Articles by "দেশজুড়ে"


পাবনার সাঁথিয়ায় দেবরকে বিয়ের দাবিতে আমরণ অনশন করছেন ভাবি। উপজেলার করমজা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।  

ভুক্তভোগী ভাবির (৩৫) দাবি, দেবরের সঙ্গে তাঁর ১৫ বছরের সম্পর্ক। বিয়ের পর থেকেই পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান তিনি।

এতদিন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এসেছে দেবর। কিন্তু এখন সে অন্য জায়গায় বিয়ে করতে চাইলে তিনি তাঁর ঘরে এসে অনশন করছেন।  

ওই ভাবির স্বামী ঢাকাতে বাস চালান। তিনি ১০/১৫ পর পর বাড়িতে আসেন।  

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ওই গৃহবধূ অনশন করছেন। ভাবির দাবি, তাঁকে বিয়ে না করলে তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করবেন। একইসঙ্গে তিনি আইনের আশ্রয়প্রার্থী। ভাবি আরো জানান, তাঁকে বিয়ে করবে বলে মসজিদে গিয়ে কোরআন মাথায় নিয়ে শপথও করেছেন দেবর।


স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই ভাবি দুই সন্তানের জননী। তিনি স্বামীর আপন ছোট ভাইকে প্রেমিক দাবি করে এই আমরণ অনশন শুরু করেন।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে প্রেমিক দেবরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'ভাবির সঙ্গে আমার কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। তিনি আমার বিয়ের কথা শুনে ষড়যন্ত্র করে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর আগেও আমার দুই-তিনটা বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন ভাবি। '

এ বিষয়ে করমজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হোসেন আলী বাগচীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উক্ত ঘটনার নিশ্চিত করেছেন।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। '


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সাতদিন ধরে চলা অনশন ভাঙিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। 

সঙ্কট সমাধানে বিভিন্ন পর্যায় থেকে শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এরই অংশ হিসেবে জনপ্রিয় এই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।


বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে একাত্তর টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান একাত্তর জার্নালে অংশ নিয়ে তিনি এমন কথা জানান। মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, এটিএন বাংলার বার্তা প্রধান জ ই মামুন ও বাংলা ট্রিবিউনের বার্তা প্রধান মাসুদ কামাল।


অনুষ্ঠানের শুরুতেই ড. জাফর ইকবাল যুক্ত হয়ে জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নিজেই সেখানে যেতে চাইছিলেন। পরে সরকারের ‘উপর মহলের’ ঘটনাক্রমে কথা হলে সেখান শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া মেনে নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর তিনি শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে সেখানে যান এবং শিক্ষার্থীরা তার কথা রেখেছে।

সরকার সঙ্কট সমাধানে আগে কেন পদক্ষেপ নিল না- এমন প্রশ্নে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সবকিছুর একটা উপযুক্ত সময় থাকে। আমরা এর আগে গেলে এটি (অনশন আন্দোলন) এভাবে সমাধান হতো কি না- সেটা বলতে পারি না। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, গতরাতে জাফর ইকবাল ভাই নিজে গিয়েছেন এবং আজ শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙিয়েছেন, আমরা মনে করি, ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি হয়েছে।’


একই প্রসঙ্গ টেনে জ ই মামুন শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, আজকে জাফর ইকবাল উপর মহলের নির্দেশে সেখানে গেলেন, তাহলে উপর মহল নিজেরাই কেন উদ্যোগ নিলেন না। এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। এরকম যে কোনও সংকটে অনেকরকম তৎপরতা সেখানে থাকে, অনেক ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিছু সামনে আসে, কিছু আড়ালে থাকে। এ সংকটটি সমাধানেও অনেক লোকই অনেকভাবে কাজ করেছে, সবার কথা বলেও শেষ করা যাবে না। 

সেরকম নানারকম প্রস্তুতির একটা পর্যায়ে গিয়ে মনে হয়েছে, জাফর ইকবাল ভাইয়ের হাতেই এটা হলে ভালো হবে এবং এটা সঠিকভাবে হবে। তারপর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ আমরা নিতে পারবো। এর আগে আমার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। পরে আরও কথা হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝখানে অন্য একটি উদ্যোগ নিয়ে জাফর ইকবাল ভাইকে নিয়ে আসা হয়েছে এবং সেটাকে প্রয়োজন মনে করা হয়েছে বলেই নিয়ে আসা হয়েছে।’


শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী শাবির উপাচার্য পদত্যাগ কিংবা অপসারণ করা হবে কি না, এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আন্দোলনটা মূলত ভিসির অপসারণের দাবিতে ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানারকম সমস্যা থাকে। যদি সেসব সমস্যা সমাধান হয়ে যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি বড় কোনও সমস্যা না, যদি ভিসি নিজে কোনও বড় সমস্যার কারণ না হন।


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঘটনার সবকিছু খতিয়ে দেখতে চাই। এতে যারই দায় বা দোষ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর উপাচার্যের পদত্যা আচার্যের বিষয়, সেটা আচার্য দেখবেন। তার মানে এই নয় এই দাবি মানছি বা মানছি না।’



অনুসন্ধান কমিটিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত দুই ‘বিশিষ্ট নাগরিকের’ মধ্যে একজন নারীকে রাখার বাধ্যবাধকতা রেখে বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশন গঠন আইনের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে জাতীয় সংসদ।

পাস হওয়া বিলে সার্চ কমিটির কাজ ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে, যা খসড়ায় ১০ কার্যদিবস ছিল।

আলোচিত ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। জাতীয় পার্টি, বিএনপি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্যরা বিলের ওপর এসব প্রস্তাব দেন।

প্রথমে বিলের নাম ছিল, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল’। সংসদে সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে এখন নাম হয়েছে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল’।

ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন সার্চ কমিটিতে দুই জন বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে একজন নারী রাখার প্রস্তাব করেন। আইনমন্ত্রী সেই প্রস্তাব গ্রহণে সা্য় দিলে, সংসদ তা ভোটে গ্রহণ করে।

অর্থাৎ, ইসি গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে নাম সুপারিশের জন্য যে সার্চ কমিটি থাকবে, সেখানে একজন নারী থাকবেন।

বিলে বলা ছিল রাষ্ট্রপতি ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন, যার সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক।

সদস্য হিসেবে থাকবেন- প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুই জন বিশিষ্ট নাগরিক।

এখন রাষ্ট্রপতির মনোনীত ওই দুজন বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে একজন নারী রাখার বিধান যুক্ত হল।

বিলে সার্চ কমিটির কাজ ১০ কার্যদিবস করার বিধান রাখা হয়েছিল। সেটি এখন ১৫ কার্যদিবস করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের এ সংক্রান্ত সংশোধনী সংসদ গ্রহণ করে।

জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবগুলো পাসের সময় জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা সার্চ কমিটিতে সংসদের প্রতিনিধিত্ব দাবি করেন। বিলটির নানা দিকের সমালোচনা করেন তারা।

এছাড়া বিলের ওপর বিভিন্ন শব্দ ও ছোটখাট কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সংসদ সদস্যদের ৬৪টি সংশোধনী প্রস্তাবের মধ্যে ২২টি আইনমন্ত্রী গ্রহণ করেন, যা সংসদের ভোটে পাস হয়।

সংশোধনীগুলো গ্রহণের সময় আইনমন্ত্রী বলেন, এতগুলো সংশোধনী আগে কখনও গ্রহণ করা হয়নি।

বিলটি পাসের সময় জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন, খসড়া আইনটি ‘তড়িঘড়ি করে’ আনা হয়েছে।

এর জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “গত ১৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ করে। যারা সংলাপে যায়নি এবং গিয়েছেন তারা সবাই আইনের কথা বলেছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি আইনের বিষয়ে তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। আমরা তড়িঘড়ি করিনি। এ আইনের কথা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালেই এই আইনের কথা উঠেছিল।”

এই বিল নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরের সমালোচনার জবাব দেন আইনমন্ত্রী। সাবেক সিইসি এটিএম শামসুল হুদা এবং সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তৈরি করা এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া থেকে পড়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ওই দুটির সঙ্গে সরকারের আনা বিলের মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

এখন রাষ্ট্রপতি এই বিলে সই করলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। প্রথমবারের মত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে আইন পাবে বাংলাদেশ।

দেশের পরবর্তী নির্বাচন কমিশন এই আইনের অধীনেই গঠন করা হবে, যদিও বিলটি নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের নানামুখী সমালোচনা রয়েছে।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশসহ বিল পাস

গত রোববার বিলটি সংসদে উত্থাপন করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সাত দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বুধবার দুটি পরিবর্তনের সুপারিশসহ প্রতিবেদন সংসদে তোলেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার।

সংসদে উত্থাপিত বিলে সিইসি ও কমিশনারদের যোগ্যতা সংক্রান্ত ৫(গ) ধারায় বলা ছিল, সিইসি ও কমিশনার হতে গেলে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি পদে তার অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এই ধারায় সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি পদের পাশাপাশি ‘স্বায়ত্তশাসিত ও পেশায়’ যুক্ত করার সুপারিশ করেছিল সংসদীয় কমিটি। তা সংসদে গৃহীত হয়েছে।

এর ফলে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে এমন ব্যক্তিদের সার্চ কমিটি সুপারিশ করবে, যাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত পদে বা পেশায় অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা আছে।

আর অযোগ্যতার ক্ষেত্রে ৬ (ঘ) ধারায় বলা ছিল, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে সিইসি ও কমিশনার হওয়া যাবে না।

এখানে দুই বছরের কারাদণ্ড উঠিয়ে দিয়ে শুধু কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছিল সংসদীয় কমিটি। অর্থাৎ, নৈতিকস্খলন ফৌজদারি অপরাধে যে কোনো মেয়াদের সাজা হলেই সিইসি বা কমিশনার হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগত্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ সংশোধনী প্রস্তাবও সংসদ গ্রহণ করেছে।

কী হবে সার্চ কমিটির কাজ

সার্চ কমিটির (অনুসন্ধান কমিটি) কাজ সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ কমিটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করবে।

আইনে বেধে দেওয়া যোগ্যতা, অযোগ্যতা অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও সুনাম বিবেচনা করে সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবে।

এ অনুসন্ধান কমিটি সিইসি ও কমিশনারদের প্রতি পদের জন্য দুই জন করে ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে। কমিটির গঠনের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে জাম দিতে হবে।

সার্চ কমিটি সিইসি এবং নির্বাচন কমিশনার পদে যোগ্যদের অনুসন্ধানের জন্য রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে নাম আহ্বান করতে পারবে।

কারা থাকবেন সার্চ কমিটিতে

রাষ্ট্রপতি ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করবেন, যার সভাপতি হবেন প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক।

সদস্য হিসেবে থাকবেন- প্রধান বিচারপতির মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত দুই জন বিশিষ্ট নাগরিক। এই দুই বিশিষ্ট নাগরিকের মধ্যে একজন হবেন নারী। 

তিন জন সদস্যের উপস্থিতিতে কমিটির সভার কোরাম হবে। আর কমিটির কাজে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সিইসি ও কমিশনারদের যোগ্যতা
সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার পদে কাউকে সুপারিশের ক্ষেত্রে তিনটি যোগ্যতা থাকতে হবে
  • তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  • ন্যূনতম ৫০ বছর বয়স হতে হবে।
  • কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত পদে বা পেশায় পদে তার অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

সিইসি ও কমিশনারদের অযোগ্যতা

  • সিইসি ও কমিশনার পদের জন্য ছয়টি অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে।
  • আদালত অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করলে।
  • দেউলিয়া হওয়ার পর দায় থেকে অব্যাহতি না পেলে।
  • কোনো বিদেশি রাষ্ট্র্রের নাগরিকত্ব নিলে কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে।
  • নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে।
  • ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট-১৯৭৩ বা বাংলাদেশ কোলাবরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার-১৯৭২ এর অধীনে কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে।
  • আইনের দ্বারা পদাধিকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করছে না, এমন পদ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কর্মে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে।

পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি

বিলটি পাসের প্রক্রিয়ায় জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাব ওঠানোর সময় জাতীয় পার্টি, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের সংসদ সদস্যরা কথা বলেন। সেসব কথার জবাব দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

সংশোধনী প্রস্তাব দিয়ে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, “বিএনপি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তারা একটি অস্বাভাবিক সরকার আনতে চায়। তাদের সাংসদরা এখানে সংশোধনী প্রস্তাব দিলেও বিএনপি নেতারা ইতোমধ্যে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনের আগেই ক্ষমতা নিশ্চিত করা তাদের উদ্দেশ্য।”

তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অনেক ফাঁক ফোকড় ছিল, এর মধ্য দিয়ে ইয়াজউদ্দীনকে ক্ষমতায় এনে বিএনপি নির্বাচন করতে চেয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছুতোয় বিএনপি একটি অস্বাভাবিক সরকার গঠন করতে চায়।”

পরে বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, “আওয়ামী লীগও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য আন্দোলন করেছিল। তখন রজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি ছিল। এখন সে ঘাটতি আরও অনেক বেড়েছে। জাতীয় থেকে স্থানীয় সব নির্বাচন মাগুরার নির্বাচনের চেয়ে অনেক খারাপ হয়। সুতরাং ৯৬ সালের চেয়ে এখন তত্ত্বাবধাক সরকার আরও বেশি দরকার।”

অংশীজনের সাথে কথা না বলে তাড়াহুড়া করে নির্বাচন কমিশন গঠনের এই আইন ‘আইওয়াশ ছাড়া’ কিছুই নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

“এই আইনটি কেবল বিএনপি নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা কঠোর সমালোচনা করেছেন। এটাকে ইসি গঠনের আইন না বলে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের আইন বলা যেতে পারে।”

রুমিন বলেন, সার্চ কমিটিতে সরকারি দল, সংসদের প্রধান বিরোধী দল ও তৃতীয় বৃহত্তম দলের একজন করে প্রতিনিধি থাকলে স্বচ্ছতা থাকত। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে কেবল ‘সরকারের ইচ্ছায়’ ইসি গঠন হবে।

“ওই কমিশন স্বাধীন হবে না, হবে সরকারের নির্বাচন বিষয়ক মন্ত্রণালয়।”

বর্তমান নির্বাচন কমিশন ‘শতভাগ আমলা নির্ভর’ মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, “বাংলাদেশে কী বিচারপতি ও আমলা ছাড়া বিশ্বাস করার মত কেউ নেই? রাজনীতিবিদ বা সংসদ সদস্যদের কী বিশ্বাস করা যায় না? আওয়ামী লীগ এত বড় রাজনৈতিক দল, বলেন আপনাদের ক্যান্টনমেন্টে জন্ম হয়নি, তাহলে আপনারাও কেন বিচারপতি ও আমলার ওপর নির্ভর করবেন?”

চুন্নু তার বক্তব্যে স্পিকারের মাধ্যমে মনোনীত ‍দুইজন সংসদ সদস্যকে সার্চ কমিটির সদস্য হিসেবে রাখার প্রস্তাব করেন। 

জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়েই কাজ করতে হবে। আইনে না থাকলেও যেটা হবে তা হল, অনুসন্ধান কমিটি ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবেন। সে প্যানেল যাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তিনি পাঁচজন নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন। রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দেবেন। তবে এটা যে অসাংবিধানিক- তা নয়।”

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এর আগে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, আইনটি করার জন্য সময় প্রয়োজন। এই আইনটি নিয়ে অনেক প্রশ্ন উত্থাপন হয়েছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার।

নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি ‘সাংবিধানিক কাউন্সিল’ গঠনের প্রস্তাব দেন মেনন। এছাড়া অনুসন্ধান কমিটি যে নামগুলো দেবে সেগুলো জাতীয় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, “এটা হলে তা অনেক ইনক্লুসিভ হবে। এ ছাড়া অনুসন্ধান কমিটি যে নামগুলো প্রস্তাব করবে সেগুলো প্রকাশ করা এবং এরপর জনমত বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেবেন এই ব্যবস্থা করা যায়।”

বিএনপির হারুনুর রশীদ একটি ‘নির্বাচন কমিশন আইন’ করার দাবি জানান।

“সংবিধানে বলা আছে নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব ইসিকে সহায়তা করা। কিন্তু না করলে কী হবে তা বলা নেই। এসব নিয়ে একটি পুরো আইন হওয়া উচিত।”

যে আইনটি পাস হল, তাকে ‘সরকারের কূটকৌশল’ আখ্যা দিয়ে হারুন বলেন, “২০১৪ সালে বিনা ভোটের নির্বাচন হয়েছে, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে আগামীতে দিনের বেলা নতুন কৌশলে নির্বাচন করবে কি না, তা নিয়ে মানুষের প্রশ্ন আছে। এখন যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তাতে নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।”

তার ভাষায়, এ আইনের সাথে ২০১৭ সালের সার্চ কমিটির প্রজ্ঞাপনের ‘খুব একটা অমিল নেই’। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিদের সার্চ কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হলে তাদেরও ‘বিতর্কিত’ করা হবে।

“নির্বাচন কমিশনের নামে নাটক-প্রহসন বাদ দিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার দ্বার উন্মোচন করুন। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাব- আপনি উদ্যোগ নিন। সব রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বসে নির্বাচনকালীন সময়ে কীভাবে নির্বাচনটি করবেন সেটা ঠিক করুন। সরকারে থাকতে একরকম বক্তব্য আর বিরোধী দলে গেলে অন্যরকম বক্তব্য ঠিন নয়।”

বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বলেন, “আমরা রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপে গিয়ে যে আইন করার প্রস্তাব দিয়েছি, এ আইনে তার প্রতিফলন ঘটেনি।”

তবে এ আইন প্রণয়নকে ‘ভালো উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, “দেরিতে হলেও আইনটি হচ্ছে। অনেকে আইনটিকে তড়িঘড়ির কথা বলেছেন। কিন্তু এর আগে তো বলা হয়েছিল ১৫ দিনে এই আইন করা সম্ভব। তাহলে তড়িঘড়ির প্রশ্ন আসছে কেন?”

সার্চ কমিটির সদস্য সংসদ থেকে এলে ‘এত বিতর্ক হত না’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জবাব দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সংসদে পাস হওয়া ইসি গঠন আইনে কাউকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়নি।

“আওয়ামী লীগ ইনডেমনিটির ওই পথে হাঁটে না। ইনডেমনিটি কথা শুনলেই আওয়ামী লীগের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। বিএনপি ইনডেমনিটি দিয়ে আমাদের রক্ত ক্ষরণ করিয়েছে। এই আইনে লিগ্যাল কাভারেজ দেওয়া হয়েছে। এই আইনের মধ্যে কেউ অন্যায় করে থাকলে তাকে প্রকেটশন দেয়া হয়নি।”

জাতির পিতাকে হত্যার কথা স্বীকার ও খুনিদের পুনর্বাসিত করার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলে আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে ঐকমত্যে আসতে পারে বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।

তড়িঘড়ি আইন পাসের অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমি বলেছি এটা তড়িঘড়ি করে করার আইন নয়, এটা সত্য। বর্তমান কমিশনের মেয়াদের মধ্যে আইন করা সম্ভব নয় এটাও বলেছি। কারণ আমি বলেছিলাম করোনার সময় যে সীমিত সময়ের জন্য সংসদ বসে, এর মধ্যে এই আইন পাস করা কঠিন হবে।

“সুজনের একটি প্রতিনিধি দল আমার কাছে গিয়ে আইনের একটি খসড়া দিয়ে পাসের প্রস্তাব করেন। আমি আইনটি পাস করার জন্য সময় লাগবে বলে তাদের জানাই। তারা অর্ডিনেন্স করে এটা করার প্রস্তাবও দেন। আমি বললাম সংসদকে পাস কাটিয়ে এই আইন করব না। সংসদে নেওয়া ছাড়া এ আইন আমরা করব না।”

মন্ত্রী বলেন, “এই আইন করার প্রক্রিয়া শুরুর পর যারা বাইরে কথা বলেন তাদের আন্দোলন সৃষ্টির চেষ্টার যে টুলস বা মসল্লা, সেটা আর থাকেনি। সেজন্যই এখন তারা উঠে পড়ে লেগেছেন, তড়িঘড়ির কথা বলছে।”

সার্চ কমিটি নিয়ে সমালোচনার জবাবে আনিসুল হক বলেন, ইসি গঠনে সার্চ কমিটি গঠনের বিষয়ে ২০১২ সালে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মত হয়েছিলে। তখন থেকেই এই সার্চ কমিটির ধারণা এসেছে।

“এটা কল্পনা থেকে আসেনি, আকাশ থেকেও পড়েনি। এটা তো নতুন আবিষ্কার নয়। সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত দুই কমিশন হয়েছে। যার কারণে এটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ফলে জনমত যাচাই তো দশ বছর ধরে হয়ে গেছে।”

সার্চ কমিটিতে দুইজন বিশিষ্ট নাগরিকের নিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা তো আইনে কোথাও বলিনি যে, সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে তাদের নিয়োগ দেওয়া যাবে না। বিশিষ্ট নাগরিকের ক্রাইটেরিয়া তো বলে দেওয়া হয়নি। আমরা কেবল রাষ্ট্রপতিকে এই সুযোগটি দিয়েছি।”

আইনের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের সংবিধানে বলা আছে, সাংবিধানিক সংস্থা ইসিতে কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। আর তা একটি আইনের অধীনে হবে। এতদিন সেই আইন না হওয়ায় প্রতিবারই ইসি গঠনের সময় শুরু হয় বিতর্ক।

তা এড়াতে ২০১২ সালে নতুন কমিশন নিয়োগের সময় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সার্চ কমিটি নামে একটি মধ্যস্থ ফোরাম তৈরি করেন, যেটি নিয়েও পড়ে বিতর্ক হয়।

এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একজন বিচারপতির নেতৃত্বে বিশিষ্ট কয়েকজন নাগরিকদের নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করেন।

ওই সার্চ কমিটি সিইসি ও নির্বাচন কমিশনার হতে যোগ্যদের নামের একটি তালিকা তৈরি করেন। সেই তালিকা থেকে একজন সিইসিসহ অনধিক পাঁচজন কমিশনার নিয়োগ দেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০১৭ সালে সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছিলেন। এবারও একই পদ্ধতিতে এগিয়ে যেতে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ শুরু করেন।

কিন্তু সংলাপে অংশ নেওয়া ২৫টি দলের প্রায় সবগুলো ইসি গঠনে স্থায়ী সমাধান হিসেবে আইন প্রণয়নের উপর জোর দেয়। আলোচনায় রাষ্ট্রপতিও এ বিষয়ে সম্মত হন বলে দলগুলোর নেতারা জানান। বিএনপিসহ সাতটি দল সংলাপে অংশ নেয়নি।

গত ১৭ জানুয়ারি বিকালে বঙ্গভবনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির এবারের সংলাপ। তার আগে দুপুরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আইনের খসড়া অনুমোদন করা হয় অনেকটা আকস্মিকভাবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গেল ডিসেম্বরে ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ শুরুর আগে বলেছিলেন, ‘সময়ের স্বল্পতার কারণে’ এবার আইন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সংলাপে অংশ নেওয়া সব দলই আইন করার পক্ষে জোরালোভাবে দাবি জানালে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

অনেক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত রোববার সংসদে বিল তোলেন আইনমন্ত্রী, যা বৃহস্পতিবার পাস হল।

কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। এর আগেই নতুন কমিশন গঠন করতে হবে রাষ্ট্রপতিকে।

আইনটি সংসদে পাস হওয়াায় এখন গেজেট প্রকাশ, সার্চ কমিটি গঠন, তাদের সুপারিশ জমাসহ বাকি সব কাজের জন্য হাতে থাকছে ১৭ দিন সময়।


গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি রোগী। এ নিয়ে টানা তিন দিন ১৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন আরও ১৫ জন। এ সময়ে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩১ শতাংশের বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৮০৭ জন। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) ১৫ হাজার ৫২৭ জন ও মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) ১৬ হাজার ৩৩ জন রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল অধিদফতর।

সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হলেন ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩১ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ২৮ হাজার ২৮৮ জন।

করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৩৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৭৯টি, পরীক্ষা হয়েছে ৪৯ হাজার ৪২৫টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ৬৭৭টি। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৮৩ লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৭টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৬২ শতাংশ।


স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, ১০ জন নারী। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৮ হাজার ৮০ জন আর নারী ১০ হাজার ২০৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী চার জন, ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী তিন জন, ৪১ থেকে ৫০ আর ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী দুজন, ১১ থেকে ২০, ২১ থেকে ৩০, ৩১ থেকে ৪০ এবং ৯১ থেকে ১০০ বছর বয়সী একজন করে। 

অধিদফতর জানাচ্ছে, মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগের। এ বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আট জন। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের তিন জন, রাজশাহী বিভাগের দুজন আর বরিশাল ও রংপুর বিভাগের মারা গেছেন একজন করে।

এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে আট জনের। বাকি সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে।


দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে সংক্রমণ বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ২টার দিকে এক ভার্চুয়াল বুলেটিনে এ কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম। 

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি ও বিএসএমএমইউয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার ডেলটা ধরনের পাশাপাশি অধিকতর সংক্রামক ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হচ্ছে।’

রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে অমিক্রনের ধরন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘ওমিক্রনের অন্য উপসর্গ কী আছে, তা বের করতে কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ওমিক্রনের কারণে সংক্রমণ বেশি হচ্ছে। এর জন্য একটি ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে।’


নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনটি পাসের সুপারিশ করে সংসদে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

 সংসদীয় কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার ওই প্রতিবেদন উত্থাপন করেন। বহুল আলোচিত এই বিলটি পরবর্তী কার্যদিবসে পাস হবে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে।

দুইদিন বিরতির পর আজ বুধবার বেলা ১১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২’-এর রিপোর্ট উত্থাপন ছাড়াও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব সংশ্লিষ্ট কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন করেন।

গত রবিবার আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ওই বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিলের দু’টি ধারায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। 

এই পরিবর্তনের ফলে নৈতিক স্খলনজনিত কারণে সাজাপ্রাপ্ত হলেই তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার (ইসি) পদে নিয়োগে অযোগ্য হবেন। আর সিইসি-ইসির যোগ্যতায় সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধাসরকারি বা বেসরকারি পদের পাশাপাশি ‘স্বায়ত্তশাসিত ও অন্যান্য পেশা’য় কর্মরতদের যুক্ত করা হয়েছে।


সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

বুধবার সকালে অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে, তখন শিক্ষকদের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত ছিল যে, খবরদার! তোমরা এটা করতে পারবা না। একজন শিক্ষকও সেটা করেননি। একজন শিক্ষকের এরকম মেরুদণ্ডহীন হওয়ার কোনো কারণ নাই।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের সমস্ত তরুণ প্রজন্ম তোমাদের পেছনে। সমস্ত মানুষজন তোমাদের পেছনে। তোমরা সুস্থ হও। উদাহরণ তৈরি করো। যে উদাহরণ বাংলাদেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনুসরণ করবে।’

শিক্ষার্থীরা ভিসিকে ‘দানব’ বলেছেন। সেই ‘দানবের’ কাছে আপনারা শিক্ষার্থীদের রেখে যাচ্ছেন। এই বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, ‘শুনেন, ছাত্রদেরকে আন্ডারএস্টিমেট করবেন না। কে, কাকে, কার কাছে রেখে যাচ্ছি, সেটা সময়েই বলে দেবে।’

ভিসি’র অপসারণ সংক্রান্ত দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার যখন দাবিদাওয়া মেনে নেবেন বলেছেন, তখন দাবির মধ্যে এই দাবিটাও তো পড়ে। 

কিন্তু সরকারেরও তো নিজস্ব টেকনিক্যাল ব্যাপার থাকে, রাজনৈতিক ব্যাপার থাকে, সেটার জন্য তাদের হয়তো একটা প্রসেস থাকে। গোপালগঞ্জের ভাইস চ্যান্সেলরকে তারা একভাবে সরিয়েছে, অন্য ভাইস চ্যান্সেলরকে অন্যভাবে সরিয়েছে। কাজেই সেটা তাদের ব্যাপার। আমার প্রাইমারি কনসার্ন ছিল, ওদের অনশন থেকে বের করতে পারি কিনা।’

আন্দোলনে বহিরাগতদের কোনো ইন্ধন ছিল বা আছে কিনা, এরকম এক প্রশ্নের জবাবে জাফর ইকবাল বলেন, আমি দেখেছি যে, এরা সাধারণ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে কোনো উচ্চভিলাষ নাই। পুলিশ ওদের গায়ে এরকম নির্মমভাবে হাত তুলেছে, কাজেই ওদের মনের ভেতর একটা ক্ষোভ হয়েছে। সেজন্যই তারা এই আন্দোলনটা করছে। এর মধ্যে বিন্দুমাত্র বাড়াবাড়ি নাই, অহেতুক কোনো দাবি নাই। ওদের দাবি শতভাগ যৌক্তিক দাবি।’

ভিসি’কে উদ্দেশ্য করে জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমি তিন বছর আগে যখন নাকি অবসরে চলে যাই, তখন একটা চিঠি লিখে উনাকে দিয়ে যাই। সেই চিঠিতে আমি বলে দিয়েছিলাম অনেকগুলো। আমি সেখানে লিখেছিলাম স্পষ্ট করে, আপনি যদি এগুলো না করেন, ছাত্রদের এখন যে ক্ষোভ আছে, তা বিক্ষোভে রূপ নেবে। একদম অক্ষরে অক্ষরে আমার কথাটা ফলেছে।’

শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে ঢাকা থেকে বুধবার ভোর ৪টায় ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছান অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক।

গত ১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে ভিসি’কে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ ভিসি’কে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

পুলিশ তিন শ’ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে টানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এর অংশ হিসেবে গত বুধবার (১৯ জানুয়ারি) অনশন শুরু করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।


সূত্র : ইউএনবি


সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকার উত্তরা থেকে ‘নিয়ে গেছে’ বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

সিআইডির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সিআইডির মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “বিষয়টি জেনে পরে আমরা বিস্তারিত জানাব।”

ওই দুই তরুণ হলেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান স্বপন এবং স্থাপত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেজা নূর মুঈন দীপ।

উত্তরার যে বাসায় তারা থাকতেন, ওই ভবনেই থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের ২০০৮-০৯ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী এবং একটি আইটি ফার্মের এমডি শাহ রাজী সিদ্দিকী।

নিজেকের স্বপনের ‘লোকাল গার্ডিয়ান’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সোমবার রাতে তিনি এক ফেইসবুক পোস্টে দুজনকে ‘তুলে নিয়ে যাওয়ার’ খবর দেন।

যোগাযোগ করা হলে মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “গতকাল সন্ধ্যার পর ওদের উত্তরার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় সিআইডির কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা। ঘণ্টাখানেক তাদের মাইক্রোবাসে রেখে দেওয়া হয়, তখন আমরা কথা বলেছি তাদের সঙ্গে।

“সিআইডির কর্মকর্তারা আমাদের বলেছেন, শাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তাদের ধরা হয়েছে।”

মঙ্গলবার সকালেও সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে শাহ রাজ সিদ্দিকী বলেন, “সিআাইডির এক কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন, যাদের নেওয়া হয়েছে, তাদের বিষয়ে বেলা ১২টায় আপডেট জানান হবে।”

রাতে দেওয়া ফেইসবুক পোস্টে শাহ রাজ সিদ্দিকী লিখেছিলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি তদন্ত করছেন।


বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদুল।

তবে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়ায়’ গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে জানানো হবে।


নতুন বছরের প্রথম দিন আগের ২৪ ঘণ্টায় (১ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত) ৩৭০ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্তের তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেদিন নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তে হার ছিল দুই দশমিক ৪৩ শতাংশ। 

একই সময়ে চার জনের মৃত্যুর কথাও জানানো হয়। আর তিন সপ্তাহ শেষে গতকাল রবিবার (২৩ জানুয়ারি) অধিদফতর জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় (২৩ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯০৬ জনের। এ সময়ে শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর এ সময়ে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।

অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ১ জানুয়ারিতে দেশের ৪৪ জেলায় নতুন রোগী শনাক্ত ছিল না। বাকি জেলাগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র ঢাকা জেলা ছাড়া বাকিগুলোতে রোগী ছিল এক অংকের সংখ্যায়। আর ২৩ জানুয়ারিতে অধিদফতর জানাচ্ছে, ৬৪ জেলার মধ্যে মাত্র পাঁচ জেলায় এক অংকের ঘরে রোগী শনাক্ত হয়েছে। 

বাকি জেলাগুলোর মধ্যে চার অংকের সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে দুই জেলায় আর তিন অংকের সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে আট জেলায়। বাকি জেলাগুলোতে রোগী সংখ্যা দুই অংকের ঘরে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরের বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিন জন ভাইরাসটিতে শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এর ঠিক ১০ দিন পর করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি। 

এরপর প্রায় দুই বছর ধরে চলা এ মহামারির সংক্রমণচিত্রে বিভিন্ন সময়ে ওঠানামা চিত্র দেখেছে দেশ। তবে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা দেখা গিয়েছে বছরের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে। 

করোনার ধরন ডেল্টার তাণ্ডবে সেসময়ে দেশ একদিনে সর্বোচ্চ রোগী আর সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখেছে। তবে আগস্টের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শনাক্তের হার কমে আসে ১ শতাংশের কাছাকাছি। তবে বছর শেষে নতুন ত্রাসের জন্ম দেয় করোনার অতিসংক্রমণশীল ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। 

ডেল্টার তুলনায় পাঁচ থেকে ছয়গুণ বেশি সংক্রমণ ক্ষমতা নিয়ে ওমিক্রন ছড়াতে থাকে বাতাসের গতিতে। আর চলতি বছরের মধ্য জানুয়ারি থেকে সংক্রমণ ফের ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েকদিন ধরেই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।

দেশে একদিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ভয়ংকর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবের সময়। সে বছরের ২৪ জুলাই অধিদফতর জানায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে রোগী শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। যা কিনা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আর গত ২৪ ঘণ্টায় (২৩ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত) শনাক্তের হার হার ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জায়গা একটু একটু করে নিচ্ছে ওমিক্রন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম (২৩ জানুয়ারি) অধিদফতরের ভার্চুয়াল বুলেটিনে জানিয়েছেন, ‘দেশে এখনও করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাধান্য বেশি, তবে একটু একটু করে সে জায়গাটা ওমিক্রন দখল করে নিচ্ছে।’

দেশে ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওমিক্রন আগের সব রেকর্ড ভাঙ্গবে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার এখনই চলে এসেছে ডেল্টার চূড়ার কাছাকাছি।

সেইসঙ্গে প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদফতর যে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা জানাচ্ছেন সেটাও প্রকৃত সংখ্যা নয়, বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ‘ওমিক্রনে ডেল্টার মতো জটিলতা নেই বলা হলেও সামনে আরও মৃত্যু বাড়বে।’

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সংক্রমণ বাড়লে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও আনুপাতিক হারে বাড়বে। 

বর্তমানে যে মৃত্যুগুলো হচ্ছে সেগুলো আগের প্রভাব, নিদেনপক্ষে তিন সপ্তাহ আগে যারা আক্রান্ত হয়ে জটিল অবস্থায় গিয়েছে, সেসব রোগীদের মৃত্যু হচ্ছে। আর বর্তমান সময়ে যেসব রোগীদের অবস্থা জটিল অবস্থায় গিয়েছে তাদের মৃত্যুর অবস্থা দেখা যাবে আগামী তিন সপ্তাহ পর।

আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে যদি এভাবে মৃত্যু বাড়তে থাকে, তাহলে সেসব মৃত্যু ওমিক্রনে সংক্রমিত হয়েই হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে জানিয়ে মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘যদি দেখা যায় শনাক্তের হারের তুলনায় মৃত্যু কম হচ্ছে তাহলেই কেবল বলা যাবে ওমিক্রনে মৃত্যু। আর আগ পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব হবে না। 

তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, শনাক্ত যদি অনেক বেড়ে যায় তাহলে আনুপাতিক হারে মৃত্যু বাড়বে।’

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি রয়েছে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারি ১১ দফা নির্দেশনা ঠিক আছে, কারণ সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়, সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া একদম শেষ ব্যবস্থা।’

তবে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানুষকে সম্পৃক্ত করার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মনে করেন ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, ডেল্টার প্রাদুর্ভাবের সময় কিন্তু করোনা প্রতিরোধের জন্য একেবারে ওয়ার্ড পর্যায়েও কমিটি করার প্রজ্ঞাপন দিয়েছিল ক্যাবিনেট। যেখানে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সবাই ছিল। যেখানে করোনাকে প্রতিরোধ করার কাজ করার পাশাপাশি টিকার জন্যও কাজ করা হতো।

সেই নির্দেশনা গ্রামে কিছুটা হলেও শহরে একদমই বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শহরে এটা বাস্তবায়ন করার জন্য সিটি মেয়রদের কাজ করতে হবে, তারা যেন উদাহরণ তৈরি করেন। ২০২০ সালে যখন জোনাল লকডাউন হয়েছিল, তখন তারা বেশ সক্রিয় ছিলেন। সেভাবেই এখন আবার কাজ করতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য ও জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, এখনও হাসপাতালে বেড ফাঁকা রয়েছে। কিন্তু আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহ পরে হাসপাতালগুলোতে শয্যা কতোটা ফাঁকা থাকবে- সেটা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।

সংক্রমণের এই ঊধর্ধ্বগতিতে বাণিজ্যমেলা, শপিংমল খোলা রাখার বিষয়টিকে ‘বিক্ষিপ্ত এবং এলোপাতাড়ি পরিকল্পনা’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখানে সমন্বিত এবং চিন্তা করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget