Articles by "প্রযুক্তি"


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমান সময়ে তরুণদের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড
 রিয়েলমি। এবার নিজেদের সবচেয়ে দামী ডিভাইস নিয়ে চীনের মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি আগামী মাসেই ইউরোপের হাই-এন্ড হ্যান্ডসেট বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিয়েছে। 

এরই মধ্যে নিজের বিভিন্ন ফোন নিয়ে বাজারে একটি শক্ত অবস্থান তৈরী করেছে রিয়েলমি।

শেনজেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি বাজেট ফোনের বাজারের বাইরেও শক্ত অবস্থান তৈরি করার উদ্যোগ হিসেবে নিজেদের সবচেয়ে দামি মডেলটি ইউরোপের বাজারে হাজির করবে। রিয়েলমি’র সিইও রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান এ বছর বিশ্বব্যাপী শতকরা ৫০ ভাগ বেশি স্মার্টফোন বিক্রির পরিকল্পনা করছে।

বেশ কয়েকটি চীনা হ্যান্ডসেট নির্মাতা হুয়াওয়ের স্মার্টফোনের বাজার দখলের জন্য আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর এক সময়ের শীর্ষস্থান দখলকারী এই স্মার্টফোন নির্মাতার সাপ্লাই চেইন বন্ধ হয়ে যায় এবং নিজেদের অবস্থান হারায়।

রিয়েলমি ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপে তার ফ্ল্যাগশিপ ফোন জিটি ২ প্রো সাতশ’ থেকে আটশ’ ডলারে বিক্রি করবে বলে জানিয়েছেন সিইও স্কাই লি।

জিটি মাস্টার এডিশনের মূল্য অ্যামাজন সাইটে ৩৯৫ ডলার। সে হিসেবে প্রো তার প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে বিক্রি হবে, যেটি অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম ফোনের প্রায় কাছাকাছি দামের হতে যাচ্ছে।

লি বলেন, “আমরা মনে করি এটি একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বাজার, হাইএন্ড ফোনের জন্য একটি বড় বাজার।”

মহামারীর ছোবল লেগেছে অর্থনীতিতে, স্মার্টফোনের চাহিদা কমে এসেছে এবং ক্রেতারা নতুন ফোন কিনতে আরও বেশি সময় নিচ্ছেন। তবে, বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল স্মার্টফোন নির্মাতা হিসাবে রিয়েলমি এখানে পরিবর্তন আনতে পারে বলে যোগ করেছেন লি।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের ধারণা অনুসারে ইউরোপের স্মার্টফোন বাজার থেকে ২০২১ সালের প্রথম ১১ মাসে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। এর মধ্যে হাই-এন্ড ফোন থেকে এসেছে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

“বাজার বৃদ্ধির প্রায় পুরোটাই আসে হাই-এন্ড মডেল থেকে, আর এই অংশটি চালাচ্ছে অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম মডেলগুলো” – কাউন্টারপয়েন্ট সিনিয়র বিশ্লেষক ইয়াং ওয়াং বলেন।

অ্যাপলের প্রিমিয়াম ফোন ইউরোপের বাজারে চলেছে সবচেয়ে বেশি। প্রতিষ্ঠানটির আইফোন ১৩’র দাম শুরু হয় প্রায় সাড়ে আটশ’ ডলার থেকে। গত প্রান্তিকে এর পরেই ছিল স্যামসাং এবং শাওমি যাদের প্রিমিয়াম ফোনের মূল্য ছিল যথাক্রমে নয়শ’ ও সাতশ’ ডলার।


সারা বিশ্বে ৫০ হাজার মানুষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওপরে নজর রেখেছিল হ্যাকাররা। আর এর পেছনে যুক্ত ছিল ভারত, ইসরাইলসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান।

এমনই চঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। বৃহস্পতিবার এসব তথ্য প্রকাশ করা হয় বলে খবর প্রকাশ করে এএফপি।

সেখানে মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়, সারা বিশ্বে প্রায় ১০০ দেশের অধিকারকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী ও সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম থেকে প্রায় দেড় হাজার পেজ ও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব পেজ ব্যবহার করেই মূলত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতো। আর সাতটি প্রতিষ্ঠান এসব অ্যাকাউন্ট ও পেজ ব্যবহার করত বলে বলা হয় সিএনএন ও রয়টার্সের খবরে।

এ ছাড়া হ্যাকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে মেটা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা ও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও এসব হ্যাকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জোরদার করেছে।

এমন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইসরাইলের আড়িপাতার সফটওয়্যার নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। এদিকে মেটাও এনএসওর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে।

এ ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে— ইসরাইলের ব্ল্যাক কিউব। এ প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহার করেছিলেন ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হলিউডের প্রভাবশালী প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টিন। ভারতের বেলট্রক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে এতে। ইসরাইলের কবওয়েবস টেকনোলজিস, কগনাইট, ব্লুহোয়াক সিআইয়ের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছে ফেসবুক থেকে। এ ছাড়া উত্তর মেসিডোনিয়ার সাইট্রক্স ও চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টও মুছে দিয়েছে ফেসবুক।


এ প্রসঙ্গে মেটার সিকিউরিটি পলিসি বিভাগের প্রধান নাথানিয়েল গ্লেইচার বলেন, এনএসওর মতো শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, আড়িপাতার জন্য সফটওয়্যার তৈরি করতে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে এসব আড়িপাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সন্ধান কীভাবে মিলেছে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি মেটা।


দুই বছরের বেশি সময় পরীক্ষার পর সবার জন্য উন্মুক্ত হলো মেটার ভিআর দুনিয়া ‘হরাইজন ওয়ার্ল্ডস’। এই অ্যাপটির ডিজিটাল জগতকে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে ‘সোশাল ভার্চুয়াল রিয়ালিটি স্পেস’ হিসেবে। শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা আমন্ত্রণ ছাড়াই বিনামূল্যে কোয়েস্ট অ্যাপ অ্যাক্সেস করতে পারবেন।

অ্যাপটিতে মূল গেইমের পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা নিজের ইচ্ছেমতো মিনি-গেইম নির্মাণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। কাজের ধরনের হিসাবে রোব্লক্স এবং কন্টেন্ট নির্মাতার উপর নির্ভরশীল অন্যান্য অ্যাপের সঙ্গে মিল রয়েছে হরাইজন ওয়ার্ল্ডসের।

তবে নির্মাতাদের সরাসরি আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কোনো সুযোগ আপাতত নেই অ্যাপটিতে। তার বদলে, এক কোটি ডলারের বিশেষ ‘নির্মাতা তহবিল’ গঠন করেছে মেটা। অ্যাপের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা জিতলে ওই তহবিল থেকে পুরষ্কারের অর্থ পাবেন নির্মাতারা।

মেটা’র অকুলাস কোয়েস্ট ২ হেডসেটের ক্রেতারা ‘হরাইজন ওয়ার্ল্ডস’ ব্যবহার করতে পারবেন বিনা খরচে। একসঙ্গে ২০ জনের সঙ্গে হ্যাং আউট করা যাবে হরাইজন ওয়ার্ল্ডসে। এই অ্যাপ ব্যবহার করার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের। ১৮ বা তার বেশি বয়সী যে কেউ ভার্চুয়াল রিয়ালিটি জগতটিতে নিজের ভাসমান অ্যাভাটার তৈরি করতে পারবেন। তবে অ্যাপটিতে কেবল মাত্র দেহের উপরের অংশই অ্যাভাটার হিসেবে দেখা যাবে।

গেমাররা যেন বাড়তি কোনো ডাউনলোড ছাড়াই সহজে ওই টুলগুলো ব্যবহার করতে পারেন সেজন্য নির্মাণ টুলগুলো সরাসরি ভার্চুয়ালি রিয়ালিটি গেমের মধ্যেই দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিবিসি।

হরাইজন ওয়ার্ল্ডসে উড়ে বেড়াতে পারবেন গেইমার। গাছ বা অন্যান্য ‘আইটেম’ নির্মাণকাজে ব্যবহার করে নিজের আলাদা ‘কাস্টম এনভায়রনমেন্ট’ বানাতে পারবেন তারা। আর নিজের তৈরি গেইমের নিয়ম নির্ধারণের জন্য আগে থেকে লিখে রাখা কোড ব্যবহার করতে পারবেন গেমাররা।

আর এই কর্মকাণ্ডের সবই করা যাবে ওই ভার্চুয়াল রিয়ালিটি দুনিয়ার মধ্যেই, প্রয়োজন পড়বে না কোনো আলাদা কম্পিউটার স্ক্রিনের।প্রায় একই প্রক্রিয়ায় কাজ করছে অন্যান্য ভিআর নির্মাতাদের অনেকে। গেইমারদের জন্য নিজস্ব ‘রুম’ নির্মাণের সুযোগ দেয় ভিআর সেবা ‘রেক রুম’। নিজস্ব রুমে অন্যদের সঙ্গে গেইম খেলা বা আলাপাচারিতার সুযোগ পান ব্যবহারকারী।

ফেসবুক নাম পাল্টে ‘মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকর্পোরেটেড’ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির যে পণ্য বা সেবাগুলো বাজারজাত করেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ‘হরাইজন ওয়ার্ল্ডস’কে। নাম পরিবর্তনের সময়েই একাধিক ডিজিটাল দুনিয়াকে সংযুক্ত করে ‘মেটাভার্স’ নির্মাণ লক্ষ্যের কথা বলেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যাপটি বেটা পর্যায়ে থাকা অবস্থাতেই “কয়েক হাজার” ভার্চুয়াল জগত ব্যবহারকারীরা তৈরি করে ফেলেছেন বলে দাবি করছে মেটা। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে একটি প্রাইভেট বিটা হিসাবে প্রথম ঘোষণা করা হয়েছিল।

সূত্র: দ্য ভার্জ

 


মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, ফেসবুকের ভবিষ্যৎ হলো মেটাভার্স। ত্রিমাত্রিক এই ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় ব্যবহারকারীরা এমনভাবে কথোপকথন চালাতে কিংবা কাজে অংশ নিতে পারবেন, যেন একে অপরের ঠিক পাশেই আছেন। এখন তিনি বলছেন, সে জগতে কেবল দেখা কিংবা শোনা নয়, মিলবে স্পর্শের অনুভূতিও। সে জন্য হাতে থাকতে হবে বিশেষ প্রযুক্তির গ্লাভস বা দস্তানা। সে গ্লাভস কীভাবে কাজ করবে, গতকাল মঙ্গলবার এক ফেসবুক পোস্টে তা-ও দেখিয়েছেন তিনি।

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার অঙ্গপ্রতিষ্ঠান দ্য রিয়েলিটি ল্যাবস এই গ্লাভস তৈরি করছে। এরই মধ্যে একটি পরীক্ষামূলক সংস্করণ (প্রোটোটাইপ) দেখিয়েছে তারা, যেটি হাতে থাকলে ভার্চ্যুয়াল বস্তু হাতে নেওয়ার অনুভূতি মিলবে। সমন্বিত অভিজ্ঞতার জন্য ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) হেডসেটের সঙ্গে গ্লাভসটি বাজারজাত করা হতে পারে। আর ভবিষ্যতে অগমেনটেড রিয়েলিটি (এআর) গ্লাসের সঙ্গে ব্যবহারোপযোগী করে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে এনডিটিভির প্রতিবেদনে। এই ভিআর ও এআর প্রযুক্তির সাহায্যেই পরিচালিত হবে ভবিষ্যতের মেটাভার্স।


গতকাল মঙ্গলবার গ্লাভসটির কারিগরি খুঁটিনাটি প্রকাশ করে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ বছর ধরে গ্লাভসটি তৈরিতে কাজ করছে রিয়েলিটি ল্যাবস। তবে কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ গ্লাভস বিক্রি সম্ভব হবে, তা এখনো তাদের অজানা। এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও তাদের লক্ষ্য মূলত আরও সমন্বিত অভিজ্ঞতার জন্য ভিআর হেডসেটের সঙ্গে গ্লাভস যুক্ত করা।

মেটার শেয়ার করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, গ্লাভসটি পরিধানকারীর হাতে এমন অনুভূতি তৈরি করে, যার মাধ্যমে বাস্তব বস্তুর ভর এবং স্পর্শ পাওয়া সম্ভব। গ্লাভসে যুক্ত থাকছে প্লাস্টিকের তৈরি ছোট ছোট মোটর যা অ্যাকচুয়েটর নামে পরিচিত। এগুলোর মাধ্যমেই পরিধানকারীর হাতে ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় কোনো কিছু ধরার অনুভূতি মিলবে। সেটা হতে পারে বল ছুড়ে দিয়ে ধরা, আবার কারও সঙ্গে করমর্দন করা। ব্যাপারটা এমন যে দুই বন্ধু ২০০ কিলোমিটার দূরে নিজ নিজ ঘরে বসে থেকেও একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করতে পারবেন। তা-ও আবার যথারীতি হাত নাড়িয়ে।



গ্লাভসটি কাজ করে মাইক্রোফ্লুইডিকসের সাহায্যে, এর মাধ্যমে বাতাসের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে অ্যাকচুয়েটরগুলোকে নাড়ানো যায়। পাশাপাশি হ্যান্ড-ট্র্যাকিং প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে মেটা।

রিয়েলিটি ল্যাবসের প্রকৌশলী ক্যাথেরিন হিলি বলেন, ‘এখন দক্ষ প্রকৌশলীরা প্রতিটি গ্লাভস আলাদা করে তৈরি করছেন, যেখানে যন্ত্রাংশ তৈরি করে সেগুলো জুড়ে দেওয়ার কাজ করা হচ্ছে হাতে হাতে। সম্ভব হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আধা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে ঠিকই, তবে বিপুল পরিমাণ এই গ্লাভস তৈরির জন্য আমাদের সম্পূর্ণ নতুন উৎপাদনপ্রক্রিয়া উদ্ভাবন করতে হবে।’


শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমের নতুন একটি সংস্করণ ছাড়ার ঘোষণা দিল মাইক্রোসফট। গতকাল মঙ্গলবারের ঘোষণায় সেটিকে ‘উইন্ডোজ ১১ এসই’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ডেল বা এইচপির মতো কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন অপারেটিং সিস্টেমের (ওএস) কম্পিউটার বাজারে তো ছাড়বেই, মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকেও নতুন একটি ল্যাপটপ কম্পিউটারের ঘোষণা এসেছে। ‘সারফেস ল্যাপটপ এসই’ মডেলের ল্যাপটপটিতে আগে থেকেই উইন্ডোজ ১১ এসই ইনস্টল করা থাকবে। ল্যাপটপটির দাম শুরু হচ্ছে ২৪৯ ডলার থেকে, বাজারে আসার কথা রয়েছে ২০২২ সালের শুরুর দিকে।

সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপারেটিং সিস্টেমের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও পোক্ত করতেই মাইক্রোসফটের এমন উদ্যোগ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালে বাজারে আসা পার্সোনাল কম্পিউটারগুলোর ৮৩ শতাংশে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ছিল, আর গুগলের ক্রোম ওএস-চালিত কম্পিউটার ছিল ১০ শতাংশ। গুগল বেশ পিছিয়ে থাকলেও ক্রমবর্ধমান বাজার হিস্যা মাইক্রোসফটকে ভাবিয়ে তুলেছে, আর সে কারণেই তুলনামূলক কম দামের ল্যাপটপগুলোতে মনোযোগী হলো তারা।


 করোনাকালে ঘরে থেকে অনলাইনে ক্লাস চালাতে শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাপটপের চাহিদা বেড়ে যায়। দাম কম হওয়ায় শিক্ষার্থীরাও ক্রোমবুকে ঝুঁকতে শুরু করে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও অনলাইন ক্লাসের রীতি এখনই বন্ধ হচ্ছে না। আর সে জন্যই শিক্ষার্থীদের সহজে ব্যবহারের জন্য এবং তাদের কথা মাথায় রেখে উইন্ডোজের সংস্করণটির ঘোষণা দিল মাইক্রোসফট।

সহজে ব্যবহার করার জন্য নতুন উইন্ডোজ ‘অপশন’ কম রাখছে মাইক্রোসফট। যেমন এক ঘরানার কেবল একটি অ্যাপ থাকবে। মনোযোগে ব্যাঘাত যেন না ঘটে, সে জন্য অ্যাপগুলো সচরাচর ফুলস্ক্রিন মোডে চালু হবে ইত্যাদি।

মাইক্রোসফট অফিস স্যুটের সফটওয়্যারগুলো এখন সাধারণত ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে ব্যবহার করতে হয়। তবে সব শিক্ষার্থীর বাড়িতে ভালো ইন্টারনেট সংযোগ না-ও থাকতে পারে। উইন্ডোজ ১১ এসইতে এই সফটওয়্যারগুলো অফলাইনে চালানো যাবে। ইন্টারনেটে যুক্ত হলে সেগুলো হালনাগাদ করে নেবে উইন্ডোজ। তা ছাড়া নিরাপত্তার জন্য উইন্ডোজ ১১ এসইতে চলা কম্পিউটারগুলোতে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইটি অ্যাডমিনরা সফটওয়্যার ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে পারবেন।

মাইক্রোসফটের নতুন সারফেস ল্যাপটপ এসইর প্রাথমিক মডেলটিতে ১১ দশমিক ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লে, ইনটেল সেলেরন প্রসেসর, ৪ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ৬৪ গিগাবাইট স্টোরেজ আছে। দাম ২৪৯ ডলার।

বিশেষ করে স্কুলে ব্যবহারের জন্য উইন্ডোজ এবং ল্যাপটপটি বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হলো
বিশেষ করে স্কুলে ব্যবহারের জন্য উইন্ডোজ এবং ল্যাপটপটি বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হলো
মাইক্রোসফট

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কেনা কম্পিউটারগুলোতেও আগে থেকে উইন্ডোজ ১১ এসই ইনস্টল করার পরিকল্পনা মাইক্রোসফটের। আর সে কারণে উইন্ডোজ ১১ এসই চালিত ডিভাইসগুলো বেশির ভাগ আগামী বছরের শুরুতে বাজারে আসা শুরু করবে। স্কুলগুলো সচরাচর সে সময়ে নতুন কেনাকাটার জন্য বাজেট নির্ধারণ করে থাকে।

 ৮ লাখ কোটি টাকায় গ্রামীণফোন কিনেছি, মন্ত্রীকে ফোন!

ঢাকা: আট লাখ কোটি টাকায় গ্রামীণফোন কেনার দবি করেছে এক ব্যক্তি। আর এই দাবি জানিয়েছেন তিনি খোদ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে।

‘অদ্ভুত’ সেই ফোন কলের ঘটনা বুধবার ফেসবুকে তুলে ধরেছেন মন্ত্রী।  

মন্ত্রী ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বড় অদ্ভুত একটা ফোন পেলাম একটু আগে। এক লোক ফোন দিয়ে বললো, তার নাম রাসেল। সে গ্রামীণফোনের মালিক। ২০১৬ সালে ৮ লক্ষ কোটি টাকা দিয়ে গ্রামীণফোন কেনা হয়েছে। তার আত্মীয় স্বজনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তার উন্নত চিকিৎসা করার জন্য।

গ্রামীণফোনের মূল প্রতিষ্ঠান টেলিনর, বাংলাদেশে জনপ্রিয় মোবাইল ফোন অপারেটর হিসেবে সেবা দিচ্ছে। বিটিআরসির তথ্যমতে, দেশে মোট মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১৭ কোটি ৮৬ লাখ, যার মধ্যে ৮ কোটি ৩১ লাখ গ্রাহকই গ্রামীণফোনের।


নিউইয়র্ক : বদলের আবহে আরও নতুন একটি আপডেট আনল ফেসবুক (Facebook)। এবার থেকে মেসেঞ্জারের (Messenger) ভয়েস ও ভিডিও কলও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড (End-to-End encrypted) হবে। ব্যক্তিগত চ্যাটের পাশাপাশি মেসেঞ্জারে গ্রুপ চ্যাট, গ্রুপ অডিও বা ভিডিও কলের ক্ষেত্রে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মার্ক জুকেরবার্গ (Mark Zukerberg)। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে যে বার্তা দেওয়ার পাশপাশি জুকেরবার্গের বার্তা, সমস্ত সার্ভিসের ক্ষেত্রেই এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন নিশ্চিত করা তাদের লক্ষ্য।


কিছুদিন আগেই ফেসবুক থেকে বদলে মূল কোম্পানির নাম মেটা (Meta) করার কথা ঘোষণা করেছিলেন জুকেরবার্গ। যে মেকওভার চলার মাঝেই মেসেঞ্জারের নতুন আপডেটের কথা জানালেন তিনি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের (Whatsapp) মালিকানা আপাতত জুকেরবার্গের কোম্পানির হাতেই। যেখানে কার্যকর এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন। এবার সেই একই পরিষেবা মেসেঞ্জারের ক্ষেত্রেও আনার কথা জানালেন তিনি। যদিও এই আপডেটের ঘোষণা উৎসাহিের তুলনায় সমালোচকদের সংখ্যাই বেশি। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বলছেন, তাহলে এতদিন মেসেঞ্জারের তথ্য যে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড ছিল না, সেটাই কী ঘুরিয়ে স্বীকার করে নিলেন জুকেরবার্গ।



প্রসঙ্গত, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের অর্থ যে দু'জনের মধ্যে কথোপকথন হয়েছে, তারা বাদে সেই তথ্য অন্য কেউ দেখতে পাবেন না। অবশ্য জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যা ব্যবহার করা যায়। কিন্তু ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিপরিসরে উঁকি মারে। ব্যক্তিগত তথ্য (Data) হাতিয়ে নিয়ে তা অন্য সংস্থাকে অনৈতিকভাবে বিক্রি করে ব্যবসা করার মতো অনৈতিক অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। যার বিরুদ্ধে ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে লড়াই চলছে তাদের। যদিও বরাবর ব্যক্তিতথ্য সুরক্ষিত রেখে অনৈতিক কোনও কাজের অভিযোগ মানতে অস্বীকার করেছে ফেসবুক।


তবে জুকেরবার্গের অন্যবারের আপডেটের ক্ষেত্রে যেমন উৎসাহের আবহ বেশি থাকে, এবারে তেমনটা কিন্তু হচ্ছে না। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন বা ব্যক্তিতথ্য পরিসরের অপ্রিয় প্রসঙ্গ এসে পরাতে কিছুটা বিড়ম্বনাতেই পড়তে হচ্ছে ফেসবুককে। 

 

মোবাইলে ইন্টারনেট না থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে ফেসবুক মেসেঞ্জার ব্যবহার করে টেক্সট পাঠানো যাবে। এ সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও মোবাইল অপারেটরগুলো। এজন্য ‘শুধু টেক্সটের মাধ্যমে যোগাযোগের জন্য ফেসবুক মেসেঞ্জার ও ডিসকভার অ্যাপ’ উদ্বোধন করা হবে। একই সঙ্গে ‘মোবাইল ডাটা প্যাকেজ নির্দেশিকা’ও প্রকাশ করবে বিটিআরসি।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ‘মোবাইল ডাটা প্যাকেজ নির্দেশিকা এবং শুধুমাত্র টেক্সটের মাধ্যমে ফেসবুক মেসেঞ্জার ও ডিসকভার অ্যাপ’ উদ্বোধন করা হবে। বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং সচিব মো. খলিলুর রহমান উপস্থিত থাকবেন।

বিটিআরসির এক কর্মকর্তা জানান, সবার সবসময় ডাটা (ইন্টারনেট) থাকে না। গ্রাহকরা যাতে ডাটা ছাড়াই টেক্সট পাঠাতে পারেন, সে জন্য অপারেটররা মিলে এই সুবিধা চালু করছে।

চেহারা শনাক্ত করার প্রযুক্তি ফেসিয়াল রিকগনিশন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক


আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন, চেহারা শনাক্ত করার প্রযুক্তি ফেস রিকগনিশন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’। এই প্রযুক্তির সাহায্যে ছবি বা ভিডিওতে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে পারে ফেসবুক। ব্যবহারকারীদের শঙ্কা এবং নীতিনির্ধারকদের চাপের মুখে সুবিধাটি বন্ধের ঘোষণা দিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মটি। তবে এর অর্থ কী এবং ফেসবুক ব্যবহারে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, চলুন তা জানার চেষ্টা করি।

মনে করুন, পাঁচ বন্ধুর দেখা হলো বহুদিন পরে। আবার কবে একসঙ্গে হবেন তার ঠিক নেই বলে কিছু ছবি তুললেন। ফেসবুকে সেই ছবি পোস্ট করার সময় দেখলেন, আপনি ট্যাগ করে দেওয়ার আগেই ফেসবুক নিজে থেকেই সবাইকে নির্ভুলভাবে ট্যাগ করে দিচ্ছে, অন্তত বলছে কে কোনটা। আবার অনেক সময় নোটিফিকেশন আসে, যেখানে বলা থাকে, অন্য কেউ একটি ছবি পোস্ট করেছেন, যে ছবিতে হয়তো আপনিও আছেন।

ফেসবুকের এই অটো ট্যাগিং সিস্টেম কাজ করে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির সাহায্যে। আপনার একাধিক ছবিতে চেহারা বিশ্লেষণ করে ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অ্যালগরিদম বুঝতে শেখে আপনার চেহারা কেমন কিংবা কোন ছবিতে আপনি আছেন। এখন সেই প্রযুক্তি বন্ধ করে দেওয়া হলে নিজে থেকে ফেসবুক আপনাকে কিংবা আপনার ছবিতে থাকা অন্য ফেসবুক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে পারবে না। অন্তত পারার কথা নয়। কারণ, এতদিন যে ছবিগুলো দেখে ফেসবুক আপনাকে বা অন্য ব্যবহারকারীদের চিনতে শিখেছে, ফেসবুক সেই শনাক্তকরণের তথ্য মুছে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে।

ব্যবহারকারীরা ছবিতে ফেসবুক বন্ধুদের আগের মতোই ট্যাগ করতে পারবেন। কেবল ফেসবুক নিজে থেকে ট্যাগ করে দেবে না বা ট্যাগ করার পরামর্শ দেবে না। একই সঙ্গে অন্য কেউ যদি আপনার ছবি আপলোড করে, তবে ফেসবুক আপনাকে তা জানাতে পারবে না। কারণ, ওই ছবিতে যে আপনি আছেন, ফেসবুক তা বুঝতে পারবে না।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য একটি সুবিধা তৈরির ঘোষণা দিয়েছিল ফেসবুক। যেখানে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবির বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করে শোনানো হতো। যেমন ছবিতে মুহিব নদীতীরে দাঁড়িয়ে আছে, পেছনে উড়ে যাচ্ছে একঝাঁক পাখি। এখন নদীতীর কিংবা পাখির বর্ণনা আগের মতোই দেওয়া হবে, শুধু ছবির মানুষ যে মুহিব, তা বলা হবে না।

শঙ্কা কিসের

ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি এখন অনেকটা নির্ভুলভাবেই চেহারা শনাক্ত করতে পারে। আর সেই সঙ্গে প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে শঙ্কা বাড়তে থাকে জনমনে। বিশেষ করে নানা দেশের সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নজরদারি বাড়াতে পারে। চীনে এই প্রযুক্তির সাহায্যে উইঘুর মুসলিমদের শনাক্ত করে দেশটির সরকার।

আগের ঘোষণা অনুযায়ী, ফেসবুক ব্যবহারকারীর ফেস রিকগনিশন–সংক্রান্ত তথ্য বিক্রি বা হস্তান্তর করে না, বরং নিজেদের সেবার উন্নয়নে কাজে লাগায়। সেই কথা যদি সত্যিও হয়, তবু নানা দেশের আইনপ্রণেতারা বিশ্বাস করবেন কেন? বিশেষ করে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের নজির যখন তাঁদের চোখের সামনে জ্বলজ্বল করছে। 


চেহারা শনাক্ত করার প্রযুক্তি ফেসিয়াল রিকগনিশন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক



বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ও মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকের মধ্যে টেলিযোগাযোগ সেবা সংক্রান্ত এক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। গতকাল সোমবার বিটিসিএলের প্রধান কার্যালয়ের বিটিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল মতিন এবং বাংলালিংকের সিইও এরিক আস নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিটিসিএল জানায়, দেশের মোবাইল অপারেটর টেলিটক, রবি এবং গ্রামীণফোন বিটিসিএলের সেবা নিচ্ছে। এবার বাংলালিংকও এ তালিকায় যুক্ত হলো। বিটিসিএল এখন দেশের সব মোবাইল অপারেটরকে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানে সক্ষম।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রায় দেশের টেলিকম খাতের অর্জ ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান । এ সময় সব মোবাইল অপারেটরদের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানের কথা বলেন বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রফিকুল মতিন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সিইও শাহজাহান মাহমুদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিগগিরই দেশে ৫-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হবে। আগামীকাল (১৭ মে) ‘ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সোসাইটি ডে’ উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, সরকার তথ্য-প্রযুক্তিবান্ধব নীতি প্রণয়ন করেছে। দেশের ৯৯ ভাগ এলাকা এখন মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে। অচিরেই দেশে ৫-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হবে। আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ এর সেবা ব্যবহার করতে শুরু করেছি।

‘ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সোসাইটি ডে’-র এবারের প্রতিপাদ্য ‘ব্রিজিং দ্য স্টান্ডার্ডাইজেশন গ্যাপ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে বিরাট জাগরণ তৈরি হয়েছে, যার সুফল বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে পেতে শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, ‘গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তির সুফল দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে যোগাযোগ প্রযুক্তির অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রায়োগিক উৎকর্ষ সাধন, প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ এ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। ইন্টারনেট ডেনসিটি বৃদ্ধি, সাবমেরিন ক্যাবলের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনসহ টেলিযোগাযোগ খাতের সকল সেবা আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ, প্রায় সকল উপজেলায় অপটিক্যাল ফাইবার কানেকটিভিটি, সকল জেলায় তথ্য বাতায়ন এবং প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আমাদের নানাবিধ উদ্যোগের ফলে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, একটি বাস্তবতা।’
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ১৭ মে ‘ওয়ার্ল্ড টেলিকমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সোসাইটি ডে’ পালন করা হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।
(jagonews24)

কামরুল হাসান : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উপক্ষেপণের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের এই দিনে (বাংলাদেশ সময় ১২ মে রাত ২.১৪ মিনিটে এবং যুক্তরাষ্ট্র সময় ১১ মে) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চপ্যাড থেকে মহাকাশপানে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। মহাকাশে গত এক বছরের পদচারনায় যেমন কাটলো বাণিজ্যিক এ যোগাযোগ স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১!
বাণিজ্যিক যাত্রায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফলতা সম্পর্কে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, স্যাটেলাইট যাত্রার এক বছর হলেও আমরা বুঝে পেয়েছি গত নভেম্বরে। এর আগে এটি ছিল ফ্রান্সের থ্যালাস এলিনিয়া স্পেসের নিয়ন্ত্রণে। তারা গাজীপুরে গ্রাউন্ড স্টেশনে আমাদের ঢুকতেই দেয়নি।

শাহজাহান মাহমুদ বলেন, আমরা হাতে পাওয়ার পর থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার বাজার ধরতে অনেক দেশে পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছি। ইতিমধ্যে আমাদের স্যাটেলাইট ব্যবহারের জন্য ফিলিপাইন সরকার চুক্তি করেছে এবং যোগাযোগ শুরু করেছে থাইল্যান্ড ও নেপাল। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নৌ-পরিবহন, মৎস্য অধিদফতর এবং কৃষি বিভাগসহ ৩০টির বেশি স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসসিসিএলের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
ড. শাহজাহান মাহমুদ জানান, আমরা ১৯ মে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রতিষ্ঠাবার্ষীকি পালন করবো, সে দিন থেকেই দেশের সবগুলো টিভি চ্যানেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করবে। এ ব্যাপারে প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। টিভি চ্যানেলগুলো আগে যে দামে ব্যান্ডউইথ কিনত এখন আমাদেও কাছ থেকেও সেই দামেই নেবে। প্রতি মেগাহার্ডজ দুই হাজার ডলার করেই পরিশোধ করবে তারা। প্রতিটি টিভি চ্যানেলের ৪ থেকে ৬ মেগাহার্ডজ লাগে। তাদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১২ হাজার ডলার করে পাওয়া যাবে।
শাহজাহান মাহমুদ আরো বলেন, ব্যাংকের এটিএম বুথ আর অনলাইনে অর্থ লেনদেন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর আওতায় আনতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ১৯ মে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি বুথ এই স্যাটেলাইটের ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এর পরীক্ষামূলক কাজও শেষ হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সবগুলো এটিএম বুথ কোনো ধরনের ব্রডব্যান্ড সংযোগ ছাড়াই এই স্যাটেলাইটের আওতায় আনা হবে। এতে সাইবার অপরাধও কমে যাবে।
এর আগে, জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর স্বত্ব (মালিকানা) দেয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের (বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের স্বত্ব শুধু বেক্সিমকো ও অন্য একটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়েছে) জবাবে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর স্বত্ব (মালিকানা) কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়নি, এটি দেশের জনগণের সম্পত্তি। সে কারণে স্যাটেলাইটের স্বত্ব নিয়ে যেসব কোম্পানি বা ব্যক্তিবর্গের নামে লিজ দেয়ার তথ্য খবরের কাগজ বা গণমাধ্যমে আসে, তা সত্য নয়।
এদিকে সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। আগামী সাত বছরের মধ্যে এই খরচ উঠে আসবে বলে মনে করেন উৎক্ষেপণকারী সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)।
(amadershomoy)

মুসবা তিন্নি : তিনি বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি। মার্কিন অনলাইন শপিং পোর্টাল আমাজনের মালিক। একইসঙ্গে মহাকাশ সংস্থা ব্লুওরিজিনের প্রধান। সেই জেফ বেজোস এবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। সংবাদ প্রতিদিন
বেজোস জানিয়েছেন যে, ২০২৪-এর মধ্যেই চাঁদে মানুষ পাঠাবেন তিনি। আর সেই চন্দ্রযাত্রা হবে সেখানে বসবাসের জন্য! চন্দ্রাভিযানের জন্য তিনি যে অত্যাধুনিক, উচ্চপ্রযুক্তিসম্পন্ন মহাকাশযানের পরিকল্পনা করেছেন, সেটি চাঁদে গাড়ি ও অন্যান্য সরঞ্জামও বহন করে নিয়ে যাবে। যাতে সেখানে বসতি স্থাপনে কোনও অসুবিধা না হয়।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এই মহাকাশযানের উপস্থাপনা করেন ৫৫ বছরের বেজোস। “এই হল ব্লু মুন, বিশালাকার একটি মহাকাশযানের মডেলের পর্দা উন্মোচন করে ঘোষণা করেন বেজোস। ৬.৫ মেট্রিক টন ওজনের এই যানটি চাঁদের নরম মাটিতে গিয়ে নামবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণার সরঞ্জাম ছাড়াও এতে করে মানুষও চাঁদে পাড়ি দেবে বলে দাবি করেছেন তিনি। এই চন্দ্রযানটি ছাড়াও চার চাকার একটি মুন রোভারও প্রকাশ্যে এনেছেন বেজোস। তিনি নির্দিষ্ট করে কোনও সময়সীমা বা কবে অভিযান হবে, সেটা জানাননি।
তবে ব্লু ওরিজিনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪-এ চাঁদে মানুষ পাঠানোর যে লক্ষ্য স্থির করেছেন, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তাঁরা পরিকল্পনা করছেন। তবে মাত্র তিন বছর আগে কাজ শুরু করায় তাঁরা খুব সতর্ক হয়ে এগোতে চান। পঞ্চাশ বছর আগে মার্কিন মহাকাশচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করেছিলেন। আবার নতুন করে পৃথিবীর এই উপগ্রহের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে কয়েকটি দেশ।
(amadershomoy)

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি বছর স্থানীয় বাজারে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি বিক্রিতে রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছে দেশের ইলেকট্রনিক্স
জায়ান্ট ওয়ালটন। গত বছর সারা দেশে যে পরিমান এসি বিক্রি হয়েছিল তাদের, তা চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। যা কিনা গত বছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় প্রায় ১৫০ শতাংশ বেশি। এদিকে গ্রীষ্মের প্রখরতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডটির এসি বিক্রয়।

ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের মতে, এসি বিক্রয় বৃদ্ধিতে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় বিশেষ অবদান রাখছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বাজারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ফিচারসমৃদ্ধ এসি নিয়ে আসা, ইনভার্টার এসির কম্প্রেসরে ১০ বছরের গ্যারান্টি ঘোষণা, ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি সুবিধা, একচেঞ্জ অফারে যে কোনো ব্র্যান্ডের এসি বদলে ওয়ালটনের নতুন এসি ক্রয়ের সুযোগ এবং ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের আওতায় ১ বছরের বিদ্যুৎ বিল ফ্রি অথবা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার বা বিভিন্ন পণ্য ফ্রি পাওয়ার সুযোগ।
সূত্রমতে, এসি এক্সচেঞ্জ অফারের আওতায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্রাহকরা যেকোনো ব্র্যান্ডের পুরনো এসি জমা দিয়ে ওয়ালটনের যেকোনো মডেলের নতুন এসি কিনতে পারছেন। দেশের যে কোনো প্লাজা বা পরিবেশক শোরুমে পুরাতন এসি জমা দিলে গ্রাহক তার পছন্দকৃত ওয়ালটনের নতুন এসির মূল্য থেকে ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। এই সুবিধার পাশাপাশি ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন ফোরের আওতায় ওয়ালটন এসি কিনে রেজিস্ট্রেশন করলেই গ্রাহকরা পেতে পারেন পুরো এক বছরের বিদ্যুৎ বিল ফ্রি অথবা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার। রয়েছে মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, টিভিসহ অসংখ্য হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সেস ফ্রি পাওয়ার সুযোগ।
এদিকে ওয়ালটন এসি কিনে গ্রাহক তার মোবাইল ফোনে এসির কলার টিউন সেট করলে এবং ক্রয়কৃত এসি ইনস্টল করার পর ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করলেই মিলছে ১ হাজার টাকা ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক। ওয়ালটন এসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: তানভীর রহমান জানান, এ বছর বাজারে লেটেস্ট প্রযুক্তির এসি নিয়ে আসার পাশাপাশি গ্রাহকবান্ধব অসংখ্য সুবিধা ঘোষণা দেয়ায় এসি বিক্রি হচ্ছে আশাতীত। এরই মধ্যে, ২০১৮ সালে সারা বছর যে পরিমান এসি বিক্রি হয়েছিল ওয়ালটনের, তা এই বছরের প্রথম চার মাসেই বিক্রি হয়েছে। এদিকে গত বছরের প্রথম চার মাসের এসি বিক্রির বিপরীতে এ বছরের একই সময়ে ওয়ালটনের এসি বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৫০ শতাংশ। এখন চলছে এসি বিক্রির প্রধান মৌসুম ‘গ্রীষ্মকাল’। তাই, গরমের
তীব্রতার সঙ্গে এসির বিক্রিও আরো বাড়ছে।
জানা গেছে, এ বছর ১, ১.৫ ও ২ টনের অসংখ্য মডেলের স্পিøট এসি বাজারে ছেড়েছে ওয়ালটন। ভেনচুরি ও রিভারাইন সিরিজের ১.৫ ও ২ টনের এসিতে এনার্জি সেভিং ইনভার্টার, আয়োনাইজার ও আইওটি স্মার্ট প্রযুক্তির নতুন মডেল যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২ টনের আইওটি বেজড ইনভার্টার স্মার্ট এসির দাম ৭৬ হাজার ৪’শ টাকা, শুধু ইনভার্টার এসির দাম ৭৪ হাজার ৯’শ টাকা ও আয়োনাইজার প্রযুক্তির এসির দাম ৫৬ হাজার ৯’শ টাকা ধরা হয়েছে।
এদিকে ১.৫ টনের ইনভার্টার স্মার্ট এসি ৬৫ হাজার টাকায়, শুধু ইনভার্টার এসি ৬৩ হাজার ৫’শ টাকা এবং  আয়োনাইজার এসি ৪৯ হাজার ৯’শ টাকায় কেনা যাচ্ছে। এছাড়া ওয়ালটনের ১ টন এসি কেনা যাচ্ছে ৩৫ হাজার ৫’শ টাকায়। ওয়ালটন এসির চীফ অপারেটিং অফিসার প্রকৌশলী ইসহাক রনি জানান, গ্রাহকের হাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পণ্য তুলে দিতে এসিতে ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইনভার্টার, আয়োনাইজার, টার্বো কুলিং মুড, গোল্ডেন ফিনের মতো বিশ্বের লেটেস্ট প্রযুক্তি যুক্ত করেছেন তারা। ইনভার্টার কম্প্রেসরের টার্বো কুলিং মুড রুমের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে এনে রুমকে তাড়াতাড়ি ঠান্ডা করে।
তিনি বলেন, ইনভার্টার প্রযুক্তিতে পিসিবি বা মাদারবোর্ডের মাধ্যমে রুমের তাপমাত্রা অনুযায়ী কম্প্রেসরের গতি নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাৎ, রুমের তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি কম্পেসরের গতিও কমে আসে। কম্প্রেসরের এ্যাকুইরেসি এবং কুলিং সিস্টেম-এ নিশ্চিত করেছে সর্বোচ্চ পারফেকশন। কম্প্রেসরে বিল্ট-ইন অটোমেটিক ভোল্টেজ প্রোটেকশন সিস্টেম থাকায় বিদ্যুৎ প্রবাহের বিচ্যুতি বা তারতম্যেও ওয়ালটন এসির কম্প্রেসারের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।
এসির কনডেনসারে মরিচারোধক গোল্ডেন কালার ফিন ব্যবহার করা হচ্ছে। কম্প্রেসরে বিশ্ব স্বীকৃত সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব আর৪১০এ রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করছে ওয়ালটন। এসব কারনে ওয়ালটনের ইনভার্টার এসিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। কম্প্রেসরের স্থায়ীত্বও বেড়েছে অনেক। এসিতে প্রতিদিন বা মাসিক বিল আসছে কত? ভোল্টেজ লো না হাই? কম্প্রেসর কি ওভারলোডে চলছে?
ওয়ালটনের স্মার্ট এসিতে মিলবে এসবের উত্তর।
স্মার্ট প্রযুক্তি ছাড়াও ওয়ালটন এসিতে সংযোজন করা হয়েছে আয়োনাইজার প্রযুক্তি। যা রুমকে ঠান্ডা করার পাশাপাশি রুমের বাতাসকে ধূলা-ময়লা ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত করবে। ওয়ালটনের প্রতিটি এসি আন্তর্জাতিকমানের টেস্টিং ল্যাব নাসদাত-ইউটিএস থেকে মান নিয়ন্ত্রণ সনদ পাওয়ার পরে বাজারজাতকরা হয়।
উল্লেখ্য, গ্রাহক পর্যায়ে দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা পৌঁছে দিতে ওয়ালটনের রয়েছে আইএসও সনদপ্রাপ্ত সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এর আওতায় সারা দেশে রয়েছে ৭০টিরও বেশি সার্ভিস সেন্টার। সেখানে নিয়োজিত রয়েছেন আড়াই হাজারের বেশি প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান।
(amadershomoy)

ফেসবুক ছাড়া যেন জনজীবন স্থবির। সেই ফেসবুকের বিরুদ্ধে মাঝেমাঝেই তথ্য চুরির অভিযোগ ওঠে। আর এতে করে অনেক গ্রাহকই ফেসবুকের প্রতি অসন্তুষ্ট। আর ফেসবুকের প্রতি এই অসন্তোষ কমাতে এর ডিজানেই আসছে আমূল পরিবর্তন। 

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ নতুন এই ডিজাইন সামনে এনেছেন। সেখানে কোম্পানির আইকনিক নীল রঙের বার বাদ গিয়েছে।  





নতুন ডিজাইন যোগ হয়েছে কোম্পানির মেসেজিং অ্যাপ ম্যাসেঞ্জারেও। নতুন এ ডিজাইন ফেসবুকের অনলাইন মার্কেটপ্লেস, ভিডিও অন ডিমান্ড ওয়েবসাইটেও দেখা যাবে। সব ওয়েবসাইটেই এবার থেকে ছবিসহ স্টোরিতে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও চেনা মানুষের সঙ্গে কথা বলার জন্য আসছে একটি নতুন ফিচার। 

জাকারবার্গ বলেন, ‘প্রাইভেট মেসেজ, ছোট সময় থাকা, স্টোরি আর ছোট গ্রুপ অনলাইন যোগাযোগে ভবিষ্যতে দিশা দেখাবে। ব্যক্তিগত চ্যাটে এনক্রিপশান যোগ করে সুরক্ষা করলে গ্রাহক ফেসবুক এ চ্যাট করতে আরও সুরক্ষিত বোধ করবেন।’

এসময় জাকারবার্গ ফেসবুকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা জানি সুরক্ষা প্রসঙ্গে আমরা নিজেদের নাম খারাপ করেছি।’

(breakingnews)

কামরুল হাসান : দেশের প্রযুক্তি খাতের সাংবাদিকতার বিকাশ, উন্নয়ন ও গণমাধ্যমকর্মীদের কল্যাণে পথচলা শুরু করেছে টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ (টিএমজিবি)। সোমবার রাত আটটার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভ্যাল হলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন: গণমাধ্যমের সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ডিজিটাল যুগে আমরা পা দিয়ে ফেলেছি। এই ডিজিটাল যুগ অনিবার্য এবং এর রূপান্তরও অনিবার্য। ডিজিটাল রূপান্তর না ঠেকিয়ে এটিকে সামলাব কীভাবে তা বের করতে হবে।
আলোচনায় ‍মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপনী ব্যয়ের কথা চিন্তা করে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কথা ভাবতে হবে। প্রথাগত গণমাধ্যম থেকে ধীরে ধীরে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কীভাবে বিজ্ঞাপনী ব্যয় কমানো যায়, তা আমাদের দেখতে হবে।
মোবাইল ফোন সেবাদাতাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদ বলেন, ইউটিউব, গুগল, ফেসবুকে দেওয়া বিজ্ঞাপনের টাকা তো বিদেশে চলে যাচ্ছে। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে। এতে করে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বিজ্ঞাপন দেশের বাইরে আর যাবে না।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ টি আই এম নূরুল কবীর। স্বাগত বক্তব্য দেন টিএমজিবির আহ্বায়ক মুহম্মদ খান।
(amadershomoy)

মঈন মোশাররফ : চাকরি নিয়ে বিদেশে যেতে আগ্রহীদের ভোগান্তি এবং খরচ কমাতে নতুন এক ওয়েবসাইট চালু করেছে বাংলাদেশ। সরকারি এই সাইটটি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংগঠন আইওএম এবং বিডিজবসডটকম-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে। নতুন এই সাইটটি বিদেশে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেবে। ফলে এত কাল দালালরা যে অবৈধভাবে চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি ও প্রতারণার মাধ্যমে বাড়তি অর্থ আদায় করতো, তা বন্ধ হবে বলে মনে করছেন অ্যাক্টিভিস্টরা।

আইওএম-এর বাংলাদেশ কার্যালয়ের উপপ্রধান ডিমানশ শ্যারন এ বিষয়ে বলেন, অভিবাসীরা সাইটটিতে নিবন্ধন এবং নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন। ফলে নিয়োগদাতারাও সেরা কর্মীদের পাবেন। ওয়েবসাইটটি উভয়পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে।
শ্রমিক অ্যাক্টিভিস্টরা জানান, প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশি চাকরি নিয়ে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন । বর্তমানে দেশটির ৭৫লাখ নাগরিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাকরি করছেন । শুধুমাত্র ২০১৭ সালে চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন অন্তত ১০লাখের মতো বাংলাদেশি, যা সরকারি হিসাব অনুযায়ী এক বছরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা। তাদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যে নির্মাণ এবং পরিচ্ছন্ন শ্রমিকের কাজ করছেন।
চাকরি বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘কেরিয়ারকাস্ট’-এর হিসেবে ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি বেতন পেয়েছেন সার্জন বা শল্য চিকিৎসকরা । গড়ে একেকজন চিকিৎসকের বাৎসরিক বেতন ৩ লাখ ৫২ হাজার মার্কিন ডলার।
(amadershomoy)

সালেহ্ বিপ্লব : ইউজারদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়া নিয়ে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় আছেন মার্ক জাকারবার্গ। বিশ্বাসযোগ্যতা যতোটা হারিয়েছে ফেসবুক, তা ফিরিয়ে আনতে অনেক সময় লাগবে, নিজেই বুঝতে পারছেন। আর আস্থায় আসতে হলে বেশ কিছু কাজও করতে হবে, এমনটাই বললেন ওয়েব ডেভেলপারদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তৃতায়। জানালেন, সবার আগে প্রাইভেসিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি ফেসবুককে নতুন করে সুরক্ষিত করতে চান। বেশ কিছু ধারাবাহিক পরিবর্তন আসবে ইন্সটাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপেও। বিবিসি

মার্ক যে সব পরিবর্তন আনতে চাইছেন, সেগুলোর মধ্যে শুরুতেই থাকছে মেসেঞ্জারের নিরাপত্তা। ওয়ান টু ওয়ান মেসেজ এখন থেকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষও দেখতে পারবে না, আর এই বার্তাবিনিময়কে সমন্বিত করা হবে হোয়াটসঅ্যাপের সাথে।
এরপর থাকছে ইন্সটাগ্রামের প্রাইভেসি। ইন্সটাগ্রামের কনটেন্টে যেসব লাইক পড়বে, তা একমাত্র আইডির মালিকই দেখতে পারবেন।‘ প্রাইভেট লাইক কাউন্টস’ নামক এই পদ্ধতিটির এখন ট্রায়াল চলছে।
এরপর আসছে মেসেজ বক্সে শেয়ার করা কনটেন্টের স্থায়ীত্ব কমানোর বিষয়টি। শেয়ার করা কোন কনটেন্ট স্থায়ীভাবে ইনবক্সে সংরক্ষিত না থাকার অপশন নিয়ে কাজ করছেন মার্ক জুকারবার্গ।
হোয়াটস অ্যাপে একটা সিকিউরড পেমেন্ট সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিলো, তার পরীক্ষামূলক ব্যবহার এরই মধ্যে ভারতে করা হচ্ছে। এ বছরের শেষদিকে অন্যান্য দেশেও এই সুবিধা দেয়া হবে বলে জাকারবার্গ জানান।
নীল রঙে বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত ফেসবুক ওয়ালের ডিজাইন নতুন করে করা হচ্ছে। ইউজারদের নিউজ ফিডে কেন্দ্রীভূত করতে এই রিডিজাইনিং এরই মধ্যে আমেরিকায় শুরু হয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে সব দেশের জন্যেই করা হবে।
আর একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যেটি আসতে যাচ্ছে, তা হলো, ইন্সটাগ্রামের আসতে হলে ছবি বা ভিডিও দিতে হবে, এই নিয়মটি থাকবে না। টেক্সট, স্টিকার বা ড্রইংস দিয়েই ইন্সটাগ্রামে সক্রিয় থাকা যাবে।
এমন আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন মার্ক জাকারবার্গ। আসলেই অনেক কাজ করতে হবে ফেসবুককে, আর এসব করতে হবে বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য। প্রাইভেসি নষ্ট হবে না, এই গ্যারান্টি দিতে পারাটাই জাকারবার্গের জন্য বড়ো চ্যালেঞ্জ।
(amadershomoy)

আমরা অনুকরণ করবো না, আমরা উদ্ভাবন করবো– বিপিও ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য এই হোক আমাদের মূলমন্ত্র। রাজধানীর একটি হোটেলে শুরু হওয়া দুইদিনের বিপিও সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এসব কথা বলেন। এ সময় আইসিটি ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আর বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চাই এই সংখ্যা অচিরেই ৫০ ভাগে উন্নীত হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সজীব ওয়াজেদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নতি হয়। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নতি করেছে। আমরা আরও দ্রুত দেশের উন্নয়ন করতে চাই।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, গত দশ বছর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার প্রযুক্তি খাতকে গুছিয়ে এনেছে। এখন দ্রুতবেগে অগ্রগতির পালা। শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের সুফল হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বিকাশ লাভ করেছে। অনুন্নত দেশের তালিকা থেকে আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছি। উন্নত দেশ হতে হলে প্রযুক্তি খাত থেকে আয় বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে বিপিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশাবাদী।


মোস্তাফা জব্বার আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী বিপিও খাতের বাজার প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশের বিপিও ব্যবসার বাজার গত ১০ বছরে ইতোমধ্যেই ৩০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে সকলের সামনে তুলে ধরা এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এখনই সময়। এই খাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হলে এটি আমাদের দেশের উন্নয়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। ২০০৮ সালে যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ, বর্তমানে সেই সংখ্যা ৯ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। কেবল গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, ব্যবহারকারীদের জন্যে ইন্টারনেট যেন নিরাপদ হয় সেজন্যেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ২০০৫ সালে যে ব্যান্ডউইথের দাম ছিল ৭৫ হাজার টাকা, সরকার এখন তা ৪০০ টাকায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। মোবাইল ফোন ইন্টারনেটে আমরা ইতোমধ্যে ফোরজি সেবা চালু করেছি; অচিরেই একে ফাইভজি’তে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান মোস্তাফা জব্বার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি। তিনি বলেন, আমাদের দেশের মোট জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশ তরুণ। এ হিসাবে তরুণদের সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি। এই তরুণ জনগোষ্ঠীই আমাদের সম্পদ। বিপিও খাতে এখন বাংলাদেশের প্রচুর দক্ষ জনবল প্রয়োজন। বর্তমানে বিপিও খাতে প্রায় ৫০ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হয়েছে। আমরা আশা করছি, ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ১ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। আমরা যদি এই তরুণদের প্রশিক্ষিত করে এই খাতে কাজে লাগাতে পারি তাহলে খুব দ্রুতই বিপিও’র বিশ্ববাজারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অর্জন করতে পারবো।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সূচনা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্য) সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ।
উদ্বোধন পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদসহ অতিথিরা সামিট প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও খাতের অবস্থানকে তুলে ধরার লক্ষ্যে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘বিপিও সম্মেলন বাংলাদেশ ২০১৯’। ২২ এপ্রিল সোমবার দুইদিনের জমজমাট এ আয়োজন শেষ হবে।
শেষ দিনের সেমিনার:
আগামীকাল সামিটের দ্বিতীয় দিন ২২ এপ্রিল সোমবার সকাল ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বলরুমে অনুষ্ঠিত হবে ‘ফ্রিল্যান্সার টু এন্টারপ্রেনর’ শিরোনামে দিনের প্রথম আয়োজন। একই সময় সুরমা হলে অনুষ্ঠিত হবে ‘ব্যাংকিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বিপিও: ইমাজিং রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি ট্রেন্ডস’ শিরোনামে সেমিনার। বেলকনি হলে সকাল ১১টার ‘হেলথ্ কেয়ার আউটসোর্সিং’ শিরোনামে সেমিনার। দুপুর ২টায় শুরু হবে দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় পর্বের আয়োজন। সুরমা হলে অনুষ্ঠেয় ‘রুরাল বিপিও: দ্যা নিউ হরিজন অফ এম্পোলিমেন্ট ফর ইয়ং ভিলেজার্স অফ বাংলাদেশ’ সেমিনারটি চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ২টার সময় মেঘনা হলে শুরু হওয়া ‘অপরচুনিটিস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অফ উইমেন ওয়ার্কিং ইন বিপিও’ শিরোনামের সেমিনারটি চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। চতুর্থ বিপিও সামিট ২০১৯-এর সর্বশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে বেলকনি হলে। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ‘আউটসোর্সিং টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসেস’সেমিনার। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে বলরুমে শুরু হবে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত বিপিও সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠান।
সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে’র আওতাধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতর এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের আয়োজনে এই সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আয়োজনে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি, আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ) ইত্যাদি।
সজীব ওয়াজেদ আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার ক্ষেত্রে আইসিটি সেক্টরে তরুণদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে সরকার। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে আইসিটি ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ দশভাগেরও কম। আমি চাই এই সংখ্যা অচিরেই ৫০ ভাগে উন্নীত হবে। দশ বছর আগে কেউ কল্পনাও করেননি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত মানুষ ইন্টারনেট সেবা পাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সফলতার সঙ্গে সেটা করতে সক্ষম হয়েছে। আইসিটি খাতে উন্নয়নের জন্য আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এবং এই উন্নয়ন অল্প খরচেই করে দেখাচ্ছি বলে জানান সজীব ওয়াজেদ।
(banglatribune)

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget