Articles by "অর্থনীতি"


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমান সময়ে তরুণদের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড
 রিয়েলমি। এবার নিজেদের সবচেয়ে দামী ডিভাইস নিয়ে চীনের মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি আগামী মাসেই ইউরোপের হাই-এন্ড হ্যান্ডসেট বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিয়েছে। 

এরই মধ্যে নিজের বিভিন্ন ফোন নিয়ে বাজারে একটি শক্ত অবস্থান তৈরী করেছে রিয়েলমি।

শেনজেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বাজেট ফোনের বাজারের বাইরেও শক্ত অবস্থান তৈরি করার উদ্যোগ হিসেবে নিজেদের সবচেয়ে দামি মডেলটি ইউরোপের বাজারে হাজির করবে। রিয়েলমি’র সিইও রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান এ বছর বিশ্বব্যাপী শতকরা ৫০ ভাগ বেশি স্মার্টফোন বিক্রির পরিকল্পনা করছে।

বেশ কয়েকটি চীনা হ্যান্ডসেট নির্মাতা হুয়াওয়ের স্মার্টফোনের বাজার দখলের জন্য আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর এক সময়ের শীর্ষস্থান দখলকারী এই স্মার্টফোন নির্মাতার সাপ্লাই চেইন বন্ধ হয়ে যায় এবং নিজেদের অবস্থান হারায়।

রিয়েলমি ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপে তার ফ্ল্যাগশিপ ফোন জিটি ২ প্রো সাতশ’ থেকে আটশ’ ডলারে বিক্রি করবে বলে জানিয়েছেন সিইও স্কাই লি।

জিটি মাস্টার এডিশনের মূল্য অ্যামাজন সাইটে ৩৯৫ ডলার। সে হিসেবে প্রো তার প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি হবে, যেটি অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম ফোনের প্রায় কাছাকাছি দামের হতে যাচ্ছে।

লি বলেন, “আমরা মনে করি এটি একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বাজার, হাইএন্ড ফোনের জন্য একটি বড় বাজার।”

মহামারীর ছোবল লেগেছে অর্থনীতিতে, স্মার্টফোনের চাহিদা কমে এসেছে এবং ক্রেতারা নতুন ফোন কিনতে আরও বেশি সময় নিচ্ছেন। তবে, বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল স্মার্টফোন নির্মাতা হিসাবে রিয়েলমি এখানে পরিবর্তন আনতে পারে বলে যোগ করেছেন লি।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ধারণা অনুসারে ইউরোপের স্মার্টফোন বাজার থেকে ২০২১ সালের প্রথম ১১ মাসে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। এর মধ্যে হাই-এন্ড ফোন থেকে এসেছে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

“বাজার বৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই আসে হাই-এন্ড মডেল থেকে, আর এই অংশটি চালাচ্ছে অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম মডেলগুলো” – কাউন্টারপয়েন্ট সিনিয়র বিশ্লেষক ইয়াং ওয়াং বলেন।

অ্যাপলের প্রিমিয়াম ফোন ইউরোপের বাজারে চলেছে সবচেয়ে বেশি। প্রতিষ্ঠানটির আইফোন ১৩’র দাম শুরু হয় প্রায় সাড়ে আটশ’ ডলার থেকে। গত প্রান্তিকে এর পরেই ছিল স্যামসাং এবং শাওমি যাদের প্রিমিয়াম ফোনের মূল্য ছিল যথাক্রমে নয়শ’ ও সাতশ’ ডলার।


মোবাইল জগতের একসময়ের রাজা ব্ল্যাকবেরি ফোনের অধ্যায় শেষ হচ্ছে চলতি মাসের ৪ জানুয়ারি। এদিন ব্ল্যাকবেরি নিজস্ব সফটওয়্যার চালিত ফোন বা ট্যাবলেটে অপারেটিং সিস্টেম ৭.১ এবং তার আগের সংস্করণ, একইসাথে ওএস ১০ ডিভাইসগুলোতে প্রধান প্রধান সেবা বন্ধ হয়ে যাবে।

একইদিনে কোম্পানির ট্যাবলেট ‘প্লেবুক’ এর অধ্যায়ও শেষ হচ্ছে। ব্ল্যাকবেরি ফোনের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম বন্ধ হওয়ার ফলে জনপ্রিয় ফিচার যেমন জরুরি কলিং, ফোন কল, ডেটা চালু থাকবে- এমন গ্যারান্টিও দিচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি। যার ফলে গ্রাহকের ব্যবহার করা ফোনটি অকেজো হয়ে যাবে।

অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু নেই। ২০১৯ সালেই ব্ল্যাকবেরি তাদের অ্যাপ স্টোর এবং জনপ্রিয় মেসেঞ্জার বিবিএম বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্ল্যাকবেরির আর ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

একের পর এক ব্যর্থতায় বন্ধ হতে চলেছে ব্ল্যাকবেরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে নিজেদের মানিয়ে নিতে না পারায় বাজার হারিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


গত চল্লিশ বছরে চীনে ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটি পরিচিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের মেগা কারখানা হিসাবে। চীনের এই অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে অনেকে 'অলৌকিক অর্থনীতি' বলে থাকে। যার মূল চালিকাশক্তি বিশাল এক অভিবাসী কর্মী বাহিনী। এই শক্তি দেশটির গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে কাজ করতে যাওয়া লাখো লাখো মানুষের জনবল।

কিন্তু এর জন্য চীনের গ্রামীণ জনপদগুলোকে কী মূল্য দিতে হয়েছে? চীনের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সেই প্রতিচ্ছবিকে ফুটিয়ে তুলেছেন এক চীনা লেখিকা তার নিজের গ্রামের আয়নায়।

শাংহাই পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল শহরগুলোর একটি। কিন্তু যারা এই শহরের আকাশচুম্বী অট্টালিকাগুলো তৈরি করছেন, যাদের শ্রমে তৈরি নানাধরনের পণ্যসামগ্রী এই শহরেরই বন্দর থেকে পাড়ি জমাচ্ছে বিশ্বের নানা প্রান্তে, তারা চীনের গ্রাম ছেড়ে শহরে কাজ করতে যাওয়া মানুষের ঢল।

চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেভাবে ঘটেছে তা দ্রুততা এবং বিশালতার দিক দিয়ে এতটাই যুগান্তকারী যে, প্রায়ই একে ব্যাখ্যা করা হয় একটা অলৌকিক ঘটনা বা 'মিরাকল' হিসাবে।

বহু বছরের অর্থনৈতিক স্থবিরতা আর দারিদ্রের মধ্যে দিয়ে সময় পার করার পর একদলীয় কম্যুনিস্ট এ রাষ্ট্রটি ১৯৭০ এর শেষ দিক থেকে অর্থনীতি উন্মুক্ত করতে ও সংস্কারের পথে হাঁটতে শুরু করে।


চীনের প্রাচীন হুকো পদ্ধতি
এর আগে পর্যন্ত চীনের মানুষ ছিল হুকো পদ্ধতিতে বন্দি। এই হুকো-র আওতায় মানুষের স্বাধীনভাবে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যাওয়ার অধিকার ছিল না।

চীনা লেখিকা লিয়াং হং বিবিসিকে বলছিলেন এই হুকো হল মানুষকে এলাকা ভিত্তিতে নথিভুক্ত করার বহু প্রাচীন একটা পদ্ধতি। এতে পরিবারগুলোকে এলাকা ভিত্তিতে নথিবদ্ধ করা হয় এবং পরিবারের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়ন্ত্রিত হয় এই ব্যবস্থার অধীনে।

‘১৯৫০ থেকে ৭০ এর দশকের শেষ পর্যন্ত চীনের ভেতরে মানুষের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ছিল। এলাকা থেকে বেরনোর জন্য প্রত্যেককে অনুমতি নিতে হতো। নিজের শহর বা গ্রাম থেকে অন্য এলাকায় যেতে হলে ভ্রমণের জন্য বিশেষ অনুমতিপত্র লাগত,’ বলছেন লিয়াং হং।

কিন্তু ৮০’র দশক থেকে এই বিধিনিষেধ উঠে যেতে শুরু করে। ফলে দেশের ভেতরে যেখানে ভাল কাজের সুযোগ সুবিধা আছে সেখানে মানুষের স্বাধীনভাবে যাওয়ার পথ খুলে যায়।

আর এ কারণেই চীনের ভেতরেই হঠাৎ করে শহরমুখী অভিবাসনের একটা ঢল নামে বলে বলছেন বেইজিংএ রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা সাহিত্যের অধ্যাপক লিয়াং হং।

তিনি বড় হয়েছেন চীনের হুবেই প্রদেশে লিয়াং নামে এক গ্রামে। ওই গ্রামে ছিল তাদের বড় পরিবার। তারা ছিলেন ছয় ভাইবোন।

লিয়াং বলছিলেন, শহরে অভিবাসী কর্মীদের কাজ করার অনুমতি যখন ছিল না, তখন গ্রামে তার মত পরিবারের বাপমায়েরা গোটা পরিবারের ভরনপোষণ করতে হিমশিম খেতেন।


‘এরপর হঠাৎই অর্থনীতিতে একটা জোয়ার এলো, বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকায়। গ্রামের মানুষদের জন্য এসব শহরের কারখানাগুলোয় গিয়ে কাজ করার বিরাট একটা সুযোগ তৈরি হল। তাদের জন্য ভাল আয়-রোজগারের পথ খুলে গেল। তারা গ্রামে উপার্জনের অর্থ পাঠাতে শুরু করল, তাদের পুরো পরিবারের জীবনের মান উন্নত হতে শুরু করল।’


ভাসমান কর্মশক্তি
লিয়াং হং যে উপকূল এলাকার কথা বলছেন, সেটি দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশে এবং পরিচিত পার্ল নদীর বদ্বীপ এলাকা নামে।

এটি পৃথিবীর অন্যতম সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহর এলাকা, যে এলাকা কারখানায় ঠাসা। সেখানকার অসংখ্য কারখানায় তৈরি পোশাকআশাক ও অন্যান্য পণ্য সামগ্রী সেখান থেকে চালান যায় সারা বিশ্বের নানা দেশে।

কিন্তু সেখানকার লাখ লাখ মানুষ এসেছেন বিভিন্ন গ্রাম থেকে, যাদের বসতি হুকো ব্যবস্থায় নথিভুক্ত তাদের গ্রামে।

এরাই চীনের ভাসমান কর্মশক্তি - অভ্যন্তরীণ অভিবাসী।

ধারণা করা হয়, চীনে ২৫ কোটির বেশি মানুষ কাজের জন্য নানা শহরে গিয়ে বসতি গড়েন। এরা দেশটির মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ শতাংশ।

লেখিকা লিয়াং হং বলছেন, এই অভিবাসী জনগোষ্ঠীর শহরে কাজ করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতেও প্রবৃদ্ধির ছোঁয়া লেগেছে, কিন্তু গ্রামীণ জীবনে এর ফলে ঘটে গেছে ব্যাপক ওলটপালট।


মানসিক একাকীত্বে তরুণ সমাজ
লিয়াং হং বলছেন, গ্রাম থেকে বিশাল সংখ্যক মানুষ কাজের সন্ধানে শহরে গেছেন, কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার কারণে পরিবার ও সন্তানদের তারা গ্রামেই রেখে আসতে বাধ্য হয়েছেন। পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে তাদের শিক্ষার কারণে। যারা গ্রামের বাসিন্দা, শহরের হুকো ব্যবস্থায় তাদের নাম নথিভুক্ত নেই, কারণ তারা শহরের স্থায়ী বাসিন্দা নন। ফলে যে শহরে বাবার কর্মস্থল, সেখানে তাদের ছেলেমেয়েদের সরকারি স্কুলে ভর্তি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই তারা পড়ে থাকছে গ্রামে- বড় হচ্ছে দাদী, নানীর কাছে। তারাও সাধ্যমত তাদের মানুষ করার চেষ্টা করছেন,’ বলছেন লিয়াং।

পড়াশোনার ফাঁকে লিয়াং হং হুবেই প্রদেশে নিয়মিত তার পূর্বপুরুষের গ্রামে যেতেন। তিনি দেখতেন বৃদ্ধ দাদা, নানারা তখনও খেতখামারে কৃষিকাজ করছেন, পাশাপাশি একাধিক শিশুর লালনপালনের গুরুদায়িত্বও পালন করছেন তারা।

‘বুড়ো বয়সে কঠিন জীবন টানছেন তারা, যে জীবন এমনকি একটা তরুণ দম্পতির জন্যও কঠিন।’

লিয়াং বলছেন, দাদা বা নানারা তাদের দেখাশোনা করলেও, মা-বাবা সাথে না থাকার ফলে এসব ছেলেমেয়ের জন্য নানাধরনের সামাজিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলছেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গ্রামভিত্তিক এই সংসারগুলোয় পারিবারিক বন্ধন তৈরি হচ্ছে না।

‘এসব ছেলেমেয়ে লেখাপড়া শেষ করে হয়ত বাবার পদাঙ্কই অনুসরণ করবে- নিজেও শহরে কাজের খোঁজে ছুটবে। কিন্তু বেড়ে ওঠার বছরগুলোতে তারা একা। বাপ-মায়ের সাথে তাদের কোনো বন্ধন নেই- বরং তৈরি হচ্ছে একটা বিশাল মানসিক দূরত্ব। পরিবারের স্বাভাবিক কাঠামো ভেঙে যাচ্ছে। একটা গোটা প্রজন্ম একাকীত্বের শিকার।

‘আমি অবশ্য এটা বলছি না যে গ্রাম এলাকার সব তরুণই মানসিকভাবে একাকী, তাদের সবারই আবেগ অনুভূতি ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে, তারা গভীর নিঃসঙ্গতায় ভুগছে। কিন্তু আমি বলছি এদের সংখ্যাও কিন্তু নেহাত কম নয়,’ বলেছেন লিয়াং হং।

চীনের বিভিন্ন গ্রামে এ ধরনের লাখো লাখো তরুণ-তরুণী মা-বাবার সান্নিধ্য না পেয়ে বড় হচ্ছে। তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

লিয়াং হং বলছেন, এটা বিশাল একটা সমস্যা। ‘সন্তানদের জীবন সম্পর্কে শিক্ষা দেয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টাতে মা-বাবা তাদের পাশে থাকতে পারছেন না। কারণ সরকারি ব্যবস্থার বাইরে এসব বাবা-মায়ের শহরে সন্তানকে কাছে রেখে বড় করার আর্থিক সামর্থ্য নেই।’


'এক গ্রামে গোটা চীন'
চীনের গ্রামীণ জীবন কীভাবে বদলে যাচ্ছে তার একটা খতিয়ান রাখতে শুরু করেছিলেন লিয়াং হং। ২০১০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল তার বই 'চায়না ইন ওয়ান ভিলেজ'- এক গ্রামে গোটা চীন।

গ্রামে তারা বাবার প্রতিবেশি ও যেসব পরিবারের সান্নিধ্যে তিনি বড় হয়ে উঠেছিলেন তাদের কাহিনী, তাদের অভিজ্ঞতা যা তিনি সংগ্রহ করেছিলেন, সেসবই তার এই বইয়ের উপজীব্য। চীনে বইটি বেস্ট সেলার হয়েছে, কারণ চীনের অসংখ্য মানুষ বইয়ের পাতায় নিজেদের জীবনের প্রতিফলন দেখেছেন।

‘সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই বইয়ে যিনি গল্প বলছেন - অর্থাৎ আমি- কোনো কল্পিত চরিত্র নই- আসল রক্তমাংসের মানুষ। ওই গ্রামের সাথে জড়িয়ে আছে আমার আবেগ। তাই ওই গ্রামের স্মৃতি আমার বইয়ের পাতায় পাতায় - সেখানে আমি বড় হয়েছি, খুব কাছ থেকে গ্রামটাকে দেখেছি। গ্রামের পরিবর্তন আমি নিজের চোখে দেখেছি।’

শুধু সামাজিক আর অর্থনৈতিক পরিবর্তনই নয় এমনকি উন্নয়নের ফলে যেসব ভৌগলিক পরিবর্তন ঘটেছে তাও উঠে এসেছে লিয়াং হংএর বইয়ে।

তিনি বলেছেন ছোটবেলায় যে নদী ছিল তার জীবনের সঙ্গী- তার কিশোরী বয়সে যে নদীর পাড়ে গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় সারা গাঁয়ের মানুষ জড়ো হতেন, আনন্দ করতেন, নদীতে নেমে তারা সাঁতার কাটতেন, নব্বইয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলশ্রুতিতে সে নদী এখন চরম দূষণের শিকার।

‘দুর্গন্ধের কারণে সেখানে আজ যাওয়া যায় না। নদীর রং বদলে গেছে। নির্মাণ কাজের জন্য নদী থেকে বালু তোলা শুরু হয়েছে। গোটা নদী এলাকা আজ ধ্বংসের শিকার।’

লিয়াং হং বলেন, তিনি পাঠকদের সরাসরি তার গ্রামে নিয়ে যেতে চান, গ্রামের মানুষের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে দেখাতে চান চীনের এই বিশাল অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গ্রামগুলোকে কী মাশুল দিতে হয়েছে।

তিনি বলছেন, তিনি প্রাচীনপন্থী নন। পুরনোকে আঁকড়ে ধরে থাকার আবেগের বিষয় এটা নয়।

‘গ্রাম যদি টিকে থাকার উপযুক্ত না হয়, সে কারণে যদি গ্রামীণ জনপদের মৃত্যু ঘটে, আমি সেটা মেনে নেব। কিন্তু মানুষের আরো সৃজনশীল হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। ভাবা উচিত গ্রামীণ অর্থনীতিকে কীভাবে আরো চাঙ্গা করা যায়, কীভাবে গ্রামগুলোতে বা তার ধারেকাছে আরো কর্মসংস্থান করা যায়,’ বলছেন লিয়াং হং।

তিনি বলছেন, সব কারখানা যদি দেশের দক্ষিণে উপকূলের শহরগুলোতে গড়ে তোলা হয়, তাহলে মানুষকে কাজের সন্ধানে শতশত মাইল পাড়ি জমাতে হবে।

তার মতে, গ্রামের আশপাশের শহরগুলোতে কাজের সুযোগ তৈরি হলে মানুষ ঘনঘন গ্রামে ফেরত যেতে পারবে - সন্তানদেরও অনেক বেশি সান্নিধ্য দিতে পারবে। গ্রামের অর্থনীতি একদিকে সমৃদ্ধ হবে, অন্যদিকে, গ্রামের জীবনের সঙ্গে তাদের একটা যোগসূত্রও তৈরি হবে। এতে গ্রামও বাঁচবে, পরিবারও বাঁচবে।

লিয়াং হং তার গ্রামের বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে আরো দুটি বই লিখেছেন। তিনি এখন অনেক বেশি সময় কাটান নিজের গ্রামে।

চীনে উন্নয়ন ও নগরায়নের প্রভাব নিয়ে তিনি তার গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে চান। চীনা সমাজে বিশাল এই পরিবর্তনের প্রতিফলন তিনি ধরতে চান একটি গ্রামের আয়নায়।

হুবেই প্রদেশের লিয়াং গ্রামের চরিত্রগুলো এরপর কী করবে, তার মধ্যে দিয়ে চীনের সমাজ জীবনের ভবিষ্যত যাত্রাপথের ঠিকানা পাঠককে জানানো তার দায়িত্ব বলে মনে করেন লেখিকা লিয়াং হং।

সূত্র : বিবিসি


আপনার কাছে হুট করে বার্তা এলো আপনার অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকা খোদ ব্যাংক থেকেই পাঠানো হয়েছে। কাল্পনিক হলেও এমন সত্যি ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাজ্যের স্যান্টান্ডার ইউকে ব্যাংকে। 

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে বড়দিনে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে চলে যায় প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার। দ্য টাইমস অব লন্ডনের প্রতিবেদনে সর্ব প্রথম এই খবর এসেছে।

ওই ব্যাংকের এক মুখপাত্র এ বিষয়ে বলেন, প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিগত এবং বাণিজ্যিক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে যাওয়ার বিষয়টি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তিগত যে ত্রুটি হয়েছে তা চিহ্নিত করা গেছে। ফলে ভবিষ্যৎ-এ ধরনের ঘটনার আশঙ্কা কম।

খবরে বলা হয়েছে,  গ্রাহকরা টাকা ফেরত দিতে চাইছেন না বলে দাবি করেছেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। ব্যাঙ্ক আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,  যে ভাবেই হোক ওই টাকা গ্রাহকদের থেকে পুনরুদ্ধারের।

ব্রিটেনের আইন বলছে, যদি কোনও গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ভুলবশত টাকা ঢোকে তা হলে তা ব্যাঙ্ক ফেরত নিতে পারে। গ্রাহক যদি সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন তা হলে তার ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।


 

২০২০ সালের কথা ধরলে গত বছরের এই সময় পর্যন্ত এমসিএক্সে ১০ গ্রাম সোনার দাম ৫৬,২০০ টাকার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। আজ আগস্ট মাসের সোনা এমসিএক্সে প্রতি ১০ গ্রাম ৪৮,০০০ টাকায় বিকোচ্ছে। অর্থাৎ এখনও সোনা সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৮,২০০ টাকা সস্তা চলছে।

কলকাতা: উৎসবের মরশুমে সোনা-রুপোর দামে এই মুহূর্তে ওঠাপড়া বজায় রয়েছে। এই অবস্থায় যারা সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন তাদের কাছে ভাল সুযোগ রয়েছে। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) আজ ডিসেম্বর মাসের সোনার দাম ০.০৪ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে রুপোর দাম ০.১৬ শতাংশ কমেছে।

অক্টোবর মাসের সোনার দাম আজ ০.০৪ শতাংশ কমে ৪৮,০০০ প্রতি ১০ গ্রাম হয়েছে। অন্যদিকে এক কেজি রুপোর দাম আজ ৬৪,৭৭৪ টাকা হয়েছে।

রেকর্ড উচ্চতা থেকে ৮,২০০ টাকা সস্তা সোনা

২০২০ সালের কথা ধরলে গত বছরের এই সময় পর্যন্ত এমসিএক্সে ১০ গ্রাম সোনার দাম ৫৬,২০০ টাকার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। আজ আগস্ট মাসের সোনা এমসিএক্সে প্রতি ১০ গ্রাম ৪৮,০০০ টাকায় বিকোচ্ছে। অর্থাৎ এখনও সোনা সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ৮,২০০ টাকা সস্তা চলছে।

কলকাতার সোনা-রুপোর দর

এদিন কলকাতায় ১ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম ৪,৭৪৫ টাকা। ৮ গ্রাম সোনার দাম ৩৭,৯৬০ টাকা। পাশাপাশি ১০ গ্রাম এবং ১০০ গ্রাম সোনার দাম রয়েছে যথাক্রমে ৪৭,৪৫০ টাকা এবং ৪,৭৪,৫০০ টাকা। অন্যদিকে শহরে আজ ১ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৫,০১৫ টাকা। ৮ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ৪০,১২০ টাকা। এছাড়াও ১০ গ্রাম এবং ১০০ গ্রাম সোনার দাম আজ যথাক্রমে ৫০,১৫০ টাকা এবং ৫,০১,৫০০ টাকা।

শেয়ার বাজারে সোনা-রুপোর দর

এদিন এমসিএক্সে ডিসেম্বর মাসের সোনার দাম ০.১৫ শতাংশ বেড়ে ৪৮,০৯২.০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ডিসেম্বর মাসের রুপোর দাম এদিন রয়েছে প্রতি কেজি ৬৪,৯০০ টাকা।

জুয়েলারি শেয়ার হালহকিকত

সোনা-রুপোর জুয়েলারি কোম্পানির শেয়ারের দাম আজ অনেকটাই কমেছে। এদিন টাইটান কোম্পানির শেয়ারের দাম -০.৯২ শতাংশ কমে হয়েছে ২,৫১৩.৬০ টাকা। অন্যদিকে রাজেশ এক্সপোর্টের শেয়ারের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৪০.৯০ টাকা। বৈভব গ্লোবালের শেয়ারের দাম -০.৩১ শতাংশ কমে হয়েছে ৫৬৯.৪০ টাকা। কল্যাণ জুয়েলারের শেয়ারের দাম ০.৬৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭৮.৭৫ টাকা। এছাড়াও গোল্ড ইন্টারের শেয়ারের দাম -১.৭০ শতাংশ কমে হয়েছে ৯৫২.০০ টাকা।

বিশ্বে সোনা-রুপোর বাজার

বিশ্ব বাজারে আজ সোনার দাম বেড়েছে। এদিন বিশ্ব বাজারে সোনার দাম + ০.০৯ শতাংশ অর্থাৎ ১.৬০ ডলার বেড়ে হয়েছে প্রতি আউন্স ১,৮২৫.৬৪ ডলার। অন্যদিকে রুপোর দাম -০.০৯ শতাংশ অর্থাৎ ০.০২ সেন্ট কমে প্রতি আউন্সের দাম হয়েছে ২৪.৪২ ডলার।

 দেশে কলকারখানায় ৬০% যন্ত্রপাতি হস্তচালিত

ঢাকা: দেশে নানা ধরনের উৎপাদনমুখী কলকারখানায় ৬০ শতাংশ যন্ত্রপাতি হস্তচালিত। এছাড়াও ৪০ শতাংশের বেশি কারখানায় প্রশাসনিক কার্যক্রম হাতে লেখা কাগজে কাগজে পরিচালিত হয়।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিল্পকারখানার এমন চিত্র উঠে এসেছে।

‘বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের চাঙা ভবিষ্যতের জন্য’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে শুক্রবার (২৫ জুন) অনলাইনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি
 
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের শিল্পকারখানায় এখনো তেমনভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার হয় না। এমনকি উচ্চ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এখনো শিল্প বিমুখ। শিল্পকারখানা পরিচালনাকারীদের অর্ধেকেরই স্নাতক ডিগ্রি নেই।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বেশির ভাগ শিল্পকারখানা সনাতন পদ্ধতিতে চলছে। ১০ শতাংশেরও কম কারখানায় কম্পিউটারের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি চলে। ফলে এসব কারখানায় উৎপাদনও কম। কারখানাগুলো প্রযুক্তি নির্ভর করলে উৎপাদন বাড়বে। শুধু সস্তা শ্রমের দিকে তাকিয়ে না থেকে শিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক।

  ৩০ টাকায় রাতারাতি কোটিপতি রাজমিস্ত্রি 

মাত্র ৩০ টাকায় কোটিপতি হয়ে গেলেন এক রাজমিস্ত্রি। তার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে লটারির পুরস্কার।

লটারি জয়ের পর তার পরিবার নিরাপত্তা চেয়েছে পুলিশের কাছে।  

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজএইটিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই রাজমিস্ত্রি শ্রমিকের নাম সুজয় পাহান। তার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাট ব্লকের ডাঙা গ্রামপঞ্চায়েতের বেলঘড়িয়া এলাকায়।

সুজয়ের পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩০ অক্টোবর) ৩০ টাকা দিয়ে লটারির টিকিট কেটেছিলেন সুজয়। এরপরই ওই লটারিতে এক কোটি টাকা মিলে যায়। এরপরই আতঙ্কে নিরাপত্তা চেয়ে রোববার সকালে বালুরঘাট থানায় পরিবার নিয়ে হাজির হন ওই যুবক।

সুজয় পাহান রাজমিস্ত্রির কাজ করে পড়াশোনা করেন। তিনি পতিরাম কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। বাড়িতে শয্যাশায়ী বাবা। পরিবারের একমাত্র আয়ের ভরসা তিনি। এই লটারির টাকা পেয়ে সংসারের হাল ফেরাতে চাইছেন ওই যুবক।

সুজয় পাহান বলেন, ‘এত টাকা একসঙ্গে লটারিতে ওঠায় নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি। সুষ্ঠুভাবে টাকা পাওয়া এবং রাখার জন্যই পুলিশের সাহায্য চাইছি। ’ 

বালুরঘাট থানার পক্ষ থেকে ওই যুবককে এবং তার পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

টাকা দিয়ে কী করবেন, উত্তরে সুজয় বলেন, ‘বাবা-মা অনেক কষ্ট করেছে। এবার তাদের একটু আরাম দিতে চাই। ঘর-বাড়ি বানাতে চাই। ’ 

 দেশের দুই শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যকার বিরোধের কারণে তিন বছর ধরে ঝুলে আছে নতুন একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। এটির নাম কাজী ফার্মস অর্থনৈতিক অঞ্চল। প্রস্তাবিত এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমি নিয়ে সানোয়ারা গ্রুপের সঙ্গে কাজী ফার্মস গ্রুপের রশি-টানাটানি চলছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) দুই ব্যবসায়ী গ্রুপকে সমঝোতায় আনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। সে জন্য বেজা এখনো কাজী ফার্মসকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের লাইসেন্স দেয়নি।

বেজা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় ১৩০ একর জমিতে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে তাদের কাছে কাজী ফার্মস গ্রুপ ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পেশ করে। পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেজার এক বোর্ড সভায় কাজী ফার্মস অর্থনৈতিক অঞ্চলটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর গত তিন বছরেও জমি নিয়ে জটিলতার কারণে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে প্রয়োজনীয় ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি কাজী ফার্মস গ্রুপ।

জানতে চাইলে কাজী ফার্মস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী জাহেদুল হাসান সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চন্দনাইশে আমরা একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে চাই। সে জন্য সানোয়ারা গ্রুপ থেকে জমি অধিগ্রহণ করেছি। সেখানে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা করা হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহ আছে সেখানে বিনিয়োগে। তাঁদের আমরা জমি লিজ দেব।’

দুই পক্ষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে কাজী ফার্মস গ্রুপ ২০১৫ সালে সানোয়ারা গ্রুপের কাছ থেকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় ১৩০ একর জমি কেনে। কিন্তু এরপর কাজী ফার্মস অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রক্রিয়া শুরু করতেই উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধের প্রেক্ষাপটে সানোয়ারা গ্রুপ ২০১৯ সালে বেজায় অভিযোগ করে, কাজী ফার্মস যে জমি অধিগ্রহণ করেছে, সেখানে পুরোপুরি সীমানা নির্ধারণ (ডিমারকেশন) করা হয়নি। অভিযোগের জেরে বেজা নিজস্ব কার্যালয়ে একাধিকবার শুনানি করলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমাধান হয়নি।

উভয় পক্ষকে শুনানিতে ডাকার পর বেজা সিদ্ধান্ত দেয়, সানোয়ারা গ্রুপ থেকে কাজী ফার্মস যে জমি নিয়েছে, তাতে কোনো জটিলতা দেখা যাচ্ছে না। সানোয়ারা গ্রুপের আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে ভূমিসংক্রান্ত কোনো সমস্যা নেই। তবে বেজা জানায়, অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিচালনা করতে গিয়ে পাশের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জমিতে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সেটি কিন্তু কাজী ফার্মস গ্রুপকে নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে বেজার সিদ্ধান্তে খুশি না হয়ে একই বছরে, অর্থাৎ ২০১৯ সালে আদালতে মামলা করে সানোয়ারা গ্রুপ, যা এখনো চলছে। আদালতে চলমান মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাজী ফার্মসকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের লাইসেন্স দেওয়া হবে না বলে বেজা জানিয়ে দিয়েছে। বেজার কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন। তাই এখানে বেজার কিছুই করার নেই।


দুই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সানোয়ারা গ্রুপ চায় না সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল হোক। কারণ, জমি কেনার সময় বিষয়টি তাদের জানায়নি কাজী ফার্মস গ্রুপ। তাই এ নিয়ে তাদের অসন্তোষ আছে। এ ছাড়া সেখানে সানোয়ারা গ্রুপের আরও জমি রয়েছে। অবশিষ্ট জমিও কিনে নিতে কাজী ফার্মসকে অনুরোধ করেছিল সানোয়ারা গ্রুপ। কিন্তু সেই জমির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছিল কাজী ফার্মস। তাদের দাবি, অবশিষ্ট ওই জমির মালিকানা নিয়ে সমস্যা আছে। এই অস্বীকৃতির পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। বিষয়টি বেজা থেকে আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

এ নিয়ে সানোয়ারা গ্রুপের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘জমি নিয়ে কাজী ফার্মসের সঙ্গে কিছু ঝামেলা হয়েছে। তবে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। আশা করছি, উভয় পক্ষের মধ্যে একটা সুরাহা হবে।’ তিনি বলেন, ‘যেখানে কাজী ফার্মস অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে, সেখানে মোট জমি আছে ৩০০ একরের মতো। এর মধ্যে ১৩০ একর অধিগ্রহণ করেছে কাজী ফার্মস। বাকি ১৭০ একরের মতো জমি কাজী ফার্মস নেবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা চাই, তারা বাকি জমিও কিনে নিক।’

এ সম্পর্কে সম্প্রতি বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৮ সালে বেজার বোর্ড সভায় যখন কাজী ফার্মস গ্রুপের অর্থনৈতিক অঞ্চলটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তখন তাদের বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়। তারা সেসব শর্ত এখনো পূরণ করতে পারেনি। জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মামলা চলছে। দুই ব্যবসায়ী গ্রুপ যদি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে কিংবা সমঝোতা করে, তাহলে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হবে।

শেখ ইউসুফ হারুন আরও বলেন, কাজী ফার্মস যেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তার মাঝখানে আরও বেশ কিছু জমি আছে। সেই জমির কী হবে, তারও সুরাহা হওয়া উচিত।

এদিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের লাইসেন্স পাওয়ার আগে বন বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনাপত্তিপত্র নিতে বলা হয়েছে কাজী ফার্মস গ্রুপকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা তা পায়নি।


ডেস্ক রিপোর্ট : ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ- এই তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। সব মিলে গত মার্চ পর্যন্ত এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। ফলে ব্যাংকিং খাতে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেলো। যুগান্তর


বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি একটি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর প্রতিবেদনটি অনুমোদন করেছেন। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৪ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রাইটঅফ বা অবলোপন করা হয়েছে। সব মিলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, ঋণখেলাপিদের ছাড় দেয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়ার পর অনেকেই ঋণ পরিশোধ কমিয়ে দেন। তারা ওই সুবিধা নিতে ঋণখেলাপি হন। এছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণগুলো এখন খেলাপি হয়ে গেছে। বিশেষ ছাড় দিয়ে যেসব বড় অঙ্কের ঋণ আগে পুনর্গঠন করা হয়েছিল সেগুলোর একটি অংশও এখন খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। মূলত বড় অঙ্কের ঋণগুলো খেলাপি হচ্ছে বলে সার্বিকভাবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এর বাইরেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোটা অঙ্কের খেলাপি ঋণ রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মে মাসের শেষদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণখেলাপিদের ছাড় দিয়ে নীতিমালা জারি করলে পরে আদালত তা আবার স্থগিত করে দেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং খাতে যেসব দুর্নীতি হয়েছে তার একটিরও বিচার হয়নি। বরং খেলাপিদের রক্ষায় আরও নীতি সহায়তা দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণ কমাতে যেসব নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে- সবই ভুল। এতে ভুল বার্তা (রং সিগন্যাল) দেয়া হয়েছে। যে কারণে কেউ টাকা দিচ্ছে না। ধীরে ধীরে এটি আরও খারাপ পরিণতির দিকে যাচ্ছে। সুশাসনের ঘাটতি, পরিচালকদের ঋণ ভাগাভাগি এবং শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা- এসব কারণে খেলাপি ঋণ না কমে বাড়ছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকও কোনো উদ্যোগ নিতে পারছে না বা নিচ্ছে না।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ঋণ পুনঃতফসিল, ঋণ পুনর্গঠন, ঋণ অবলোপন ও অন্যান্যভাবে প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি হবে। খেলাপি ঋণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। সে হিসাবে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। গত বছরের মার্চে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২২ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন সময় দুর্নীতির মাধ্যমে দেয়া ঋণ এখন খেলাপি হচ্ছে। এছাড়া পুনর্গঠিত ঋণের একটি অংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। ফলে ধীরে ধীরে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে সবার আগে সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন। তা না হলে এটি বন্ধ হবে না।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, সরকার যে প্রক্রিয়ায় খেলাপি ঋণ কমাতে চায়, তাতে কমবে না বরং আরও বাড়বে। চাপিয়ে দেয়া কোনো নীতিতে খেলাপি ঋণ কমবে না। ব্যাংকিং খাতের নিজস্ব নিয়মনীতি কঠোরভাবে পরিপালনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, গত ৭-৮ বছর ধরে সরকারি ব্যাংকগুলোতে দুর্নীতির মাধ্যমে খারাপ ঋণ দেয়া হয়েছে। এতদিন এসব ঋণকে বারবার রিনিডিউল করে গোপন রাখা হয়েছে। এখন আর পারছে না, তাই খেলাপি হিসেবে প্রকাশ করছে। শুধু সরকারি ব্যাংক নয়, বেসরকারি কিছু কিছু ব্যাংকেও একইভাবে ঋণ দেয়া হয়েছে। ফলে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। মূলত সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া এসব দুর্নীতি বন্ধ হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নীরব। কেন এমন হচ্ছে বুঝতে পারছি না।
বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকিং খাতকে উল্টাপাল্টা করা হয়েছে। খেলাপিদের রং সিগন্যাল দেয়া হয়েছে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কঠোর হাতে দমন করতে না পারলে ব্যাংকিং খাত আরও বিপদে পড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরের মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংক খাতের ঋণ বিতরণ ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশই খেলাপি।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, মার্চ শেষে সরকারি খাতের ৬টি ব্যাংকের ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকাই খেলাপি। গড়ে ব্যাংকগুলোর ৩২ দশমিক ২০ শতাংশ ঋণই খেলাপি হয়ে গেছে। মোট খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেকই সরকারি খাতের ৬ ব্যাংকের।
বেসরকারি খাতের ৪০টি ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৭ লাখ ৫ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকাই খেলাপি, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ।
বিদেশি ৯টি ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৩৬ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ২৪ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ ঋণই খেলাপি।
(amadershomoy)

ডেস্ক রিপোর্ট : খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে আগামী অর্থবছরে কৃষি, বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। এই ভর্তুকির ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, শক্তিশালী হবে কৃষি অর্থনীতি। খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কৃষিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শুধু তাই নয়, কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যদাম নিশ্চিত করার বিষয়টিও আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে উল্লেখ করা হবে। জনকণ্ঠ

সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে কৃষি খাতের জন্য ভর্তুকি হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হবে ৯ হাজার কোটি টাকা। ৯ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার ভর্তুকি থাকছে বিদ্যুত খাতের জন্য। এছাড়া এলএনজি আমদানিতে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দেয়া হবে। কৃষি ও বিদ্যুত খাতে চলতি অর্থবছরের ন্যায় ভর্তুকি বরাদ্দ থাকলেও প্রায় তিনগুণ ভর্তুকি বেড়েছে এলএনজির মতো জ্বালানি আমদানিতে। দেশের বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে গ্যাসের সঙ্কট দূর করা হবে। এজন্য বেশি দামে এলএনজি আমদানি করে কমদামে তা উদ্যোক্তাদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
যদিও আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি কমানোর কথা বলেছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিন্তু বাস্তবতা বিবেচনায় এখনই ভর্তুকি কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে। এজন্য এই তিন খাতের বাইরেও প্রণোদনা, নগদ ঋণ সহায়তা খাতেও বরাদ্দ বাড়ানো হবে। সব মিলিয়ে নতুন অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৪২ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের চূড়ান্ত ঘোষণায় ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। রফতানি ও রেমিটেন্স বাড়াতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর আশ্বাস দেয়া হয়েছে। বৈধপথে রেমিটেন্স আনা হলে শতকরা ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে। এছাড়া এবারই সকল পণ্য রফতানিতে নগদ সহায়তার ঘোষণা দেয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাজেট সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ সহায়তা বাজেটে প্রতিবছরই রাখা হয়। এবারও কোন কোন খাতে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ সহায়তা বাড়বে। রফতানি ও রেমিটেন্স বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এ কারণে সকল পণ্য রফতানিতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা দেয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স আনার প্রক্রিয়া অনেক আগেই শুরু করা হয়েছে। প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে তাদেরও একটি প্রণোদনা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী বাজেটে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
একটি সূত্র জানায়, আসন্ন অর্থবছরে ভর্তুকিতেই বেশি বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ খাতে প্রাক্কলিত বরাদ্দ ২৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দেয়া হবে বিদ্যুত খাতে। বিদ্যুতে ভর্তুকি বাবদ প্রাথমিক প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা। খাদ্যে ভর্তুকি ধরা হচ্ছে ৪ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা। এছাড়া অন্য খাতের জন্য ৯ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রাক্কলন করা হয়েছে।
এছাড়া আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রণোদনার জন্য ১৩ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে কৃষি খাতের জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। রফতানি নগদ প্রণোদনাও রাখা হচ্ছে ৪ হাজার কোটি টাকা। আর পাট খাতের জন্য ৫০০ কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। রেমিটেন্সের আহরণে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে। এ খাতের জন্য ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এদিকে, আসছে বাজেটে নগদ ঋণ খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী বাজেটে কৃষিপণ্যের ন্যায্যদাম নিশ্চিত করার কৌশল গ্রহণ করা হবে। সম্প্রতি ধানের দাম কমে যাওয়ায় সরকার চাল আমদানিতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করেছে। একইভাবে কৃষি যন্ত্রপাতিসহ অন্য পণ্য আমদানিতে শুল্ক সুবিধা দিয়ে রেখেছে সরকার। কৃষক যাতে উৎপাদিত ফসল ও পণ্যের ন্যায্যদাম পায় বিষয়টি আগামী বাজেটে নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ধানসহ কৃষকের উৎপাদিত সব ধরনের ফসল ও পণ্যের ন্যায্যদাম নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে। আশা করছি, বাজেট ঘোষণায় বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
এদিকে, গ্যাস সঙ্কটের কারণে গত কয়েক বছর বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্পেও নতুন সংযোগ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এখন এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের সঙ্কট দূর করা হচ্ছে। চড়া দামে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে বাড়তি ভর্তুকি রাখতে হচ্ছে আগামী বাজেটে। সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এর ফলে বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে, বাড়বে শিল্পের উৎপাদন ও কর্মসংস্থান।
(amadershomoy)

ডেস্ক রিপোর্ট : আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে নতুন ভ্যাট আইনের আওতায় অগ্রিম ট্রেড ভ্যাটের (এটিভি) পরিবর্তে অগ্রিম কর (এটি) ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমানে যেসব পণ্যে ৫ শতাংশ এটিভি আরোপিত আছে, সেসব পণ্য আমদানিতে অগ্রিম কর দিতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যুগান্তর
সূত্রগুলো জানায়, নানা সময় ব্যবসায়ীরা অগ্রিম ট্রেড ভ্যাটের (এটিভি) বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। এটিভি ভ্যাট আইনের মূলনীতির পরিপন্থী। তাই নতুন আইনে এটিভি বাদ দিয়ে আগাম করের (এটি) বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইন প্রণয়নের সময় আগাম কর ৩ শতাংশ ছিল। এখন সেটিকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হচ্ছে।


প্রসঙ্গত, আগামী অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর খাতের লক্ষ্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। ভ্যাট খাতে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। শুল্ক খাতে ৯২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা।
নতুন ভ্যাট আইনে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে অনেক ছাড় থাকছে। বার্ষিক টার্নওভারের সীমা ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে টার্নওভার ট্যাক্স হারও বাড়ানো হচ্ছে। আগামী বাজেটে এ হার ১ শতাংশ বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হতে পারে। বর্তমানে এ হার ৩ শতাংশ। ফলে ৩ কোটি টাকার বেশি যাদের টার্নওভার রয়েছে তাদের ১ শতাংশ বেশি হারে ভ্যাট দিতে হবে। সাধারণত বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোরই ৩ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার রয়েছে। এছাড়া ভ্যাট অব্যাহতির সীমা ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা করা হচ্ছে। অর্থাৎ বছরে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলে ওই প্রতিষ্ঠানকে কোনো ভ্যাট দিতে হবে না। ভ্যাট হারেও ছাড় দেয়া হচ্ছে। নতুন আইনে ১৫ শতাংশের পরিবর্তে আরও ৪টি স্তর করা হয়েছে। ২, ৫, ৭.৫ ও ১০ শতাংশ হারে পৃথক স্তর করা হয়েছে। মূলত ট্যারিফ মূল্য আরোপিত সংবেদনশীল পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে আলাদা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হবে। বর্তমানে উৎপাদন পর্যায়ে ৮৫টি পণ্যে ট্যারিফ মূল্য বহাল আছে। এর মধ্যে গুঁড়া দুধ, গুঁড়া মসলা, বিস্কুট, কেক, রুটি, আচার, টমেটো সস, ফলের জুস, এলপি গ্যাস, নিউজপ্রিন্ট, সব ধরনের কাগজ, এলইডি লাইট, টিউব লাইট, চশমা, সানগ্লাস, নির্মাণসামগ্রী যেমন রড, ইট রয়েছে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে এসব পণ্যের ট্যারিফ মূল্য থাকবে না। অপ্রয়োজনীয় বাদ দিয়ে অল্প সংখ্যক পণ্য যেমন রড, ওষুধ ও পেট্রোলিয়ামের মতো সংবেদনশীল পণ্য রেখে বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ৮-১০ পণ্য এ প্রজ্ঞাপনের সুবিধা পাবে। অন্যদিকে পুরাতন আইনে যেসব পণ্য ও সেবা সংকুচিত ভিত্তিমূল্যে ভ্যাট দিত, তাদের জন্য ভ্যাট হার ৫ ও সাড়ে ৭ শতাংশ হচ্ছে।
অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য সম্পূরক শুল্কের তফসিল পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থাৎ পুরাতন আইনের তফসিল বহাল থাকছে। নতুন আইনে সম্পূরক শুল্ক আরোপিত পণ্য সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হয়েছে। ২০১২ সালে ভ্যাট আইনে মাত্র ২৫৬টি পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক রাখা হয়। যদিও পরবর্তীতে ২০১৭ সালের বাজেটে এ তফসিল সংশোধন করে সম্পূরক শুল্ক আরোপিত পণ্য সংখ্যা বাড়ানো হয়। পুরাতন আইনে প্রায় ১ হাজার ৪৩০টি পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা আছে।
যদিও ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর জন্য মাঠপর্যায়ে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) মেশিনের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (্ইএফডি) বসানো হবে। ইতিমধ্যেই টেন্ডার কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় বড় বিপণিবিতান ও রেস্টুরেন্টে বিনামূল্যে ইএফডি মেশিন বসানো হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ৯০ হাজার ইএফডি মেশিন বসানো হবে। এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন বসানো গেলে ভ্যাট ফাঁকি বন্ধ হবে। এখন ইসিআর মেশিন টেম্পারিং করা যায়। কিন্তু ইএফডি মেশিনে সে সুযোগ নেই। কারণ ইএফডি মেশিনের বেচাকেনার সব তথ্য সরাসরি ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পে রক্ষিত সার্ভারে জমা হবে। কেউ টেম্পারিং করতে চাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে তথ্য কর্মকর্তারা দেখতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অর্থনীতির আকার যে হারে বেড়েছে, পণ্য ও সেবা খাত থেকে সে হারে ভ্যাট আদায় করা যাচ্ছে না। সর্বত্র ইএফডি মেশিন বসানো গেলে ভ্যাট আদায়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক : আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড শপ, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, আসবাবপত্রের বিক্রয় কেন্দ্র, পোশাক বিক্রির কেন্দ্র ও বুটিক শপ, বিউটি পার্লার, ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল গৃহস্থালি সামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, অভিজাত শপিং সেন্টারের আওতাভুক্ত সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, জেনারেল স্টোর ও সুপার শপ, বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী (পাইকারি ও খুচরা) প্রতিষ্ঠান, স্বর্ণকার ও রৌপ্যকার এবং স্বর্ণ-রৌপ্যের দোকানদার এবং স্বর্ণ পাইকারি ব্যবসায়ী। এ ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ইএফডি মেশিন ব্যবহার না করে তাহলে শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে।
(amadershomoy)

ম্যাংগো ড্রিংক, জুস, ম্যাংগো বারসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরি করতে প্রতি বছরের মতো এবারও আম সংগ্রহ ও পাল্পিং কার্যক্রম শুরু করেছে দেশের সর্ববৃহৎ কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ। চলবে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত।
রাজশাহীর গোদাগাড়ি বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ও নাটোরের একডালায় প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের কারখানায় এই আম সংগ্রহ ও পাল্পিং কার্যক্রম চলছে। চলতি বছর ৬০ হাজার টন আম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রাণ গ্রুপ।

বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও এর আশপাশের অঞ্চল আমের জন্য বিখ্যাত। কারখানায় গত ২৮ মে থেকে গুটি আম সংগ্রহ ও পাল্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এরপর আমরা আশ্বিনা আম থেকে পাল্প সংগ্রহ করব। কারখানায় আম সংগ্রহ চলবে আমের সরবরাহ থাকা পর্যন্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারখানায় অত্যাধুনিক মেশিনে সম্পূর্ণ অ্যাসেপটিক পদ্ধতিতে আমের পাল্পিং করা হচ্ছে। অ্যাসেপটিক পদ্ধতিতে পাল্প সংরক্ষণ হওয়ায় দুই বছর পর্যন্ত তা ব্যবহার উপযোগী থাকে। এই প্ল্যান্টে আম পরিষ্কার, বোটা ও খোসা সরানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পাল্প প্যাকেটজাত থেকে শুরু করে এর সঙ্গে জড়িত সব কাজ সম্পূর্ণ হাতের স্পর্শ ছাড়াই করা হচ্ছে। আমের বর্জ্য দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে খোসা থেকে জৈব সার ও আটি থেকে জ্বালানি তৈরি হওয়ায় কারখানাটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। কারখানায় প্রতিদিন ৪০০ টন আম ক্র্যাশিং করার সক্ষমতা রয়েছে।’
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো চলতি মৌসুমেও নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, দিনাজপুর, মেহেরপুর এবং সাতক্ষীরা থেকে আম সংগ্রহ করছে প্রাণ। সংগ্রহের পর এসব আম পাল্পিংয়ের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে রাজশাহী ও নাটোরের কারখানায়। এই পাল্প থেকেই পুরো বছর তৈরি হচ্ছে ম্যাংগো ড্রিংক, জুস, ম্যাংগো বারসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রেতারা যেন উৎকৃষ্টমানের পাল্পের ফ্রুট ড্রিংক কিংবা জুস খেতে পারে সেজন্য আমরা পণ্যের কাঁচামালকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেই। আমের জন্য বিখ্যাত অঞ্চলে আমাদের কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছি। পাশাপাশি কারখানা আধুনিকায়নের ফলে ক্রেতারা আরও মানসম্মত পণ্য পাবে বলে আশা করছি।’
(jagonews24)

 কাজ করছেন কৃষক কুমার দুধবংশী। ছবি: বাংলানিউজ
মৌলভীবাজার: এক সময় খাইছড়া চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন তিনি। কৃষিতে এসে স্বপ্ন আর সম্ভবনার সুফলটুকু নিজ চোখে দেখে কৃষিকেই বেছেনিয়েছেন তিনি। ছেড়েছেন চা বাগানের শ্রমিকের কাজ। তারপর পেছনে ফিরে আর তাকাতে হয়নি তাকে।  
খাইছড়া এলাকার একজন সফল কৃষক তিনি। তার এই সফল কাজে দারুণভাবে উৎসাহিত হয়ে তার তত্ত্বাবধানেই প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন পুরুষ ও নারী শ্রমিক কৃষিতে যোগদান করেছিলেন। এখনও তার এই কৃষিকাজের সফলতা দেখে অনেকে নিজ আগ্রহে কৃষিতে এগিয়ে আসতে চাইছেন।



শ্রীমঙ্গল উপজেলার কৃষি কার্যালয়ের সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবেও রয়েছে কুমার দুধবংশীর নাম।
রোববার (১৯ মে) সকালে খাইছড়া চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, কুমার দুধবংশী নিজের ঝিঙ্গাক্ষেতে কাজ করেছেন। শেড পদ্ধিতে শুধু ঝিঙ্গা নয়, অনেক সবজি রয়েছে তার এই ক্ষেতজুড়ে। তারতাজা লম্বা লম্বা ঝিঙ্গাগুলো গাছের ডালে ঝুলে আপন স্বার্থকতার জানান দিচ্ছে। 
এক প্রশ্নের জবাবে কুমার দুধবংশী বাংলানিউজকে বলেন, আট থেকে দশ আগে কৃষিবিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কিছু সবজি লাগিয়েছিলাম। খুব ভালো হয়েছিলো সেই ফসলগুলো। নিজ হাতে লাগানো সেই ফলসগুলো দেখে দারুণভাবে উৎসাহ লাভ করি। এখন তো পুরোপুরিভাবে কৃষি কাজ করছি। আমার এলাকায় ২৫ থেকে ৩০ জন কৃষক আছেন, তাদের দলপ্রধান আমি।
 
জায়গার পরিমাণ এবং শ্রমিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার মোট জমির পরিমাণ এক কিয়ার (৩০ শতাংশ)। আমার সবজি বাগানে দুইজন শ্রমিক আছেন, তাদের দৈনিক মজুর ২০০ টাকা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তারা কাজ করেন। এখন গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে রয়েছে ঝিঙ্গা, করলা, ঢেড়স, শশা প্রভৃতি। শীতকালে ফলাই আলু, টমেটো, বেগুন, মিষ্টি লাউ প্রভৃতি।
 সবজিক্ষেতে সার প্রয়োগ প্রসঙ্গে কুমার দুধবংশী বাংলানিউজকে বলেন, আমার প্রতিটি সবজিই বিষমুক্ত। আগে গোবর সার, এমওপি, ইউরিয়া এবং টিএসপি সারগুলো ব্যবহার করতাম। এখন আমাকে কৃষি কার্যালয় থেকে কেঁচো হতে উৎপন্ন জৈব সার দেওয়া হচ্ছে। এগুলোর অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব এবং মাটি ও কৃষির জন্য দারুণ উপকারী। এই জৈব সার দিলে অন্যকোনো সারের আর প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়াও ‘সেক্স ফেরোমেন’ (কৃত্রিম ফাঁদ) দিয়ে ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড়গুলোকে দমন করা হচ্ছে।
 
উৎপাদিত সফলের বিক্রয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ঝিঙ্গাগুলো চৈত্র মাসে লাগানো হয়েছিল। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭/১৮ হাজার টাকা ঝিঙ্গা বিক্রি করেছি। পুরো জৈষ্ঠ্য মাস ধরে এই ঝিঙ্গাগুলো বিক্রয় হলে মোট বিক্রি ২৪ থেকে ২৫ হাজারে গিয়ে দাঁড়াবে। এই সবজি ক্ষেতের ঝিঙ্গাচাষে মাত্র ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা বাংলানিউজকে বলেন, কুমার দুধবংশী আমাদের উপজেলার একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা। অনেক পরিশ্রম করতে পারেন তিনি। তার দেখাদেখি এলাকায় অনেক লোক কৃষিতে এসেছেন এবং আমাদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সফলভাবে কৃষিজাত নানান পণ্য চাষাবাদ করছেন।
 
এক সময় কুমার দুধবংশী চা বাগানের শ্রমিক ছিলেন। আমাদের পরামর্শ মতো কৃষিজাত নানান ফসল উৎপাদন এবং বাজারজাত করে পাল্টে ফেলেছেন নিজের ভাগ্য। এখন পুরোপুরিভাবে কৃষিতে নিয়জিত আছেন তিনি বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
(banglanews24)

এক নম্বর আমেরিকান প্রযুক্তির WHIRLPOOL ইনভার্টার এসি (এয়ার কন্ডিশনার) এখন বাংলাদেশে।
ঋতুর পরম্পরায় যখন বসন্ত পেরিয়ে গ্রীষ্ম এসেছে, তখন সূর্যও তার তীব্রতা ছড়ানো শুরু করেছে অনেক বেশি। তাই সারা দিনের ক্লান্তির পর বাসায় এসে একটু শীতল বাতাস পেলে ক্লান্তিটা যেন নিমেষেই দূর হয়ে যায়। কিন্তু এসি তো আর হুট করে কিনে ফেলা যায় না। আবার একটি এসি কিনে ফেললে তা সহজে চেঞ্জও করা যায় না।

তাই এসি  কেনার আগে সব সময় এমন এসি কেনা উচিত, যা হবে দীর্ঘস্থায়ী। কুলিং হবে দ্রুত ও আরামদায়ক। যেখানে থাকবে আধুনিক সব প্রযুক্তির সমাহার। তেমনই একটি এসি আপনি ট্রান্সকম ডিজিটালে খুব সহজেই পেয়ে যাবেন। যা হলো এক নম্বর আমেরিকান প্রযুক্তির Whirlpool ইনভার্টার এসি। 
গরমের সময় এসির প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেলেও মাঝেমধ্যে এসি নিয়ে আমরা কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হই। যেমন এসি অন করলে ঠান্ডা বেশি লাগে। আবার অফ করলে গরম লাগে। আবার অনেকের, বিশেষত শিশুদের এসির থেকে অ্যালার্জিজনিত ঠান্ডা লেগে যায়।
কিন্তু এখন আর এসির ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে চিন্তা নেই। কারণ, Whirlphool-এর এই এসিটিতে আছে অত্যাধুনিক আমেরিকান প্রযুক্তির সিক্সথ সেন্স টেকনোলজি, যা আপনাকে দেবে সহনীয় তাপমাত্রা। এর ফুল এইচডি ফিল্টার নিশ্চিত করে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ বাতাস, যা আপনার পরিবারকে দেবে অ্যালার্জি বা সর্দির হাত থেকে সুরক্ষা।
এতে আরও ১০০ শতাংশ কপার কনডেনসার থাকায় এসি  হবে দীর্ঘস্থায়ী। ঠান্ডা করবে আরও বেশি। এই এসি যে শুধু ঠান্ডাই করতে পারে, তা নয়, শীতের সময়ও এই এসি কাজে লাগবে। কারণ, Whirlpool এসি  ঘরকে ঠান্ডাও করতে পারে, আবার গরমও করতে পারে।
তাই বাসায় নতুন এসি কিনতে হলে আজই চলে আসুন ট্রান্সকম ডিজিটালে। অথবা ভিজিট করুন অফিশিয়াল ওয়েবসাইট: https://transcomdigital.com/ । কিনে ফেলুন এক নম্বর আমেরিকান অরিজিনাল এসি। এ ছাড়া এখন আপনার বাসায় পুরোনো এসি থাকলে আপনি হ্যাসল ফ্রি এসি এক্সচেঞ্জ অফারের মাধ্যমে পুরোনো এসিটি এক্সচেঞ্জ করে নিয়ে নিতে পারেন অরিজিনাল Whirlpool এসি ট্রান্সকম ডিজিটাল থেকে।
(prothomalo)

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget