Articles by "আন্তর্জাতিক"


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমান সময়ে তরুণদের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড
 রিয়েলমি। এবার নিজেদের সবচেয়ে দামী ডিভাইস নিয়ে চীনের মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি আগামী মাসেই ইউরোপের হাই-এন্ড হ্যান্ডসেট বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিয়েছে। 

এরই মধ্যে নিজের বিভিন্ন ফোন নিয়ে বাজারে একটি শক্ত অবস্থান তৈরী করেছে রিয়েলমি।

শেনজেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বাজেট ফোনের বাজারের বাইরেও শক্ত অবস্থান তৈরি করার উদ্যোগ হিসেবে নিজেদের সবচেয়ে দামি মডেলটি ইউরোপের বাজারে হাজির করবে। রিয়েলমি’র সিইও রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান এ বছর বিশ্বব্যাপী শতকরা ৫০ ভাগ বেশি স্মার্টফোন বিক্রির পরিকল্পনা করছে।

বেশ কয়েকটি চীনা হ্যান্ডসেট নির্মাতা হুয়াওয়ের স্মার্টফোনের বাজার দখলের জন্য আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর এক সময়ের শীর্ষস্থান দখলকারী এই স্মার্টফোন নির্মাতার সাপ্লাই চেইন বন্ধ হয়ে যায় এবং নিজেদের অবস্থান হারায়।

রিয়েলমি ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপে তার ফ্ল্যাগশিপ ফোন জিটি ২ প্রো সাতশ’ থেকে আটশ’ ডলারে বিক্রি করবে বলে জানিয়েছেন সিইও স্কাই লি।

জিটি মাস্টার এডিশনের মূল্য অ্যামাজন সাইটে ৩৯৫ ডলার। সে হিসেবে প্রো তার প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি হবে, যেটি অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম ফোনের প্রায় কাছাকাছি দামের হতে যাচ্ছে।

লি বলেন, “আমরা মনে করি এটি একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বাজার, হাইএন্ড ফোনের জন্য একটি বড় বাজার।”

মহামারীর ছোবল লেগেছে অর্থনীতিতে, স্মার্টফোনের চাহিদা কমে এসেছে এবং ক্রেতারা নতুন ফোন কিনতে আরও বেশি সময় নিচ্ছেন। তবে, বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল স্মার্টফোন নির্মাতা হিসাবে রিয়েলমি এখানে পরিবর্তন আনতে পারে বলে যোগ করেছেন লি।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ধারণা অনুসারে ইউরোপের স্মার্টফোন বাজার থেকে ২০২১ সালের প্রথম ১১ মাসে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। এর মধ্যে হাই-এন্ড ফোন থেকে এসেছে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

“বাজার বৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই আসে হাই-এন্ড মডেল থেকে, আর এই অংশটি চালাচ্ছে অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম মডেলগুলো” – কাউন্টারপয়েন্ট সিনিয়র বিশ্লেষক ইয়াং ওয়াং বলেন।

অ্যাপলের প্রিমিয়াম ফোন ইউরোপের বাজারে চলেছে সবচেয়ে বেশি। প্রতিষ্ঠানটির আইফোন ১৩’র দাম শুরু হয় প্রায় সাড়ে আটশ’ ডলার থেকে। গত প্রান্তিকে এর পরেই ছিল স্যামসাং এবং শাওমি যাদের প্রিমিয়াম ফোনের মূল্য ছিল যথাক্রমে নয়শ’ ও সাতশ’ ডলার।


ইউক্রেনকে ঘিরে ইউরোপে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। এর একদিকে আছে রাশিয়া, যারা ইউক্রেনের সীমান্তে প্রায় লাখখানেক সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে বলে দাবি করছে পশ্চিমা দেশগুলো। এর পাল্টা ন্যাটো জোটও তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। 

ইউক্রেনে কোনো অভিযান চালালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞাসহ নানা ব্যবস্থার হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

গত কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম ইউরোপ আবার একটি বড় আকারের যুদ্ধের মুখোমুখি - এমন আশংকা করছেন অনেকে।

কিন্তু ইউক্রেনকে ঘিরে এই উত্তেজনা এবং সংঘাত আসলে কেন? রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন আসলে কী চান? ন্যাটো জোট কী করছে? ইউক্রেন সংকট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর :

রাশিয়া কি সত্যিই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে?

রাশিয়া বার বার জোর গলায় এমন কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করছে যে তারা ইউক্রেনে একটি যুদ্ধ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে রাশিয়া আগেও ইউক্রেনের সীমানা দখল করেছে। এই মুহূর্তে তাদের প্রায় এক লাখ সৈন্য ইউক্রেনের সীমান্তের কাছে মোতায়েন আছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়া বহুদিন ধরেই চেষ্টা করছে, ইউক্রেন যাতে কোনোভাবেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে না যায়।

তাদের আরো আপত্তি ন্যাটো জোট নিয়ে। ইউক্রেন এখনো ন্যাটো জোটের সদস্য নয়। কিন্তু পূর্ব ইউরোপের আরো অনেক সাবেক কমিউনিস্ট দেশের মতো, ইউক্রেনও সেই পথে চলেছে বলে মনে করছে রাশিয়া।

এই মুহূর্তে সেখানে তীব্র সামরিক উত্তেজনা রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে পশ্চিমা দেশগুলো যদি তাদের আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি না বদলায়, তাহলে ‘যথাযথ পাল্টা সামরিক-কারিগরি’ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মনে করেন, একটা সংঘাতের বাস্তব সম্ভাবনা আছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিশ্বাস করেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, রাশিয়া কেন ইউক্রেন সীমান্তের কাছে এত সৈন্য পাঠিয়েছে, তার কোনো ব্যাখ্যা তারা দেয়নি। বেলারুশেও রাশিয়ার সৈন্যরা যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, রাশিয়া এ বছরের প্রথম ভাগেই কোনো এক সময়ে ইউক্রেনে ঢুকবে।

রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য বর্তমান সংকটকে কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সাথে তুলনা করেছেন। ১৯৬২ সালের সেই সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রায় একটি পরমাণু যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছিল।

ইউক্রেনকে ঘিরে এই সংঘাতের শুরু কখন থেকে?

যদি সাম্প্রতিক ইতিহাসের কথা বলতে হয়, তাহলে বলতে হবে ২০১৪ সালে - যদিও এই সংকটের আসল কারণ বুঝতে হলে যেতে হবে আরো পেছনে- সোভিয়েত আমলে, যখন ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল।

পূর্ব ইউরোপের আরো কিছু কমিউনিস্ট দেশ এবং সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের মতো, ইউক্রেনেও দুটি রাজনৈতিক ধারা বেশ স্পষ্ট।

একটি অংশ চায় পশ্চিম ইউরোপের সাথে ঘনিষ্ঠ হতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য ন্যাটো সামরিক জোটের সদস্য হতে। অপর অংশ রুশ প্রভাব বলয়ে থাকার পক্ষপাতী, কারণ ইউক্রেনের জনসংখ্যার বিরাট অংশ রুশ ভাষাভাষী, তারা জাতিগতভাবেও রুশ। রাশিয়ার সাথে তাদের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক যোগাযোগ।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন বিক্ষোভের মুখে। এরপর তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়।

প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ দুই নৌকায় পা দিয়ে চলতে চেয়েছিলেন। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে মাখামাখি করছিলেন, কিন্তু আবার মস্কোকেও ভক্তি-শ্রদ্ধা দেখিয়ে চলেছিলেন। কিন্তু তারপরও প্রেসিডেন্ট পুতিন তাকে সহ্য করেছেন।

কিন্তু যখন ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে এক বিশাল বাণিজ্য চুক্তি করতে চাইলেন - যা প্রকারান্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার পথে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়া - তখন প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করলেন।

এরপর যখন ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা ভেঙে বেরিয়ে এলেন, তখন তার বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। তার পতনের পর যারা ক্ষমতায় আসে, তারা এমন কিছু পদক্ষেপ নেয়, যা প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ক্ষুব্ধ করে।

ইউক্রেনের ভেতরে যে রুশ অধ্যুষিত অঞ্চল, সেখানে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হলে মস্কো তাদের সমর্থন দেয়। এই বিদ্রোহীদের সমর্থনে এরপর রুশ সৈন্যরা হস্তক্ষেপ করে, এক পর্যায়ে ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে সেটি নিজেদের দেশের অংশ বলে ঘোষণা করে রাশিয়া।

কিন্তু রাশিয়া কেন ক্রিমিয়া নিজের সীমানাভুক্ত করলো?

রাশিয়া এক বিরাট দেশ - বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ - ১১টি টাইম জোন জুড়ে যেটি বিস্তৃত। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিগুণ। ভারতের পাঁচগুণ। ব্রিটেনের চেয়ে ৭০ গুন বড়। কিন্তু দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১৪ কোটি ৪০ লাখ। বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া বা পাকিস্তানের চেয়েও কম।

এত বড় একটি দেশের ক্রিমিয়া দখল করে নিজের সীমানাভুক্ত করার কী দরকার ছিল, এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে।

রাশিয়া যত বড় দেশই হোক, তাদের একটাই সমস্যা - সারা বছর সচল রাখা যায় উষ্ণ পানির এমন গুরুত্বপূর্ণ বন্দর তাদের প্রায় নেই বললেই চলে। ক্রিমিয়ার সেভাস্তাপোলে রাশিয়ার যে নৌঘাঁটি, সেটি কৌশলগত কারণে তাই রাশিয়ার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাল্টিক সাগরে রাশিয়ার ঢোকার পথ হচ্ছে এই বন্দর। সেটি হাতছাড়া হতে তারা কোনোভাবেই দিতে চায়নি।

প্রায় ২০০ বছর ধরে ক্রিমিয়া কিন্তু রাশিয়ারই অংশ ছিল।

ক্রিমিয়ার প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষও জাতিগত রুশ। ১৯৫৪ সালে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ এটি হস্তান্তর করেন তৎকালীন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র ইউক্রেনের কাছে। তখন তারা ভাবেননি, কোনো একদিন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাবে এবং ক্রিমিয়ার ওপর মস্কোর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাবে।

কাজেই ইউক্রেন যে ন্যাটোর সদস্য হবে, সেটা রাশিয়া কোনোভাবেই মানবে না। কিন্তু মস্কো যখনই দেখলো যে ইউক্রেন তাদের প্রভাবের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন প্রেসিডেন্ট পুতিন সেখানে হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেন।

লেখক-সাংবাদিক টিম মার্শালের মতে, কোনো বৃহৎ শক্তির অস্তিত্ব যখন হুমকিতে পড়ে, তখন সে শক্তি প্রয়োগ করবেই। এটা হচ্ছে কূটনীতির এক নম্বর শিক্ষা।

তিনি তার একটি বই ‘প্রিজনার্স অব জিওগ্রাফি’ বইতে লিখেছেন, ‘আপনি হয়তো এরকম একটা যুক্তি দিতে পারেন যে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামনে বিকল্প ছিল। তিনি ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে পারতেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে প্রেসিডেন্ট পুতিন আসলে রাশিয়ার ঈশ্বর প্রদত্ত ভৌগোলিক হাত নিয়ে খেলছেন এখানে।’

‘কাজেই ইউক্রেনের ব্যাপারে কিছু না করে বসে থাকার কোনো সুযোগ তার ছিল না। কারণ ক্রিমিয়া ছিল রাশিয়ার একমাত্র উষ্ণ পানির বন্দর, আর পুতিনের আমলেই এই বন্দর রাশিয়ার হাতছাড়া হবে, সেটা তিনি চাননি।’

রাশিয়া নিজেকে এখনো দেখে একটি পরাশক্তি হিসেবে, এবং বিশ্বে তার সেই সামরিক-রাজনৈতিক শক্তি অটুট রাখার ক্ষেত্রে ক্রিমিয়ার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব তাই অনেক।

যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কাছে রাশিয়ার দাবি কী?

ইউক্রেন এখনো ন্যাটোর সদস্য নয়। তবে তাদের সাথে ন্যাটোর সখ্যতা আছে। ভবিষ্যতে কোনো একদিন তারা ন্যাটো জোটের সদস্য হবে, এরকম একটা বোঝাপড়া আছে। তবে রাশিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে এরকম একটা নিশ্চয়তা চায়, যেন এটা কখনোই না ঘটে।

কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো এরকম নিশ্চয়তা দিতে রাজি নয়।

ইউক্রেনের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ জাতিগতভাবে রুশ। তাদের সাথে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আছে। রাশিয়া কৌশলগতভাবে ইউক্রেনকে তার বাড়ির পেছনের আঙ্গিনা বলে বিবেচনা করে।

প্রেসিডেন্ট পুতিন মনে করেন, পশ্চিমা শক্তি আসলে ন্যাটো জোটকে ব্যবহার করে চারিদিক থেকে রাশিয়াকে ঘিরে ফেলছে। তিনি চান ন্যাটো যেন পূর্ব ইউরোপে তাদের সামরিক তৎপরতা কমিয়ে আনে।

তিনি বহুদিন ধরে অভিযোগ করে যাচ্ছেন যে ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো জোটকে পূর্বদিকে সম্প্রসারণ করা হবে না বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটি তারা রাখেনি। তবে ন্যাটো রাশিয়ার এই কথা প্রত্যাখ্যান করেছে।

তারা বলছে, ন্যাটো জোটের মাত্র অল্প কটি দেশের সাথে রাশিয়ার সীমান্ত রয়েছে, আর ন্যাটো হচ্ছে একটি আত্মরক্ষামূলক সামরিক জোট। অনেকের বিশ্বাস, ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়ার যে বিরাট সৈন্য সমাবেশ, তার উদ্দেশ্য আসলে রাশিয়ার নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়গুলো যাতে পশ্চিমারা গুরুত্বের সাথে নেয়, সেজন্য বাধ্য করা।

তবে ইউক্রেনকে ন্যাটো সামরিক জোটে ঢুকতে না দেয়ার যে দাবি রাশিয়া জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র তা নাকচ করে দিয়েছে। রাশিয়া যখন ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে, তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন রাশিয়ার কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক জবাবে একথা জানিয়েছেন।

ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জেন্স স্টোলটেনবার্গ বলেছেন, তাদের সামরিক জোটের জবাবও মস্কোর কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার উদ্বেগের বিষয়গুলো তিনি শুনতে রাজি আছেন, কিন্তু এটাও বুঝতে হবে প্রত্যেকটি দেশের তার মতো করে নিজের প্রতিরক্ষার পথ বেছে নেয়ার অধিকার আছে।

রাশিয়ার মতো সামরিক শক্তি কেন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন?

ব্রিটিশ সাংবাদিক টিম মার্শাল তার লেখা বেস্টসেলার ‘প্রিজনার্স অব জিওগ্রাফি’ বইতে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, অনেক ভাবতে পারেন রাশিয়ার মতো এত বড় একটি সামরিক ক্ষমতাধর দেশকে কে আক্রমণ করতে চাইবে। কিন্তু রাশিয়া নিজে বিষয়টি সেভাবে দেখে না। এর যথেষ্ট ভিত্তিও আছে। গত ৫০০ বছরে রাশিয়া বহু বিদেশী শক্তির আক্রমণের মুখে পড়েছে, আর এই সবগুলো আক্রমণই এসেছে উত্তর ইউরোপের সমতল ভূমি দিয়ে।

১৬০৫ সালে পোলিশরা আক্রমণ চালিয়েছিল এই পথ ধরে। এর পরে আসে সুইডিশরা। ১৮১২ সালে নেপোলিয়নের নেতৃত্বে হামলা চালায় ফরাসীরা। জার্মানরা রাশিয়ায় অভিযান চালিয়েছে দুবার - ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, আবার ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে।

১৮১২ সালে নেপোলিয়নের সময় থেকে হিসাব করলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত গড়ে প্রতি ৩৩ বছরে রাশিয়াকে উত্তর ইউরোপের সমতলভূমিতে একবার করে যুদ্ধ করতে হয়েছে। কাজেই রাশিয়ার ধারণা, তাদের দেশের জন্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি যদি থেকে থাকে, সেটি এই পথেই আসবে।

১৯৯০ এর দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন যে ভেঙ্গে গিয়েছিল, সেটিকে প্রেসিডেন্ট পুতিন রাশিয়ার জন্য এক ভূরাজনৈতিক বিপর্যয় বলে মনে করেন। এরপর থেকে রাশিয়া কেবল উদ্বেগের সাথে দেখছে, কীভাবে ধীরে ধীরে সামরিক জোট ন্যাটো চারদিক থেকে তাদের ঘিরে ফেলছে।

১৯৯৯ সালে চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড যোগ দিল ন্যাটোতে। ২০০৪ সালে তাদের পথ অনুসরণ করলো বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, রোমানিয়া ও স্লোভাকিয়া। ২০০৯ সালে যোগ দিল আলবেনিয়া।

এই দেশগুলো এক সময় হয় ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ অথবা ওয়ারশ সামরিক জোটের সদস্য।

জর্জিয়া, মলদোভা বা ইউক্রেনও পারলে ন্যাটো বা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়, কিন্তু এখন পর্যন্ত রাশিয়ার কারণেই তাদের যোগ দেয়া হয়নি। কারণ এই তিনটি দেশেই রুশপন্থী মিলিশিয়াদের শক্ত অবস্থান আছে। এই দেশগুলোর যেকোনো একটি যদি ন্যাটোতে যোগ দেয়, তা রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করতে পারে।

টিম মার্শাল লিখেছেন, গত শতকে স্নায়ুযুদ্ধের দিনগুলোতে কে ভাবতে পেরেছিল মস্কো থেকে মাত্র কয়েক শ’ মাইল দূরে পোল্যান্ডের মাটিতে বা বাল্টিক দেশগুলোতে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা থাকবে?

তার মতে, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেয়া মানে যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটোর সামরিক বাহিনী একেবারে রাশিয়ার পেটের ভেতরে এসে অবস্থান নেয়া। নিজের দোরগোড়ায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতিকে রাশিয়া সঙ্গত কারণেই এক বিরাট নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।

ইউক্রেন সংকটে রাশিয়ার গ্যাস কেন বড় ইস্যু?

পরমাণু অস্ত্রের কথা বাদ দিলে, রাশিয়ার হাতে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র কিন্তু তার সেনাবাহিনী বা বিমান বাহিনী নয়। রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র তার জ্বালানি।

ইউরোপের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২৫ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। লাটভিয়া, স্লোভাকিয়া, ফিনল্যান্ড ও এস্তোনিয়ার মতো দেশগুলো রাশিয়ার জ্বালানির ওপর শতভাগ নির্ভরশীল।

জার্মানির প্রায় অর্ধেক গ্যাস সরবরাহ আসে রাশিয়া থেকে। জার্মানির রাজনীতিকরা কেন রাশিয়ার সমালোচনায় অতটা সরব নয়, এ তথ্য থেকেই তা বোঝা যায়।

আর ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে ইউক্রেন হচ্ছে রাশিয়ার প্রবেশ দ্বার। রাশিয়া থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রধান গ্যাস পাইপ লাইনগুলো গেছে ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে। রাশিয়ার প্রায় ৪০ শতাংশ গ্যাসের সরবরাহ যায় এই পাইপলাইন দিয়ে।

কাজেই ইউক্রেন যদি রাশিয়ার প্রভাব বলয়ের বাইরে চলে যায়, তাহলে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়া তার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হতে পারে বলে আশংকা করে।

তবে ইউক্রেনকে পাশ কাটিয়ে রাশিয়া বাল্টিক সাগরের নিচ দিয়ে জার্মানি পর্যন্ত নর্ড স্ট্রিম-২ নামে নতুন একটি গ্যাস পাইপলাইন বসিয়েছে। কিন্তু রাশিয়া যদি ইউক্রেনে অভিযান চালায়, তাহলে এই নর্ড স্ট্রিম-২ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প আর সামনে আগাবে না বলে এরই মধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউরোপ যেভাবে রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, তাতে করে রাশিয়া অন্যান্য দেশগুলোর ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে যাবে বলে আশংকা করে যুক্তরাষ্ট্র।

তারা মনে করে, রাশিয়া চাইলে যেকোনো সময় এসব গ্যাস পাইপলাইন দিয়ে সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে, সামনের দিনগুলোতে এই জ্বালানিকে একটা রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে বার বার ব্যবহার করতে পারে।

ইউক্রেন প্রশ্নে ন্যাটো কি ঐক্যবদ্ধ?

প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেন প্রশ্ন ইউরোপীয় নেতারা সবাই একমত। তবে বিভিন্ন দেশ যে ধরনের সমর্থন দেবে বলে কথা দিচ্ছে, তার মধ্যে পার্থক্য আছে।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনে ৭০ টনের মতো ‘মারণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম’ পাঠিয়েছে, যাতে রণাঙ্গনের সামনের কাতারে প্রতিরোধ তৈরি করা যায়। যুক্তরাজ্য স্বল্পমাত্রার ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে ইউক্রেনকে। কিছু ন্যাটো দেশ, যেমন ডেনমার্ক, স্পেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস তাদের যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ পূর্ব ইউরোপে পাঠাচ্ছে সেখানকার প্রতিরক্ষাকে জোরালো করতে।

তবে জার্মানি ইউক্রেনের অনুরোধ সত্ত্বেও কোনো অস্ত্রশস্ত্র দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, কারণ দেশটির নীতিই হচ্ছে কোনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র না পাঠানো। পরিবর্তে জার্মানি মেডিক্যাল ত্রাণ সাহায্য পাঠাবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ অবশ্য উত্তেজনা প্রশমনের জন্য রাশিয়ার সাথে আলোচনা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো কী ব্যবস্থা নিতে পারে?

পশ্চিমা দেশগুলো মূলত মারাত্মক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাই বলছে, যদিও তারা খোলাখুলি স্পষ্ট করে বলছে না এই নিষেধাজ্ঞা ঠিক কেমন হবে।

যে একটি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে, সেটি হলো একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক বার্তা লেনদেন সার্ভিস ‘সুইফট’ থেকে রাশিয়াকে বাইরে রাখা। বিশ্বে ২০০’র বেশি দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো এটি ব্যবহার করে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, এটি একটি মারাত্মক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ফলে রাশিয়ার ব্যাংকগুলোর পক্ষে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক লেনদেন চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

২০১২ সালে এটি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এরকম নিষেধাজ্ঞায় উল্টো ফলও হতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মান ব্যাংকগুলোর খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে।

যুক্তরাষ্ট্র চাইলে রাশিয়াকে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। এর মানে দাঁড়াবে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য একেবারে সীমিত হয়ে পড়বে। এর বিরাট প্রভাব পড়তে পারে রুশ অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক ঋণ বাজার থেকে যাতে রাশিয়া ঋণ করতে না পারে, সেরকম নিষেধাজ্ঞাও দিতে পারে।

নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতে পারে প্রেসিডেন্ট পুতিন ও তার ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে।

পশ্চিম ইউরোপে রাশিয়া যে জ্বালানি বিক্রি করে, সেটি বন্ধ করার কথাও আলোচনায় আসছে। কিন্তু এর কোনো বিকল্প এখন পর্যন্ত জার্মানি বা অন্য দেশগুলোর নেই।

তবে পশ্চিমা দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেই আসলে মতবিরোধ রয়েছে যে তারা রাশিয়াকে শাস্তি দিতে কতদূর পর্যন্ত যাবে।

সূত্র : বিবিসি


হন্ডুরাসের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছেন জিওমারা কাস্ত্রো। রাজধানী তেগুসিগাল্পার জাতীয় স্টেডিয়ামে হাজার হাজার মানুষ হাতে পতাকা নিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের সাক্ষী হন।

সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করা ক্যাস্ত্রো শিগগিরই একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে—বেকারত্বের উচ্চ হার, চলমান সহিংসতা, দুর্নীতি এবং সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষা ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা। এর পাশাপাশি হন্ডুরানদের জীবন মান আরও উন্নত করতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপও রয়েছে। মেক্সিকো হয়ে উত্তরে দীর্ঘ স্থলভূমির পথে হন্ডুরাসবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার ইচ্ছা রোধ করতে এমন চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্য আমেরিকার দেশ হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের মূল কারণগুলো সমাধান করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে দায়িত্ব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কমলা হ্যারিস ক্যাস্ট্রোর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এবং ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে তাঁর দেখা করার কথা রয়েছে।

ক্যাস্ত্রো বলেছেন, তিনি হন্ডুরাসে দুর্নীতিবিরোধী একটি মিশন স্থাপনের জন্য জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র মধ্য আমেরিকা অঞ্চলে মিত্র পাওয়ার চেষ্টায় ক্যাস্ত্রোকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছে।

উত্তর কোরিয়া সন্দেহভাজন দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।


দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইয়নহাপ নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানায় আলজাজিরা।

বৃহস্পতিবার সিউল বলেছে, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া স্বল্প পাল্লার দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাগরে পড়েছে।


দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী বলছে, চলতি বছরের মধ্যে এটি ষষ্ঠবারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা।


এর আগে মঙ্গলবার দুটি সন্দেহভাজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল পিয়ংইয়ং। যদিও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রে দেশটির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।


দেশটি এ ছাড়াও ১৪ ও ১৭ জানুয়ারিতে সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫ ও ১১ জানুয়ারি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’ প্রতিরোধে উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি অস্ত্র পরীক্ষা এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম বাড়িয়েছে।


জেসিএস বলছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ও ৮টা ৫ মিনিটের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়ার শহর হামহুং ও কাছাকাছি জায়গা থেকে ছোড়া হয়। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ২০ কিলোমিটার উচ্চতায় ১৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে।


জেসিএস ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানায়, আরও তথ্যের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে দেখছে।


উত্তর কোরিয়া চলতি মাসে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, নিষিদ্ধ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘হাইপারসনিক’ অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এ ছাড়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা অস্ত্র সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি।


ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনাও থমকে আছে ২০১৯ সাল থেকে। 


সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘের রেজ্যুলেশন অমান্য করে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোয় উত্তর কোরিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিতে নিরাপত্তার পরিষদকে চাপ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এতে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয় পিয়ংইয়ং।


বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের পুরনো টেকনিকে ফিরেছেন কিম জং উন।


রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালালে ‘ব্যক্তি ভ্লাদিমির পুতিনের’ বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ হুশিয়ারি দেন। খবর আলজাজিরা ও বিবিসির।

বাইডেন বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা বিশ্বের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় বয়ে আনবে। ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা চালালে তা হবে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ স্থল আগ্রাসন। 

এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তুত রাখতে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন।

মঙ্গলবার পার্লামেন্টে তিনি বলেন, আমাদের কাছে নিষেধাজ্ঞার একটি কঠিন প্যাকেজ রয়েছে। আমরা দেখতে চাই আমাদের ইউরোপীয় বন্ধুরা সেই প্যাকেজটি মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। 


তিনি বলেন, যদি রাশিয়ার দ্বারা ইউক্রেনে কোনো হামলা বা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে, তবে সঙ্গে সঙ্গে সেই নিষেধাজ্ঞার কঠিন প্যাকেজ রাশিয়ার ওপর আরোপ করা হবে। 

ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও মস্কো এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে এসেছে। তবে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো দাবি করছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাতে চান।

রাশিয়া বলছে, পূর্বদিকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর বিস্তার দেশটির জন্য হুমকি। ইউক্রেনকে যাতে ন্যাটো জোটের অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, সে জন্য পাশ্চাত্যের কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও চেয়েছে মস্কো। কিন্তু ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো সাড়া না পেয়ে ইউক্রেন সীমান্তে লাখখানেক সৈন্য মোতায়েন করেছে রাশিয়া।


ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাতে যাচ্ছে বলে যেসব গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে তার সবগুলোই অস্পষ্ট। তিনি এ দাবিও করেছেন যে, রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।


ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার এক লাখের বেশি সেনা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও মস্কো এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে এসেছে।
ইউক্রেনে সম্ভাব্য রুশ আক্রমণের জবাবে ইউক্রেনীয়দের প্রশিক্ষণ দিতে সেখানে গত সপ্তাহে উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রসহ সেনাদল পাঠিয়েছে ব্রিটেন। রুশ-ইউক্রেন উত্তেজনা নিয়ে সম্ভাব্য সঙ্কট এড়াতে গত সপ্তাহের মঙ্গলবার ব্রিটেনের একটি সি-১৭ বিমান ইউক্রেনে পৌঁছেছে।

এছাড়া, ব্রিটিশ উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস হিপি বলেছেন, তার দেশ ইউক্রেনে ট্যাংক-বিধ্বংসী কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে।


আমেরিকাসহ ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো অভিযোগ করছে, ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্রের মতো ইউক্রেনকেও দখল করতে চায় রাশিয়া। তবে মস্কো এখন পর্যন্ত বলে এসেছে, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর অভিপ্রায় তার নেই। রাশিয়া অবশ্য পূর্বদিকে ন্যাটো জোটের বিস্তারের ঘোর বিরোধিতা করে এসেছে।

একইসাথে উত্তেজনা কমানোর জন্য ন্যাটো জোটের কাছে রাশিয়া এই জোট আর পূর্বদিকে এগোবে না বলে এই গ্যারান্টি চেয়েছে। তবে এরকম কোনো নিশ্চয়তা দিতে অস্বীকার করেছে পশ্চিমা দেশগুলো।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবার সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। সোমবার থেকে ব্রিটেনও কিয়েভ থেকে নিজের দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে।



বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট রোচ মার্ক ক্রিশ্চিয়ান কাবোরে একটি সেনা ক্যাম্পে বিদ্রোহী সেনাদের হাতে আটক হয়েছেন। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দুই কর্মকর্তা এবং পশ্চিম আফ্রিকার একজন কূটনীতিকের বরাতে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

যদিও সরকার জানিয়েছে, কোনো সেনা অভ্যুত্থান হয়নি। 

কিন্তু রোববার রাতে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে প্রবল গুলি শব্দ শোনা গেছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, যখন এই লড়াই চলছিল, তখন একটি হেলিকপ্টার আলো বন্ধ করে উড়ে গেছে।

রোববার সকালে বুরকিনা ফাসোতে একাধিক সেনা শিবিরে গুলির শব্দ শোনা যায়। তার মধ্যে রাজধানীর দুইটি সেনাশিবিরও আছে।

বিদ্রোহী সেনারা একটি শিবিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এখানেই সেনাপ্রধানের বাড়ি ও কারাগার আছে। ওই কারাগারে ২০১৫ সালের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত সেনাদের রাখা হয়েছে।

গুলির শব্দ থেকেই আতঙ্ক দেখা দেয়। আবার অভ্যুত্থানের চেষ্টা নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। 

সরকার জানিয়েছে, রোববার ভোরে গুলি চলেছে। কিন্তু সেনা অভ্যুত্থানের খবর তারা অস্বীকার করেছে। সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট থেকে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, সেনা শাসনভার দখল করে নিয়েছে। কিন্তু সেরকম কিছু হয়নি। সকলে যেন শান্ত থাকেন।

সম্প্রতি পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে জঙ্গিরা কিছুদিন পরপরই বেসামরিক ও সেনাদের হত্যা করছিল। এতে দেশজুড়ে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। এসব জঙ্গিদের কোনো কোনো অংশের সঙ্গে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল কায়েদার সম্পর্ক আছে।

ক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারীরা রোববার রাস্তায় বের হয়ে এসে বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থন জানায়। তারা প্রেসিডেন্ট কাবোরের রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা চালায়। সরকার পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সময় ভোররাত ২টা থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করে দুই দিনের জন্য সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে।


ইউক্রেনে বড় ধরনের সংঘাতের সুযোগ প্রশমন করতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ‘খোলামেলা’ আলোচনা করেছে। শুক্রবার জেনেভায় রুশ ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে দুই মন্ত্রীই ‘খোলামেলা’ আলোচনার কথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।


রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইউক্রেন সীমান্তে রুশ বাহিনীকে ইউক্রেন দখলে কাজে লাগানোর কথা অস্বীকার করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, যে কোনও আক্রমণের ভয়াবহ পাল্টা জবাব দেবে।

আট বছর আগে তীব্র যুদ্ধের পর ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিরাট অংশ রাশিয়াপন্থী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভঙ্গুর শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের আগে এই সংঘাতে প্রায় ১৪ হাজার মানুষের মৃত্যু ও অন্তত ২০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালন।


রাশিয়ার সামরিক বাহিনী কোনও পদক্ষেপ নিলে যু্ক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মিত্ররা নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে লিখিতভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারে ওয়াশিংটন। এরপর বিস্তারিত আলোচনা হবে।  

শুক্রবারের জরুরি আলোচনাকে ‘খোলামেলা ও বাস্তব’ বলে উল্লেখ করেছেন ব্লিনকেন। আর ল্যাভরভও বলেছেন, অর্থপূর্ণ সংলাপ হয়েছে।


ইউক্রেন সীমান্তের কাছে প্রায় ১ লাখ সেনা মোতায়েন করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমাদের কাছে রাশিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে একগুচ্ছ দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনকে ন্যাটো জোটে অন্তর্ভুক্ত না করা। তিনি চান, পশ্চিমা প্রতিরক্ষা জোট পূর্ব ইউরোপে সামরিক অনুশীলন ও সেনা পাঠানো বন্ধ করুক। এটিকে রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন তিনি।


রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি উত্তেজনা কমবে।


ব্লিনকেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেছেন, ইউক্রেন দখল করলে ঐক্যবদ্ধ, দ্রুত ও গুরুতর পাল্টা পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে রাশিয়াকে।


ঘুমের মধ্যেই মারা গেছেন ‘দ্য টাইম মেশিন’ সিনেমার নায়িকা ইভাট মিমি। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) লস অ্যাঞ্জেলেসের বেল এয়ারের নিজ বাড়িতে ঘুমের ভেতরে মারা যান তিনি।

মৃত্যুর সময় এই অভিনেত্রীর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। জানা যায়, বার্ধক্যের কারণে মারা গেছেন মিমি।

১৯৬৩ সালের ‘টয়েস ইন দ্য অ্যাটিক’ সিনেমায় নববধূর চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান মিমি। মাত্র ২১ বছর বয়স পার হওয়ার আগেই ৮সিনেমায় অভিনয় করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।  

১৯৬৪ সালে ‘ড. কিলডেয়ার’ সিনেমায় অভিনয় করেন মিমি। ১৯৬৫ সালে ‘জয় ইন দ্য মর্নিং’ সিনেমাতেও দেখা যায় তাকে। এছাড়া ‘দ্য মোস্ট ডেডলি গেম’ সিরিজে অভিনয়ের জন্য তিনবার গোল্ডেন গ্লোবের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি।  

মিমির অন্যান্য বিখ্যাত সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘হোয়ার দ্য বয়েজ আর’, ‘লাইট ইন দ্য পিয়াৎজা’, ‘টয়েজ ইন দ্য অ্যাটিক’ এবং ‘ড. কিলডেয়ার’।


ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা চরমে। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা যেকোনো সময় হামলা করতে পারে রাশিয়া। এর মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের এক মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমায়ার জেলেনস্কি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি বাইডেন বলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে ‘ছোট আগ্রাসন’ করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের কাছ থেকে দুর্বল প্রতিক্রিয়া পাবে। এই বক্তব্যের পর এই টুইট বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘বিশ্বের বড় পরাশক্তিকে মনে করিয়ে দিতে চাই আগ্রাসনে ছোট-বড় বলে কিছু নেই। ছোট হতাহত বলেও কিছু নেই আর সামান্য লোভও একজনের স্বজন কেড়ে নেয়।’

সীমান্তে সেনা উপস্থিতি নিয়ে শুরু থেকেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে আসছে রাশিয়া। তাদের দাবি, ইউক্রেনে হামলা কিংবা আগ্রাসনের কোনো পরিকল্পনা নেই।


মার্কিন বিশ্লেষদের ধারণা, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে এক লাখ সেনা সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। যেকোনো সময় হতে পারে হামলা।

যার কারণে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়াকে হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন বাইডেন। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া যদি ইউক্রেন আক্রমণ করে তাহলে আপনারা সবাই দেখবেন যুক্তরাষ্ট্র কি করে। তাই বিষয়টি পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে রাশিয়ার পদক্ষেপের ওপর।’

আরও পড়ুন: ইউক্রেনে অভিযান চালালে তা রাশিয়ার জন্য বিপর্যয়কর হবে


পরিস্থিতি বেশি খারাপের দিকে গেলে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে এমন তথ্য জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও এর সঙ্গীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে দেশটিকে আলাদা করে দেবে।’

বাইডেন বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ইউক্রেনে হামলা হলে রাশিয়ার ওপর যেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে তাতে দেশটির ডলার লেনদেনে বড় আকারের ক্ষতি হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেইসঙ্গে ইউরোপের অর্থনীতিতেও। কিন্তু রাশিয়ার জন্য যা হবে তা হচ্ছে ‘বিপর্যয়’।


ফের সাড়ে তিন লাখের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল ভারতের দৈনিক কোভিড সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৪ জন। গত বছর প্রথম বার দৈনিক কোভিড আক্রান্ত সাড়ে তিন লাখ পার করেছিল। ওমিক্রনের ধাক্কায় প্রায় ৮ মাস পর ফের দৈনিক সংক্রমণ এই পর্যায়ে পৌঁছল। খবর আনন্দবাজারের।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৮৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৭ জন।

আক্রান্তের পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে বেড়েছে দৈনিক মৃত্যু এবং দৈনিক সংক্রমণের হার।


শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, সংক্রমণের হার পৌঁছেছে ১৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার তা ছিল ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মৃত্যু হয়েছে ৭০৩ জনের। বৃহস্পতিবার তা ছিল ৪৯১। তবে ৭০৩ জন মৃতের মধ্যে ৩৪১ জনই কেরালার। ভারতের বাকি সব রাজ্যেই তা ৫০-এর কমই রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, মহামারি পর্বে করোনাভাইরাস মোট প্রাণ কেড়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯৬ জনের।




ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্র, কেরালা এবং কর্নাটকে দৈনিক আক্রান্ত রয়েছে ৪৫ হাজারের বেশি। তামিলনাড়ুতে সাড়ে ২৮ হাজার এবং গুজরাতে তা প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার। উত্তরপ্রদেশ ১৮ হাজার ৪২৯ ও রাজস্থানে ১৪ হাজার ৭৯ জন। তবে দিল্লি (১২,৩০৬) এবং পশ্চিমবঙ্গে (১০,৯৫৯) এ বছরের শুরুর তুলনায় আক্রান্ত অনেকটা কমেছে। তবে অন্ধ্রপ্রদেশ (১২,৬১৫), হরিয়ানা (৯,৫৫৮), মধ্যপ্রদেশ (৯,৩৮৫), পঞ্জাব (৭,৮৬২), অসমে (৭,৯২৯) আক্রান্ত কমার লাখণ নেই। গত কয়েক দিনে তেলঙ্গানা, উত্তরাখণ্ড, জম্মু ও কাশ্মীর, গোয়া, মিজোরাম, ত্রিপুরা, হিমাচল প্রভারতেও দৈনিক আক্রান্ত বেড়েছে।



ভারতের বেঙ্গালুরুর আকাশে প্রায় মুখোমুখি চলে এসেছিল দুইটি যাত্রীবাহী প্লেন। কয়েক সেকেন্ড দেরি হলেই ঘটতে পারতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা। কিন্তু শেষ মুহূর্তের তৎপরতায় মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়। এতে রক্ষা পায় প্রায় ৪০০ প্রাণ।

গত ৯ জানুয়ারির এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগ উঠছে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) বিরুদ্ধে। দেশটির কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে তদন্তে শুরু করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)। যদিও বেঙ্গালুরুর বিমানবন্দরের লগবুকে বিষয়টি নথিভুক্ত নেই।

এদিকে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে মাঝ আকাশে দুই প্লেনের মুখোমুখি চলে আসার ঘটনা সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। যদিও ডিজিসিএয়ের প্রধান অরুণ কুমার সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিজিসিএ জানায়, মাঝ আকাশে মুখোমুখি চলে আসা দুইটি প্লেনই ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের। প্রথমটি, বেঙ্গালুরু-কলকাতা ৬-ই৪৫৫। দ্বিতীয়টি বেঙ্গালুরু-ভুবনেশ্বর ৬-ই২৪৬।


পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে প্লেন দুইটি বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, এটিসির ভুল নির্দেশের কারণেই প্লেন দুইটি একই উচ্চতায় চলে এসেছিল।

তাছাড়া কয়েকদিন আগেই দুবাই বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সময় ভারতগামী দুইটি প্লেনের মধ্যে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।


ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে উত্তএজনা এখন চরমে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা যেকোনো সময় দেশটিতে হামলা করতে পারে রাশিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামলা চালালে ‘বিপর্যয়’ দেখবে মস্কো। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য হিল।

বাইডেন বলেন, ‘রাশিয়া যদি ইউক্রেন আক্রমণ করে তাহলে আপনারা সবাই দেখবেন যুক্তরাষ্ট্র কি করে। তাই বিষয়টি পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে রাশিয়ার পদক্ষেপের ওপর।’

ক্ষমতায় আসার এক বছর পূর্তির প্রথম দিনে নিজের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন বলেন, ‘আমার ধারণা, পুতিন ইউক্রেনে হামলা চালাতে চান। যুক্তরাষ্ট্রকে পরীক্ষার জন্যও তিনি এমন করতে পারেন।’


পরিস্থিতি বেশি খারাপের দিকে গেলে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে এমন তথ্য জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও এর সঙ্গীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে দেশটিকে আলাদা করে দেবে।’

আরো পড়ুনঃ-যেকোনো মুহূর্তে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ

বাইডেন বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ইউক্রেনে হামলা হলে রাশিয়ার ওপর যেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে তাতে দেশটির ডলার লেনদেনে বড় আকারের ক্ষতি হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেইসঙ্গে ইউরোপের অর্থনীতিতেও। কিন্তু রাশিয়ার জন্য যা হবে তা হচ্ছে ‘বিপর্যয়’।

এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, ইউক্রেন সীমান্তে বাহিনীর গোছানোর কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। রুশ এই বাহিনী যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে ইউক্রেনে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ গোয়েন্দা সমীক্ষা যা মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলে এক লাখ ২৭ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছেন রাশিয়া।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, রাশিয়ান ফেডারেশন’স আর্মড ফোর্সেস–এর এক লাখ ছয় হাজার সেনাসহ বিমান ও নৌ–সেনা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ২৭ হাজার সদস্যের ওই বাহিনী প্রস্তুত করা হয়েছে।  

ওই সমীক্ষায় এই পরিস্থিতিকে 'কঠিন' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বলা হয়েছে, ইউক্রেন বিশ্বাস করে এই রণসজ্জার মধ্য দিয়ে রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভাঙন এবং ন্যাটোকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget