Articles by "খেলা"

 


কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়েন মেন্ডেজ

রাশিয়া বিশ্বকাপে উরুগুয়ের কাছে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল পর্তুগালকে। এবার সেই হারের মধুর প্রতিশোধ নিয়ে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে কাতার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করলো পর্তুগাল। এই হারের ফলে গ্রুপ পর্ব থেকে উরুগুয়ের বিদায় অনেকটাই নিশ্চিত। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস।

তবে পর্তুগাল-উরুগুয়ে ম্যাচের ৪০তম মিনিটে হুট করেই মাঠে শুয়ে কাতরাতে শুরু করেন পর্তুগালের ডিফেন্ডার নুনো মেন্ডেজ। তাতক্ষণিকভাবে খেলা বন্ধ রেখে মেডিকেল টিমকে মাঠে ডাকেন রেফারি। কিছুক্ষণ মাঠেই চলে চিকিৎসা। তবে এরপরেও খেলার জন্য প্রস্তুত হতে পারছিলেন না পিএসজি ডিফেন্ডার। তাই মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয় তাকে। 

নিজ দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্যই বিশেষ কিছু। আর সেটা যদি হয় বিশ্বকাপের মঞ্চে, তাহলে তো কথাই নেই; সবাই-ই চেষ্টা করে নিজের সেরাটা দেওয়ার। এ কারণেই হয়তো আবেগটা ধরে রাখতে পারলেন না নুনো মেন্ডেজ। বিশ্বকাপের মঞ্চে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কেঁদেই ফেললেন পিএসজির এ লেফট ব্যাক। 
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় চোট পেয়েছেন মেন্ডেজ। তবে পর্তুগাল দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি এখনো।

আরো পড়ুন:


 


কাতারে স্টেডিয়ামসহ বিশ্বকাপ-সংক্রান্ত কাজে কতজন অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে?

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ-২২ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অভিবাসী শ্রমিকদের শ্রমে এই বিশ্বকাপ আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, স্টেডিয়ামসহ বিশ্বকাপের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে অসংখ্য অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শ্রমিকদের অধিকার যেমন- যথাযথ বেতন প্রদান করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনের ‘মনুষ্য মূল্য’ (হিউম্যান কষ্ট) কী এ নিয়ে একটি বিশেষ সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান। যাতে অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যুসহ বিভিন্ন প্রশ্নের ব্যাখা দেওয়া হয়েছে। 

কাতারে অভিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা কত, তারা কোন দেশ থেকে এসেছেন?

এই প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, কাতারের মোট জনসংখ্যা ৩০ লাখ। এর মধ্যে শতকরা ৮৮ শতাংশই বিদেশি নাগরিক। দেশটিতে অভিবাসী শ্রমিকের আনুমানিক সংখ্যা ২০ লাখ। এটা কাতারের মোট কর্মশক্তির ৯৫ শতাংশ। গার্ডিয়ানের খবর অনুসারে, প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক কাতারের নির্মাণ কাজে জড়িত। বাকি ১০ লাখ গৃহকর্মী যার অধিকাংশই পুরুষ। এই শ্রমিকদের বড় অংশ ফিলিপাইন এবং দক্ষিণ এশীয় দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এবং বাংলাদেশের নাগরিক।

বিশ্বকাপ আয়োজনে মাঠসহ বিভিন্ন স্থাপনা/অবকাঠামো তৈরি  করতে গিয়ে আসলে কতজন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন? 

কাতার কর্তৃপক্ষ অফিশিয়ালি জানিয়েছে, সরাসরি বিশ্বকাপ সংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে মাত্র ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট নয় এমন ৩৭ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে অনেকের ধারণা, নিহত শ্রমিকের সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি। গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন। কারণ, তথ্য সহজলভ্য নয়। ফিফা এবং কাতারি সংস্থাগুলো বিশ্বকাপ সংক্রান্ত নির্মাণকাজ নিয়ে নিজেদের দূরে রেখেছে। তবে এটা ঠিক যে, কর্তৃপক্ষের আনুমানিক ১২ লাখ দর্শকের জন্য প্রস্তুত হওয়ার তাড়া ছিল।

গার্ডিয়ান বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সার্বিকভাবে ১৫ হাজার ২১ জন অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ২০২১ সালে গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, টুর্নামেন্টের স্বত্ব পাওয়ার পর ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার সাড়ে ৬ হাজারের অধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই শ্রমিকরা ঠিক কোন পেশায় ছিল এবং কোথায় কাজ করছিল সেটার তালিকা করা হয়নি। কাতার সরকার বলেছে, বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নির্মাণে ৩০ হাজার বিদেশি শ্রমিক নিযুক্ত ছিল। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংস্থা (আইএলও) এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২০ সালে ৫০ জন বিশ্বকাপ সংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে মারা গেছেন, গুরুতর আহত হন ৫০০ এবং সামান্য থেকে মধ্যম ধরনের আহত হন ৩৭ হাজার শ্রমিক। 

শ্রমিকরা কীভাবে মারা গেছে?

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাস কাতারে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অধিক তাপমাত্রা অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রধান কারণ, গ্রীষ্মকালীন তীব্র দাবদাহকে দায়ী করে কাতার। জাতিসংঘের শ্রমবিষয়ক আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহযোগিতায় গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে- দেশটিতে অভিবাসী শ্রমিকরা বাইরে কাজের সময় বছরের কমপক্ষে চার মাস তীব্র দাবদাহের মুখোমুখি হন বলে উঠে আসে। ২০১৪ সালে কাতার সরকারের নিজস্ব আইনজীবীরা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যে অভিবাসী শ্রমিকরা মারা যান, তাদেরকে নিয়ে গবেষণা এবং অপ্রত্যাশিত ও হঠাৎ মারা যাওয়া শ্রমিকদের ময়নাতদন্তের সুপারিশ করে দেশের বিদ্যমান আইনে সংশোধনের প্রস্তাব দেন। যদিও সরকার এখনও আইনজীবীদের এই পরামর্শ বাস্তবায়ন করেনি।

শ্রমিকদের নিয়ে কাতার কী পদক্ষে নিয়েছে ? 

বিগত পাঁচ বছরে কাতার শ্রমিক আইন সংশোধন করেছে। তবে সমালোচকেরা বলেছেন, শ্রমিকদের রক্ষায় এটা যথেষ্ট নয়। অ্যামনেন্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, কাতারের কর্তৃপক্ষ অনেক শ্রমিকের বেতন প্রদানে বিলম্ব করে, অনেক শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয় না, তাছাড়া রয়েছে অনিরাপদ কর্মপরিবেশ। কাতার অনেক শ্রমিকের মৃত্যুর তদন্ত না করে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে গণ্য করেছে।

ফুটবল কর্তৃপক্ষ  কী বলছে?

ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফানতিনো ফুটবল দলগুলোকে ফুটবল খেলায় মনোনিবেশ (ফোকাস) করার আহ্বান জানান। শ্রমিক সংক্রান্ত কাফালা সংস্কারে ফিফা কর্তৃপক্ষ নিজেদের ক্রেডিট দাবি করে। কাতারের সমালোচনা করাকে ‘পশ্চিমাদের ভণ্ডামি’ বলে মন্তব্য করেন ফিফা সভাপতি।












 


সৌদির কাছে হারলেই শেষ হয়ে যায় না আর্জেন্টিনা

সময়ের হিসাব মেলায় মহাকাল, ঘটনার ঘনঘটার এ বিশ্বে দুর্ঘটনাও ঘটছে অহরহ। আর চাকতির মতো ঘোরা বিশ্বে অঘটনও অস্বাভাবিক কিছু নয়। 

নিশ্চয়তা যেখানে বেশি, অনিশ্চয়তা সেখানে অনিবার্য পরিণতি নয় কি? আর সেই সময় স্রোতে আটকে গিয়ে আর কী বা করতে পারতেন ফুটবল গ্রহের কেন্দ্রবিন্দু লিওনেল মেসি।

টানা ৩৬ ম্যাচ জয়ের নিশ্চয়তা ছিল বলেও হয়তো এমন অনিশ্চয়তার রাহুগ্রাস। দিনেরও যেমন সন্ধ্যা হয়, নতুন শুরুর অপেক্ষায় নিতে হয় খানিক আঁধারে বিশ্রাম। মেসির আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও হয়তো ঘটেছে তাই। বিশ্রামের পরই হয়তো নতুন সূর্যের আলোভরা আকাশ নিয়ে মেসি পায়ের জাদুতে আঁকবেন নতুন ছবি, কাব্যসুধায় হৃদয় ভরাবেন ফুটবলের মহাকবি।
হারকে জয় করে কেমন করে বিজয়ের ধারায় ফিরতে হয়, লিওনেল মেসির চেয়ে সেটা আর কে বেশি জানে। ওই পায়ের স্রোতেই তো রোজ ফুটবল সুরধারা পুলকিত হয় নতুন গানে। তাই একটা হার দিয়েই কি মেসি কিংবা আর্জেন্টিনাকে এভাবে বিচার করা যায়? মোটেও নয়।

ফুটবলে কাননে মেসি, ম্যারাডোনা কিংবা আর্জেন্টিনা যে ফুল ফুটিয়েছেন যুগের পর যুগ, কালের পর কাল ধরে সে সৌরভ পাবেই মহাকাল। ততোদিন ম্যারাডোনা, মেসি থাকবেন; যতদিন থাকবে ফুটবল।

স্পেনের কোচ লুইস এনরিকে আসর শুরুর আগেই বলেছেন, মেসি যদি বিশ্বকাপ না জিতে অবসরে যান সে হবে বড্ড অন্যায়, ভীষণ অবিচার। তার মানে মেসি ফুটবলে এমন জায়গা জুড়ে আছেন, তার প্রতিপক্ষও বিনা শর্তে মানেন, তারা জানেন; মেসির কাছে নস্যি ওই সাড়ে ৩৬ ইঞ্চি ধাতুর ট্রফি বরং ট্রফির জীবনটাই বৃথা যাবে যদি তাকে না ছোঁয় সময়ের সেরা জাদুকর।

তাই ট্রল যারা করেন, মেসিকে হেয় করতে চান কথায় কথায়- তাদের ঠুনকো একটা খেলা নয়, মোহান্ধ সময় নয়, ফুটবলটাকে বোঝা বড্ড জরুরি। মেসির হালের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছে, সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি। এমন তিনি এটাও বলেছে, আমাকে বাদ দিলে মেসি সময়ের সেরা নিশ্চয়ই।

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি হয়তো সে বিচারেই বলেছে, বিশ্বকাপ জেতাই শেষ কথা নয়। বিশ্বকাপ জয় করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই; নেই কোনো নিয়মও। আর যারা ম্যারাডোনার হাতের গোল মানে হ্যান্ড অব গড নিয়ে সমালোচনা করেন, ট্রলে মজেন, তারা একই ম্যাচের গোল অব দ্য সেঞ্চুরির কথাও জানেন নিশ্চয়ই। আট জনকে পাশ কাটিয়ে দেওয়া ম্যারাডোনার সেই গোল এখনও ইতিহাসের অন্যতম সেরা।

তাই সৌদির কাছে একটা হারেই যারা আর্জেন্টিনা কিংবা মেসির শেষ দেখছেন, তাদের জানা জরুরি- খেলা এখনও শেষ হয়ে যায়নি, আসল চ্যাম্পিয়নরা জানেন কীভাবে ফিরে আসতে হয়, ঘুরে দাঁড়াতে হয় কেমন করে। মাঠের খেলায় আর্জেন্টিনা সৌদির বিপক্ষে কিন্তু দারুণ দাপটেই ছিল, মুহূর্ত কেবল তাদের দেয়নি সমথর্ন! মনে রাখা জরুরি, নস্যি মেঘের নিচে কখনো কখনো দস্যি-শক্তিমান সূর্য্যও ঢাকা পড়ে। সুতরাং এখনও শেষ হয়নি খেলা, বেলা আরও বাকি আছে....

আরো পড়ুন:


 


যে একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা-সৌদি

বিশ্বকাপে আজ মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। লুসাইল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ বলেই কাতার বিশ্বকাপে আগ্রহের কেন্দ্রে আর্জেন্টিনা। তাই গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচ জিতেই নকআউটের মহড়াটা ভালোভাবে সেরে রাখতে চাইবে লিওনেল স্কালোনির দল।

আর্জেন্টিনার কোচ নিজ দলকে সৌদির বিপক্ষে খেলাবে ৪-২-৩-১ ফরম্যাশনে। স্কালোনির দলে মূল গোলরক্ষক হিসেবে গোলপোস্টের দায়িত্ব সামলাবেন বাজপাখি খ্যাত এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

এই তারকা গোলরক্ষকের সামনে ডিফেন্সের দায়িত্ব সামলাবেন ওটামেন্ডি ও রোমেরো। লেফটব্যাকে থাকবেন তাগলিয়াফিকো, রাইটব্যাক হিসেবে আছেন নাহুয়েল মোলিনা। 

মিডফিল্ডকে শক্তিশালী করে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। যেখানে স্কালোনি খেলাবেন রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে। আক্রমণভাগ সামলানোর জন্য আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি বড় ভরসা রাখবেন মেসির উপরই। তাকে শুরুর একাদশে সঙ্গ দেবেন লাউতারো মার্টিনেজ এবং অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ইনজুরির জন্য বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া জিওভান্নি লো সেলসোর বদলে দলে এসেছেন আলেহান্দ্রো গোমেজ। 

এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের বিপক্ষে চার ম্যাচ খেলেছে দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তারা দুটিতে জিতেছে, ড্র হয়েছে দুটি ম্যাচ। সৌদি আরব কখনও আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারেনি।

এই ম্যাচে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে থেকে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে তারা আছে তৃতীয় স্থানে, বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিটও তারা। অন্যদিকে ৫৪তম স্থানে আছে সৌদি আরব। 

আর্জেন্টিনার একাদশ: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওটামেন্ডি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারদেস, আলেহান্দ্রো গোমেজ, লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া।

সৌদি আরবের একাদশ: আল-ওয়াইস, আব্দুল হামিদ, আল-তামবাক্তি, আল-বুলাইহি, আল-শাহরানী, কান্নো, আল-মালকি, আল-শেহরি, আল-ফারাজ, আল বুরাইকান, আল-দাওসারী।

আরো পড়ুন:


 '


সৌদির বিপক্ষে মাঠে নেমেই যে রেকর্ড গড়বেন মেসি

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই কাতারে পা রেখেছেন সাতবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। তবে তিনি কি পারবেন বিশ্বকাপ জিতে কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার পাশে বসতে? সেই পথ এখনও বেশ দূর। তবে সৌদি আরবের বিপক্ষে আজ (মঙ্গলবার) প্রথম ম্যাচে মাঠে নামতেই ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেলে নতুন এক রেকর্ড গড়া হয়ে যাবে মেসির এবং সেটা প্রথম আর্জেন্টাইন হিসেবে।

এবার নিয়ে পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলছেন মেসি। তিনিই আর্জেন্টিনা ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড়, যিনি পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। এর আগে ম্যারাডোনা আর হাভিয়ের মাচেরানো দেশের হয়ে ৪টি করে বিশ্বকাপ খেলেছেন।

৩৫ বছর বয়সী মেসির সম্ভবত এটাই শেষ বিশ্বকাপ। গত বছর তিনি আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতিয়েছেন।

আরো পড়ুন:


 


পুষে রাখা মনের আগুন নেভাতেই কি আজ মাঠে নামবে ইরান?

কাতার বিশ্বকাপ আসরের দ্বিতীয় খেলায় খলিফা ইন্টারন্যশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড ও ইরান। এর আগে কোনো টুর্নামেন্ট বা প্রীতি ম্যাচেই একে অপরের দেখা পায়নি তারা। এই ম্যাচেই ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল।

যদিও নানা ইস্যুতে বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে বাদ দিতে ফিফার কাছে আবেদন করেছিলো কয়েকটি দেশ, তার ভেতর ছিলো ইংল্যান্ডও। ইরানকে বয়কটের ডাক দেওয়া সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিশ্চয়ই আজ পুষে রাখা মনের আগুন নেভাতেই মাঠে নামবে কার্লোস কুইরোজের শিষ্যরা। 

প্রতিপক্ষ হিসেবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে সামনে পেয়ে আজ হয়তো রক্ষণটাকেই জমাট করতে চাইবে ইরান। ৪-১-৩-২ ফরমেশনে রক্ষণাত্মকভাবে খেলেই আক্রমণ শানাতে চাইবে মেহেদী তারেমি বা সরদার আজমাউনরা।
তবে দুই দলের শক্তি সামর্থ্য হিসেবে ইরানের থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। বর্তমান প্রজন্মের ক্লাব ফুটবলের বেশ কিছু তরুণ তারকা খেলোয়াড়সহ হ্যারি কেইনদের মতো অভিজ্ঞ তারকা সমৃদ্ধ ইংলিশরা এবার বিশ্বকাপে এসেছে শিরোপার দাবি নিয়েই। আজকের ম্যাচে ৪-৩-৩ ফরমেশনে ইংলিশদের আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার সম্ভাবনাই বেশি।

উল্লেখ্য, এশিয়ার অন্যতম সেরা হলেও ইউরোপীয়ান কোনো দলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত জয়হীন ইরান। ইউরোপীয়ানদের বিপক্ষে ৮ ম্যাচ খেলে হেরেছে ৬ টিই। 

আরো পড়ুন:


  



বিশ্বকাপ দেখতে গেলে মানতে হবে যেসব নিয়ম 

ভক্তদের জন্য কাতার বিশ্বকাপে হবে নতুন অভিজ্ঞতা। ফুটবল বিশ্বকাপের স্বাভাবিক সময় মে-জুন কিংবা জুলাইয়ের পরিবর্তে এবার হচ্ছে নভেম্বর-ডিসেম্বরে। আবার মাঠের মধ্যে ও বাহিরে মানতে হবে অজস্র নিয়ম। স্বাধীনচেতা ইউরোপীয়দের কাছে সেগুলো মেনে নেওয়া কঠিন।


স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যম মার্কা বলছে, অন্য বিশ্বকাপ থেকে এবারের অভিজ্ঞতা হবে ভিন্ন। আচরণের ক্ষেত্রে কাতার কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া কঠোর নিয়ম ভক্তদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষদের জন্য ভয়াবহ ব্যাপার। 

এদিকে দোহায় অবস্থিত জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা বিষয়ক হ্যান্ডবুক প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কাতারে অবস্থানের সময়ে অশ্লীল ভাষা বা অঙ্গভঙ্গি করা যাবে না। মাতাল হওয়া যাবে না। মার্জিত ব্যবহার করতে হবে।’ 

এ ছাড়াও অ্যালকোহল, পর্নোগ্রাফিক সামগ্রী এমনকি ধর্মীয় বই আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুকরের মাংস খাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। কেউ এগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। তাছাড়া মাদকের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কাতার। অবৈধভাবে কেউ মাদক পাচার বা বহন করলে জরিমানা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে সমকামিতার বিষয়েও সতর্ক বার্তা দিয়েছে দেশটি। বলা হয়েছে, ‘ভ্রমণকারীদের সমকামিতা এবং বিবাহ বহির্ভূত যৌনতার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। এগুলো এখানে নিষিদ্ধ এবং ফৌজদারি অপরাধ।’ এর বাইরে গাড়ি চালানোর সময়েও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। 

আগামীকাল ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে কাতার বিশ্বকাপের এই আসর। সেজন্য প্রস্তুত পাঁচ শহরের আট স্টেডিয়াম। এবারের আসরে ৩২ দলের অংশগ্রহণে সর্বমোট ম্যাচ হবে ৬৪টি। 

আরো পড়ুন:


 


কাতার বিশ্বকাপেই কি 'হেক্সা' অর্জন করতে যাচ্ছে ব্রাজিল ?

‘নেইমার পারেন চেষ্টা করলেই’, গেল দুই বিশ্বকাপ ধরে হৃদয় ভাঙ্গার পর নেইমারকে নিয়ে ব্রাজিলের সমর্থকদের মুখে এই একটা বাক্য অনেকবার শোনা গেছে।

কিন্তু নেইমার পারছেন না আসলে, ২০১৫-১৬ মৌসুমের পরে নেইমারকে ক্লাব ফুটবলেও সেরাদের কাতারে পারফর্ম করতে দেখা যায়নি তেমন।

তিনি ছিলেন 'ব্যালন ডি অর' প্রত্যাশীদের একজন। কিন্তু বারবারই হতাশ হয়েছেন।

ব্রাজিলের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের ১০ নম্বর জার্সি যার গায়ে থাকে তার প্রতি প্রত্যাশার ভারটাও একটু বেশি থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু গত দুই বিশ্বকাপে নেইমার এই প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তির মিলন ঘটাতে পারেননি।

নানা ধরনের বিতর্কে জড়ানো নেইমারের ক্যারিয়ারের নিয়মিত ঘটনা। তার সাথে যুক্ত হয়েছে মাঠে বড় মঞ্চে পারফর্ম না করতে পারা।

বাছাইপর্বে ১৬টি গোল করেছেন বটে কিন্তু দলটার নাম যখন ব্রাজিল তখন বাছাইপর্বের পারফরম্যান্স খুব কম সমর্থকই মনে রাখবেন, যদি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারেন।

মেসি-রোনালদোর সাথে নেইমারের নাম উচ্চারিত হয়, কিন্তু প্রতিদান তিনি দিয়েছেন কমই।কোচ তিতের অধীনে ব্রাজিল গত ২৯ ম্যাচে হারেনি, শেষ ১৭ ম্যাচের ১৩টিতে কোন গোলও হজম করেনি।একই সাথে এই ২৯ ম্যাচে ব্রাজিল গড়ে আড়াইটি করে গোল দিয়েছে প্রতিপক্ষের জালে।

তবুও বিশ্বকাপের আগে দল নিয়ে এবং যথাযথ পজিশনে যথাযথ ফুটবলার খেলানো নিয়ে কিছু দুশ্চিন্তার জায়গা আছে ব্রাজিলের।

পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ফুটবলে জনপ্রিয় হওয়ার আগে ফুটবল সমর্থকরা রোনালদো বলতে একজনকেই চিনতো, তিনি ব্রাজিলের নয় নম্বর জার্সি পড়তেন।

বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ফুটবলারদের একজন রোনালদো নাজারিও, যিনি অলস ভঙ্গিমায় গোল করতে পটু ছিলেন, তারই প্রত্যক্ষ অবদানে ব্রাজিল নিজেদের পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করেছিল ২০ বছর আগে।

রোনালদো অবসরে গেছেন ১১ বছর হয়ে গেছে।

এরপর আর ব্রাজিল নিখুঁত নাম্বার নাইন আবিষ্কার করতে পারেনি। ২০১৮ বিশ্বকাপে গ্যাব্রিয়েল হেসুস পাঁচ ম্যাচেই মাঠে নেমেছিলেন কিন্তু কোনও গোল করতে পারেননি।

তিনি আর্সেনালের হয়ে এবারে ভালো ফর্মে আছেন।

অন্যদিকে টটেন্যাম হটস্পারের স্ট্রাইকার রিশার্লিসনের দিকেও নজর থাকবে।

২৪ ম্যাচ খেলে ব্রাজিলের হয়ে ১৭ গোল করেছেন তিনি।

তাই তিতেকে ভাবতে হবে, ক্যাসেমিরো, পাকোয়েতা, নেইমারদের বানানো বল কে সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে জালে ফেলতে পারবেন?

ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল এখনও পর্যন্ত সবার ওপরে আছে পাঁচটি বিশ্বকাপ নিয়ে, ২০ বছর আগে শেষ বিশ্বকাপ জিতলেও এখনও প্রতি বিশ্বকাপের আগেই ব্রাজিলকে ধরা হয় ফেভারিট দল।

এটা দলটার ঐতিহ্য ও পরিচিতির কারণে।

বিশ্বব্যাপী যেসব আন্তর্জাতিক ফুটবল দলের প্রচুর সমর্থক আছে, তাদের মধ্যে ব্রাজিল একটি।

ফুটবলের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট দ্য অ্যাথলেটিক তাদের বিশ্লেষণে লিখেছে, ব্রাজিলের ছয় নম্বর শিরোপা, যাকে ‘হেক্সা’ বলা হচ্ছে সেটা অর্জনের সামর্থ্য এই স্কোয়াডের আছে।

দ্য অ্যাথলেটিকে বলা হচ্ছে ব্রাজিলের স্কোয়াডের গভীরতা যে কোনও দলের জন্য ঈর্ষণীয়।

ফুটবল লেখক জেমস হর্নক্যাসলের মতে, “ব্রাজিলের এই দলটিতে নেইমারের সামর্থ্যের সবটুকু ব্যবহার করা গেলে এবার ব্রাজিল ছয় নম্বর বিশ্বকাপ জিততেও পারে।”

প্রায় ছয় বছর ধরে ব্রাজিল দলের দায়িত্বে আছেন তিতে। তিনি এই বিশ্বকাপের পর আর দায়িত্বে থাকছেন না।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর তিনি দায়িত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন

কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত থেকে গেছেন এবং ব্রাজিলকে টানা দুই কোপা আমেরিকা ফাইনাল খেলিয়েছেন, যার মধ্যে একবার চ্যাম্পিয়ন ও একবার রানার আপ হয়েছে দলটি।

তিতে খুব কঠিন একটা সময়ে দলটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন, একে তো ২০১৪ সালের সেই সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে সাত গোল হজম, এরপরে কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বে বাদ পড়া একটি দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।

আরো পড়ুন:


Holy Foods ads

Holy Foods ads

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget