‘আমরা ৩০ রান কম ছিলাম। কিন্তু ফজল যেভাবে শুরু করেছিলেন, তা ছিল দুর্দান্ত । তবে লড়াই করার কৃতিত্ব বাংলাদেশী দুই ব্যাটারের।’

নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দিয়েছিলেন পেসার ফজলহক ফারুকি। ১৮ রানের মধ্যে বাংলাদেশের ৪ উইকেট  নিয়ে দলকে চালকের আসনে  তুলে দেন তিনি।

ফারকি তার দ্বিতীয় ওভারে জোড়া আঘাত হানেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও লিটন দাসকে আউট করেন তিনি। দু’জনকে রিভিউ নিয়ে বিদায় করেন ফারুকি। 

নিজের তৃতীয় ওভারে আবারও বাংলাদেশকে ডাবল ধাক্কা দেন ফারুকি। এবার মুশফিকুর রহিম ও অভিষেকে হওয়া ইয়াসির আলিকে শিকার করেন ফারুকি।

সাকিব আল হাসানকে ১০ রানে শিকার করেন স্পিনার মুজিব উর রহমান। উপরের সারির ব্যাটারদের মধ্যে সেরা ছয় জনের মধ্যে দুই অংক স্পর্শ করতে পেরেছেন  কেবলমাত্র সাকিব। 



আর মাহমুদুল্লাহর উইকেট তুলে নিয়ে আফগানিস্তানকে টানা সপ্তম ওয়ানডে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন রশিদ খান। 

ফারুকির প্রশংসা করে শাহিদি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করছেন তিনি।

শাহিদি বলেন, ‘সে দুর্দান্ত বোলিং করেছে। কিন্তু আমরা তাকে যথার্থ সাহায্য  করতে পারিনি। যেভাবে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন তাতে তার সামনে দুর্দান্ত ভবিষ্যত রয়েছে।’

শাহিদি আরও জানান, এই হতাশাজনক হারের পর সিরিজে ফিরতে মরিয়া তারা। তিনি বলেন, ‘এটি শুধুমাত্র শুরু। তবে আরও দু’টি ম্যাচ বাকি আছে এবং আমরা ফিরে আসবো।’



আইপিএল শুরুর আগেই আইপিএলের নিলাম নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটার রবিন উথাপ্পা। তিনি বলেন, আইপিএলের নিলামে ক্রিকেটারদের গবাদিপশু মনে হয়।

আইপিএলের নিলামে মাঝে মাঝে মাঠের ২২ গজের খেলার চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে নিলামে যেভাবে ক্রিকেটারদের দরদাম নির্ধারিত হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। এবার তেমনই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন উথাপ্পা। আগামী তিন আসরে খেলার জন্য চেন্নাই সুপার কিংসে নাম লিখিয়েছেন ২ কোটি রুপিতে।

উথাপ্পা বলেন, 'নিলাম ব্যবস্থাটা একটা পরীক্ষার মতো মনে হয়। আপনি অনেক দিন আগে লিখেছেন, তারপর শুধু ফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। সত্যি বলতে আপনার নিজেকে গবাদিপশু মনে হবে। এই অনুভূতিটা মোটেও সুখকর নয়। যেন গোটা বিশ্ব আপনাকে উপভোগ করছে। পারফরম্যান্স নিয়ে মতামত এক জিনিস। কিন্তু আপনি কত টাকায় বিক্রি হতে পারেন, সেটা আরেক জিনিস।'

এদিকে এমন টাকার খেলায় অনেকের দল পান না। আর যারা দল পান না, তাদের অনুভূতি অনেক কষ্টের বলে দাবি করেছেন উথাপ্পা। তিনি বলেন, 'যারা নিলামে বিক্রি হয় না, তাদের ওপর দিয়ে কী যায়, তা অন্যের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। সেটা কখনোই সুখকর হয় না। আমার তাদের জন্য খুবই খারাপ লাগে, যারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও দল পায় না। এটা হতাশাজনক। কেউ আপনার জন্য কতটা খরচ করতে রাজি, তার ওপর ভিত্তি করে হঠাৎই ক্রিকেটার হিসেবে আপনার একটা মূল্য ঠিক হয়ে যায়।'

উথাপ্পা মনে করেন, বিসিসিআই বা ফ্র্যাঞ্চাইজি পরিচালক কেউই বুঝতে পারছেন না এই নিলাম ব্যবস্থা ক্রিকেটারদের জন্য কতটা অপমানজনক। 


গত আইপিএলে চেন্নাইর হয়ে খেলেছেন উথাপ্পা। তবে এবার তাকে দল ধরে না রাখলেও নিলামে ভিত্তিমূল্যে আবারও চেন্নাই সুপার কিংস তাকে কিনে নিয়েছে। চেন্নাইয়ে খেলার আগে উথাপ্পা রাজস্থান, মুম্বাই, কলকাতা এবং ব্যাঙ্গালুরুর হয়েও খেলেছেন। 


বৈধ আয়ের পাশাপাশি অবৈধ অর্থের গন্তব্য হিসেবেও সুইস ব্যাংকের পরিচিতি বিশ্বজোড়া। বড় বড় ব্যাংক কঠোরভাবে তাদের গ্রাহকদের তথ্য গোপন রাখে। এবার প্রকাশ পেল বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের জমানো ‘গোপন সম্পদ’-এর তথ্য। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংক ‘ক্রেডিট সুইস’-এর ফাঁস হওয়া নথি এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এনেছে।

সুইস ব্যাংকটিতে গোপনে অর্থ-সম্পদ জমাকারী ব্যক্তিদের তালিকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের নাম রয়েছে। এর মধ্যে আছেন পাকিস্তানের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) সাবেক প্রধান আখতার আবদুর রহমান, ইয়েমেনের রাজনৈতিক নিরাপত্তা সংস্থার (পিএসও) সাবেক প্রধান গালিব আল-কামিশ, জর্দানের জেনারেল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেটের (জিইডি) সাবেক কর্মকর্তা সাদ আল-খাইর। তালিকায় রয়েছেন জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ, তাঁর দুই ছেলে এবং মিসরের সাবেক একনায়ক প্রয়াত হোসনি মুবারকও। প্রতিবেদনে বলা হয়, মুবারকের ছয় ব্যাংক হিসাবের একটিতে ২২ কোটি ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি জমা ছিল।


বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা ‘বিভিন্ন অনৈতিক পন্থা অবলম্বন’ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভূ-কৌশলগত ভূমিকা কাজে লাগিয়ে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমিয়েছিলেন।

সুইস ব্যাংকের ৩০ হাজার ব্যক্তির ব্যক্তিগত, যৌথ ও করপোরেট ১৮ হাজার অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া অ্যাকাউন্টে সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। এসব অ্যাকাউন্ট চল্লিশের দশকের পর, ২০০০ সালের পর এবং বেশ কিছু গত দশকে খোলা হয়। এমনকি বেশ কিছু এখনো সচল রয়েছে।


জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘সুইটডয়চে সেইটুং’কে একজন অজানা ‘তথ্য ফাঁসকারী (হুইসেলব্লোয়ার)’ এসব তথ্য সরবরাহ করেন। বিশ্বের অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন অর্গানাইজিং ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট (ওসিসিআরপি) এবং দ্য গার্ডিয়ান, নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বিশ্বের ৫০টি সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা এসব তথ্য পর্যবেক্ষণ করে ‘সুইস সিক্রেটস’ শিরোনামে একযোগে প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলো এসব ব্যক্তির সম্পদ অর্জনের কৌশলও প্রকাশ করে।


প্রতিবেদন প্রকাশের পর জার্মান সংবাদমাধ্যমটির পক্ষে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সুইস ব্যাংকিংয়ের গোপনীয়তা আইন অনৈতিক। গোপনীয়তা রক্ষার অজুহাত অনৈতিক কাজ ঢেকে রাখার কৌশল, যা অপরাধীদের সহযোগী হিসেবে সুইস ব্যাংকের লজ্জাজনক ভূমিকা আড়াল করে রাখে। ’

তবে ক্রেডিট সুইস গণমাধ্যমের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়ে বলেছে, পর্যালোচনা করা অ্যাকাউন্টগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ এখন বন্ধ অথবা গণমাধ্যমের অনুসন্ধানের আগে বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিল, যার মধ্যে ২০১৫ সালের আগে ৬০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারা আরো বলে, এই প্রতিবেদনগুলো শুধু ব্যাংকই নয়, সামগ্রিকভাবে সুইস আর্থিক বাজারকে অবমূল্যায়ন করার সমন্বিত চেষ্টা বলে মনে হচ্ছে, যা গত কয়েক বছর ধরে চলছে।


প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রক্রিয়ারও বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আফগানিস্তানে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বাহিনীর দখলদারির সময় মার্কিন বাহিনী মুজাহিদদের মদদ দিয়ে ছায়াযুদ্ধ চালিয়েছিল। সে প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান, জর্দান, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন মিত্র দেশ কিভাবে ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করেছে তার বিশদ বিবরণ উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। নেপথ্যের শীর্ষ ব্যক্তিরা কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হন, আছে তার বর্ণনাও।


আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান আখতার আব্দুর রহমান


সত্তরের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে সাতটি মুজাহিদ গোষ্ঠীকে মদদ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় সুইস ব্যাংকের মাধ্যমে মার্কিন বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) ও সৌদি আরবের মধ্যে আর্থিক লেনদেন হতো। এসব অর্থ শেষমেশ আখতার আব্দুর রহমানের অ্যাকাউন্টে জমা হতো। তাঁর দুই ছেলে আকবর ও হারুন খানের ক্রেডিট সুইসের অ্যাকাউন্টে ৩৭ লাখ ডলার জমা হয়েছিল।


ইয়েমেনের পিএসওপ্রধান গালিব আল-কামিশ


প্রতিবেদনে বলা হয়, সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধে মুজাহিদদের মদদ দিতে আইএসআইয়ের আখতার আব্দুর রহমানের যে ভূূমকা ছিল ইয়েমেনে আলি-কামিশের ভূমিকা ছিল তার অনুরূপ। ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহের ‘ব্ল্যাক বক্স’ অর্থাৎ গোপন খবরের ভাণ্ডার ছিলেন আল-কামিশ। পরে তাঁদের সম্পর্ক খারাপের দিকে যায়। রাজনৈতিক নিরাপত্তা সংস্থায় (পিএসও) কাজ করা পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দাদের ভাষ্য, ‘লাখ  লাখ ডলারের খোলা বাজেট’ ছিল কামিশের জন্য, যা দিয়ে তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারতেন। সিআইএর হয়ে তিনি ইয়েমেনে সন্দেহভাজন আটক ব্যক্তিদের গোপন কারাগার বানিয়েছিলেন। বিনিময়ে পেয়েছিলেন বিপুল অর্থ। বর্তমানে তুরস্কে বাস করছেন আলি-কামিশ।

জিআইডিপ্রধান সাদ আল-খাইর


হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একবার দাবি করেছিল, সাদ আল খায়েরের নেতৃত্বাধীন জর্দানের গোয়েন্দা সংস্থা জিআইডি সিআইএর ‘প্রক্সি জেলার’ হিসেবে কাজ করেছে। সিআইএ যেসব সন্দেহভাজনকে প্রচারের আলোয় আসতে দিতে চাইত না, তাদের জিআইডির কারাগারে পাঠানো হতো। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ জন বন্দির তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে, যাদের সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র জিআইডির কাছে পাঠিয়েছিল। সুইস ব্যাংকে সাদ খাইরের একটি অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল দুই কোটি ১৬ লাখ ডলার। জিআইডি কমপক্ষে ১০০ জনের কাছ থেকে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে।


এর বাইরেও সাংবাদিকরা বেশ কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থায় কাজ করা আরো কমপক্ষে ৪০ জনের নাম পেয়েছেন, যাঁদের সুইস ব্যাংকে অর্থ ছিল। এর মধ্যে আছেন ভেনিজুয়েলার সাবেক সেনাপ্রধান ক্যাপ্টেন কার্লোস লুই অ্যাগুলেরা বোর্হেস (হুগো শাভেজের সাবেক দেহরক্ষী), ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধান ভ্যালেরি খোরশকোভস্কি (বর্তমানে ধনকুবের) এবং জার্মানি, নাইজেরিয়া, উজবেকিস্তান ও ইরাকের অনেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসেরের এক জামাতার কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। 


সূত্র : বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, ওসিসিআরপি

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget