Articles by "আবহাওয়া"


দেশে তাপমাত্রা খুব একটা বাড়েনি। কিন্তু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ এখন আর নেই। আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা কিছু কিছু এলাকায় দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁর বদলগাছিতে ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গতকাল ছিল তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনায় গতকালের মতো আজও ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রয়েছে। 

এছাড়া আজ বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায় ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (গতকাল ছিল ১৩ দশমিক ৩), ময়মনসিংহে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২ দশমিক ৬), চট্টগ্রামে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৫ দশমিক ৫), সিলেটে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (গতকাল ছিল ১৩ দশমিক ৯), রাজশাহীতে ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯ দশমিক ৫), রংপুরে ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০ দশমিক ৬), বরিশালে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (গতকাল ছিল ১১ দশমিক ৬) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ শহীদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামীকাল (৭ জানুয়ারি) তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এছাড়া অনেক এলাকায় দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা পড়তে পারে।’

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।


গত দুই দিনের তুলনায় আজ মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে, কমে এসেছে শৈত্যপ্রবাহের এলাকা। আবহাওয়ার পূর্বাভাবে বলা হচ্ছে, দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে, আরও কিছুটা বাড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, আজ শৈত্যপ্রবাহ কমে আসতে পারে। দিনের তাপমাত্রা আরও কিছুটা বাড়বে। এতে করে শৈত্যপ্রবাহের এলাকা আরও কমে আসবে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকার বিরাজমান। সুস্পষ্ট লঘুচাপটি সুমাত্রা উপকূলের অদূরে দক্ষিণ আন্দামান সাগরে বিরাজ করছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সকালের দিকে দেশের কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। বর্তমানে পঞ্চগড়, যশোর, কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসমূহের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কমে আসতে পারে। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
 
আজ দেশের সবনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৮, যা গতকাল ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৭। এছাড়া এখনও আরও তিন জেলা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে আছে, গতকাল ছিল ৮ জেলায়। পঞ্চগড় ছাড়াও যশোরে ৯ দশমিক ৬ এবং চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।  

এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকায় ১৫, ময়মনসিংহে ১৩ দশমিক ৪, চট্টগ্রামে ১৬ দশমিক ৫, সিলেটে ১৪ দশমিক ৪, রাজশাহীতে ১১ দশমিক ৮,  রংপুরে ১২ দশমিক ২,  খুলনায় ১১ দশমিক ২ এবং বরিশালে ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। 

সাধারণত বড় এলাকাজুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে।


ফিলিপিন্সের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে সুপার টাইফুন রাইয়ের তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার দেশটির পুলিশ একথা জানিয়েছে। স্থানীয় পুলিশের তথ্যানুযায়ী, অন্যতম প্রাণঘাতী এ টাইফুনে অন্তত ৫০০ জন আহত হয়েছে এবং এখনও ৫৬ জন নিখোঁজ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৯৫ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে সাগর থেকে দ্বীপপুঞ্জটির স্থলভাগে উঠে আসে রাই। এর তাণ্ডবে অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অন্তত ৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ লাইনগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

পুলিশের মুখপাত্র রডেরিক আলবা জানান, দুর্যোগ কবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ তৎপরতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ মৃত্যুর যে সংখ্যা উল্লেখ করেছে তা দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার রেকর্ডকৃত ৫৮ মৃত্যু থেকে অনেক বেশি। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে আসা প্রতিবেদনগুলো যাচাই করে দেখছে।

পুলিশ যাদের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে তাদের অর্ধেকেরও বেশি বোহোল প্রদেশের ভিসাইয়াস এলাকার। ফিলিপিন্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনেকগুলো পর্যটন গন্তব্যের অবস্থান এই প্রদেশটিতে।

রোববার বোহোলের গভর্নর আর্থার ইয়াপ তার প্রদেশে প্রাথমিকভাবে ৭৪ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন। স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা এসব মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


ত্রাণ তৎপরতা জোরদার হলেও যোগাযোগ ও বৈদ্যুতিক লাইনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঝড়ে বিধ্বস্ত অনেক এলাকার টেলি যোগাযোগ ও বৈদ্যুতিক লাইন মেরামত এখনও বাকি আছে।

রোববার টাইফুন রাই ফিলিপিন্স দ্বীপপুঞ্জ ছেড়ে দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে এগিয়ে গেছে। যাওয়ার আগে সেবু, লেইতে, সুরিগাও দেল নর্তে, সিয়ারগাও ও দিনাগাত প্রদেশে ব্যাপক ধ্বংসের একটি পথরেখা রচনা করে গেছে আর প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে গৃহহীন করেছে।

ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দুর্যোগ কবলিত এলাকাগুলোর জন্য ৪ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ছাড় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতার্তে। 

ফিলিপিন্সে প্রায়ই শক্তিশালী ঝড় হয় । বছরে গড়ে ২০ টি ঝড় আঘাত হানে এ দেশটিতে। চলতি বছর দ্বীপপুঞ্জটিতে আঘাত হানা ১৫তম টাইফুন রাই।

গতবছরের নভেম্বরে সুপার টাইফুন গনিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং প্রাণহানি দেখেছিল ফিলিপিন্স। ২০১৩ সালে টাইফুন হাইয়ানে নিহত হয়েছিল ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ।


ফিলিপাইনে এই বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুনে অন্তত ২০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সরকারী হিসাবে এ কথা বলা হয়। কর্তৃপক্ষ বিধ্বস্ত দ্বীপগুলোতে পানি ও খাদ্য পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে আঘাত হানা শক্তিশালী টাইফুন রাই’কে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী টাইফুনগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।  টাইফুনের কারণে দ্বীপ দেশটির সমুদ্র সৈকত এলাকার ৩ লাখের বেশী মানুষ তাদের বাড়িঘর ও রিসোর্ট ছেড়ে পালিয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের অনেক এলাকা যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বিবিসি জানায়, টাইফুনের আঘাতের পর কিছু কিছু এলাকায় ভূমিধস এবং প্রচণ্ড বন্যা দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় অনেক এলাকার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনও জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির সেই তথ্য এলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন আর্থার।

সোমবার পুলিশের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে গত শুক্রবার শক্তিশালী টাইফুন রাই আঘাত হানার পর এখন পর্যন্ত ২০৮ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া টাইফুনে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৩৯ জন এবং এখন পর্যন্ত ৫২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।



দেশে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমছে। আজ রবিবার আরও কমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামতে পারে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, এমনটাই আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাধারণত বড় কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামলে এবং ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। এ ছাড়া ৬ থেকে ৮ ডিগ্রিতে নেমে এলে তা মাঝারি আকারের এবং তারও নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে পরিণত হয়। সে হিসাবে উত্তরের প্রবেশদ্বার তেঁতুলিয়ায় এরই মধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। গতকাল শনিবার পঞ্চগড়ের ওই উপজেলায় ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস জানান, রবিবার রাতে তাপমাত্রা অনেক কমে যাবে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এ অবস্থা বিরাজ করতে পারে। বুধবার থেকে দিনের তাপমাত্রা ফের কিছুটা বাড়তে পারে। এদিকে আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে দেশের দক্ষিণ ও উত্তরপূর্বাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং অবশিষ্টাংশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ, যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে এটি বাংলাদেশ উপকূলে আসার সম্ভাবনা কম। এ ছাড়া চলতি মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে। তবে এ মাসে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকই থাকবে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, ডিসেম্বরের শেষের দিকে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু অর্থাৎ ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অথবা মাঝারি অর্থাৎ ৮ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া দেশের নদী অববাহিকায় ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা বা মাঝারি ধরনের কুয়াশায় পড়তে পারে। দেশে গতকাল শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া ঢাকায় ১৬ দশমিক ১, ময়মনসিংহে ১২ দশমিক ৬, চট্টগ্রামে ১৬, সিলেটে ১৪ দশমিক ৪, রাজশাহীতে ১১ দশমিক ৪, রংপুরে ১২ দশমিক ৬, খুলনায় ১৩ দশমিক ৪ ও বরিশালে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।


প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিলিপাইনে টাইফুন রাইয়ের আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫। রোববার দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রে এই খবর জানা যায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে আঘাত হানে টাইফুন রাই। টাইফুন থেকে বাঁচতে তিন লাখের বেশি লোক উপকূলে তাদের বাড়িঘর ও পর্যটন রিসোর্ট ছেড়ে যায়। রাইয়ের আঘাতে ফিলিপাইনের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চল সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।

টাইফুনে বিভিন্ন স্থানের যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায়, সংশ্লিষ্ট এলাকার খবর জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফিলিপাইনের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য বহল প্রদেশের গভর্নর আর্থার ইয়াপ এক ফেসবুক বার্তায় জানিয়েছেন, টাইফুনে তার প্রদেশে ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরো ১০ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন এবং ১৩ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যোগাযোগব্যবস্থা এখনো প্রায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ৪৮ শহরের মধ্যে মাত্র ২১টির মেয়র আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন।’

তিনি আশঙ্কা করেন, ঝড়ে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।


এদিকে দুর্গত অঞ্চলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য ইতোমধ্যেই হাজার হাজার সামরিক বাহিনী সদস্য, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও দমকলকর্মীদের নিযুক্ত করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের পরিবহনমন্ত্রী আর্থার টুগাদে রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতার্তে ইতোমধ্যেই দুর্গতদের সরাসরি প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘নিশ্চিত থাকুন, আমরা সাহায্য নিয়ে আসবো।’

সারাবছরই সামুদ্রিক ঝড় টাইফুনের কবলে পড়ে ফিলিপাইন। প্রতি বছরই গড়ে ২০টি টাইফুন আঘাত হানে দেশটিতে। বিশেষ করে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে বর্ষার সময়ই বেশিরভাগ টাইফুন আঘাত হানে।

সাম্প্রতিকতম সময়ে ২০১৩ সালের নভেম্বরে এক টাইফুনে বিপুল প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে। টাইফুন হাইইয়ান নামে পরিচিত এই ঝড়ে সাত হাজার তিন শ’র বেশি লোক প্রাণ হারায় বা নিখোঁজ হয়।

সূত্র : আলজাজিরা


ফিলিপাইনে সুপার টাইফুন ‘রাই’-র আঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো চলছে উদ্ধার কাজ।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) ফিলিপাইনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানে সুপার টাইফুন রাই। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের পর অঞ্চলটিতে বহু গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে বহু গ্রাম। বাড়িঘর ও সৈকতের রিসোর্টগুলো থেকে তিন লাখের বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সুপার টাইফুন রাই ফিলিপাইনের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ সিয়ারগাওয়ের স্থলভাগে আছড়ে পড়ে। এসময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৭৫ কিলোমিটার। দ্বীপটির কিছু অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফ্লাইট চলাচল ও বন্দরগুলো আপাতত বন্দ রাখা হয়েছে।

jagonews24

ফিলিপাইনের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা এনডিআরআরএমসির মুখপাত্র মার্ক টিমবাল এএফপিকে জানিয়েছেন, দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখনো উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন দেশটির সামরিক বাহিনী, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। প্রায় ১৮ হাজার সংশ্লিষ্ট সদস্য উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন।

এর আগে এনডিআরআরএমসি ঘূর্ণিঝড় রাইয়ের কারণে দেশটির আটটি অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে। এই অঞ্চলগুলোতে বসবাস করেন তিন কোটির বেশি মানুষ।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য রেড ক্রসের স্থানীয় প্রধান আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে গত এক দশকে ডিসেম্বর মাসে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর মধ্যে এটি একটি। এদিকে, জাতিসংঘ জানিয়েছে সুপার টাইফুনের প্রভাবে এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও ফিলিপাইনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

সূত্র: এএফপি, আল-জাজিরা


সুপার টাইফুন ‘রাই’ এর আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফিলিপাইনে। সেন্ট্রাল ফিলিপাইনের অনেক বাড়ি-ঘরের ছাদ এবং গাছ উপড়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বহু মানুষ। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, চলতি বছরের মধ্যে এটিই সবেচেয় বড় ঘূর্ণিঝড়। শুক্রবার নেগ্রোস অক্সিডেন্টাল প্রদেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাদেশিক গর্ভনর জানান, টাইফুনের আঘাতে স্থানীয় একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্তের খবর পাওয়া গেছে।

ভারী বর্ষণে দক্ষিণাঞ্চলের কাবানকালান শহরে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। ইলগ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচু এলাকায় বসবাসরত মানুষ হুমকির মুখে।

ভিসায়েস শহরের মেয়র জেরি ট্রেনাস বলেন, 'আমার জীবনে এমন ঝড়ো বাতাস দেখিনি। ঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়'।

গত বৃহস্পতিবার ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার গতিবেগে সেন্ট্রাল সিয়ারগাও দ্বীপে আঘাত হানে ঝড়টি। ফরাসি নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বৃহস্পতিবার ৩ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হন। এখনও ১৮ হাজারের বেশি মানুষ ঘরে ফিরতে পারেনি। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে জরুরি বিভাগের কর্মীরা। তবে আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়া উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

২০১৩ সালে দেশটিতে সুপার টাইফুন হাইয়ানের আঘাতে ৭ হাজার তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে অথবা নিখোঁজ।

সূত্র: আল-জাজিরা


প্রবল শক্তি নিয়ে ফিলিপাইনে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন ‘রাই’। ঘূর্ণিঝড়টি দেশটির উপকূলের কাছাকাছি চলে আসায় বহু লোককে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস, ঝড়ো বাতাস এবং ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এটি আরও শক্তি সঞ্চার করে সুপার টাইফুনে রূপ নিতে পারে।

বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা এবং সংযুক্ত কেন্দ্রীয় অংশে আঘাত হানবে ‘রাই’। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ ২০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি দেখে বোঝাই যাচ্ছে উপকূলীয় এলাকায় এটি ব্যাপক তাণ্ডব চালাবে। ভারী বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে। নাবিক ও মৎস্যজীবীদের বন্দরে অথবা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসার নির্দেশনা দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। ঘূর্ণিঝড় রাই সব ধরনের জাহাজের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ বলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

rai

এদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর জয়েন্ট টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্র ইতোমধ্যে ‘রাই’-কে সুপার টাইফুন ঘোষণা করেছে। হতাহত এড়াতে ভিসায়েসের ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের আরও ১৭ হাজার লোককে উদ্ধার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বহু মানুষ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েছে দেশটির সরকার।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে দেশটির ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়।


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে টর্নেডোর দাপটে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও প্রচুর। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

এই টর্নেডোকে ইতিহাসের অন্যতম ভয়ঙ্কর ঝড় বলে বর্ণনা করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়া বলেছেন, বেঁচে থাকা লোকদের খুঁজে পাওয়ার আশা কমে গেছে। জানা গিয়েছে, কেন্টাকি সহ আরও একাধিক স্থানে শুক্রবার রাতে এই ঝড় আঘাত হানে প্রভাব বিস্তার করেছিল এই টর্নেডো। এই জায়গাগুলো হলো আরাকানসাস, ইলিনয়েস, টেনিসি ও মিসৌরি। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেন্টাকি।

কেন্টাকির গভর্নর জানিয়েছেন, এই ধরনের ভয়বহ টর্নেডো অতীতে কখনও তারা দেখেননি। তিনি জানিয়েছেন, টর্নেডোর ফলে একটি মোমবাতি তৈরির কারখানার ছাদ ভেঙে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। প্রায় ১১০ জন মানুষ ওই কারখানার মধ্যে ছিল।

উত্তর আরকানসাসে একটি নার্সিং হোমের ছাদ ভেঙে পড়ে বহু মানুষ আহত হয়েছে। এমনকী, কয়েকজনের মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইলিনয়ে ই-কমার্স সংস্থা অ্যামাজনের কারখানায় মৃত্যু হয়েছে ৬ জন শ্রমিকের। এই ঘটনায় শোকজ্ঞপন করেছেন অ্যামাজন প্রধান জেফ বেজোস।

শক্তিশালী সিরিজ টর্নেডোর আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিসহ ৬ অঙ্গরাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ জনে।

এ সংখ্যা শতাধিক ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে অ্যামাজনের ওয়্যারহাউস ভবন ধসের ঘটনায় এখনো অনেকে আটকা আছেন। তাদের উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। টর্নেডোর ঘটনায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। এদিকে, দুর্যোগ কবলিতদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
 

ভয়াবহ সিরিজ টর্নেডোর আঘাতে লণ্ডভণ্ড কেন্টাকির মেফিল্ড। যেদিকে চোখ যায় কেবল ধ্বংস্তূপের চিহ্ন। বাড়িঘরের ছাদ উড়িয়ে নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কলকারখানার ভবন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে কেন্টাকির ইতিহাসের শক্তিশালী টর্নেডো। মেফিল্ডের ধসে যাওয়া মোমবাতি কারখানায় এখনো অনেকে আটকা রয়েছেন। টর্নেডোর সময় কারখানাতে শতাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন।
ভয়াবহ টর্নেডোর আঘাতে এত মৃত্যু খুব কমই দেখেছে ইলিনয়বাসী। বিভিন্ন স্থাপনা ধসের ঘটনায় এখনো অনেকে আটকা থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেন্টাকিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে অন্তত চারটি টর্নেডো আঘাত হানে। কোনো কোনোটির গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ৩শ' ২২ কিলোমিটার।
 
কেন্টাকির পাশাপাশি ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও তাণ্ডব চালিয়েছে আকস্মিক টর্নেডো। অঙ্গরাজ্যটিতে মাল্টিন্যাশনলা টেক প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের ওয়্যারহাউস ভবন ধসে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
 
কেন্টাকি ও ইলিনয়ের আকস্মিক এই বিপর্যয়কে অকল্পনীয় ও দুঃখজনক আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
 
এদিকে, মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে কেন্টাকি, ইলিনয়ের পাশাপাশি টেনেসি, মিসৌরি ও আরকানাসে সব মিলিয়ে মোট ৩৬টি টর্নেডো আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এসব অঙ্গরাজ্যে কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি রাজ্যে ধ্বংসাত্মক কয়েকটি টর্নেডোর আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কেনটাকিতে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শনিবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই রাজ্যটিতে টর্নেডো ২০০ মাইলেও বেশি বিস্তৃত একটি গমনপথ ধরে ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু ধ্বংস করে রেখে গেছে।

কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার জানান, শুক্রবার রাতে অন্তত চারটি টর্নেডো কেনটাকির বিভিন্ন অংশে তাণ্ডব চালায়, এতে এক ডজনেরও বেশি কাউন্টিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রাথমিক টর্নেডোটি রাজ্যটির ভেতর দিয়ে ২২৭ মাইলেরও (৩৬৫ কিলোমিটার) বেশি পথ অতিক্রম করেছে।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।  

“যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তেমনটি কখনো দেখিনি আমি। ৫০ জনেরও বেশি কেনটাকিয়ানসকে আমরা হারিয়েছে এটি আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত। আমি এখন এটি নিশ্চিত এই সংখ্যাটি ৭০ জনেরও বেশি। দিন শেষ হওয়ার আগে এটি একশও ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

বেশিয়ার জানান, জরুরি উদ্ধারকাজে সহায়তা করার জন্য ১৮৯ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে।  

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কেনটাকির পশ্চিমাংশের মেফিল্ড শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ হাজার বাসিন্দার ছোট এই শহরটিতে কেনটাকি প্রতিবেশী রাজ্য ইলিনয়, মিজৌরি ও আরকানসয়ের সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

বেশিয়ার জানান, টর্নেডো এই এলাকার একটি মোমবাতি কারখানাকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে গেছে, ওই সময় সেখানে প্রায় ১১০ জনের মতো ছিল; কারখানাটির ছাদ ভেঙে পড়ে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

কারখানাটির ভেতরে থাকা কিয়ানা পারসন্স পেরেজ জানান, শ্রমিকরা বাতাসের শব্দ পায় ও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই এর উপস্থিতি অনুভব করে তখন বিদ্যুৎ চমকও শুরু হয়, এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাদ ধসে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, মেফিল্ডের কেন্দ্রস্থলের পাকা ভবনগুলো ভেঙে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, কাছে পার্ক করা গাড়িগুলো ইট ও ধ্বংসাবশেষের নিচে প্রায় চাপা পড়ে আছে।  

টুইটারে আসা ছবিতে দেখা গেছে, মেফিল্ডের গ্রেভস কাউন্টির আদালত ভবনের ছাদ ভেঙে পড়েছে।


বেশিয়ার জানিয়েছেন, শনিবার ভোররাতে কেনটাকির ৫৬ হাজারেরও বেশি লোক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিল। রাজ্যটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন তিনি।

রাতে ধারাবাহিক কয়েকটি বজ্রঝড় থেকে টর্নেডোগুলির উৎপত্তি হয়। এরমধ্যে আরকানসর উত্তরাঞ্চলে উৎপত্তি হওয়া একটি ‘সুপার সেল’ ঝড়ও ছিল। এই ঝড়টি আরকানস থেকে মিজৌরি, টেনেসি ও কেনটাকিতে প্রবেশ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের ঝড় পূর্বাভাস কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ রজার এডওয়ার্ড বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি এগিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকটি প্রাণঘাতী টর্নেডো সৃষ্টি করে। এদের মধ্যে একটি সম্ভবত অনেক দূর পর্যন্ত গিয়েছে। প্রাণঘাতী টর্নেডোটি এর অংশ ছিল।”    

ঝড় পূর্বাভাস কেন্দ্রের অপারেশন্স চিফ বিল বান্টিং জানিয়েছেন, অন্তত পাঁচটি রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা টর্নেডোর তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরকানসর স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যটির উত্তরাঞ্চলে মিজৌরির সীমান্তবর্তী মনেট এলাকায় টর্নেডোর আঘাতে একটি নার্সিং হোমের ছাদ চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে অন্তত একজন নিহত ও আরও পাঁচ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এর কয়েক মাইল দূরে রাজ্যটির লিচভেল এলাকায় একটি দোকান ধ্বংস হয়েছে ও একজন নিহত হয়েছেন।

ইলিনয়ের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে সেইন্ট লুয়িস শহরের কাছে এডওয়ার্ডসভিলের ওপর দিয়ে টর্নেডো ও প্রবল ঝড় বয়ে যাওয়ার সময় ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের একটি গুদামের ছাদ আংশিক ধসে পড়ে, এতে বহু লোক ভেতরে আটকা পড়েছেন।

টেনেসিতে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে অন্তত তিন জন নিহত হয়েছেন বলে রাজ্যটির ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির মুখপাত্র ডিন ফ্লেনার জানিয়েছেন।  

মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর ঝড়ের মধ্যে কেনটাকির পশ্চিমাঞ্চলে একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে, তবে হতাহতের কোনো খবর হয়নি। 

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের ঝড় পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ইলিনয়, কেনটাকি, টেনেসি, মিজৌরি, আরকানস ও মিসিসিপি থেকে টর্নেডো হওয়ার ৩৬টি প্রতিবেদন পেয়েছে তারা।

 


পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় 'জাওয়াদ' গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। রোববার এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি রোববার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটে সাগর উত্তাল রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে এবং বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।



ঘূর্ণিঝড় ‌‘জাওয়াদ’ এর প্রভাবে দেশের অনেক জায়গায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ ‍বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে ৩ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় একই এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’-এ পরিণত হয়েছিল। এরপর এটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ ৪ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‌‘জাওয়াদ’ এর প্রভাবে শনিবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বরিশাল ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সারাদিন মেঘলা রয়েছে আকাশ। তবে কোথাও কোথাও সূর্যের দেখা মিলেছে কিছু সময়ের জন্য।

আবাহাওয়াবিদরা বলছেন, এবারের নিম্নচাপের কারণে এই বৃষ্টির পর রাতের তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি কমতে পারে। অর্থাৎ রাতে শীত বাড়বে। কিন্তু দিনের তাপমাত্রা কমার লক্ষণ নেই। ১৫ ডিসেম্বরের পর শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে। 


পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরো উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় (১৪.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) ঘূর্ণিঝড় 'জাওয়াদ' এ পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এটি আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১১০৫ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৫৫ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯৫ কিমি দক্ষি-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৯০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, এটি আগামীকাল নাগাদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশ্যা উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি শেষ পর্যন্ত ওড়িশ্যা উপকূলে আঘাত করলে এর প্রভাবে বাংলাদেশের খুলনাসহ কিছু এলাকায় ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিপাত হতে পারে। এখন যে অবস্থায় আছে তাতে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কিছু দেখছি না। কিন্তু আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত মন্তব্য করা কঠিন। তাই আমরা সতর্কভাবেই পর্যবেক্ষণ করছি।' 

তবে ভারতীয় উপকূলে আঘাত করলেও বাংলাদেশে এর প্রভাবে অন্তত দু'দিন বৃষ্টিপাত কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে, ঘূর্নিঝড় জাওয়াদ নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে এটির নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ায় আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবহাওয়া দপ্তর সাইক্লোনের জন্য সতর্ক সংকেতও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এখন দুই নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্য বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিশাখাপত্তম থেকে ৭৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে নিম্নচাপটির সৃষ্টি হয়, যা এখন উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছে।

এটি আরও পরের দিকে ঘনীভূত হয়ে শুক্রবার সকাল নাগাদ বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমে এসে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এরপর এটি শেষপর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।


যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget