Articles by "খেলাধুলা"



ভ্যান চালকের মেয়ে কাকলী ফুটবল প্রশিক্ষণে যাচ্ছে পর্তুগাল! 


ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাঙাটুঙ্গী ইউনাইটেড মহিলা ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড় কাকলী আক্তার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিন মাস উন্নত ফুটবল প্রশিক্ষণের জন্য পর্তুগাল যাচ্ছেন কাকলী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙাটুঙ্গি ইউনাইটেড মহিলা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তাজুল ইসলাম।

রাণীশংকৈল উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কাশেম ও বানেসার মেয়ে কাকলী আক্তার (১৬)। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট কাকলী। নিজস্ব বসতভিটা ছাড়া আবাদি কোনো জমি নেই কাকলীদের। ঋণের টাকায় একটি ভ্যান কেনেন তার বাবা। সেই ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে ভরণপোষণ। সামান্য আয় দিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব ছিলনা বলে অভাব অনটন লেগেই থাকতো সংসারে। কষ্ট করে সংসার চালিয়ে নিতেন কাকলীর মা বানেসা। দিন আনে দিন খায়, এমন পরিবারে অভাবের সাথে অশান্তি যোগ হয় যখন কাকলীর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে বসেন। সে মুহূর্তে আকাশ ভেঙ্গে পড়ে পরিবারটির ওপর। অভাবের সাথে অশান্তি যোগ হয়ে পরিবারের পরিবেশ বিষময় হয়ে ওঠে কাকলীর কাছে। এ অবস্থায় সংসারের হাল ধরতে এগিয়ে আসেন কাকলীর মা বানেসা বেগম। তিনি নিজের কাছে জমানো কিছু টাকা দিয়ে শুরু করেন চা বিক্রি। রাস্তার ধারে ছোট একটি দোকানে চা বিক্রি করেই পরিবার ও কাকলীর খরচের জোগান দিয়েছেন তিনি।

কয়েক বছর পর কাকলীর বাবা নিজ ভুল বুঝতে পেরে দ্বিতীয় সংসার ছেড়ে আবার ফিরে আসেন তাদের কাছে। পরে সব মেনে নিয়ে নতুন করে আবার সংসার চলা শুরু হয় তাদের। বর্তমানে অসুস্থ বয়োবৃদ্ধ বাবা চালান ভ্যান আর মা করছেন চা বিক্রি। তবে মেয়ের ভিনদেশে যাওয়ার কথা যেন সব কষ্ট ভুলিয়ে রেখেছে তাদের।

কাকলীর মা বানেসা বলেন, ‘মোর বেটি ফুটবল খেলে। তাতে নানান জনে নানা ধরনের খারাপ কথা কহে। খারাপ লাগিলে কান্নাকাটি করেছে ফের খেলিবা যাছে’। তিনি আরো বলেন “হামার থাকিবার জায়গা ছাড়া আর কিছু নাই। স্বামী ভ্যান চালায় আর মুই চা বিক্রি করু। এখন হামার বেটি বিদেশত যাছে, এইডা খুবে ভালো লাগেছে। সবাই মোর বেটির তানে দোয়া করিবেন”।


কাকলীর বাবা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমি দিনমজুরি করে সংসার চালাতাম। পরে একটা ভ্যান চালানো শুরু করি। এখনো ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। আর কাকলীর মা চা বিক্রি করে। আমি বয়সের কারণে নানা রোগে ভুগছি। পায়ের সমস্যা লেগেই আছে। মেয়েটা বিদেশে যাচ্ছে প্রশিক্ষণে, এটি আমার কাছে অনেক আনন্দের।
যেখানে যাই সেখানকার লোকজন খোঁজখবর নেয়। চা খাওয়ায় আর কাকলীর গল্প করে। তখন বুকটা আনন্দে ভরে উঠে। আমার মেয়ের জন্য সকলে দোয়া রাখবেন।’


কাকলী আক্তার বলেন, ‘স্কুল পর্যায়ে যে বঙ্গমাতা ফুটবল খেলাগুলো হতো, সেখান থেকেই আমার শুরু। পরে আমার এক স্যার বললেন, আমি ফুটবলার হবো কি না। আমি বলেছিলাম, যদি ভালো সুযোগ পাওয়া যায় তাহলে হব। পরে তিনি আমাকে রাঙাটুঙ্গিতে যোগাযোগ করিয়ে দেন। আমি বাবা-মাকে বিষয়টি বলি। তারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন এবং ফুটবল কিনে দিয়েছেন। এখন দেশের বাইরে যাচ্ছি আরও উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য। এটি আসলে অনেক বড় আনন্দের খবর আমার কাছে। তবে এ আনন্দের পেছনে অনেক পরিশ্রম রয়েছে।


মেয়ে মানুষের কিসের ফুটবল খেলা। তাও আবার ছোট প্যান্ট আর গেন্জি পরিয়া। লাজ লজ্জা সব উঠে গেল। এইরকম নানা জনের নানা কটু কথা প্রতিনিয়ত শুনার লাগতো।’ সঙ্গে আড় চোখে মানুষের তাকানো, আড়ালের কটু কথা। ‘কেউ কেউ আবার মুখের সামনেই-কি দরকার মেয়ে হয়ে ফুটবল খেলার’ -এভাবে বলে বিব্রত অবস্থায় ফেলে দিত। মানুষের যেন নিত্য দিনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এটি। তবে থেমে থাকেনি আমি। মানুষের কটু কথা থামাতে পারেনি আমার সফলতার পথচলা
মেয়ে হিসেবে ফুটবল খেলতে এসে নানা ধরনের কটু কথা শুনতে হয়েছে।’


কিছুদিন আগেও যারা কটু কথা বলতো এখন তাদের কথার ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। যারা বলেছিল তারাই এখন নিজের সন্তানদের মেয়ে ফুটবলার বানানোর স্বপ্ন দেখছেন। একসময় যারা অপমান করতো তারা এখন আসেন পরামর্শ নেওয়ার জন্য। কিভাবে আমার মত তাদের মেয়েও ফুটবলার হতে পারে।


এ প্রসঙ্গে রাঙাটুঙ্গি ইউনাইটেড মহিলা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১১ জন ছেলে
ব্রাজিলে ও ১১ জন মেয়ে পর্তুগালে ফুটবল প্রশিক্ষণের জন্য যাচ্ছে। সেরা এগারোর মধ্যে আমাদের ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন। সে রাণীশংকৈল
রাঙাটুঙ্গি ইউনাইটেড মহিলা ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়। কাকলী নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে। তার বাবা বৃদ্ধ মানুষ, ভ্যান চালান। কিন্তু এ বয়সে ঠিকমতো চালাতে পারেন না। ভ্যানই একমাত্র আয়ের উৎস তাদের। আর তার মা চা বিক্রি করেন।

একজন কাকলী, যে একটি হতদরিদ্র পরিবারে সংঘাতময় পরিবেশে বেড়ে উঠেও নিজ লক্ষ্যে অবিচল থেকেছেন। তার দৃঢ় মনোবোল, ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম, আর আত্মবিশ্বাস অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সহায়তা করেছে। কাকলী প্রান্তিক মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে আগামী দিনগুলোতে।

এমন খুশির খবর শুনে রাণীশংকৈল পৌরসভার মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, ‘আমার পৌরসভার এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান কাকলী।
তার মা চা বিক্রি করে তাদের সংসারের খরচ চালিয়েছে। আজ সে ফুটবলের উচ্চ প্রশিক্ষণের জন্য পর্তুগাল যাচ্ছে, বিষয়টি আমাদের পৌরসভার জন্য খুবই খুশির সংবাদ।


আরো পড়ুন:


 



রাণীশংকৈলে বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন


ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, বালক (অনূর্ধ্ব-১৭) ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালিকা (অনূর্ধ্ব-১৭) আন্তঃ ইউনিয়ন পর্যায়ের ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

টুর্নামেন্টে ৮ টি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদসহ মোট ১০টি দল অংশগ্রহণ করেন।

সোমবার(২৩মে) বিকালে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টি'ভর সভাপতিত্বে ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্ধোধনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ.লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ সইদুল হক পৌরমেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহা, ম্যাচ কমিশনার সাবেক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বীরমুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, আবুল কাশেম ও জমিরুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মকবুল হোসেন ও নজরুল ইসলাম, প্রাথমিক সহকারি কর্মকর্তা ঘনশ্যাম রায়, পৌর কাউন্সিলর হালিমা আক্তার ডলি, রুহুল আমীন, ইসাহাক আলী ও আবু তালেব সহ সাংবাদিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং ক্রীড়ামোদী দর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।


উক্ত উদ্বোধনী খেলায় অংশ গ্রহন করেন রাণীশংকৈল পৌরসভা একাদশ নেকমরদ ইউপি একাদশ ও নন্দুয়ার ইউপি একাদশ ধর্মগড় ইউপি একাদশ

দু’টি খেলার প্রথমটিতে পৌরসভা একাদশ ১-০ গোলে নেকমরদ ইউপি একাদশকে হারিয়ে জয়ী হয়। ২য় খেলায় নন্দুয়ার ইউপি একাদশ ধর্মগড় ইউপি একাদশকে ২-০ গোলে হারিয়ে জয়ী হয়।

গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারি অধ্যাপক প্রশান্ত বসাক। খেলার ধারা বর্ণনায় ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম ও তারেক আজিজ।


আরো পড়ুন:


আইসিসির সেরা টেস্ট অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের তালিকায় মুমিনুল
Mominul is on the ICC's list of the best Test all-rounders


ভারতের ইংল্যান্ড সফর দিয়ে শুরু হয়েছিল আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসর। এখনও এই প্রতিযোগিতা চলমান। এখন পর্যন্ত যে ৩০টি ম্যাচ হয়েছে তার মধ্যে থেকে সেরা ৫টি অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের তালিকা প্রকাশ করেছে আইসিসি, যেখানে আছেন বাংলাদেশের মুমিনুল হক।

আরো পড়ুন: মেডিকেল ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় সুব্রত গাইন ও তার পরিবার

গত জানুয়ারিতে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে মুমিনুলের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স জায়গা করে নিয়েছে রবীন্দ্র জাদেজা, ম্যাট হেনরি, শার্দুল ঠাকুর ও কেশব মহারাজের সঙ্গে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৮৮ রানের ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তার আগে স্বাগতিকদের দুই সেরা স্কোরার ডেভন কনওয়ে ও হেনরি নিকলসকে ফেরান মুমিনুল। তারপর ৪০ রানের লক্ষ্যে অপরাজিত ছিলেন ১৩ রানে।


আইসিসি তাদের প্রকাশিত তালিকায় মুমিনুলকে নিয়ে লিখেছে, ‘অধিনায়ক মুমিনুল নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে উজ্জ্বল ছিলেন।’ তারা আরো বলেছে, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় জয় অর্জনে অধিনায়ক মুমিনুল হক তার দলকে সহায়তা করেছেন। বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন নিউ জিল্যান্ডকে তাদের মাটিতে প্রথমবার হারিয়েছে। প্রথম ইনিংসে উজ্জ্বল ছিলেন মুমিনুল, ২৪৪ বলে ৮৮ রানের গোছানো ইনিংস খেলেন।


পাশাপাশি ১২২ রান করা ডেভন কনওয়ে ও ১২৭ বলে ৭৫ রান করা বিপদজনক হেনরি নিকলসের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। তারপর আবার ৪০ রানের লক্ষ্যে নেমে জয়সূচক রানগুলো করার পথেও মুমিনুল ছিলেন অনবদ্য।


আগের দিন আইসিসির প্রকাশিত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা অঘটনের তালিকায় জায়গা পেয়েছিল বাংলাদেশের মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জয়।



আরো পড়ুন:


 বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই পয়েন্টের নিশ্চয়তা নয়
Match against Bangladesh does not mean guarantee of points


মাসখানেক আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে যখন সুপার লিগ পয়েন্ট তালিকায় ১০০ পয়েন্ট পাওয়া প্রথম দল হলো বাংলাদেশ, তখনো কত হিসাব-নিকাশ! ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ‘বাছাইপর্ব’ এই সুপার লিগে সেরা সাত দলের মধ্যে থাকতে পারবে তো বাংলাদেশ?


আফগানিস্তানের কাছে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটা বাংলাদেশ হেরে যাওয়ায় হিসাব-নিকাশে শঙ্কার পাল্লা আরও ভারী হয়েছে। তখন পর্যন্ত হিসাব, পরের সিরিজটাই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে, যেখানে কখনো দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডেতে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ।

সেঞ্চুরিয়নে গতকাল প্রথম ওয়ানডেতে ৩৮ রানের জয়ে বাংলাদেশ ইতিহাসটা একটু বদলে দেওয়ায় হিসাব-নিকাশে কোনো আহামরি বদল আসেনি। তবে সুপার লিগ শেষে দুই দলের বিশ্বকাপে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দুই রকম ভাবনা জাগিয়েছে। বাংলাদেশ যেখানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থানটা আরেকটু সুসংহত করেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি সুযোগ পাওয়াই এখন সংশয়ে।


সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে তাই জয় এখন খুব দরকার দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে দলটির অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা সতর্ক। তাঁর সোজা কথা, বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই তো আর পয়েন্টের নিশ্চয়তা নয়!

১৩ দলের সুপার লিগে প্রতিটি দল ২৪টি করে ম্যাচ খেলবে, ১৬ ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ১১০। তালিকার দুই নম্বরে থাকা ইংল্যান্ডের চেয়ে ১৫ পয়েন্ট এগিয়ে তামিম-সাকিবরা।

 অবশ্য ম্যাচ জিতলেই ১০ পয়েন্ট বলে পয়েন্টের ব্যবধানটা অত বড় মনে হয় না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচের পর বাংলাদেশ আগামী মে মাসে সিরিজ খেলবে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে, এরপর ২০২৩ সালের মার্চে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডকে আতিথ্য দেবে।

আরো পড়ুন: সন্তানের সামনে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় আদালতে মামলা

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা? ১১ ম্যাচ শেষে মাত্র ৩৯ পয়েন্ট তাদের। ২০২৩ বিশ্বকাপের স্বাগতিক ভারতের পয়েন্ট তালিকায় অবস্থানের ভিত্তিতে প্রথম সাত কিংবা আট দল সরাসরি যাবে বিশ্বকাপে, এই মুহূর্তে সাত নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৯ ম্যাচে ৬০, আটে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৫ ম্যাচে ৫০। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পরের দুই ম্যাচ জিতলে (এবং নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষ করায় ধীরগতির কারণে পয়েন্ট না হারালে) দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট হবে ৫৯।

সুপার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, স্বাগতিক ভারত তো সরাসরি সুযোগ পাবেই বিশ্বকাপে, ভারত যদি পয়েন্ট তালিকার সেরা আট দলের মধ্যে থাকে, সে ক্ষেত্রে প্রথম আট দল সরাসরি যাবে বিশ্বকাপে। আর ভারতের অবস্থান ৮-এর নিচে হলে সুপার লিগ থেকে প্রথম সাত দল যাবে বিশ্বকাপে। 


১৩ দলের বাকি পাঁচ দল আনুষ্ঠানিক বাছাইপর্ব খেলবে নিচের স্তরের বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা আরও পাঁচ দলের সঙ্গে, ১০ দলের সেই বাছাইপর্ব থেকে ২ দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে।


গতকাল বাংলাদেশের কাছে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকার সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার শঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ম্যাচের পরের সংবাদ সম্মেলনে। তাতে প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার উত্তর, ‘(সুপার লিগে) পয়েন্টের হিসাব করলে বলব, জানি না এই হার আমাদের কোথায় রেখেছে। শুধু এতটুকুই জানি, রোববারের ম্যাচটা জিততেই হবে, আর সেটিতে জিততে আমাদের তিন বিভাগেই আরও ভালো করতে হবে। এ কাজ ধারাবাহিকভাবে সব ম্যাচেই করে যেতে পারলে পয়েন্টের হিসাব এমনিই ঠিক হয়ে যাবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলছি, সে কারণে তো আর পয়েন্ট পাব নিশ্চিত ধরে নিয়ে মাঠে নামতে পারি না।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকাকে খেলতে হবে ভারত, ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

সুপার লিগ নিয়ে আরও যা জেনে নিতে পারেন

পয়েন্টের হিসাব কীভাবে

জয়ের জন্য ১০ পয়েন্ট। কোনো ফল না হলে দুই দলকে ৫ পয়েন্ট করে দেওয়া হবে। হেরে যাওয়া দল কোনো পয়েন্ট পাবে না। 

আরো পড়ুন: তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে গ্যাস বন্ধের হুমকি রাশিয়ার

তবে আরও কিছু নিয়ম এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।

১. পরিত্যক্ত ম্যাচের পয়েন্ট ভাগাভাগির ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম আছে। যদি আইসিসির ‘পিচ ও আউটফিল্ড পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া’ অনুযায়ী মাঠ খেলার অনুপযুক্ত থাকে, সে ক্ষেত্রে সফরকারী দলই পুরো ১০ পয়েন্ট পাবে।

২. কোনো দলের ওভাররেট ধীর হলে, অর্থাৎ ৫০ ওভার বোলিংয়ের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি লাগলে সে ক্ষেত্রে ম্যাচের পয়েন্ট থেকে ১ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত ভারত (১ ম্যাচ), দক্ষিণ আফ্রিকা (১ ম্যাচ) ও শ্রীলঙ্কা (৩ ম্যাচ) স্লো ওভাররেটের কারণে পয়েন্ট হারিয়েছে।


৩. কোনো ম্যাচ টাই হলে, অর্থাৎ দুই দলেরই ইনিংস সমান রানে শেষ হলে সে ক্ষেত্রে সুপার ওভার হবে। সুপার ওভার শেষেও সমতা থাকলে যতক্ষণ পর্যন্ত না বিজয়ী নির্ধারিত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত একটি করে সুপার ওভার হতেই থাকবে।


দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে

সুপার লিগের পয়েন্ট তালিকায় যদি দুই দলের পয়েন্ট সমান হয়, সে ক্ষেত্রে কী হবে? সহজ নিয়ম! প্রথমে দেখা হবে সমান পয়েন্ট পাওয়া দুই দলের মধ্যে কারা বেশি ম্যাচ জিতেছে। সেখানেও মিলে গেলে হিসাবে আসবে নেট রানরেট। সেখানেও পার্থক্য তৈরি না হলে? ২০২০ সালের ১ জুলাই আইসিসির ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের মধ্যে যারা এগিয়ে ছিল, তারাই চলে যাবে বিশ্বকাপে। 

আরো পড়ুন:






 দাপুটে জয়ে ইতিহাস বাংলাদেশের
History of Bangladesh after the victory of Daputa


ম্যাচটা আনুষ্ঠানিকভাবে যখন শেষ হলো, তখন দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৩৮ রানের। দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাঠে হারানোর অপেক্ষা ২০ বছর ও ২০তম চেষ্টায় শেষ হলো বাংলাদেশের।    


ম্যাচ অবশ্য এর আগেই শেষ। ৩৮ তম ওভারে রাসি ফন ডার ডুসেনের যখন হঠাৎ ‘আত্মহত্যা’র ইচ্ছে হলো, তখন পর্দা গোটানোর শুরু। আর মেহেদী হাসান মিরাজ সে পর্দা পুরোপুরিই নামানোর ব্যবস্থা করলেন। ৪৬তম ওভারে মিরাজের বলে তেড়ে এলেন মিলার, কিন্তু বলের ফ্লাইট মিস করে ক্রিজের যেখানে আটকা পড়লেন, সেখান থেকে আর ফেরার উপায় থাকে না। ম্যাচের তখনো ২৭ বল বাকি, দক্ষিণ আফ্রিকাও অলআউট হয়নি। কিন্তু ম্যাচ শেষ তখনই। 


রিভিউ নিয়ে কেশব মহারাজকে এলবিডব্লু করে মাহমুদউল্লাহর উল্লাস শুধু ব্যাপারটাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। ৭ বল বাকি থাকতে ২৭৬ রানে অলআউট হয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হেরে বসেছে কদিন আগেই ভারতকে ধবল ধোলাই করা দক্ষিণ আফ্রিকা।

৪৫ ওভার শেষেও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে থাকবে এটা দুই ঘণ্টা আগেও অকল্পনীয় ছিল। শরীফুল ইসলামের কাটার আর তাসকিন আহমেদের গতিময় দুটি বলে ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে স্বাগতিক দল। লক্ষ্য যখন ৩১৫ রান, তখন ম্যাচটা তো একদিকে হেলেই পড়েছে, তাই না?

আরো পড়ুন: সন্তানের সামনে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় আদালতে মামলা

কিন্তু প্রতিপক্ষ দলে যে একজন রাসি ফন ডার ডুসেন আছেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তাঁর গড় ৭৫ এর ওপর। এর পেছনে একটি ছোট্ট বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। ঘরের মাঠে তাড়া করতে নেমে ডুসেন কখনো আউট হননি!


একদিকে টেম্বা বাভুমা খুঁটি গাড়লেন, অন্যদিকে ফন ডার ডুসেন তার মতো ইনিংস গড়ে নিয়েছেন। একদিকে যেখানে বাভুমার মতো ব্যাটসম্যানও চাপ টের পাচ্ছিলেন, করছিলেন ছটফট; ওদিকে অবিশ্বাস্য শীতল ডুসেন। ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করছেন, কোনো ঝুঁকি ছাড়া বাউন্ডারি আদায় করে নিচ্ছেন। শুধু সাকিব আল হাসানের বলেই একটু অস্বস্তি দেখা গেছে তাঁর মাঝে।

ইনিংসের মাঝপথেও তাই বাংলাদেশের ওপেনারদের দেখানো পথে এগিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। রান রেট বা লক্ষ্যের দিকে না তাকিয়ে আগে ভিত্তি গড়েছে। ৮৫ রানের জুটিটা শরীফুলের বাড়তি বাউন্স ও বাভুমার লাফিয়ে কাট করার সম্মিলনে থামল। এরপরও দক্ষিণ আফ্রিকার আশা শেষ হয়নি। কারণ, তখন উইকেটে এসেছেন ডেভিড মিলার।

মিলার নামতেই ডুসেন একটু রক্ষণাত্মক হয়েছেন। আক্রমণের দায়িত্ব পেয়ে দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছিলেন মিলার। কিন্তু ডুসেনের যে হঠাৎ চরিত্রবিরোধী কিছু করার ইচ্ছা হলো। ৮১ রানে থাকা অবস্থায় রান আউট হতে পারতেন। টিভি আম্পায়ারের আলসেমি সে যাত্রা বাঁচিয়ে দিয়েছিল। 

কিন্তু নিজের শেষ ওভার করতে আসা তাসকিনকে দেখে তাঁর কী জানি হলো। অফ সাইডের ওয়াইডের বল টেনে সুইপ করলেন, সেটা স্কয়ার লেগে অনেকটা দৌড়ে ঝাঁপ দিয়ে ধরে নিলেন ইয়াসির আলী। ঘরের মাঠে তাড়া করতে নেমে অবশেষে আউট হওয়ার স্বাদ পাওয়ার আগে ৮৬ রান করেছেন ডুসেন। 

ইনিংসের শুরুতে টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানের পর সেট হওয়া ব্যাটসম্যানকেও বিদায় করেছেন তাসকিন। ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের নায়ক তাই তাসকিন।

এরপরই আন্দিলে ফিকোয়াও নামলেন, এবং দলের বিপদ বাড়ালেন। ২ রানের ইনিংসে ১৩ বল খরচ করে, রানরেটকে প্রায় নাগালের বাইরে নিয়ে গেলেন। ৪২তম ওভারে যখন আউট হলেন ফিকোয়াও, সাড়ে ৯ এর রানরেট ১২-এর ওপরে চলে গেছে। ৮ ওভারে ১০৮ রান দরকার দক্ষিণ আফ্রিকার, এই অবস্থায় বোলিংয়ে এসেছেন শরীফুল। পানিশূন্যতায় পেশিতে টান পাওয়া পেসার তিন বলে ১৪ রান দিলেন। মিলারকে বেশ উল্লাসও করতে দেখা গেল, কিন্তু পরের তিন বলে মাত্র ৩ রান আবার নিয়ন্ত্রণ এনে দিল বাংলাদেশকে।

পরের ওভারেই মার্কো ইয়ানসেন সীমানায় ধরা পড়লেন মিরাজের বলে। রাবাদাও মিরাজের তৃতীয় শিকার বললেন সেই ওভারেই। ৬ ওভারে ৮৪ রানের আপাত-অসম্ভব এক লক্ষ্য তখন দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে। মোস্তাফিজের প্রথম বলটা চার মেরে নড়েচড়ে বসতে বললেন মিরাজ। কিন্তু বাকি পাঁচ বলে মাত্র ২ রান দিয়ে মোস্তাফিজ আবারও নিয়ন্ত্রণ বুঝে নিলেন। মিরাজের একটি বাড়তি স্পিন ও বাউন্সের বলে ৭৯ রানের ইনিংসটি থামল। ৫৭ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছিলেন মিলার। কিন্তু যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছিল, বাউন্ডারি সংখ্যা দ্বিগুণ হলেই হয়তো শুধু আজ ম্যাচটা বের করতে পারত দক্ষিণ আফ্রিকা। মিলারের উইকেটসহ ৬১ রানে ৪ উইকেট পেয়েছেন মিরাজ।

২৪২ রান ৯ উইকেট হারানো স্বাগতিক দল এর পর হারের ব্যবধান কমিয়েছে। মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহর বল বেশ কয়েকবার সীমানাছাড়া করে কেশব মহারাজ ও লুঙ্গি এনগিডি শেষের বিনোদন দিয়েছেন। 

আরো পড়ুন: তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে গ্যাস বন্ধের হুমকি রাশিয়ার

বল হাতে আজ কোনো উইকেট পাননি সাকিব। তবু ম্যাচসেরার পুরস্কারটা তাঁর হাতেই গেছে। কারণটা বুঝতে হলে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তাকাতে হবে।  সেঞ্চুরিয়নে আজ প্রতিপক্ষকে হতাশ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। এ দুজনের রেকর্ড গড়া জুটি ৯৫ রান এনে দিলেও প্রায় ২২ ওভার শেষ হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। তিনে নামা সাকিবের ইতিবাচক ব্যাটিং ম্যাচটা পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। ২৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার ধাক্কা তাই ওভাবে টের পায়নি বাংলাদেশ। ইয়াসির আলীর সঙ্গে ৮২ বলে ১১৫ রানের জুটিতেই প্রথম তিন শ ছাড়ানোর আশা জাগে। 


৪ রানের মধ্যে সাকিব (৭৭) ও ইয়াসির (৫০) ফিরে গেলেও সে শক্ত ভিত্তিকে কাজে লাগাতে ভুল করেনি দল। মাহমুদউল্লাহ, আফিফ ও মিরাজের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে শেষ ১০ ওভারে ৯১ রান তোলে বাংলাদেশ। আর তাতেই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম জয়ের ভিত পেয়েছেন সাকিবেরা।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ : ৩১৪/৭ (তামিম ৪১, লিটন ৫০, সাকিব ৭৭, ইয়াসির ৫০ ; ইয়ানসেন ২/৫৭, মহারাজ ২/৫৬)


দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৮.৫ ওভারে ২৭৬ (ফন ডার ডুসেন ৮৬, মিলার ৭৯, বাভুমা ৩১ ; শরীফুল ২/৪৭, তাসকিন ৩/৩৬, মিরাজ ৪/৬১)


আরো পড়ুন:



যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget