Articles by "খেলা"

সকল জল্পনার অবসর ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে সাময়িক সময়ের জন্য ছুটি নিলেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। 

বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর ছয় মাসের জন্য তিনি ছুটি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও তামিম নিজে আজকের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, তিনি মনে করেন ছয় মাস পর তাকে আর প্রয়োজন হবে না। বর্তমানে যে ক্রিকেটারার খেলছেন, তারা আরও ভালো করবেন বলেই মনে করেন তামিম।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাামে বহুল কাঙ্ক্ষিত সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, 'বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও আমার কথা শুনেছে, আমিও তাদের বক্তব্য শুনেছি।

প্রেসিডেন্টকে (নাজমুল হাসান পাপন) অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে চাই, উনি দুদিন আগেও আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। আজও ফোন করেছিলেন। আমি নিজের কথাগুলো উনার সঙ্গে শেয়ার করেছি। 

উনি তার বক্তব্য বলেছেন। কাজী ইনামের কথা বলতে হয়। উনিও এই আলোচনায় ছিলেন। সব আলোচনার পর যেটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সেরা মনে হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তটাই আমি নিয়েছি। '

তামিম ইকবাল আরও বলেন, 'মিডিয়াতে তো অনেক ধরনের কথা হয়, মান-অভিমানের বিষয়ে। কিন্তু যে কোনো ফরম্যাটে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা আমার জন্য বড় ব্যাপার। 

যে কোনো ক্রিকেটারের জন্য তাই। এখানে মান-অভিমানের জায়গা নেই। আমি যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছি সেটা পুরোপুরি ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে। 

এছাড়া আর কোনো কিছু না। আবারও বলছি, ছয় মাস পর আশা করি আমার দরকার পড়বে না। আমাদের টিম অসম্ভব ভালো খেলবে। 

যদি কোনো পরিস্থিতি আসে, বড় কোনো টুর্নামেন্টের আগে টিম ম্যানেজম্যান্ট, বোর্ড এবং আমি নিজে যদি মনে করি যে আমার দলে আসার প্রয়োজন আছে, তাহলে আমি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করব। এটাই আমার বক্তব্য। '


আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চার বছর পেরিয়ে গেলেও বড় এক ধাঁধা হয়ে আছেন মুজিব উর রহমান। আফগান রহস‍্য স্পিনারকে সামলাতে এখনও তল খুঁজে পান না ব‍্যাটসম‍্যানরা।

বিপিএলের পরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। সেখানে একটু এগিয়ে থাকতে ফরচুন বরিশালের নেটে মুজিবকে যত বেশি সম্ভব খেলতে চান কিপার-ব‍্যাটসম‍্যান নুরুল হাসান সোহান।

ব্যাটসম্যানরা অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেন ভেবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের নেটে খুব বেশি বোলিং করেন না আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। মুজিবও সেই পথ অনুসরণ করেন কিনা, সেটা শিগগির জেনে যাবেন সোহান।

নেদারল‍্যান্ডস থেকে বুধবার ঢাকায় পৌঁছানো মুজিব এরই মধ‍্যে এসে পৌঁছেছেন চট্টগ্রামে। করোনাভাইরাস নেগেটিভ সাপেক্ষে বৃহস্পতিবার রাতেই দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেন ২০ বছর বয়সী এই স্পিনার।

জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার অনুশীলন শেষে সোহান বলেন, নেটে মুজিবকে খেলতে উন্মুখ হয়ে আছেন তিনি।

“অবশ্যই চাইব যেন নেটে যত বেশি খেলা যায় (মুজিবকে)। তাহলে হয়তো আমাদের ব্যাটসম্যান যারা আছে, এরপরের সিরিজে যারা থাকবে, তাদের জন্য অনেকটা সহজ হবে।”

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে বেশ সফল মুজিব। ৩ ম‍্যাচে ১৬ গড়ে তার ৬ উইকেট। ইকোনমি ৩.৪০। টি-টোয়েন্টিতে ৫ ম‍্যাচে ১৩.৪২ গড়ে ৭ উইকেট। ওভার প্রতি খরচ কেবল ৪.৭০ রান।

কোনো সন্দেহ নেই মুজিবকে খেলতে পারলে বাড়তি সুবিধা মিলবে। একই সঙ্গে বিপিএলের পরপরই আফগানদের বিপক্ষে সিরিজ বলে সেখানেও নিজেদের সুবিধা দেখছেন সোহান। 

“আমার মনে হয় যে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে ‘হাইপ ও ইনটেনসিটি’ থাকে সেটা বিপিএলে পাওয়া যায়। আমার কাছে মনে হয় যে, এটা আমাদের কাছে অবশ্যই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

“যেহেতু এটার পরেই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ আছে, তো এখান থেকেই আমাদের যতটুকু সম্ভব আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা যায়। সেটা করে যদি আমরা যেতে পারি সিরিজে, তাহলে আফগানিস্তান সিরিজে আমাদের জন্য অনেক ভালো হবে।”

বিপিএলের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ।


ক্যামেরুনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানাউদা মালাচি বলেছেন, 'ওই ঘটনায় যারা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাদের সব রকম সাহায্য করা হবে। চিকিত্‍সা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা যাতে না হয়, সে দিকে নজর রাখা হয়েছে।

আফ্রিকান নেশন্স কাপে (Africa Cup Of Nations) ক্যামেরুনের (Cameroon) ম্যাচে ধুন্দুমার কাণ্ড। জাতীয় টিমের ম্যাচ দেখার জন্য ওলেম্বে স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় হঠাত্‍ই তাণ্ডব শুরু হয়। 

তাতে পড়ে মারা পদপিষ্ট হয়ে মারা গিয়েছেন আটজন। ৫০ জনেরও বেশি মারাত্মক ভাবে আহত। ফুটবল মাঠে ঝামেলার ঘটনা কম নেই। কিন্তু মাঠে ঢুকতে গিয়ে এ ভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনা খুব বেশি ঘটেনি। 

এর আগে ২০১৫ সালে ইজিপ্টে (Egypt) একটা ম্যাচের সময় মাঠে ঢুকতে গিয়ে ১৯জন দর্শক মারা গিয়েছিলেন। ২০০১ সালে জোহানেসবার্গে একটা ফুটবল ম্যাচে মাঠে ঢুকতে গিয়ে মারা গিয়েছিল ৪৩জন। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম। 

জানা যাচ্ছে, করোনার কারণে মাঠে ৬০ শতাংশের বেশি দর্শক ঢোকার ক্ষেত্রে আয়োজক দেশ ক্যামেরুনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। যা তোয়াক্কা না করে মাঠে ঢোকার চেষ্টা করেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। তখনই ঘটেছে এই ঘটনা।

যে আটজন মারা গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে দু’জন মধ্য তিরিশের মহিলা, দু’জন মধ্য তিরিশের পুরুষ, এক শিশুও রয়েছে। আরও একজন মারা গিয়েছেন। তবে বডি নিয়ে তাঁর পরিবার চলে যাওয়ায় বিস্তারিত জানা যায়নি। 

ওই ঘটনা পর অবশ্য ক্যামেরুন ফুটবল সংস্থা দেরি করেনি। আহতদের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্টেডিয়ামের বাইরের পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, ম্যাচ কিন্তু হয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে কোমোরোসকে ২-১ হারিয়েছে ক্যামেরুন।

৬০ হাজার দর্শক ধরে ওলেম্বে স্টেডিয়ামে। কিন্তু করোনার কারণে ৬০ শতাংশের বেশি দর্শক ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তা একেবারেই মানতে পারেননি দর্শকরা। নেশন্স কাপে ক্যামেরুনের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ দেখার জন্য মুখিয়ে ছিল তারা। 

তাড়াহুড়ো করে মাঠে ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়েই এমন ঘটনা ঘটে। পুলিশ ভূমিকা কী ছিল ওই সময়, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবল বা সিএএফ।

ক্যামেরুনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানাউদা মালাচি বলেছেন, ‘ওই ঘটনায় যারা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাদের সব রকম সাহায্য করা হবে। চিকিত্‍সা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা যাতে না হয়, সে দিকে নজর রাখা হয়েছে।.


ওমানে চলছে কিংবদন্তি ক্রিকেট তারকাদের নিয়ে লিজেন্ডস ক্রিকেট লিগ। যেখানে খেলছে তিনটি দল-এশিয়ান লায়ন্স, ইন্ডিয়ান মহারাজাস এবং ওয়ার্ল্ড জায়ান্টস।

টুর্নামেন্টের চতুর্থ ম্যাচে এসে এশিয়ান লায়ন্সে সুযোগ মিলেছে টাইগার স্পিন কিংবদন্তি মোহাম্মদ রফিকের। আর খেলতে নেমেই নিজের প্রথম ম্যাচে শোয়েব আখতার, মুত্তিয়াহ মুরালিধরনদের ভিড়ে আলো ছড়ালেন তিনি।

মবার রাতে ওমানের মাসকাটে ইন্ডিয়ান মাহারাজাসের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল এশিয়ান লায়ন্স। সে ম্যাচ দিয়েই এই টুর্নামেন্টে অভিষেক হয়েছে রফিকের। আর এমন ম্যাচে দুই উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার।

ব্যাটিংয়ে সুযোগ পাননি। উপুল থারাঙ্গা, আসগর আফগানদের পারফরম্যান্সে ৪ উইকেটে ১৯৩ রান তোলে এশিয়ান লায়ন্স। থারাঙ্গা ৪৫ বলে ৭২, আফগান মাত্র ২৮ বলে খেলেন ৬৯ রানের ইনিংস। এছাড়া মোহাম্মদ ইউসুফের ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ২৬।

জবাবে ৮ উইকেটে ১৫৭ রানেই থেমে যায় ইন্ডিয়ান মহারাজাস। ম্যাচটি তারা হারে ৩৬ রানে। দলের পক্ষে ওয়াসিম জাফর ২৫ বলে ৩৫ এবং মানপ্রিত গনি ২১ বলে করেন ৩৫ রান।

এশিয়ান লায়ন্সের পক্ষে সবচেয়ে সফল ছিলেন নুয়ান কুলাসেকেরা। ১৪ রানে ২টি উইকেট নেন তিনি। আসগর আফগান নেন ২৩ রানে দুটি।

রফিক ৪ ওভারে ৩২ রান খরচায় তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট। এছাড়া শোয়েব আখতার ২ ওভারে ১১ রানে একটি এবং মুত্তিয়াহ মুরালিধরন ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে উইকেট পাননি।

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে রফিকের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক মিসবাহ উল হক। পরের ওভারেই পান সাফল্য। সেট হয়ে যাওয়া ভারতীয় ওপেনার ওয়াসিম জাফরকে শোয়েব আখতারের ক্যাচ বানান রফিক।

বাংলাদেশি এই স্পিনারের দ্বিতীয় উইকেটটাও বেশ মূল্যবান। বড় রান তাড়া করতে নামা ভারতকে জয়ের আশা দেখাচ্ছিলেন স্টুয়ার্ট বিনি। ১৪ বলে ২৫ রান করা বিনিকে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ বানান রফিক।


জন্মের পর থেকেই ভামিকাকে সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমের পাপারাজ্জিদের থেকে দূরে রেখেছেন তারকা দম্পতি বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা। ফলে জন্মের এক বছর পরও শিশু ভামিকা দেখতে কেমন তা কেউ বলতে পারতো না। অবশেষে প্রকাশ্যে আসলো বিরাট-আনুশকার কন্যা সন্তানের ছবি ও ভিডিওচিত্র।

রবিবার (২৩ জানুয়ারি) দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে অর্ধশত রান করেছেন বিরাট কোহলি। তখন গ্যালারিতে মায়ের কোলে বসে বাবার অর্ধশত রান উপভোগ করেছেন ভামিকা। এ দৃশ্য এখন নেটমাধ্যমের আলোচনার বিষয়। নেটিজেনরাও ভামিকার প্রথম দর্শনে মুগ্ধ। তবে এই তারকা দম্পতির দাবি, তাদের কন্যার ছবি যে ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে তা তারা খেয়াল করেনি। এমনটা জানলে ভামিকাকে গ্যালারিতেই নিয়ে আসতেন না।

তাইতো বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা দু'জনই তাদের ইন্সটাগ্রাম স্টোরিতে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন, কেউ যেন ভামিকার আর কোনো ছবি কিংবা ভিডিওচিত্র না তোলে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘হ্যালো বন্ধুরা! আমরা বুঝতে পারছি যে আমাদের মেয়ের ছবি গতকাল স্টেডিয়ামে ধারণ করা হয়েছে এবং তারপর তা ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে। আমরা সবাইকে জানাতে চাই যে, আমরা জানতাম না যে ক্যামেরা আমাদের ওপর তাক করা ছিল। এই ইস্যুতে আমাদের অবস্থান এবং অনুরোধ একই থাকবে।’

‘আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ হবো যদি ভামিকার ছবি ক্লিক বা কোথাও পাবলিশ না করা হয়। কারণটা আমরা আগেও বলেছি। ধন্যবাদ,’ যোগ করেন বিরাট-আনুশকা।


বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রথম জয়ের দেখা পেলো সিলেট সানরাইজার্স। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) শের ই বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকাকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে মোসাদ্দেকের দল। সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন এনামুল হক বিজয়।

এর আগে  নিজেদের ৪র্থ ম্যাচে টসে হেরে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে ভয়াবহ ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১০০ রানে গুটিয়ে যায় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ঢাকা। এই রান করতেও ঢাকাকে হারাতে হয় ৯ উইকেট। 

এদিন ব্যাট করতে নেমে ওপেনার মোহাম্মদ শাহাজাদ ৭ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন সোহাগ গাজীর বলে স্টাম্পিং হয়ে। তামিম ইকবালকে ৩ রানে ফেরান মোসাদ্দেক হোসেন। 

দুই ওপেনারের বিদায়র পর নাঈম শেখ যেন টেস্ট খেলতে নামেন। তার ৩০ বলে ১৫ রানের ইনিংস অনেকটা ব্যাক ফুটে ফেলে দেয় ঢাকাকে। সঙ্গে জহুরুল ইসলামের ৪ রানে ফেরায় বড় বিপাকে পড়ে। 

মাহমুদউল্লাহ দেখে শুনে ব্যাট চালালেও ২৬ রানে খেলেন দলীয় সর্বোচ্চ ৩৩ রানের ইনিংস। দলের অন্যতম খেলোয়াড় আন্দ্রে রাসেলকে রানের খাতা খুলতে দেননি নাজমুল ইসলাম। এমন অবস্থায় শুভাগত হোমের ২১ রানের পর রুবেল হোসেনের ৬ বলে ১২ রানে কোনওমতে ১০০ ছুঁতে পারে ঢাকা।

সিলেটের পক্ষে ৪ উইকেট নেন নাজমুল ইসলাম, ৩ উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। ২টি উইকেট নেন সোহাগ গাজী এবং ১ উইকেট নেন মোসাদ্দেক হোসেন।

জয়ের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে  দলীয় ২১ রানে লেন্ডল সিমন্সকে হারিয়ে ফেলে সিলেট। নিজের দ্বিতীয় ওভারে সিমন্সকে সাজ ঘরে ফেরান মাশরাফি বিন মুর্তজা। বিদায় নেওয়ার আগে ২১ বলের মোকাবেলায় ১৬ রান করেন সিমন্স। 

এর পর ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মোহাম্মদ মিঠুন।  দলীয় ৫৯ রানের মাথায়  ১৫ বলে ১৭ রান করে আউট হন মোহাম্মদ মিঠুন। ক্রিজে আসেন কলিন ইনগ্রাম। তাকে নিয়ে প্রায় জয়ের শেষ প্রান্তেই পৌঁছে গিয়েছিলেন বিজয়। 

তবে জয়ের জন্য দলের যখন ২ রান প্রয়োজন, তখন ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে তামিম ইকবালের হাতে ধরা পড়েন এনামুল হক বিজয়। তার উইকেটিও  শিকার করেন মাশরাফি।  

তার আগে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৫ বলে করেন ৪৫ রান। শেষপর্যন্ত ১৭ ওভারে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সিলেট। একটি করে চার-ছক্কা হাঁকানো ইনগ্রাম ১৯ বলে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১ রানে অপরাজিত থাকেন রবি বোপারা।



প্রথমবার ৮ম বিপিএলে খেলতে নেমেই বল হাতে আগুন ঝরাচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার হয়ে খেলা এই তারকা পেসার আজ নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট তুলে নিয়েছেন। 

ম্যাশের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে রুবেল হোসেনের তালুবন্দি হয়েছেন ২১ বলে ১৬ রান করা সিলেট সানরাইজার্স ওপেনার লেন্ডল সিমন্স। এর মাধ্যমে দলীয় ২১ রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে সিলেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮.৪ ওভারে মাত্র ১০০ রানে অল-আউট হয়ে যায় তারকাখচিত ঢাকা। বল হাতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছেন স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু আর পেস তারকা তাসকিন আহমেদ। 

বরাবরের ঘূর্ণি সহায়ক মিরপুর শেরেবাংলার উইকেটে সিলেটের নাজমুল ইসলাম অপু ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

টি-টোয়েন্টির মতো ফরম্যাটে তিনি একটি মেডেনও নিয়েছেন! অন্যদিকে পেস তারকা তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন ২.৪ ওভারে ২২ রানে ৩ উইকেট। সোহাগ গাজীও কম যাননি। ৪ ওভারে ১টি মেডেনসহ দিয়েছেন ১৭ রান। শিকার ২ উইকেট। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত পরাজয়ের পথে আছে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা।


লিওনেল মেসিকে ছাড়াই অলিম্পিক লিঁওর বিপক্ষে খেলবে ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি। করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠলেও এখনো ফিটনেস ফিরে পেতে কাজ করে যাচ্ছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর। খবর ইউরোপিয়ান গণমাধ্যমের।

 

লিঁওর বিপক্ষে পিএসজির ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে রোববার (৯ জানুয়ারি) রাত দেড়টায়। এ ম্যাচে দেখা যাবে না মেসিকে।

 

ক্লাবের এক স্টাফ আক্রান্ত হওয়ার পর করোনাভাইরাসে পজিটিভ হন মেসি। শুধু মেসিই নন, তিনিসহ আরও ৩ খেলোয়াড় করোনায় আক্রান্ত বলে জানিয়েছিল পিএসজি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। ফরাসি লিগ কাপ কুপ ডে ফ্রান্সের আগে সকল খেলোয়াড়কে যখন করোনা টেস্ট করা হয় তখন করোনা পজিটিভ আসে পিএসজির চার খেলোয়াড়ের। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে ভানিসের বিপক্ষে লিগ কাপ ম্যাচে খেলতে পারেননি মেসি।

 

মেসি করোনা আক্রান্ত হলে পিএসজির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘করোনা টেস্টে আমাদের চারজন ফুটবলার পজিটিভ ধরা পড়েছে। তারা হলেন- হুয়ান বেরনাত, সার্জিও রিকো, নাথান বিতুমাজাল এবং লিওনেল মেসি।

আমরা তাদের দল থেকে আলাদা করে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছি। তারা আমাদের স্বাস্থ্য প্রোটোকলে রয়েছে।’

৫ জানুয়ারি মেসির করোনাভাইরাসের ফল নেগেটিভ আসে। মহামারি এই রোগ থেকে মুক্তির পর মেসি ফিরেন পিএসজির আঙিনায়। এখন তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন ফিটনেস রিকভারি। যদিও কবে নাগাদ তিনি ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবেন তা জানা যায়নি।


টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড। সেই নিউজিল্যান্ডকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে টেস্টে ঐতিহাসিক এক জয় পেল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে যেকোনো ফরম্যাটেই এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়।

টাইগারদের এমন জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব সদস্যসহ টিম ম্যানেজমেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলাদা বার্তায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে প্রথম টেস্টের শেষ দিনে ৮ উইকেটের বড় জয় পায় মুমিনুলবাহিনী। কিউইদের দেওয়া ৪০ রানের টার্গেটে ২ উইকেট হারিয়েই পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

আরো পরুনঃ- এক জয়েই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেবিলের পাঁচে বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ড ৩২৮ ও বাংলাদেশ ৪৫৮ রান করেছিল। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।


নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে এক লাফে টেবিলের পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে টিম টাইগার্স।

বুধবার মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট শেষে আইসিসির হালনাগাদ পয়েন্ট টেবিলে দেখা যাচ্ছে ৩ ম্যাচ খেলে এক জয়ে ১২ পয়েন্ট ও ৩৩.৩৩ শতাংশ জয়ের হার নিয়ে টাইগাররা পাঁচে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়ম অনুযায়ী একটি দল প্রতি টেস্ট জয়ের জন্য ১২ পয়েন্ট পাবে।

৩ জয়ে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে শতভাগ জয়ের হার নিয়ে তালিকার শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। ২ টেস্ট জিতে শতভাগ জয়ের হার নিয়ে দুইয়ে শ্রীলঙ্কা, পয়েন্ট ২৪। ৪ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট ও শতকরা ৭৫ ভাগ জয়ের হারে পাকিস্তান তিনে। ভারত ৫৩ পয়েন্ট পেলেও জয়ের শতকরা হার ৬৩.০৯ হওয়ায় চারে আছে।

বাংলাদেশের সমান ১২ পয়েন্ট পেয়ে জয়ের হার ২৫ শতাংশ হওয়ায় ছয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একটি মাত্র ড্রয়ের সুবাদে ম্যাচ প্রতি ১১.১১ শতাংশ হারে ৪ পয়েন্ট পাওয়া নিউজিল্যান্ড রয়েছে সাতে। ইংল্যান্ড ৬ পয়েন্ট পেলেও তাদের শতাংশের হার ৭.১৪, তাদের অবস্থান আটে। একটি মাত্র টেস্ট খেলে পরাজয়ের স্বাদ পাওয়া সাউথ আফ্রিকা পয়েন্টের খাতাই খুলতে পারেনি।



এবাদত হোসেনের ডেলিভারিটি রক্ষণাত্মক খেলার চেষ্টা করেছিলেন ডেভন কনওয়ে। পরাস্ত হতেই আউটের আবেদন। এলবিডব্লুর আবেদন ভেবে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও রিভিউটা বেশ দ্রুতই নেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।

ভিডিও রিপ্লেতে দেখা গেল বল ব্যাটের কানা ছুঁয়েছে। আরেকটি রিভিউ নষ্টের হতাশা পেয়ে বসার আগেই ভিডিওতে দেখা গেল, বল কনওয়ের পায়ে লেগে বাতাসে ভাসতে ভাসতে গালিতে যেতেই ডাইভ দিয়ে লুফে নিলেন সাদমান ইসলাম। আউট!

সাদমানের বুদ্ধিমত্তায় নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে শতক তুলে নেওয়া কনওয়েকে ১৩ রানে ফেরাতে পারে বাংলাদেশ। তাঁর আগে ফিরেছেন অধিনায়ক টম লাথাম। এই ওপেনারকে তুলে নেন তাসকিন আহমেদ।

দ্বিতীয় সেশনে ২ উইকেট নেওয়ায় চা–বিরতি ভালোই লাগার কথা বাংলাদেশ দলের। তবে দুটি রিভিউ নষ্টের হতাশা পোড়াবে। চা–বিরতির আগে নিউজিল্যান্ড তাঁদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ ওভারে ২ উইকেটে ৬৮ রান তুলেছে। ব্যাট করছেন রস টেলর (৪*) ও উইল ইয়াং (৩২*)। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে নেওয়া লিড থেকে ৬২ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকেরা।

বে ওভালের উইকেটে আজ চতুর্থ দিনে বাঁক পাচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২৪তম ওভারে তাঁর চতুর্থ বলটি কীভাবে বাঁক নিয়ে উইল ইয়াংয়ের ব্যাট, স্টাম্প এবং লিটন দাসের গ্লাভস ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে গেল, তা গবেষণার বিষয়।

বল ইয়াংয়ের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে গেলেও লিটনের পক্ষে ধরা খুব কঠিন ছিল। ইয়াং সে যাত্রায় বেঁচে যান। উইকেটে বাউন্স অসমান হওয়ায় তাসকিন ও ইবাদত হোসেনকে খেলতেও সমস্যা হচ্ছে কিউই ব্যাটসম্যানদের। ১৪ রানে তাসকিনের উঠে আসা বল খেলতে গিয়েই স্টাম্পে টেনে নেন লাথাম।

কনওয়ের উইকেটটি ইবাদতের পরিশ্রমের ফসল। ৯ ওভার বল করেন দ্বিতীয় সেশনে। স্টাম্পে বল রাখার পুরস্কার হিসেবেই উইকেটটি সাদমানের বুদ্ধিমত্তায় পেয়ে যান ইবাদত।

তবে এই সেশনে দুটি রিভিউ নষ্ট করেছে বাংলাদেশ। ইবাদতের বলে একবার ইয়াং লেগে খেলার চেষ্টা করলে বল তাঁঁর কোমরে লেগে লিটনের গ্লাভসে জমা পড়ে। আউটের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও রিভিউ নেন মুমিনুল। তাতে লিটন ও ইবাদতের অতি আগ্রহী হয়ে ওঠা ভালোই ভূমিকা রেখেছে। ২৯তম ওভারে ঠিক একইভাবে রস টেলরের বিপক্ষেও রিভিউ নিয়ে লাভ হয়নি বাংলাদেশের। উল্টো আরেকটি রিভিউ নষ্ট হয়।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে আজ চতুর্থ দিনে সকালের সেশনে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪৫৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ১৩০ রানের লিড পায় মুমিনুলের দল। বিদেশের মাটিতে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে এটি সর্বোচ্চ রানের লিড বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৩২৮ রানে অলআউট হয়।


নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই উদ্বোধনী জুটি ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশকে আশার ঝলক দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৩৪ করে ইবাদতের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ডেভন কনওয়ে ফিরে গেলে টাইগার ভক্তদের আশা আরও বেড়ে যায়। আগের ইনিংসের এ সেঞ্চুরিয়ানকে নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল বাংলাদেশ শিবিরে। ভয়ংকর সেই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরানোর পর উইল ইয়ং-রস টেইলর অপ্রতিরোধ্য জুটি গড়ে বাংলাদেশকে হতাশ করেন। তৃতীয় উইকেটে তাদের ৭৩ রানের অনবদ্য জুটিতে বাংলাদেশের ফিল্ডারদেরও অনেক অবদান রয়েছে!

মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দুটি ক্যাচ মিস করেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। এরপর সহজ একটি রানআউটও হাতছাড়া হয় টাইগারদের। 

তবে নিউজিল্যান্ডের দলীয় ১৩৬ রানের সময় ৫৪তম ওভারে এক বলের ব্যবধানে ইয়ং ও নিকোলাসের মতো দুরন্ত ফর্মে থাকা দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেন ইবাদত। এরপর ৫৫তম ওভারে বল করতে এসে ব্ল্যান্ডেনকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তরুণ এ পেসার।  

এবাদত ১৭ ওভার বোলিং করে ৪ মেডেনসহ ৩৯ রান দিয়ে শিকার করেছে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তার অনবদ্য স্পেলে এখন পরাজয়ের প্রহর গুনছে স্বাগতিকরা।

চতুর্থ দিনে খেলা শেষে ৫ উইকেটে ১৪৭ রান সংগ্রহ করেছে নিউজিল্যান্ড। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ১৭ রানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা। 

পঞ্চম দিনের শুরুতে টেলএন্ডারদের দ্রুত অলআউট করে দিয়ে বাকি রানগুলো নিতে পারলেই বিদেশের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় পাবে বাংলাদেশ। ইতিহাসের সেই প্রান্তের দিকে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ।

এর আগে আজ চতুর্থ দিন সকালে ৪৫৮ রানে থেমেছে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। শেষ চার উইকেট ১৩ রানে পড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের লিড বেশি হয়নি। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস টপকে বাংলাদেশ ১৩০ রানের লিড নেয়। ইনিংস আরও বড় করার সুবর্ণ সুযোগ থাকলেও টেইল এন্ডাররা তা করতে পারেননি। 

মিরাজের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ইয়াসির ৭৫ রানের জুটি গড়েন। এর মধ্যেই বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এক হাজার রান ও একশ উইকেটের ডাবল স্পর্শ করেন মিরাজ।

ক্যারিয়ারে ৩০টি টেস্ট খেলে এ মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। তাঁর আগে এই রেকর্ড গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান ও মোহাম্মদ রফিক। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের লেগেছিল ২৮ ম্যাচ আর রফিকের লেগেছিল ৩৩ ম্যাচ।


মধ্যাহ্নবিরতিতে যাওয়ার আগে দুটি চারে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর ব্যাটে ছন্দটা ঠিকই আছে। মধ্যাহ্নভোজ থেকে ফেরার পরও লিটন দাসের ব্যাট আলো ছড়াচ্ছে।

অর্ধশতকও হয়ে গেছে তাঁর। এর আগেই অর্ধশতক পেয়ে গেছেন মুমিনুল হকও।এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে আজ তৃতীয় দিনে চা বিরতি হয়ে গেছে। ১১৯ ওভারে ৪ উইকেটে ৩০৭ রান নিয়ে বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ। লিটন অপরাজিত ৫১ রানে, মুমিনুল ৬১ রানে।

পঞ্চম উইকেটে দুজনের জুটিতে ১০৪ রান হয়ে গেছে। নিউজিল্যান্ডের চেয়ে আর ২১ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে আজ তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের শেষ দিকে দলকে ২০৩ রানে রেখে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিক ফেরার পর নেমেছেন লিটন। এখন পর্যন্ত বল খেলেছেন ৯৭টি, চার মেরেছেন ৬টি। মধ্যাহ্নবিরতির পর দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে লিটনের ব্যাট থেকেই বাউন্ডারি বেশি এসেছে, পরের দিকে বাউন্ডারি বেশি দেখেছে মুমিনুলের ব্যাট।

তবে শুধু বাউন্ডারির হিসাবই নয়, লিটনের ব্যাটিং পুরোটা সময়ই মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। ছাড়ার বল দেখেশুনে দারুণভাবে ছাড়ছেন। আর যখন শট খেলছেন, মুগ্ধ করছেন বারবার। ৬টি চারের সবগুলোই এসেছে চোখজুড়ানো শটে। কখনো স্ট্রেইট ড্রাইভ, কখনো কাভার ড্রাইভ, তো কখনো ওয়াগনারের শর্ট বলকে আছড়ে মারছেন মিডউইকেটে।


নিয়ন্ত্রণ, আগ্রাসন, কব্জির ব্যবহার, রেশমি পেলব বোলানো শট, রক্ষণাত্মক শটেও আত্মবিশ্বাস.. লিটনের ইনিংসে মুগ্ধ না করে পারে না!

অন্যদিকে মুমিনুলও মধ্যাহ্নভোজের পর আরেকটু আগ্রাসী হয়েছেন, তবে সেশনের শুরুতে একটু নড়বড়েই লেগেছে তাঁকে। সেশনের প্রথম ওভারে জেমিসনের প্রথম বলেই পয়েন্টে লিটনের দারুণ শটে আসে ৩ রান, দ্বিতীয় বলেই এলবিডব্লুর আবেদন ওঠে মুমিনুলের বিরুদ্ধে। নিউজিল্যান্ড রিভিউ নিলেও সে যাত্রায় বেঁচে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

পরের দুই ওভারে ওয়াগনারকে দুটি ও জেমিসনকে একটি চার মারেন মুমিনুল, তিনটিই দারুণ শটে। কিন্তু সেশনের তৃতীয় ওভারে জেমিসনের শেষ বলে কনুইয়ে বলের আঘাত পান মুমিনুল। ফিজিওর শুশ্রুষার পর অবশ্য ব্যাটিং চালিয়ে যেতে সমস্যা হয়নি তাঁর।


এরপরও জেমিসন-ওয়াগনারদের বলে দু-তিনবার পরাস্ত হয়েছেন মুমিনুল। তবে সেশন যত এগিয়েছে, মুমিনুলের শটে, শট নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ তত ভালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই সেশনে ৭টি চার মেরেছেন তিনি, যেখানে তাঁর ১৭৫ বলের ইনিংসে সব মিলিয়ে চার ৮টি। ১০৮তম ওভারের শেষ বলে বোল্টকে নিজের ইনিংসের অষ্টম চারটি মেরেই অর্ধশতকে পৌঁছান মুমিনুল।

আর লিটন অর্ধশতকে পৌঁছেছেন চা বিরতির আগে শেষ ওভারে রাচিন রবীন্দ্রর বলে দুই রান নিয়ে।

মুমিনুলের অর্ধশতক এনে দেওয়া বাউন্ডারির পর সেশনে আর চার নেই বাংলাদেশের। হয়তো সেশনের শেষ দিকে এসে আর ঝুঁকি নিতে চাননি মুমিনুল-লিটন। বাংলাদেশ ইনিংসে কাগজে-কলমের হিসাবে ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মতো শেষ জুটি যে এটিই!

প্রথম দিনের শেষটা যেখানে করেছিল বাংলাদেশ, দ্বিতীয় দিনের শুরুটা করেছে ঠিক সেখান থেকেই। বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে খুব বেশি বড় হতে দেয়নি নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ। পরে ব্যাটিংয়েও বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা হয়েছে আশা জাগানিয়া।

শনিবার ম্যাচের প্রথম দিনে ৮৭.৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। আজ (রোববার) তাদের বাকি ৫ উইকেট তুলে নিতে বাংলাদেশের লেগেছে ২০.৪ ওভার। আগেরদিনের স্কোরের সঙ্গে আরও ৭০ রান যোগ করে ৩২৮ রানে অলআউট হয়েছে কিউইরা।

জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ৩১ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৭০ রান। বাঁহাতি ওপেনার সাদমান ইসলাম আউট হয়েছেন ২২ রান করে। তরুণ ডানহাতি ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় খেলছেন ৩২ রান নিয়ে। তিন নম্বরে নেমে নাজমুল হোসেন শান্ত অপরাজিত ১২ রানে।

আজ দিনের প্রথম সাফল্য পেতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। দিনের পঞ্চম ওভারের শেষ বলে রাচিন রবীন্দ্রকে সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচে পরিণত করেন শরিফুল ইসলাম। আউট হওয়ার আগে রাচিন করতে পেরেছেন কেবল ৪ রান।


সপ্তম উইকেটে মাঝারি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন হেনরি নিকলস ও কাইল জেমিসন। এবাদত হোসেনের করা ৯৮তম ওভারে পরপর তিন বাউন্ডারি হাঁকান নিকলস। যার প্রথমটিতে ব্যক্তিগত পঞ্চাশে পৌঁছে যান এ বাঁহাতি ব্যাটার।

তবে বিপদ বেশি বাড়তে দেননি বাংলাদেশের অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ইনিংসের ১০০তম ওভারে আক্রমণে এসে তৃতীয় বলেই সুযোগ তৈরি করেন তিনি। কিন্তু শর্ট লেগে দাঁড়ানো মাহমুদুল জয় সেটি হাতে রাখতে পারেননি, বেঁচে যান জেমিসন।

অবশ্য জীবন পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি জেমিসন। মিরাজের পরের ওভারেই লং অন বাউন্ডারিতে দাঁড়ানো সাদমানের হাতে ধরা পড়ে যান তিনি। তাসকিন আহমেদের করা পরের ওভারে জোড়া বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার আভাস দেন টিকে থাকা একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটার নিকলস।

একপ্রান্তে নিকলস টিকে থাকলেও অন্যপ্রান্তে টপাটপ আরও দুই ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠান মিরাজ। ইনিংসের ১০৬তম ওভারের চতুর্থ বলে শর্ট মিডউইকেটে মুমিনুলের হাতে ধরা পড়েন টিম সাউদি, পরের বলে কট বিহাইন্ড হন নেইল ওয়াগনার। দারুণ রিভিউ নিয়ে ওয়াগনারের বিদায় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

উইকেটের কলামে মিরাজের নামের পাশে সংখ্যা আরও বাড়তে পারতো। কিন্তু এবার তার বলে লংঅন থেকে ছুটে যায় ক্যাচ, হয়ে যায় বাউন্ডারি, বেঁচে যান ট্রেন্ট বোল্ট। তবে পরের ওভারের প্রথম বলেই ৭৫ রান করা নিকলসকে সাজঘরে পাঠিয়ে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক।


বল হাতে বাংলাদেশের পক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন শরিফুল ও মিরাজ, মুমিনুলের শিকার দুই উইকেট। ফিল্ডিংয়ে সাদমান নেন ৪টি ক্যাচ। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ফিল্ডার হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে ৪ ক্যাচ নিলেন তিনি। এর আগে সৌম্য সরকার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৭ সালে নিয়েছিলেন ৪ ক্যাচ।

নিউজিল্যান্ডকে অলআউট করার পর প্রথম সেশনে তিন ওভার ব্যাট করে বিনা উইকেটে ৫ রান করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাদমান ও মাহমুদুল জয়। দ্বিতীয় সেশনেও দেখেশুনে খেলতে থাকেন তারা দুজন। বিশেষ করে টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্টের বিপক্ষে বেশ ভালো জবাব দিয়েছেন তারা।

গড়বড় হয়ে যায় বাঁহাতি নেইল ওয়াগনার আক্রমণে আসতেই। নিজের প্রথম ওভার মেইডেন করেন ওয়াগনার। পরে দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই সাদমানকে ফিরতি ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। অবশ্য আগেই ব্যাটের ফেস বন্ধ করে ফেলায় সামনের কানায় লাগার বড় দায় সাদমানের নিজেরই।

আউট হওয়ার আগে সাদমানের ব্যাট থেকে ৫৫ বলে ২২ রানের ইনিংস। তার বিদায়ে ৪৩ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। অন্যপ্রান্তে তরুণ মাহমুদুল জয় শুরু থেকেই ছিলেন সাবলীল। যখনই রানের সুযোগ পেয়েছেন তা দুই হাতে লুফে নিয়েছেন।

তবে খানিক ভাগ্যের ছোঁয়াও পেয়েছেন মাহমুদুল জয়। ব্যক্তিগত ২০ ও দলীয় ৪৪ রানের মাথায় তার বিপক্ষে লেগ বিফোরের জোরালো আবেদন করেন ওয়াগনার। আম্পায়ার সাড়া দেননি। ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগেছে ভেবে নিউজিল্যান্ডও রিভিউ নেয়নি।

কিন্তু রিপ্লে'তে দেখা যায়, বল ব্যাটে লাগেনি এবং সেটি আঘাত হানতো মিডল-লেগ স্ট্যাম্পে। অর্থাৎ রিভিউ নিলে সাজঘরে ফিরতে হতো মাহমুদুল জয়কে। ভাগ্যের ছোঁয়ায় বেঁচে যাওয়ার পর আর ভুল করেননি তিনি। নাজমুল শান্তকে নিয়ে দেখেশুনে পার করে দেন দ্বিতীয় সেশনের বাকি সময়।

প্রথম সেশনে বিনা উইকেটে ৫ রান করা বাংলাদেশ দল দ্বিতীয় সেশনে ২৮ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে করেছে ৬৫ রান। নিউজিল্যান্ডের চেয়ে এখনও ২৫৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা।


স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যকার প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা দুর্দান্ত কাটাল বাংলাদেশ। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে আজ প্রথমে বল হাতে ও পরে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছে টাইগাররা। নিউজিল্যান্ডকে ৩২৮ রানে অলআউট করে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম  করেছে মুমিনুলবাহিনী। নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ফিফটি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্তও।

২ উইকেটে ১৭৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। মাহমুদুল হাসান জয় ৭০ ও অধিনায়ক মুমিনুল হক ৮ রানে অপরাজিত আছেন। নিউজিল্যান্ডের চেয়ে আর ১৫৩ রানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ, হাতে আছে আরো ৮টি উইকেট।

সাজঘরে ফিরেছেন ওপেনার শাদমান ইসলাম ও তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। শাদমান ২২ ও শান্ত ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন। কিউইদের পক্ষে দুটি উইকেটই শিকার করেছেন বাঁহাতি পেসার নিল ওয়াগনার।

এর আগে ৫ উইকেটে ২৫৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশি বোলারদের তোপে আজ ৭০ রান তুলতে গিয়ে শেষ ৫ উইকেট হারায় কিউইরা। আগের দিন ১২২ রান করে কনওয়ে ও ৫২ রান করে উইল ইয়ং আউট হয়েছিলেন। আজ ৭৫ রান করেছেন হেনরি নিকোলস। ‍শরিফুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান মিরাজ ৩টি করে উইকেট দখল করেছেন। মুমিনুল হক শিকার করেন ২টি উইকেট।


মেয়েদের ফুটবলে এ পর্যন্ত যত শিরোপাা—সবগুলোই কোচ গোলাম রব্বানীর হাত ধরে। ২০১৫-র এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে গত পরশু সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল পর্যন্ত মোট সাতটি ট্রফি ঘরে তুলেছে মেয়েরা। কাল রব্বানীর কাছে যখন জানতে চাওয়া হলো এই সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় তাঁর কোনটা। বাংলাদেশ কোচ ফিরলেন ২০১৫ সালে জেতা প্রথম শিরোপাটায়।

‘ওই শিরোপাটা আমার কাছে অন্য রকম। বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলে যেকোনো পর্যায়ে সেটিই প্রথম শিরোপা। নেপালে সেই যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমাদের পথচলা শুরু হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায়ই তো আজ আমরা এই পর্যায়ে।’ নেপালের সেই ট্রফি জয় আসলে ভোলার কথা নয়। ভারত, ইরানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের কিশোরীরা প্রথমবারের মতো কোন আন্তর্জাতিক আসরের ফাইনালে ওঠে সেবার। ২৫ এপ্রিল নেপালের বিপক্ষেই ছিল সেই ফাইনাল। তার আগের রাতেই প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প হয়ে যায় কাঠমাণ্ডুতে। কোনোমতে প্রাণ নিয়ে হোটেল থেকে নামতে পারে kalerkanthoবাংলাদেশের কিশোরীরা। সারা রাত খোলা আকাশের নিচে কাটিয়ে পরে সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী বিমানে তারা দেশে ফেরে। ছয় মাস পর কাঠমাণ্ডুতেই হওয়া সেই ফাইনালে নেপালকে হারিয়েই শিরোপা নিয়ে ফেরে গোলাম রব্বানীর শিষ্যরা। বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবলে পতাকা ওড়ানো শুরু তাই শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও বড় যুদ্ধ জিতে। এমন সাহসী মেয়েরা থেমে যাবে তাই কি হয়! কৃষ্ণা, সানজিদা, মারিয়া, মার্জিয়ারা এরপর ফি বছর বাংলাদেশকে একটা না একটা ট্রফি উপহার দিয়েছেন। ২০১৫, এরপর ২০১৬-তেও এএফসি রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ তাজিকিস্তানে। সে আসরেই ওঠেন তহুরা খাতুন, যিনি এবার অনূধর্ব-১৯ সাফও মাতিয়েছেন। ২০১৭-তে তারা জেতে প্রথম সাফ শিরোপা অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ে। ২০১৮-তে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের ট্রফি। সে বছরই হংকংয়ে আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট জকি কাপেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফেরে বাংলাদেশের মেয়েরা। করোনা হানা দেওয়ার আগে ২০১৯ প্রথম বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক ফুটবলেও লাওসের সঙ্গে যুগ্ম শিরোপা বাংলাদেশের। করোনা মহামারি শেষে এবার অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ।

আরো দুটি বড় সাফল্য এর সঙ্গে যোগ করতেই হবে। বাংলাদেশের মেয়েরা এ সময়েই টানা দুটি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বে খেলেছে। অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে এসেছে সে সাফল্য। দুইবারই কঠিন বাছাই পর্ব পেরোতে হয়েছে। যেখানে চ্যাম্পিয়ন হয়েই বাংলাদেশকে যেতে হয়েছে পরের রাউন্ডে। এসব অর্জনের মধ্যেও এবারের সাফ জয়টাকে অবশ্য সবচেয়ে দাপুটে মনে হচ্ছে গোলাম রব্বানীর, ‘টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের মেয়েরা যেমন আধিপত্য করেছে প্রতিপক্ষের ওপর, এমনটা খুব কমই হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালটাই তো একচেটিয়া খেললাম। তার ওপর দেখুন একটা গোলও হজম করিনি আমরা, দিয়েছি ১৯ গোল। এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারতাম।’


এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স হকিতে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই বাজিমাত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। শুট আউটে জাপানকে হারিয়ে শিরোপা জয় করল তারা। 

বুধবার মওলানা ভাসানি জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জাপানকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে দ. কোরিয়া। 

নির্ধারিত ৭০ মিনিটের খেলা শেষ হয়েছিল ৩-৩ গোলে। তাই জয়-পরাজয় নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। লীগ পর্বেও ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল দল দুটি।

ফাইনালে শুট-আউটে কোরিয়ার হয়ে গোল করেছেন লী জুং জুন, জি ও চিওন, ওয়াং তায়েল ও লী হায়ে সিউং। আর জাপানের হয়ে গোল করেন ওকা রায়োমা ও সারেন তানাকা।

জাপানের রাইকি ফুজিশিমা ও কোসেই কাওয়াবের প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে ম্যাচের নায়ক বনে যান কোরিয়া গোলরক্ষক কিম জা ইয়োন।

টুর্নামেন্টে কোরিয়ার ৩৭ বছর বয়সি ডিফেন্ডার জ্যাং জং ইয়োন সর্বোচ্চ ১০ গোল করেছেন। ২০০৭ ও ২০১১ সালের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন বর্ষীয়ান এ ডিফেন্ডার। ৮ গোল করেছেন ভারতের ডিফেন্ডার হারমানপ্রিত সিং। 

প্রথম কোয়ার্টারে জাপানের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। বলের দখল রেখেই খেলছিল এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়নরা। তবে শ্রোতের বিপরীতে পাল্টা আক্রমণে ৮ম মিনিটে বামদিক থেকে জ্যাং জি হুনের হিট স্টিকে দিক পরিবর্তন করে বল জালে পাঠান কোরিয়ার জিয়ং জুন উ। এরপর ১০ ও ১২ মিনিটে দুটি পেনাল্টি কর্নার পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি জাপান।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ২৪ মিনিটে কেন নাগায়োশির পেনাল্টি কর্নার গোলে সমতায় ফিরে জাপান। ২৯ মিনিটে ওকা রায়োমার ফিল্ড গোলে লিড নেয় তারা। তৃতীয় কোয়ার্টারে ইয়োশিকি কিরিশিতার পেনাল্টি কর্নার গোলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জাপান।

চতুর্থ কোয়ার্টারে জ্যাং জং ইয়োনের পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলে করে ব্যবধান কমিয়ে ৩-২তে নিয়ে আসে কোরিয়া। শেষ মুহূর্তে জ্যাং জং ইয়োনের পেনাল্টি কর্নার গোলে ৩-৩ গোলের সমতায় ফিরে আসে কোরিয়া।


প্রথমবার কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টির লড়াই। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে প্রথমবার একটি টেস্ট খেলুড়ে দলকে নিজেদের আঙিনায় পাওয়া। যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটের জন্য ম্যাচটি এমনিতেই ছিল ইতিহাস গড়ার। তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে তাদের ইতিহাস গড়ার পালা আটকে রইল না স্রেফ মাঠে নেমেই। শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে উপলক্ষ্য রাঙিয়ে রাখল তারা দারুণ এক জয় দিয়ে।

ফ্লোরিডায় ২ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বুধবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জয় ২৬ রানে।

টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জয় এটি।

ম্যাচের শুরুতে ৫ ওভারের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে কাঁপছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত তারা ২০ ওভারে তোলে ১৮৮ রান। আয়ারল্যান্ড যেতে পারে ১৬২ পর্যন্ত।

লডারহিলে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা যুক্তরাষ্ট দ্বিতীয় বলেই হারায় অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেলকে। তৃতীয় ওভারে তারা হারায় বড় ভরসা জেভিয়ার মার্শালক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৭টি টেস্ট, ২৪ ওয়ানডে ও ৬ টি-টোয়েন্টি খেলা ব্যাটসম্যান বেশ কিছুদিন ধরেই খেলেন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে। আউট হন তিনি ১১ বলে ৪ রান করে।

পরের দুই ওভারে আরও দুটি উইকেট হারিয়ে তাদের রান হয়ে যায় ৪ উইকেটে ১৬। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন অভিষিক্ত সুশান্ত মোদানি ও গজানন্দ সিং।

শুরুতে কিছুটা দেখেশুনে খেলে জুটি গড়েন দুজন। ১০ ওভার শেষে রান ছিল ৪ উইকেটে ৫১।

দ্বাদশ ওভারে সিমি সিংয়ের বলে স্লগ সুইপে ছক্কা মেরে গতিপথ বদলানোর শুরু করেন গজানন্দ। ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যাটসম্যান পরের ওভারে দুটি ছক্কা মারেন কার্টিস ক্যাম্পারকে, পরের ওভারে আরেকটি বেন হোয়াইটকে।

হোয়াইটের পরের ওভারে আরেকটি ছক্কা মেরে গজানন্দ আউট হন ৫ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৫ রান করে। মোদানির সঙ্গে তার জুটি থামে ১১০ রানে।

ততক্ষণে বেড়ে গেছে মোদানির ব্যাটের ধারও। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই ব্যাটসম্যান করেন ৩৯ বলে ৫০। টি-টোয়েন্টি অভিষেকে পাঁচে নেমে ফিফটি করা ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান তিনি।

শেষ ওভারে মার্ক অ্যাডায়ারকে তুলাধুনা করেন মার্টি কেইন। দুটি করে চার ও ছক্কায় ওভার থেকে আসে ২৩ রান।

১৫ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন কেইন। শেষ ৯ ওভার থেকে যুক্তরাষ্ট্র তোলে ১৩২ রান!

বড় লক্ষ্য তাড়ায় আয়ারল্যান্ড দ্বিতীয় ওভারে হারায় অ্যান্ডি বালবার্নিকে। আইরিশ অধিনায়ককে ফেরান ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের পরিচিত মুখ পেসার আলি খান।

আরেক ওপেনার পল স্টার্লিং ঝড়ো শুরু করলেও আউট হয়ে যান ১৫ বলে ৩১ রান করে। তিনে নেমে লর্কান টাকার এক প্রান্ত আগলে রাখলেও রানের গতি বাড়াতে পারেননি। পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা কেউ পারেননি প্রভাব রাখতে।

টাকার শেষ দিকে একটু গতি বাড়িয়ে অপরাজিত থাকেন ৪৯ বলে ৫৭ করে। কিন্তু দল ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বেশ আগেই।

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ বৃহস্পতিবার। এরপর দুই দল খেলবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

যুক্তরাষ্ট্র: ২০ ওভারে ১৮৮/৬ (মোনাঙ্ক ২, স্কট ৮, মার্শাল ৪, বেহেরা ০, মোদানি ৫০, গজানন্দ ৬৫, কেইন ৩৯*, নিসর্গ ০*; ম্যাককার্থি ৪-০-৩০-৪, অ্যাডায়ার ৪-০-৪৬-০, সিমি ৪-০-২৭-১, ক্যাম্পার ৪-০-৪১-০, হোয়াইট ৪-০-৩৬-১)।

আয়ারল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৬২/৬ (স্টার্লিং ৩১, বালবার্নি ৪, টাকার ৫৭*, ক্যাম্পার ১৭, গেটকেক ১৯, রক ৭, ম্যাকক্লিন্টক ৯, অ্যাডায়ার ৯*; সৌরভ ৪-০-২৬-২, আলি খান ৪-০-৩০-২, কেইন ৪-০-৩৭-০, ইয়াসির ৪-০-৩৫-০, নিসর্গ ৪-০-২৭-১)।

ফল: যুক্তরাষ্ট্র ২৬ রানে জয়ী

সিরিজ: ২ ম্যাচ সিরিজে যুক্তরাষ্ট্র ১-০তে এগিয়ে।

ম্যান অব দা ম্যাচ: গজানন্দ সিং।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget