Articles by "খেলা"

আইসিসির সেরা টেস্ট অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের তালিকায় মুমিনুল
Mominul is on the ICC's list of the best Test all-rounders


ভারতের ইংল্যান্ড সফর দিয়ে শুরু হয়েছিল আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় আসর। এখনও এই প্রতিযোগিতা চলমান। এখন পর্যন্ত যে ৩০টি ম্যাচ হয়েছে তার মধ্যে থেকে সেরা ৫টি অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের তালিকা প্রকাশ করেছে আইসিসি, যেখানে আছেন বাংলাদেশের মুমিনুল হক।

আরো পড়ুন: মেডিকেল ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় সুব্রত গাইন ও তার পরিবার

গত জানুয়ারিতে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে মুমিনুলের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স জায়গা করে নিয়েছে রবীন্দ্র জাদেজা, ম্যাট হেনরি, শার্দুল ঠাকুর ও কেশব মহারাজের সঙ্গে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৮৮ রানের ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তার আগে স্বাগতিকদের দুই সেরা স্কোরার ডেভন কনওয়ে ও হেনরি নিকলসকে ফেরান মুমিনুল। তারপর ৪০ রানের লক্ষ্যে অপরাজিত ছিলেন ১৩ রানে।


আইসিসি তাদের প্রকাশিত তালিকায় মুমিনুলকে নিয়ে লিখেছে, ‘অধিনায়ক মুমিনুল নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে উজ্জ্বল ছিলেন।’ তারা আরো বলেছে, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় জয় অর্জনে অধিনায়ক মুমিনুল হক তার দলকে সহায়তা করেছেন। বর্তমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন নিউ জিল্যান্ডকে তাদের মাটিতে প্রথমবার হারিয়েছে। প্রথম ইনিংসে উজ্জ্বল ছিলেন মুমিনুল, ২৪৪ বলে ৮৮ রানের গোছানো ইনিংস খেলেন।


পাশাপাশি ১২২ রান করা ডেভন কনওয়ে ও ১২৭ বলে ৭৫ রান করা বিপদজনক হেনরি নিকলসের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। তারপর আবার ৪০ রানের লক্ষ্যে নেমে জয়সূচক রানগুলো করার পথেও মুমিনুল ছিলেন অনবদ্য।


আগের দিন আইসিসির প্রকাশিত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা অঘটনের তালিকায় জায়গা পেয়েছিল বাংলাদেশের মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জয়।



আরো পড়ুন:


 বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই পয়েন্টের নিশ্চয়তা নয়
Match against Bangladesh does not mean guarantee of points


মাসখানেক আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে যখন সুপার লিগ পয়েন্ট তালিকায় ১০০ পয়েন্ট পাওয়া প্রথম দল হলো বাংলাদেশ, তখনো কত হিসাব-নিকাশ! ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ‘বাছাইপর্ব’ এই সুপার লিগে সেরা সাত দলের মধ্যে থাকতে পারবে তো বাংলাদেশ?


আফগানিস্তানের কাছে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটা বাংলাদেশ হেরে যাওয়ায় হিসাব-নিকাশে শঙ্কার পাল্লা আরও ভারী হয়েছে। তখন পর্যন্ত হিসাব, পরের সিরিজটাই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে, যেখানে কখনো দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওয়ানডেতে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ।

সেঞ্চুরিয়নে গতকাল প্রথম ওয়ানডেতে ৩৮ রানের জয়ে বাংলাদেশ ইতিহাসটা একটু বদলে দেওয়ায় হিসাব-নিকাশে কোনো আহামরি বদল আসেনি। তবে সুপার লিগ শেষে দুই দলের বিশ্বকাপে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দুই রকম ভাবনা জাগিয়েছে। বাংলাদেশ যেখানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থানটা আরেকটু সুসংহত করেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি সুযোগ পাওয়াই এখন সংশয়ে।


সিরিজের বাকি দুই ম্যাচে তাই জয় এখন খুব দরকার দক্ষিণ আফ্রিকার। তবে দলটির অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা সতর্ক। তাঁর সোজা কথা, বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই তো আর পয়েন্টের নিশ্চয়তা নয়!

১৩ দলের সুপার লিগে প্রতিটি দল ২৪টি করে ম্যাচ খেলবে, ১৬ ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ১১০। তালিকার দুই নম্বরে থাকা ইংল্যান্ডের চেয়ে ১৫ পয়েন্ট এগিয়ে তামিম-সাকিবরা।

 অবশ্য ম্যাচ জিতলেই ১০ পয়েন্ট বলে পয়েন্টের ব্যবধানটা অত বড় মনে হয় না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের বাকি দুই ম্যাচের পর বাংলাদেশ আগামী মে মাসে সিরিজ খেলবে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে, এরপর ২০২৩ সালের মার্চে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডকে আতিথ্য দেবে।

আরো পড়ুন: সন্তানের সামনে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় আদালতে মামলা

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা? ১১ ম্যাচ শেষে মাত্র ৩৯ পয়েন্ট তাদের। ২০২৩ বিশ্বকাপের স্বাগতিক ভারতের পয়েন্ট তালিকায় অবস্থানের ভিত্তিতে প্রথম সাত কিংবা আট দল সরাসরি যাবে বিশ্বকাপে, এই মুহূর্তে সাত নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ৯ ম্যাচে ৬০, আটে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৫ ম্যাচে ৫০। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পরের দুই ম্যাচ জিতলে (এবং নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষ করায় ধীরগতির কারণে পয়েন্ট না হারালে) দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট হবে ৫৯।

সুপার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, স্বাগতিক ভারত তো সরাসরি সুযোগ পাবেই বিশ্বকাপে, ভারত যদি পয়েন্ট তালিকার সেরা আট দলের মধ্যে থাকে, সে ক্ষেত্রে প্রথম আট দল সরাসরি যাবে বিশ্বকাপে। আর ভারতের অবস্থান ৮-এর নিচে হলে সুপার লিগ থেকে প্রথম সাত দল যাবে বিশ্বকাপে। 


১৩ দলের বাকি পাঁচ দল আনুষ্ঠানিক বাছাইপর্ব খেলবে নিচের স্তরের বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা আরও পাঁচ দলের সঙ্গে, ১০ দলের সেই বাছাইপর্ব থেকে ২ দল সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে।


গতকাল বাংলাদেশের কাছে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকার সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার শঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ম্যাচের পরের সংবাদ সম্মেলনে। তাতে প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার উত্তর, ‘(সুপার লিগে) পয়েন্টের হিসাব করলে বলব, জানি না এই হার আমাদের কোথায় রেখেছে। শুধু এতটুকুই জানি, রোববারের ম্যাচটা জিততেই হবে, আর সেটিতে জিততে আমাদের তিন বিভাগেই আরও ভালো করতে হবে। এ কাজ ধারাবাহিকভাবে সব ম্যাচেই করে যেতে পারলে পয়েন্টের হিসাব এমনিই ঠিক হয়ে যাবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলছি, সে কারণে তো আর পয়েন্ট পাব নিশ্চিত ধরে নিয়ে মাঠে নামতে পারি না।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকাকে খেলতে হবে ভারত, ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

সুপার লিগ নিয়ে আরও যা জেনে নিতে পারেন

পয়েন্টের হিসাব কীভাবে

জয়ের জন্য ১০ পয়েন্ট। কোনো ফল না হলে দুই দলকে ৫ পয়েন্ট করে দেওয়া হবে। হেরে যাওয়া দল কোনো পয়েন্ট পাবে না। 

আরো পড়ুন: তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে গ্যাস বন্ধের হুমকি রাশিয়ার

তবে আরও কিছু নিয়ম এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।

১. পরিত্যক্ত ম্যাচের পয়েন্ট ভাগাভাগির ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম আছে। যদি আইসিসির ‘পিচ ও আউটফিল্ড পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া’ অনুযায়ী মাঠ খেলার অনুপযুক্ত থাকে, সে ক্ষেত্রে সফরকারী দলই পুরো ১০ পয়েন্ট পাবে।

২. কোনো দলের ওভাররেট ধীর হলে, অর্থাৎ ৫০ ওভার বোলিংয়ের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি লাগলে সে ক্ষেত্রে ম্যাচের পয়েন্ট থেকে ১ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত ভারত (১ ম্যাচ), দক্ষিণ আফ্রিকা (১ ম্যাচ) ও শ্রীলঙ্কা (৩ ম্যাচ) স্লো ওভাররেটের কারণে পয়েন্ট হারিয়েছে।


৩. কোনো ম্যাচ টাই হলে, অর্থাৎ দুই দলেরই ইনিংস সমান রানে শেষ হলে সে ক্ষেত্রে সুপার ওভার হবে। সুপার ওভার শেষেও সমতা থাকলে যতক্ষণ পর্যন্ত না বিজয়ী নির্ধারিত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত একটি করে সুপার ওভার হতেই থাকবে।


দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে

সুপার লিগের পয়েন্ট তালিকায় যদি দুই দলের পয়েন্ট সমান হয়, সে ক্ষেত্রে কী হবে? সহজ নিয়ম! প্রথমে দেখা হবে সমান পয়েন্ট পাওয়া দুই দলের মধ্যে কারা বেশি ম্যাচ জিতেছে। সেখানেও মিলে গেলে হিসাবে আসবে নেট রানরেট। সেখানেও পার্থক্য তৈরি না হলে? ২০২০ সালের ১ জুলাই আইসিসির ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের মধ্যে যারা এগিয়ে ছিল, তারাই চলে যাবে বিশ্বকাপে। 

আরো পড়ুন:






 দাপুটে জয়ে ইতিহাস বাংলাদেশের
History of Bangladesh after the victory of Daputa


ম্যাচটা আনুষ্ঠানিকভাবে যখন শেষ হলো, তখন দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৩৮ রানের। দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাঠে হারানোর অপেক্ষা ২০ বছর ও ২০তম চেষ্টায় শেষ হলো বাংলাদেশের।    


ম্যাচ অবশ্য এর আগেই শেষ। ৩৮ তম ওভারে রাসি ফন ডার ডুসেনের যখন হঠাৎ ‘আত্মহত্যা’র ইচ্ছে হলো, তখন পর্দা গোটানোর শুরু। আর মেহেদী হাসান মিরাজ সে পর্দা পুরোপুরিই নামানোর ব্যবস্থা করলেন। ৪৬তম ওভারে মিরাজের বলে তেড়ে এলেন মিলার, কিন্তু বলের ফ্লাইট মিস করে ক্রিজের যেখানে আটকা পড়লেন, সেখান থেকে আর ফেরার উপায় থাকে না। ম্যাচের তখনো ২৭ বল বাকি, দক্ষিণ আফ্রিকাও অলআউট হয়নি। কিন্তু ম্যাচ শেষ তখনই। 


রিভিউ নিয়ে কেশব মহারাজকে এলবিডব্লু করে মাহমুদউল্লাহর উল্লাস শুধু ব্যাপারটাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। ৭ বল বাকি থাকতে ২৭৬ রানে অলআউট হয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হেরে বসেছে কদিন আগেই ভারতকে ধবল ধোলাই করা দক্ষিণ আফ্রিকা।

৪৫ ওভার শেষেও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে থাকবে এটা দুই ঘণ্টা আগেও অকল্পনীয় ছিল। শরীফুল ইসলামের কাটার আর তাসকিন আহমেদের গতিময় দুটি বলে ৩৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে স্বাগতিক দল। লক্ষ্য যখন ৩১৫ রান, তখন ম্যাচটা তো একদিকে হেলেই পড়েছে, তাই না?

আরো পড়ুন: সন্তানের সামনে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় আদালতে মামলা

কিন্তু প্রতিপক্ষ দলে যে একজন রাসি ফন ডার ডুসেন আছেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তাঁর গড় ৭৫ এর ওপর। এর পেছনে একটি ছোট্ট বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। ঘরের মাঠে তাড়া করতে নেমে ডুসেন কখনো আউট হননি!


একদিকে টেম্বা বাভুমা খুঁটি গাড়লেন, অন্যদিকে ফন ডার ডুসেন তার মতো ইনিংস গড়ে নিয়েছেন। একদিকে যেখানে বাভুমার মতো ব্যাটসম্যানও চাপ টের পাচ্ছিলেন, করছিলেন ছটফট; ওদিকে অবিশ্বাস্য শীতল ডুসেন। ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করছেন, কোনো ঝুঁকি ছাড়া বাউন্ডারি আদায় করে নিচ্ছেন। শুধু সাকিব আল হাসানের বলেই একটু অস্বস্তি দেখা গেছে তাঁর মাঝে।

ইনিংসের মাঝপথেও তাই বাংলাদেশের ওপেনারদের দেখানো পথে এগিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। রান রেট বা লক্ষ্যের দিকে না তাকিয়ে আগে ভিত্তি গড়েছে। ৮৫ রানের জুটিটা শরীফুলের বাড়তি বাউন্স ও বাভুমার লাফিয়ে কাট করার সম্মিলনে থামল। এরপরও দক্ষিণ আফ্রিকার আশা শেষ হয়নি। কারণ, তখন উইকেটে এসেছেন ডেভিড মিলার।

মিলার নামতেই ডুসেন একটু রক্ষণাত্মক হয়েছেন। আক্রমণের দায়িত্ব পেয়ে দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছিলেন মিলার। কিন্তু ডুসেনের যে হঠাৎ চরিত্রবিরোধী কিছু করার ইচ্ছা হলো। ৮১ রানে থাকা অবস্থায় রান আউট হতে পারতেন। টিভি আম্পায়ারের আলসেমি সে যাত্রা বাঁচিয়ে দিয়েছিল। 

কিন্তু নিজের শেষ ওভার করতে আসা তাসকিনকে দেখে তাঁর কী জানি হলো। অফ সাইডের ওয়াইডের বল টেনে সুইপ করলেন, সেটা স্কয়ার লেগে অনেকটা দৌড়ে ঝাঁপ দিয়ে ধরে নিলেন ইয়াসির আলী। ঘরের মাঠে তাড়া করতে নেমে অবশেষে আউট হওয়ার স্বাদ পাওয়ার আগে ৮৬ রান করেছেন ডুসেন। 

ইনিংসের শুরুতে টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানের পর সেট হওয়া ব্যাটসম্যানকেও বিদায় করেছেন তাসকিন। ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের নায়ক তাই তাসকিন।

এরপরই আন্দিলে ফিকোয়াও নামলেন, এবং দলের বিপদ বাড়ালেন। ২ রানের ইনিংসে ১৩ বল খরচ করে, রানরেটকে প্রায় নাগালের বাইরে নিয়ে গেলেন। ৪২তম ওভারে যখন আউট হলেন ফিকোয়াও, সাড়ে ৯ এর রানরেট ১২-এর ওপরে চলে গেছে। ৮ ওভারে ১০৮ রান দরকার দক্ষিণ আফ্রিকার, এই অবস্থায় বোলিংয়ে এসেছেন শরীফুল। পানিশূন্যতায় পেশিতে টান পাওয়া পেসার তিন বলে ১৪ রান দিলেন। মিলারকে বেশ উল্লাসও করতে দেখা গেল, কিন্তু পরের তিন বলে মাত্র ৩ রান আবার নিয়ন্ত্রণ এনে দিল বাংলাদেশকে।

পরের ওভারেই মার্কো ইয়ানসেন সীমানায় ধরা পড়লেন মিরাজের বলে। রাবাদাও মিরাজের তৃতীয় শিকার বললেন সেই ওভারেই। ৬ ওভারে ৮৪ রানের আপাত-অসম্ভব এক লক্ষ্য তখন দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে। মোস্তাফিজের প্রথম বলটা চার মেরে নড়েচড়ে বসতে বললেন মিরাজ। কিন্তু বাকি পাঁচ বলে মাত্র ২ রান দিয়ে মোস্তাফিজ আবারও নিয়ন্ত্রণ বুঝে নিলেন। মিরাজের একটি বাড়তি স্পিন ও বাউন্সের বলে ৭৯ রানের ইনিংসটি থামল। ৫৭ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কা মেরেছিলেন মিলার। কিন্তু যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছিল, বাউন্ডারি সংখ্যা দ্বিগুণ হলেই হয়তো শুধু আজ ম্যাচটা বের করতে পারত দক্ষিণ আফ্রিকা। মিলারের উইকেটসহ ৬১ রানে ৪ উইকেট পেয়েছেন মিরাজ।

২৪২ রান ৯ উইকেট হারানো স্বাগতিক দল এর পর হারের ব্যবধান কমিয়েছে। মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহর বল বেশ কয়েকবার সীমানাছাড়া করে কেশব মহারাজ ও লুঙ্গি এনগিডি শেষের বিনোদন দিয়েছেন। 

আরো পড়ুন: তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে গ্যাস বন্ধের হুমকি রাশিয়ার

বল হাতে আজ কোনো উইকেট পাননি সাকিব। তবু ম্যাচসেরার পুরস্কারটা তাঁর হাতেই গেছে। কারণটা বুঝতে হলে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তাকাতে হবে।  সেঞ্চুরিয়নে আজ প্রতিপক্ষকে হতাশ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। এ দুজনের রেকর্ড গড়া জুটি ৯৫ রান এনে দিলেও প্রায় ২২ ওভার শেষ হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। তিনে নামা সাকিবের ইতিবাচক ব্যাটিং ম্যাচটা পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। ২৯ রানের মধ্যে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার ধাক্কা তাই ওভাবে টের পায়নি বাংলাদেশ। ইয়াসির আলীর সঙ্গে ৮২ বলে ১১৫ রানের জুটিতেই প্রথম তিন শ ছাড়ানোর আশা জাগে। 


৪ রানের মধ্যে সাকিব (৭৭) ও ইয়াসির (৫০) ফিরে গেলেও সে শক্ত ভিত্তিকে কাজে লাগাতে ভুল করেনি দল। মাহমুদউল্লাহ, আফিফ ও মিরাজের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে শেষ ১০ ওভারে ৯১ রান তোলে বাংলাদেশ। আর তাতেই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম জয়ের ভিত পেয়েছেন সাকিবেরা।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ : ৩১৪/৭ (তামিম ৪১, লিটন ৫০, সাকিব ৭৭, ইয়াসির ৫০ ; ইয়ানসেন ২/৫৭, মহারাজ ২/৫৬)


দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪৮.৫ ওভারে ২৭৬ (ফন ডার ডুসেন ৮৬, মিলার ৭৯, বাভুমা ৩১ ; শরীফুল ২/৪৭, তাসকিন ৩/৩৬, মিরাজ ৪/৬১)


আরো পড়ুন:



 করাচি মহাকাব্যে পাকিস্তানের নায়ক বাবর, শফিক, রিজওয়ান
Pakistani heroes Babar, Shafiq, Rizwan in Karachi epic


করাচিতে ছায়া দীর্ঘতর হচ্ছে, ড্রোন ক্যামেরায় ধরা পড়ছে সেটি। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্নায়ুচাপ আর রোমাঞ্চও। মাঠের যে দর্শকেরা কিছুক্ষণ আগে উল্লাস করছিলেন বাউন্ডারিতে, এখন তাদের হর্ষধ্বনি আসছে পাকিস্তান ব্যাটসম্যানরা প্রতিটা বল ঠেকিয়ে দেওয়ার পর। ৯৯ রানে দাঁড়িয়ে নাথান লায়নকে সামনে এগিয়ে খেলতে গিয়ে প্রথমে ক্যাচ, পরে রান-আউটের হাত থেকে বাঁচলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতকটা পেয়ে গেলেন একটু পরই, অসাধারণ এক ড্র থেকে পাকিস্তানের দূরত্বটা দাঁড়াল ৬ বলে। 


দুই স্লিপ, প্রায় শর্ট গালির সঙ্গে সিলি মিড-অফ, শর্ট লেগ, লেগ স্লিপ, শর্ট এক্সট্রা কাভার, শর্ট মিড-অন নিয়ে শেষ ওভারটা করতে এলেন লেগ স্পিনার মিচেল সোয়েপসন। তবে টলাতে পারলেন না রিজওয়ানকে। ২ বল বাকি থাকতে ড্র মেনে নিল অস্ট্রেলিয়া। শেষ বিকেলের আলোয় করাচি সাক্ষী হলো অন্যতম সেরা এক টেস্টের, যেটিতে মিশে থাকল বাবর আজমের স্মরণীয় ইনিংস, আব্দুল্লাহ শফিকের সঙ্গে তাঁর মহাকাব্যিক জুটি আর মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাল না ছাড়ার গল্প। 

১৭২ ওভার ব্যাটিং অথবা ৫০৬ রান—করাচিতে ড্র বা জয়ের যে কোনোটি করতে হলেই বিশ্বরেকর্ড করতে হতো পাকিস্তানকে। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রানতাড়ার রেকর্ডটা ৪১৮ রানের। ‘টাইমলেস’ টেস্ট বাদ দিলে এর আগে কখনো চতুর্থ ইনিংসে এতো ওভার ব্যাটিং করে বাঁচায়নি টেস্ট। করাচিতে পাকিস্তান চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা দেখিয়ে করল ড্র। তবে রাওয়ালপিন্ডির ড্র আর এ ড্রয়ের মধ্যে পার্থক্যটা যে ওই ১৭১.৪ ওভার ব্যাটিংয়ের মতোই বিশাল! 

আরো পড়ুন: তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে গ্যাস বন্ধের হুমকি রাশিয়ার

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টটা শেষ দিনে এসে রঙ বদলেছে বারবার। অস্ট্রেলিয়ার শেষবারের মতো ঘুরে দাঁড়ানোর শুরুটা হয়েছিল বাবরের উইকেট দিয়ে। ৫০০ মিনিটের ওপর ব্যাটিং করে, ৪২৫ বলে ১৯৬ রান করে লায়নকে আগ বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে ব্যাট-প্যাডে ক্যাচ তোলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ক্যারিয়ারের প্রথম দ্বিশতক পাওয়া হয়নি, ম্যাচ ড্র করা থেকেও পাকিস্তান তখন দাঁড়িয়ে ১২.২ ওভার দূরে। এমন ইনিংসের পরও তাই হতাশই দেখাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার অভিনন্দনের মধ্য দিয়ে ফেরা বাবরকে। তখনো অবশ্য পাকিস্তানের হাতে ৫ উইকেট।

রোমাঞ্চ বাড়ে বাবরের আউটের ঠিক পরের বলেই ফাহিম আশরাফ স্লিপে ক্যাচ দিলে। হুট করেই ম্যাচ ঝুঁকে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার দিকে। সেটিকে নিজেদের করে নিতে এর পরের ওভারেই তৃতীয় নতুন বলটা নিয়ে নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক কামিন্স। রিজওয়ান প্রতি-আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন, তবে লায়নের বলে সাজিদ ফিরলে আবারও ঢুকতে হয় খোলসে। আট ওভার বাকি, হাতে তিন উইকেট! পাকিস্তানের সমর্থকদের স্নায়ুর চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া ৪৮টি বল বিপদহীন পার করিয়ে পাকিস্তানকে শেষ পর্যন্ত ড্র এনে দিলেন রিজওয়ান।

দিনের প্রথম ভাগে অবশ্য ম্যাচটার এমন রোমাঞ্চ ছড়ানোর গল্প লিখতে হবে, এমনটা মনে হয়নি। অস্ট্রেলিয়া দিনের প্রথম উল্লাসটা করতে পেরেছিল মধ্যাহ্নবিরতির আগ দিয়ে। অবশেষে ভাঙে বাবর ও শফিকের মহাকাব্যিক জুটি। আগের দিন ২০ রানে ব্যাটিং করা শফিকের সহজতম ক্যাচ স্লিপে ছেড়েছিলেন স্টিভ স্মিথ, আজ তাঁর হাতেই ধরা পড়েছেন আগের ম্যাচে শতক করা শফিক। ৪ রানের জন্য টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শতক পাননি।

আরো পড়ুন: সন্তানের সামনে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় আদালতে মামলা

তবে এর আগেই বাবরের সঙ্গে রেকর্ড জুটি গড়ে ফেলেছেন। আগেরদিন দুজনের জুটি শুরু হয়েছিল পাকিস্তানের ২১ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর। আজ অবিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে দুজন মিলে খেলেছেন ৫২০ বল। টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে কোনো জুটি এর আগে এত বল খেলেনি। আগের রেকর্ডটি ছিল ভারতের দীপ দাসগুপ্ত ও রাহুল দ্রাবিড়ের, ২০০১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পোর্ট এলিজাবেথে দ্বিতীয় উইকেটে দুজন খেলেছিলেন ৫০০ বল। আজ শফিক নিজে ক্রিজে ছিলেন ৪৬৫ মিনিট।


প্রথম ইনিংসে প্রথম বলেই আউট হয়ে যাওয়া ফাওয়াদ আলম আজ রানের কলাম পূর্ণ করেছেন ঠিকই, তবে তাঁকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি প্যাট কামিন্স। বিরতির পরের ৮ ওভারে ২১ রান তুলেছিল পাকিস্তান, এরপরই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ফাওয়াদকে ফেরান কামিন্স। সে উইকেটের পরই হয়তো আক্রমণের ভাবনা থেকে সরে আসে পাকিস্তান।

সে সেশনে বাবর ও মোহাম্মদ রিজওয়ান মনোযোগ দেন সময় কাটানোর দিকেই। হাল ছাড়েনি অস্ট্রেলিয়াও। তবে কাছাকাছি গিয়েও সাফল্য পায়নি তারা। প্রায় নিখুঁত ব্যাটিং করে আসা বাবরকে চা-বিরতির আগে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেন দুই স্পিনার নাথান লায়ন ও মিচেল সোয়েপসন। ১৫৭ রানে ব্যাটিং করার সময় লায়নের বলে প্রায় এলবিডব্লু হয়েছিলেন বাবর, ডিআরএসে আম্পায়ারস কল আসায় বেঁচে যান। এরপর সোয়েপসনের পরপর দুই বলে বাবরের ক্যাচ ক্লোজ-ইনে ফেলেন ট্রাভিস হেড ও মারনাস লাবুশেন। রিজওয়ানের উইকেটও পেতে পারতেন সোয়েপসন, এবার ক্রিজের তিন মিটারের বেশি দূরত্বে থাকায় আম্পায়ারস কল হয় ইমপ্যাক্টে।


সে রিজওয়ানকে শেষ পর্যন্ত টলাতে পারল না অস্ট্রেলিয়া। করাচি দেখল পাকিস্তানের মহাকাব্যিক ব্যাটিং প্রদর্শনী, যাতে বাবর-শফিকের পর অবদান থাকল রিজওয়ানেরও।


আরো পড়ুন:

 কোহলির শততম টেস্টে বড় জয় ভারতের


India's big win in Kohli's 100th Test




ভারত বনাম শ্রীলঙ্কার (India vs Sri Lanka) প্রথম টেস্টে জয় পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া (Team India) । এই ম্যাচ ছিল বিরাট কোহলির (Virat Kohli) শততম টেস্ট। ম্য়াচ শেষে মানবিক বিরাট কোহলির ভিডিও ভাইরাল (Viral Video)।

মোহালিতে (Mohali) ভারত বনাম শ্রীলঙ্কার প্রথম (Ind vs Sl) টেস্টে মাত্র তিন দিনেই জয় পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া (Team India)। রবীন্দ্র জাদেজার (Ravindra Jadeja)ব্য়াটে-বলে দাপট ভারতের জয়ের পথ মসৃণ করেছে। মোহালি টেস্ট জাদেজা নামে হলেও, এই টেস্ট ছিল বিরাট কোহলির (Virat Kohli)কেরিয়ারের শততম টেস্ট। ম্য়াচে ব্য়াট হাতে বড় ইনিংস খেলতে সক্ষম হননি   প্রাক্তন অধিনায়ক। মাত্র ৪৫ রান করেন তিনি।  শততম টেস্টে বিরাটের ব্য়াটে সেঞ্চুরির দেখার সমর্থকদের আশা পূরণ না হলেও টেস্টে ক্রিকেটে আট হাজার রানের মাইলস্টোন পূরণ করেন বিরাট কোহলি। ভারতীয় ব্য়াটসম্যানদের মধ্যে সচিন তেন্ডুলকর, সুনীল গাভাসকর, রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, বীরেন্দ্র সেওয়াগের পর এই নজির গড়েন বিরাট কোহলি। ম্য়াচে বড় রান না পেলেও ম্য়াচের শেষে সকলের মন জয় করে নিয়েছেন বিরাট কোহলি।

সোশ্যাল মিডিয়াতে বিশেষভাবে সক্ষম এক ব্যক্তি নাম ধরমভীর পাল একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভারতীয় ক্রিকেট দলের বড় ভক্ত তিনি। তাকে টিম ইন্ডিয়ার দ্বাদশ ব্যক্তি বলেই ডাকা হয়। দেশ-বিদেশে ভারতীয় ক্রিকেট দলের ম্য়াচে দলকে সমর্থন করতে দেখা যায় তাকে। বিরাট কোহলির বড় ভক্ত তিনি। তার শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায় মোহালিতে টিম ইন্ডিয়ার বাসের কাছে ছিলেন ধরমভীর। বিরাটের নাম ধরে চিৎকার করতে থাকেন তিনি। বাসে উঠে গিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। নেমে এসে ওই বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিকে টি-শার্ট উপহার দেন বিরাট কোহলি। ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন,'বাহ! আজ আমার জীবনের একটি দারুণ দিন। আজকে বিরাট কোহলির শততম টেস্ট। আজকেই বিরাট আমাকে একটি টি-শার্ট দিয়েছেন। অসাধারণ!'

এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলতে বেশি সময় নেয়নি। বিরাট কোহলির মানবিক দিক থেকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন নেটিজেনরা। একজন লিখেছেন, 'কী অসামান্য এক ব্যক্তি! এটা দেখে আমার চোখ থেকে জল পড়ছে। যদি না বায়ো-বাবলের নিয়ম থাকত, তাহলে বিরাট নিশ্চিতভাবে কথা বলতেন। উনি যে কেন আমার আইডল, তা আবার বুঝতে পারলাম।' একইসুরে অপর একজন বলেন, 'করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে উনি কাছে আসতে পারেননি। নাহলে আরও কিছুক্ষণ সময় কাটাতেন।'


প্রসঙ্গত, মোহালিতে ভারত বনাম শ্রীলঙ্কার প্রথম টেস্ট সহজেই জয় পেয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল (Indian Cricket Team)। ফলোঅন  করানোর পাশাপাশি ইনিংস ও ২২২ রানে জয় পেয়েছে রোহিত শর্মার (Rohit Sharma)। ম্য়াচে প্রথমে ব্য়াট করে ৫৭৪ রানের পাহাড় প্রমাণ স্কোর করে ভারত। দলের  হয়ে সর্বোচ্চ ১৭৫ রান করে রবীন্দ্র জাদেজা ।  এছাড়া ৯৬ রানের ইনিংস খেলে ঋষভ পন্থ , ৬১ করেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন (RaviChandran Ashwin), ৫৮ করেন হনুমা বিহারী। শততম টেস্টে বিরাট কোহলি করেন ৪৫ রান। জবাবে প্রথম ইনিংসে ১৭৪ রানে অল আউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেন রবীন্দ্র জাদেজা। ফলোঅন করানোর পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৮ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা। সর্বোচ্চ ৪টি করে উইকেট নেন অশ্বিন ও জাদেজা। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে বেঙ্গালুরুতে শুরু হতে চলেছে ভারত-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় দিন-রাতের টেস্ট ম্য়াচ।

নিজের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে এবার সাফাই দিলেন গাভাসকর

Gavaskar justified his controversial remarks



শেন ওয়ার্নের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রিকেট বিশ্ব। তারই মধ্যে সুনীল গাভাসকর বলে দেন, তাঁর মতে, বিশ্বের সেরা স্পিনার ওয়ার্ন নন। অজি কিংবদন্তির থেকে অনেক এগিয়ে মুথাইয়া মুরলীথরন। শোকের আবহে ওয়ার্নকে নিয়ে গাভাসকরের এমন মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় ওঠে। এবার সেই বিতর্ক নিয়ে সাফাই দিলেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার।


প্রথমে জেনে নেওয়া যাক একটি সর্বভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে ওয়ার্ন সম্পর্কে গাভাসকর ঠিক কী বলেছিলেন। গাভাসকরকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি ওয়ার্নকেই সেরা স্পিনার বলে মানেন? এর উত্তরে নিজের মতামত জানান গাভাসকর (Sunil Gavaskar)। বলেন, “আমার তেমনটা মনে হয় না। আমার মতে, ওয়ার্নের থেকে ভারতীয় স্পিনার এবং শ্রীলঙ্কার মুথাইয়া মুরলিথরন অনেক এগিয়ে। এমনকী ব়্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালেও দেখা যাবে ভারতীয় স্পিনাররা ওয়ার্নের উপরে রয়েছেন।” এখানেই থামেননি গাভাসকর। যোগ করেন, “ভারতের বিরুদ্ধে শেন ওয়ার্নের রেকর্ডের দিকে তাকান। অত্যন্ত সাধারণ। ভারতের মাটিতে নাগপুরে মাত্র একবারই পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। তাও আবার জাহির খানের জন্য। যে সব ভারতীয়রা স্পিনটা ভাল খেলেন, তাঁদের কাছে কিন্তু খুব একটা কঠিন বাধা ছিলেন না ওয়ার্ন (Shane Warne)। সেই কারণেই আমি তাঁকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলতে পারব না।” ভারতের বিরুদ্ধে বেশি সাফল্য পাওয়ায় শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি স্পিনার মুরলিথরনকেই এগিয়ে রাখলেন গাভাসকর। বলে দেন, “আমার পছন্দের তালিকায় ওয়ার্নের (Shane Warne) উপরেই থাকবেন মুরলিথরন।”



আর এই নিয়েই যাবতীয় জলঘোলা তৈরি হয়। তবে বিষয়টি ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধার পর গাভাসকর (Sunil Gavaskar) আক্ষেপের সুরেই বলেন, এমন স্পর্শকাতর সময়ে এমন প্রশ্ন করা উচিত হয়নি সঞ্চালকের। পাশাপাশি তিনি এও স্বীকার করেন, সদ্য প্রয়াত ওয়ার্নের সঙ্গে কারও তুলনা টেনে তিনিও ঠিক করেননি। ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে এই প্রশ্নটা যেন করা উচিত ছিল না, তেমনই আমারও উত্তর দেওয়া ঠিক হয়নি। কারও সঙ্গে তুলনা টানার এটা সঠিক সময় ছিল না।” এরপরই বলে দেন, “ক্রিকেট জগতে ওয়ার্ন অন্যতম সেরা তারকা। রডনি মার্শও বিশ্বের অন্যতম সেরা উইকেটকিপার। তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করি।”


তবে এও স্পষ্ট করে দেন, তিনি যা মনে করেন, সেটাই টিভি চ্যানেলে অকপটে বলেছেন। অর্থাৎ তাঁর চোখে যে ভারতীয় স্পিনার ও শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তিই সেরা, ওয়ার্নের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েও সেটা আবার পরিষ্কার করে দিলেন।


 সাকিব ইস্যুতে পাপন: যে সিদ্ধান্ত নেবো, তা কারও পছন্দ হবে না

Papun on Shakib issue: No one will like the decision I will take



সাকিব আল হাসান সত্যিকার অর্থেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কিনা, বুঝে উঠতে পারছেন না নাজমুল হাসান। আইপিএলের নিলামে দল পেলে সাকিব এই ধরনের কথা বলতেন কিনা, সেই প্রশ্নও তুলছেন বিসিবি প্রধান। তার মতে, বিভিন্ন সিরিজের আগে সাকিবের খেলা নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে ঝামেলায় পড়ছেন কোচ-অধিনায়করা।

ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রোববার দুবাই যাওয়ার আগে সাকিব বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মতো শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় তিনি নেই। এই অবস্থায় ক্রিকেট খেললে দলের জন্য ক্ষতিকর ও দেশের সঙ্গে গাদ্দারি হবে বলেও মনে করেন তিনি।


সাকিবের এই বক্তব্য দেশের ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনার ঝড় তোলে। সোমবার নিজ বাসভবনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি প্রশ্ন তোলেন সাকিবের ভাবনা জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে।


“ওর এসব কথাবার্তা নিয়ে আমি মোটেও বিচলিত নই। ওকে হয়তো শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছু একটা ডিস্টার্ব করছে। সেটা হতেই পারে। ওর যদি কোনো সমস্যা থাকে, আমাদেরকে বলতে পারে। এয়ারপোর্টে যাওয়ার সময় ফোনে বলে দেওয়া, এটা হয় না।”


“সবার সঙ্গে ওর অ্যাকসেস আছে, জৈব-সুরক্ষা বলয়ও নেই। আমাদের সঙ্গে বসতে পারত সে, খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে আলোচনা করতে পারত। কিন্তু হঠাৎ করে একেকটা চমক দেওয়া, এটা করে কী লাভ হচ্ছে, কেন করছে… তবে অনেকে পছন্দ করে, আমাদের দেশে অনেকে পছন্দ করে।”


মানসিকভাবে সাকিব খেলার মতো অবস্থায় নেই এই কথায় ঠিক আস্থা রাখতে পারছেন না বলেই ফুটে উঠল বিসিবি সভাপতির কথায়।

“মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলে আইপিএল খেলতে চাচ্ছিল কেন? মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকলে তো বলতো আমি আইপিএলও খেলব না! আমি বুঝতে পারছি না, মেলাতে পারছি না। ধরুন আইপিএলে ওকে নেওয়া হলো, তখন কি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলতো? জিনিসটা আমার মাথায়ই ঢুকছে না।”

আরো পড়ুন:- সাকিব: দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে খেলা সম্ভব নয়

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুই সংস্করণেই তাকে পাওয়া যাবে, সাকিবের কাছ থেকে এই নিশ্চয়তা পেয়েই তাকে দলে রাখা হয়। কিন্তু এরপর তার এই টানাপোড়েন। গত ডিসেম্বরে নিউ জিল্যান্ড সফরেও শুরুতে তাকে দলে রাখার পর আবার বাইরে রাখা হয় পারিবারিক কারণে ছুটি নেওয়ায়। গত বছর শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজ খেলতে যাননি তিনি আইপিএল খেলার কারণে। ২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে ক্রিকেট থেকে ৬ মাসের বিরতি চেয়েছিলেন তিনি। সেবার ছুটি দেওয়া হয়েছিল শুধু ওই সফর থেকে।


বিসিবি সভাপতির মতে, সাকিবকে নিয়ে বারবার অনিশ্চয়তার কারণে বিপাকে পড়তে হচ্ছে দল সংশ্লিষ্টদের।

“ঝামেলা তো হচ্ছেই। আমাদের (বোর্ডের) কিছু হচ্ছে না, তবে ঝামেলা হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টের, ঝামেলা কোচিং স্টাফদের, ঝামেলা অধিনায়কদের। অধিনায়ক আর কোচ তো জানেই না সাকিবের এই কাহিনী, আমি নিশ্চিত। খালেদ মাহমুদ সুজন এতদিন ওর সঙ্গে ছিল, সাধারণত পরিকল্পনা নিয়ে সাকিবের সঙ্গে আলোচনা করে, সুজনকে জিজ্ঞেস করলেও, সেও জানে না। আকাশ থেকে পড়েছে!”


সাকিব তার মানসিক অবস্থা বোঝাতে বলেছিলেন, সদ্য সমাপ্ত আফগানিস্তান সিরিজের কোনো সংস্করণেই খেলা তিনি উপভোগ করেননি। তার এই কথায় বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেন বোর্ড প্রধান।

“যে জিনিসটা আমি কিছুতেই এখন মেনে নিতে পারছি না, ঘটনাটা কী, পৃথিবীর যে কোনো ক্রিকেট খেলোয়াড়ের স্বপ্ন হলো জাতীয় দলে খেলা। যখন দল জেতে, আর সেখানে সে খেলে থাকলে, এর চেয়ে খুশির আর কিছু থাকে না। কিন্তু সাকিব বলছে, আফগানিস্তান সিরিজে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি, কোনোটিই উপভোগ করেনি। আমরা যে সিরিজ (ওয়ানডে) জিতলাম, সেটাও উপভোগ করেনি। প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতলাম, তার মানে সেটিও উপভোগ করেনি? কেন!”


সাকিব বা কোনো ক্রিকেটার কোনো সংস্করণে খেলতে না চাইলে বোর্ডের কোনো আপত্তি নেই বলে দাবি নাজমুলের। তার চাওয়া, যোগাযোগ যেন পরিষ্কার থাকে।


“আমি সবাইকে ক্লিয়ার কাট বলে দিয়েছি, ও (সাকিব) যদি কোনো ফরম্যাটে খেলতে না চায়, কোনো অসুবিধা নেই। এরপর কারও কোনো সমস্যা থাকার কথা? এরপর আর এসব করা উচিত নয়। খেলতে না চাইলে খেলবে না, আমি তো মেনে নিয়েছি। কিন্তু সেটা আগেভাগে জানাতে তো হবে।”


বিসিবি প্রধান বললেন, সাকিবকে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনষ্ঠানিকভাবে জানাতে বলা হয়েছে। এরপর বোর্ড নেবে সিদ্ধান্ত।


“মৌখিকভাবে বলে লাভ নেই, যা-ই করতে চায়, লিখিত দিক। কারণ, আগে বলেছিল খেলবে। এখন বলছে খেলবে না। এজন্যই লিখিত দরকার।”


“আমার ধারণা, ও (সাকিব) মেন্টালি ডিস্টার্বড কোনো কারণে। দুদিন সময় নিয়েছে। মাথা ঠাণ্ডা করে ভাববে। কী চায়, তা আমাদেরকে জানাবে। বোর্ড এরপর সিদ্ধান্ত নেবে।”


আরো পড়ুন:

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget