Articles by "রাজনীতি"


সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

বুধবার সকালে অনশনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে, তখন শিক্ষকদের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত ছিল যে, খবরদার! তোমরা এটা করতে পারবা না। একজন শিক্ষকও সেটা করেননি। একজন শিক্ষকের এরকম মেরুদণ্ডহীন হওয়ার কোনো কারণ নাই।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের সমস্ত তরুণ প্রজন্ম তোমাদের পেছনে। সমস্ত মানুষজন তোমাদের পেছনে। তোমরা সুস্থ হও। উদাহরণ তৈরি করো। যে উদাহরণ বাংলাদেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনুসরণ করবে।’

শিক্ষার্থীরা ভিসিকে ‘দানব’ বলেছেন। সেই ‘দানবের’ কাছে আপনারা শিক্ষার্থীদের রেখে যাচ্ছেন। এই বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, ‘শুনেন, ছাত্রদেরকে আন্ডারএস্টিমেট করবেন না। কে, কাকে, কার কাছে রেখে যাচ্ছি, সেটা সময়েই বলে দেবে।’

ভিসি’র অপসারণ সংক্রান্ত দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার যখন দাবিদাওয়া মেনে নেবেন বলেছেন, তখন দাবির মধ্যে এই দাবিটাও তো পড়ে। 

কিন্তু সরকারেরও তো নিজস্ব টেকনিক্যাল ব্যাপার থাকে, রাজনৈতিক ব্যাপার থাকে, সেটার জন্য তাদের হয়তো একটা প্রসেস থাকে। গোপালগঞ্জের ভাইস চ্যান্সেলরকে তারা একভাবে সরিয়েছে, অন্য ভাইস চ্যান্সেলরকে অন্যভাবে সরিয়েছে। কাজেই সেটা তাদের ব্যাপার। আমার প্রাইমারি কনসার্ন ছিল, ওদের অনশন থেকে বের করতে পারি কিনা।’

আন্দোলনে বহিরাগতদের কোনো ইন্ধন ছিল বা আছে কিনা, এরকম এক প্রশ্নের জবাবে জাফর ইকবাল বলেন, আমি দেখেছি যে, এরা সাধারণ শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে কোনো উচ্চভিলাষ নাই। পুলিশ ওদের গায়ে এরকম নির্মমভাবে হাত তুলেছে, কাজেই ওদের মনের ভেতর একটা ক্ষোভ হয়েছে। সেজন্যই তারা এই আন্দোলনটা করছে। এর মধ্যে বিন্দুমাত্র বাড়াবাড়ি নাই, অহেতুক কোনো দাবি নাই। ওদের দাবি শতভাগ যৌক্তিক দাবি।’

ভিসি’কে উদ্দেশ্য করে জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমি তিন বছর আগে যখন নাকি অবসরে চলে যাই, তখন একটা চিঠি লিখে উনাকে দিয়ে যাই। সেই চিঠিতে আমি বলে দিয়েছিলাম অনেকগুলো। আমি সেখানে লিখেছিলাম স্পষ্ট করে, আপনি যদি এগুলো না করেন, ছাত্রদের এখন যে ক্ষোভ আছে, তা বিক্ষোভে রূপ নেবে। একদম অক্ষরে অক্ষরে আমার কথাটা ফলেছে।’

শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে ঢাকা থেকে বুধবার ভোর ৪টায় ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছান অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক।

গত ১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে ভিসি’কে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ ভিসি’কে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

পুলিশ তিন শ’ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে টানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

এর অংশ হিসেবে গত বুধবার (১৯ জানুয়ারি) অনশন শুরু করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।


সূত্র : ইউএনবি


সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকার উত্তরা থেকে ‘নিয়ে গেছে’ বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

সিআইডির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সিআইডির মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “বিষয়টি জেনে পরে আমরা বিস্তারিত জানাব।”

ওই দুই তরুণ হলেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান স্বপন এবং স্থাপত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেজা নূর মুঈন দীপ।

উত্তরার যে বাসায় তারা থাকতেন, ওই ভবনেই থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের ২০০৮-০৯ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী এবং একটি আইটি ফার্মের এমডি শাহ রাজী সিদ্দিকী।

নিজেকের স্বপনের ‘লোকাল গার্ডিয়ান’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সোমবার রাতে তিনি এক ফেইসবুক পোস্টে দুজনকে ‘তুলে নিয়ে যাওয়ার’ খবর দেন।

যোগাযোগ করা হলে মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “গতকাল সন্ধ্যার পর ওদের উত্তরার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় সিআইডির কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা। ঘণ্টাখানেক তাদের মাইক্রোবাসে রেখে দেওয়া হয়, তখন আমরা কথা বলেছি তাদের সঙ্গে।

“সিআইডির কর্মকর্তারা আমাদের বলেছেন, শাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তাদের ধরা হয়েছে।”

মঙ্গলবার সকালেও সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে শাহ রাজ সিদ্দিকী বলেন, “সিআাইডির এক কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন, যাদের নেওয়া হয়েছে, তাদের বিষয়ে বেলা ১২টায় আপডেট জানান হবে।”

রাতে দেওয়া ফেইসবুক পোস্টে শাহ রাজ সিদ্দিকী লিখেছিলেন, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি তদন্ত করছেন।


বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদুল।

তবে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়ায়’ গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে জানানো হবে।


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদে উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে খাবার নিয়ে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন কয়েকজন শিক্ষক। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। শিক্ষকদের ফিরে আসতে হয়েছে গেট থেকেই।

জানান গেছে, সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষক উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বলেন, তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন অনশনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবি জানিয়ে এলেও শিক্ষকেরা অনশনকারীদের সামনে বারবার খাবার নিয়ে আসছেন।


এসব কথা বলার পর শিক্ষকেরা উপাচার্যের বাসভবনের দিকে প্রবেশ করতে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা বাসভবনের সামনে মানব দেয়াল তৈরি করে প্রক্টরসহ শিক্ষকদের পথরোধ করে ভিতরে প্রবেশে বাধা দেন।


বাসভবনে ঢুকতে না পেরে প্রক্টর আলমগীর কবির সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্য হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এর জন্য তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন। কয়েক দিন ধরে তিনি বাসভবনে থাকায় ওষুধপত্র শেষ হয়ে এসেছে। এ ছাড়া রোববার রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়ায় অন্ধকারে কাটিয়েছেন। বাসভবনের ভেতরে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে দেখা করতে চেয়েছিলাম।

এর আগে রোববার সন্ধ্যা থেকেই উপাচার্যের বাস ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। পুলিশ ছাড়া কাউকে ভবনের ভিতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না তারা এবং ভবন থেকেও কাউকে বের হতে দিচ্ছেন না।


এ বিষয়ে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা রোববার থেকে ঘোষণা দিয়েছি পুলিশ কিংবা সংবাদকর্মী ছাড়া কাউকে উপাচার্যের বাসভবনে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এদিকে আমরা এক দফা দাবি জানিয়ে প্রায় ১২৫ ঘণ্টা ধরে টানা অনশন করা আসছি। এরপরও শিক্ষকেরা বারবার খাবার নিয়ে আসছেন। এগুলো অমানবিক।


আন্দোলনের সূচনা

১৩ আগস্ট থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও সামনে আসে আন্দোলনে।


গত রোববার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।


এরপর ১৯ জানুয়ারি বিকেলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করে ২৩ জন শিক্ষার্থী। একই দাবিতে পরদিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকশো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল বের করেন। ১২৭ ঘণ্টা টানা অনশনে এখন পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে ১৬ শিক্ষার্থী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া বাকিদের স্যালাইন দেয়া হচ্ছে।


ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে উত্তএজনা এখন চরমে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা যেকোনো সময় দেশটিতে হামলা করতে পারে রাশিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামলা চালালে ‘বিপর্যয়’ দেখবে মস্কো। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য হিল।

বাইডেন বলেন, ‘রাশিয়া যদি ইউক্রেন আক্রমণ করে তাহলে আপনারা সবাই দেখবেন যুক্তরাষ্ট্র কি করে। তাই বিষয়টি পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে রাশিয়ার পদক্ষেপের ওপর।’

ক্ষমতায় আসার এক বছর পূর্তির প্রথম দিনে নিজের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন বলেন, ‘আমার ধারণা, পুতিন ইউক্রেনে হামলা চালাতে চান। যুক্তরাষ্ট্রকে পরীক্ষার জন্যও তিনি এমন করতে পারেন।’


পরিস্থিতি বেশি খারাপের দিকে গেলে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে এমন তথ্য জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও এর সঙ্গীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে দেশটিকে আলাদা করে দেবে।’

আরো পড়ুনঃ-যেকোনো মুহূর্তে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ

বাইডেন বলেন, আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ইউক্রেনে হামলা হলে রাশিয়ার ওপর যেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে তাতে দেশটির ডলার লেনদেনে বড় আকারের ক্ষতি হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেইসঙ্গে ইউরোপের অর্থনীতিতেও। কিন্তু রাশিয়ার জন্য যা হবে তা হচ্ছে ‘বিপর্যয়’।

এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, ইউক্রেন সীমান্তে বাহিনীর গোছানোর কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। রুশ এই বাহিনী যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে ইউক্রেনে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ গোয়েন্দা সমীক্ষা যা মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলে এক লাখ ২৭ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করেছেন রাশিয়া।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, রাশিয়ান ফেডারেশন’স আর্মড ফোর্সেস–এর এক লাখ ছয় হাজার সেনাসহ বিমান ও নৌ–সেনা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ২৭ হাজার সদস্যের ওই বাহিনী প্রস্তুত করা হয়েছে।  

ওই সমীক্ষায় এই পরিস্থিতিকে 'কঠিন' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বলা হয়েছে, ইউক্রেন বিশ্বাস করে এই রণসজ্জার মধ্য দিয়ে রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভাঙন এবং ন্যাটোকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে অনড় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে গত ২০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তারা অনশন করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখবেন তারা। আজ সকালের দিকে অনশনস্থলের পাশে এম্বুলেন্স এনে রাখা হয়েছে। কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে পড়লে তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে নিতে এম্বুলেন্স আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।


এদিকে ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ তার বাসভবনে অবস্থান করছেন।

ভিসির বাসভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


ওদিকে গত রাতে অনশনস্থলে শতাধিক শিক্ষক এসে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলেন, ভিসির পদত্যাগের সাথে একমত হলেই শিক্ষকদের কথা শুনবেন তারা।

শিক্ষকবৃন্দ কথা বলার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা কথা না শোনার জন্য বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় হ্যান্ডমাইকে শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের অনেকবার বুঝানোর চেষ্টা করেন।

আরো পড়ুনঃ- ভিসির কুশপুত্তলিকা: হাতে পিস্তল, টাকার থলে


বুধবার রাত পৌনে ৯টায় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলশি কুমার দাশের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট সদস্য, অনুষদের ডিন, বিভাগের প্রধানসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষক ভিসির বাস ভবনের সামনে এসে আন্দোলনকারীদের বুঝানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় শিক্ষকবৃন্দ বলেন, এই ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষক, ভিসি স্বৈরাচারি আচরণ করতে পারবে না। হামলার বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হবে।


এই ঘটনায় জড়িত থাকলে ভিসিকে চলে যেতে হবে। কেউ গুলি মারা, বোমা মারার সংশ্লিষ্টতা থাকলে চলে যেতে হবে।' এ সময় মামলায় শিক্ষার্থীদের কিছু হবে না বলে আশ্বস্ত করেন তারা।

এছাড়া অনশন ভাঙার জন্য অনুরোধ করেন এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এক সাথে খাবার আয়োজনের প্রস্তাব করেন। কিন্তু শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রস্তাবে শিক্ষার্থীরা সাড়া না দেয়ায় রাত সাড়ে ১১টায় শিক্ষকবৃন্দ আন্দোলনস্থল ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, গতকাল বিকাল ৩টা থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী অনশনে বসেছেন। আজ অনশনস্থলে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী




উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)। এই আন্দোলনের মধ্যেই ফরিদ উদ্দিন আহমেদের একটি কুশপুত্তলিকা তৈরি করেছেন শিক্ষার্থীরা। বাঁশ, পাটের বস্তা ও সোলা দিয়ে বানানো কুশপুত্তলিকাটি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে রাখা হয়েছে।

কুশপুত্তলিকার মাথার অংশে রয়েছে উপাচার্যের ছবি। তার মাথায় দৈত্যের মতো দুটি শিং রয়েছে। কুশপুত্তলিকার ডান হাতে প্রতীকী পিস্তল এবং অন্য হাতে টাকার ব্যাগ রয়েছে। এর মাঝের অংশে তিনশ’ কোটি টাকা লেখা রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শিক্ষার্থীরা কুশপুত্তলিকাটি তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি আরেকটি বড় প্ল্যাকার্ড তৈরি করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে লেখা রয়েছে- ‘হীরক ভিসির শেষে’। তাতে হীরক রাজার যেমন পতন হয়েছিল, তেমন ইঙ্গিত দিয়ে ছবি আঁকা রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত উপাচার্যের বাসার সামনে অবস্থান করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে আবার তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেছেন।


গত সোমবার থেকে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য পদত্যাগ না করলে তারা আমরণ অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে মঙ্গলবার রাতে এ ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মোহাইমিনুল বাশার।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল কারণঃ

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার পরও মেসভাড়ায় কোনো ছাড় না দেওয়াসহ একাধিক ‘অন্যায্য’ সিদ্ধান্তে অনেক দিন ধরে তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। হলের ছাত্রীদের বিক্ষোভ শুরুর পর সেই ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এ আন্দোলনের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েকশ’ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে ছাত্রলীগ হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ও তাদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।


পিয়ংইয়ং বিমানবন্দর থেকে সোমবার ভোরে সমুদ্রে দুইটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি সাধারণত এই সময়ে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায় না। তবে কী কারণে দুই সপ্তাহের মধ্যে চারটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে বিবিসি।


জাতিসংঘ উত্তর কোরিয়াকে সব ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে নিষেধ করেছে। এজন্য দেশটির উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।


বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন পূর্ব এশিয়ার দেশটি বারবার সেই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নিজে দেশের সুরক্ষার কথা বলে ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের কাজ বন্ধ না করার প্রতিজ্ঞা করেছেন। যা নিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


উত্তর কোরিয়া কেন এ সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল?

এ বছর জানুয়ারিতে যেভাবে কয়েক দিনের ব্যবধানে উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালো সেটি সাধারণত হতে দেখা যায় না। উত্তর কোরিয়া সাধারণত সে দেশে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিন উপলক্ষে বা যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়ার সময় নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়।


এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অঙ্কিত পান্ডা বিবিসি-কে বলেন,উত্তর কোরিয়া সাধারণত নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দেখতে এবং যুদ্ধের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকার জানান দিতে নানা ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষায় চালায়। সর্বশেষ পরীক্ষা তাদের এই উদ্দেশ কে আরও নিশ্চিত করল।


“তবে একইসঙ্গে ‍অভ্যন্তরীন কিছু বিষয় বিবেচনা করে কিম জং উন এবারের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে থাকতে পারেন। অর্থনৈতিকভাবে কঠিন সময় পার করছে উত্তর কোরিয়া।এই সময়ও তিনি যে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন সেটা প্রমাণ করতেই হয়ত তিনি এবারের পরীক্ষা চালিয়েছেন।”


উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। দেশটিকে খাদ্য সংকটের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর সংক্রমণ রুখতে উত্তর কোরিয়া নিজেদের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।ফলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে তাদের সবচেয়ে বড় মিত্র চীনের সঙ্গে বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। যদিও শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।



সম্প্রতি কিম জং উন স্বীকার করেছেন, তার দেশ জীবন-মরণ সংকটে পড়েছে। তারপরও তিনি সামরিক শক্তি বাড়ানো এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন।


যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমলে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর তা স্থবির হয়ে পড়েছে। উপরন্তু,এ মাসের শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জের ধরে বাইডেন প্রশাসন গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার উপর নতুন করে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সোমবারের পরীক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।


উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণ কী চীন?


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবির) ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের সহিংসতার পথে না যেতে অনুরোধ করেছেন।  
 

জানা গেছে, সোমবার (১৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লোগো সম্বলিত গাড়ি নিয়ে ড্রাইভারসহ তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদেরকে ক্যাম্পাসে যেতে দেন। তখন একজন নিজেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএ পরিচয় দিয়ে বলেন, শাবির ঘটনায় তিনি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন) দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক এবং সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে ব্যবস্থা নেবেন।
 

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ও জলকামান সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও নিবেন তিনি। এছাড়া, শাবি শিক্ষার্থীদের সহিংসতার পথে না যাওয়া আহ্বান জানান।


আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিবেন বলে ঐ মুখপাত্র জানান।

 
তিনি বলেন, সোমবার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা থেকে ছুটে এসেই তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহত ছাত্রদের খোঁজখবর নেন। এরপর শাবিতে আসেন।
 
এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সহিংস পথে না যাওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তারা, শাবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে  ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন।

এদিকে রাত পৌনে একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ও জলকামান সরিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া যায়।

তবে শিক্ষার্থীরা তখনও ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান করছিলেন।


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে আজ রোববার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। ভোটগ্রহণ শেষে এখন ফলাফলের অপেক্ষা। তবে ভোট চলাকালে দুপুরে নারায়ণগঞ্জের নবীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরুষ কেন্দ্রে গোপন বুথে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

দুপুর পৌনে ১২টায় পুরুষ কেন্দ্রটির ২ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা যায় কক্ষটির গোপন বুথে একই সঙ্গে দুজন প্রবেশ করেছেন। সংবাদকর্মীরা পরিচয় দিয়ে সেখানে তাদের প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে বুথে থাকা দুজন বের হয়ে আসেন। তাদের একজন নিজেকে কক্ষের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘মানুষ ভোট দিতে পারছে না। দেখিয়ে দিতে হচ্ছে। ভোটারেরা লাইনে দাঁড়িয়ে বিরক্ত।’

গোপন বুথে প্রবেশ উচিত কি-না জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বলেন, ‘মানুষের সাহায্য করলেও দোষ নাকি?’

এ ওয়ার্ডের ঠেলাগাড়ি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কাউসার কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে ইভিএমে ধীরগতির কারণে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের ভোট না দিয়েই ফিরে যেতে হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সবগুলো কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি ভালো। কিন্তু সে অনুযায়ী ভোট কাস্ট হচ্ছে না। কারো আঙ্গুলের ছাপ মেলে না, কেউ চোখে দেখে না আবার অনেক বয়স্ক মানুষ পদ্ধতিটাই বুঝে উঠতে পারছে না।’ এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে আঙ্গুলের ছাপ না মেলার অভিযোগ করেছেন অনেক ভোটার।

পুরো সিটির নির্বাচনই এবার ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হয়েছে। বড় ধরনের অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ছাড়াই শেষ হয় ভোটগ্রহণ। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রোববার বিকেলে ৪টা ২৩ মিনিটে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার ভোটগ্রহণ শেষ এবং ভোট গণনা শুরুর তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘নাসিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে বিকেল ৪টায়। তারপর থেকে অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রার্থী ও ভোটাররা ফলাফল জানতে পারবেন।’

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে তৈমুর আলমের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে নির্বাচনে মেয়রপদে আওয়ামী লীগ দলীয় গত দুবারের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে। মেয়রপদে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন (দেয়ালঘড়ি প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাছুম বিল্লাহ্ (হাতপাখা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস (হাতঘড়ি), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জসীম উদ্দিন (বটগাছ) এবং স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল ইসলাম (ঘোড়া প্রতীক)।


আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও রাবার বুলেট ছুড়ে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদকে দুই ঘণ্টা পর মুক্ত করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় রাতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আজকের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিলো। পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে মহিলা পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

 বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের প্রভোস্টের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকাল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা এম ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবনের ভেতরে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। অবরোধের পর থেকে তারা আইসিটি ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে- সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পুলিশ বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ চালায়। আইসিটি ভবনের ফটকের কাছে ঘেরাও করে শিক্ষার্থীদের পেটায় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীরা পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়লে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে শিক্ষার্থীরা আইসিটি ভবনের সামনে থেকে পিছু হটলে পুলিশি পাহারায় ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমদকে তার বাসভবনে পৌঁছে দেয়া হয়। এরপর থেকে ভিসি বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে- পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ, রাবার বুলেটের আঘাতে অন্তত ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। 

রাবার বুলেটে আহত কয়েকজনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় এম্বুলেন্সে করে গুরুতর আহত এক মহিলা পুলিশ কনস্টেবলকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংঘর্ষের পুলিশের ডিসি আজবাহার আলী শেখ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমদ, শিক্ষার্থী সজল কুণ্ডও আহত হন। 

ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকা ছাত্রলীগ কর্মীরা জানিয়েছে- পুলিশের লাঠিচার্জের সময় তাদের কয়েকজনও আহত হয়েছেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আজবাহার শেখ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশও পাল্টা লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

এদিকে- শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন- পুলিশ দিয়ে ছাত্র পিটিয়ে ভিসি তার বাস ভবনে গেছে। অতীতে কোনো ভিসি এ ধরনের ঘটনার জন্ম দেননি। ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি চার দফা দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। শাবির দ্বিতীয় হল বলে পরিচিত বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হল। এই হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জাফরিন আহমদ করোনা আক্রান্ত হয়ে বাসায় রয়েছেন। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে হল প্রভোস্টের পদত্যাগ, হলের ভেতরে নানা অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা দূর করা ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন হল প্রভোস্ট নিয়োগ করাসহ তিন দফা দাবিতে কনকনে শীত উপেক্ষা করে বিক্ষোভ শুরু করে ওই হলের ছাত্রীরা। প্রথমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলেও ওই রাতে ভিসির বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করে। 

রাত আড়াইটার দিকে ভিসি বেরিয়ে এসে পরদিন গত শুক্রবার আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে ছাত্রীরা ভোররাতে হলে ফিরে। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যস্ত ছাত্রীদের একাংশ গিয়ে ভিসির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ছাত্রীরা তাৎক্ষণিক দাবি মেনে নেয়ার দাবি জানালেও ভিসি সময় চান। ফলে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় গত শুক্রবার দুপুর থেকে সিরাজুন্নেছা হলের শিক্ষার্থীরা ফের বিক্ষোভ শুরু করে। ওইদিন সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ছাত্রীরা হলে ফিরে যায়। 

কিন্তু আল্টিমেটামের মেয়াদ গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের দাবি মানা হয়নি। এ কারণে গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রীরা। এ সময় তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের বেশকিছু ছাত্র এসে একাত্মতা প্রকাশ করেন। 

ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে একটি এম্বুলেন্স বাইরে বের হওয়াকে কেন্দ্র ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি; ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের মারধর করেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হেনস্তারও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পর তিন দফা দাবিকে চার দফায় রূপান্তরিত করে গত শনিবার রাত ১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। 

তাদের দাবির শেষ দফা হচ্ছে; আন্দোলনে হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মীদের বিচার দাবি। রাত ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা গতকাল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে হলে ফিরে। এদিকে- গতকাল সকাল হতেই বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। 

শতাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের গোলচত্বরের প্রবেশমুখে অবস্থান করার কারণে ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে কোনো যানবাহন বের হতে পারেনি কিংবা প্রবেশ করতে পারেনি। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেক বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়েছে। আর ছাত্রী বিক্ষোভের কারণে প্রায় অর্ধেক বিভাগে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। দুপুরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলশী কুমার দাস বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের কাছে এসে দাবি মেনে নেয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময় চাইলে ছাত্রীরা সে দাবি মানেনি। 


দাবি মেনে না নিলে তারা আন্দোলনে থাকবে বলে ঘোষণা দেয়। তাদের এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকাল ৩টা পর্যন্ত ভিসি রেজিস্ট্রার ভবনে একাডেমিক বৈঠক করেন। বৈঠক শেষ করে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ বেরিয়ে গেলে ছাত্রীরা তার পিছু নেয়। এ সময় ভিসি আইসিটি ভবনে ঢুকে পড়েন। ভিসির পিছু পিছু শিক্ষার্থীরা ওই ভবনের ভেতরে ঢুকতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের বাধা দেন। 

আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা এম ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবনের ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে তারা ফটকে তালাও ঝুলিয়ে দিয়েছে। শতাধিক ছাত্রী ভিসিকে ওই ভবনের ভেতরে রেখে বাইরে বিক্ষোভ করে। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে কয়েকজন শিক্ষক গিয়ে আইসিটি ভবনের কলাপসেবল ফটক খুলতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বাধা প্রদান করে। 

শিক্ষকরা ভেতরে ঢুকতে চাইলে তাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিসি ভবনের ভেতরেই অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন- যেহেতু হল প্রভোস্ট করোনা আক্রান্ত, সে কারণে আমরা ছাত্রীদের কাছ থেকে বিষয়টির সুরাহা করার জন্য এক সপ্তাহের সময় চেয়েছিলাম। 

কিন্তু শিক্ষার্থীরা সে দাবি মানেনি। তিনি বলেন- দাবি একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে মেনে নিতে হয়। এই সময়ও দিচ্ছে না ছাত্রীরা। এদিকে- ভিসি অবরুদ্ধ হওয়ার পর ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা বিক্ষোভ স্থল, আইসিটি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে। 

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েনের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের সামনেই বিক্ষোভ চলছিলো শিক্ষার্থীদের। সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা জানিয়ে দিয়েছে- ঘোষিত চার দফা দাবি মেনে নিলে তারা হলে ফিরবে। নতুবা ক্যাম্পাসে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। যতই বাধা আসুক তারা আন্দোলনে থাকবে বলে জানায়। 


হুমায়ুন কবির শাওন। ২৫ বছর বয়সী এ যুবক ভোট দিতে এসেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিমরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ভোট দেয়ার জন্য তিনি সকাল ১০টার সময় এসে একটি লাইনে দাঁড়ান। তারপর চলে যায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে বের হওয়ার সময় তার চোখেমুখে বিরক্তির ছাপ। ভোট কেমন হয়েছে জিজ্ঞেস করতে অনেকটা রাগান্বিত সুরে বললেন, আড়াই ঘণ্টা ধরে ছোট একটা লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। আমার সামনে ছিলেন ৮০ জনের মতো ভোটার। তাদের ভোট শেষ হতে হতে এতটা সময় লেগে গেছে।

ভেতর থেকে যারাই আসছে সবার মাঝে রাগ রাগ ভাব। কেন এই রাগ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় বেশি যাচ্ছে। অনেকের আঙ্গুলের ছাপ মেলেনি। তাদের পেছনে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। আবার কখনো ইভিএম মেশিনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সবমিলিয়ে জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে আসার অভিজ্ঞতা খুব সুখকর না। একই বিরক্তির কথা জানালেন রুহুল আমিন নামের আরেক মধ্য বয়সী ব্যক্তি। তিনি বলেন, আগেও অনেকবার ভোট দিয়েছি। কিন্তু কখনো এত সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়নি। এবার ইভিএমে ভোট হওয়াতে সময় খুব বেশি যাচ্ছে। তবে এই কেন্দ্রের ভেতরে ভোটারদের মধ্যে বিরক্তি ভাব থাকলেও কেন্দ্রের বাইরে ছিল উত্তাপ। বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকরা বিভিন্ন প্রতীকের নাম ধরে চিৎকার চেঁচামেচি করছিলেন। কেন্দ্রে আসা ভোটারদের প্রতীকসহ স্লিপ দিয়ে ভোট প্রয়োগের অনুরোধ করছিলেন।
একই ওয়ার্ডের মহিলাকেন্দ্র শিমরাইল দারুচ্ছুন্নাত ছালেহিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল প্রায় একই অবস্থা। ২ হাজার ৪৭২ ভোটের এই কেন্দ্রটি অনেকটা ঘিঞ্জি পরিবেশের। এই কেন্দ্রের মোট ৬টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। নারী ভোটারদের চাপে ভোটগ্রহণকারীদের হিমশিম খেতে হয়েছে। তবে ভোটারের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ ছিল চরমে। কারণ ঘিঞ্জি পরিবেশে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে ভোটারদের। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে ভোট দিতে পারছিলেন না। আঙ্গুলের ছাপ মেলেনি অনেকের আবার ইভিএম মেশিনে সমস্যা থাকায় সময় নষ্ট হয়েছে। কেন্দ্রটির ভেতরে যেমন লম্বা লাইন ছিল ঠিক তেমনি বাহিরেও ছিল লম্বা লাইন। বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের নিয়ে রীতিমতো টানাটানি করছিলেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনুসারীরা। প্রার্থীদের প্রতীকসহ স্লিপ নিয়ে ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছিলেন সমর্থকরা। প্রার্থীর সমর্থকদের টানাটানিতে অনেক ভোটার বিরক্তি প্রকাশ করছিলেন।
প্রিজাইডিং অফিসার মাসুদ মজুমদার মানবজমিনকে বলেন, আমাদের বয়স্ক ভোটাররা ইভিএমে অভ্যস্ত না। এজন্য ভোট দিতে সময় লাগছে। যদি অভ্যস্ত হয়ে যায় তবে আর এমন সমস্যা হবে না। আমরা ইভিএম মেশিন নিয়ে খুবই সতর্ক ছিলাম। আগের রাতেও মেশিন চালু করে দেখেছি ঠিক আছে কিনা। ভোটের দিন সকাল ৬টায় চালু করেছি। এ ছাড়া টেকনিশিয়ানরাও সার্বক্ষণিক প্রস্তুত ছিল।


চার নম্বর ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের আনাগোনায় পা ফেলার জায়গা ছিল না। ভোটাররা ভোট দিতে আসলেই সব প্রার্থীদের সমর্থকরা ভোটারদের আলাদা আলাদা ঘিরে ধরছেন। সব সমর্থকই তাদের প্রার্থীদের স্লিপ ভোটারদের নেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। কেন্দ্রের বাহিরের পুরো সড়কে ছিল সমর্থকদের দাপট। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় স্কুলের গেটে আবার ভোটারদের ধরে ধরে অনুরোধ করা হয়। বাহিরের উত্তাপ পেরিয়ে ভেতরে যাওয়ার পর ভোটাররা নতুন সমস্যায় পড়েন। কারণ এই কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ ও ঘিঞ্জি পরিবেশের। কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার ৩ হাজার ৪৫৭টি। সেই তুলনায় ভোটাররা লাইন ধরে দাঁড়ানোর মতো স্থান পাচ্ছিলেন না। কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট কক্ষ পর্যন্ত যাওয়ার পর ভোটারদের বলা হয় ওই কক্ষে তাদের ভোট হবে না। যেতে হবে অন্য কক্ষে। সেখানে যাওয়ার পর আবার ভোটারদের পাঠানো হচ্ছে দ্বিতীয়তলায়। এভাবে এই কেন্দ্রে ভোটাররা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
ভোটাররা বলেন, এই কেন্দ্রে সিরিয়াল মেইনটেইন নিয়ে সমস্যা ছিল। আনসাররা ভুল লাইনে দাঁড় করিয়ে তাদেরকে এমন ভোগান্তিতে ফেলেছে। এ ছাড়া ইভিএম মেশিনে একজন ভোটারের পেছনে সময় নষ্ট হয়েছে ১৫ থেকে ২০ মিনিট করে। এসব সমস্যার কারণে ১১০ বছর বয়সী এক নারী নিজের ভোট দিতে পারেননি। রুহান নামের এক ভোটার বলেন, সকাল ৮টায় ভোট দিতে এসেছি। আনসারদের কথামতো লাইনে দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে একটি কক্ষে যাওয়ার পর দোতলায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে আবার নিচে পাঠানো হয়। এভাবে প্রায় দুই ঘণ্টায় ভোট দিয়েছি। রেহেনা বেগম নামের ভোটার বলেন, সকালে এসেছি। সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারি নাই। এক লাইন থেকে আরেক লাইন। এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষে যেতে এত সময় গেল। করোনার মধ্য মানুষের ঠাসাঠাসিতে অস্বস্তি লাগছে।
সরজমিন এই কেন্দ্রে দেখা যায়, কেন্দ্রটিতে ভোটারের চাপে পা ফেলার অবস্থা নাই। পুরুষ ও নারী ভোটাররা গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভেতরে ভোটগ্রহণ বিলম্বিত হওয়াতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভোটাররা। স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ। অনেকের মুখে মাস্ক ছিল না। প্রিজাইডিং অফিসার নুরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, কেন্দ্রে ভোটার বেশি। ৩ হাজার ৪৫৭ ভোটের মধ্য পুরুষ ১ হাজার ৬৬৫ জন আর মহিলা ১ হাজার ৭৯২ জন। পুরুষের তুলনায় মহিলা বেশি। মোট ৯টি কক্ষে ভোটগ্রহণ নেয়া হয়। মেশিনে সমস্যা ছিল কিন্তু সমাধান করা হয়েছে। এতে করে ভোটগ্রহণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।


প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ ভোটারের নগর নারায়ণগঞ্জে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে উৎসবের আমেজে।

রোববার সকাল ৮টায় এ সিটির ১৯২ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে মাঘের শীতের মধ্যে ভোটারদের কেন্দ্রে কেন্দ্রে জড়ো হতে দেখা গেছে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের কিউ দীর্ঘ হয়েছে কেন্দ্রের বাইরে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ভোটারকেও দেখা গেছে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায়।

সকালে নগীরর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণগঞ্জ  ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেওভোগের শিশুবাগ বিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ আদর্শ বালক বালিকা বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেওভোগের মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।

দেওভোগের শিশুবাগ বিদ্যালয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কেন্দ্র। সকালে এখানেই তিনি ভোট দেবেন গত দশ বছর মেয়রের দায়িত্বে থাকা আইভী।

এখানে পাঁচটি নারী ও পাঁচটি পুরুষদের বুথ রয়েছে। তিনতলা এই ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ভোটকেন্দ্র।

ভোট শুরুর আগেই ভোটাররা লাইন ধরে দাঁড়ান। সকাল ৮টায় এখানে ভোটগ্রহণ শুরু করেন ভোটকর্মীরা।

এ ভোটকেন্দ্রের বাইরে কোনো দোকানপাট খোলা নেই। সেখানে যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তবে ভোটাররা অটোকিশা ও রিকশায় করে আসতে পারছেন।

অনেক বয়স্ক ভোটারকেও দেখা গেছে ভোটের লাইনে। কেন্দ্রের বাইরের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর।

সকাল সাড়ে ৮টায় দেওভোগের মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রতিটি বুথের সামনেই ভোটারদের লাইন দেখা যায়।

এই কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কিছু মডেল বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানেও ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। সকালেই এখানে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যদের পরিদর্শন করতে দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে সকালে ৮টার দিকে ভোটারের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম ছিল। প্রতিটি বুথের সামনে ৮-১০ জনের লাইন দেখা যায় ওই সময়।

সোয়া ৮টার দিকে এ কেন্দ্রে ভোট দেন মেয়র পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার। বিএনপির নেতা তৈমুর দলের পদ ছেড়ে হাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।

১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাষাড়ার ঈদগাহ মাঠের পাশের আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল বেশ। সকালের কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর রোদেলা আবহাওয়ার সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বেড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি শাহ জামান বলেন, “এ পযন্ত ভোটের পরিস্থিতি ভালো। ভোটও শান্তিপূর্ণ হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও বাড়ছে।”

তিনি জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে হচ্ছে। হাতে ভোটার স্লিপ ও জাতীয় পরিচয়পত্র রাখার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে ভোটারদের। মাস্ক পরা ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রেও পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারদের ভালো উপস্থিতি দেখা গেল। সকালে কেন্দ্রটি পরিদর্শনে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তৈমুর আলম খন্দকার।

তিনি বলেন, একটি কেন্দ্র ছাড়া সব কেন্দ্রে তার এজেন্ট উপস্থিত রয়েছে। ভোটের পরিবেশ তখন পর্যন্ত তিনি ‘শান্ত ও ভালো’ বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরে তিনি সরকারি তোলারাম কলেজ পরিদর্শনে যান।

মেয়র পদে সাতজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটির তৃতীয় এই নির্বাচনে।

বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট শেষে রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ফল ঘোষণা করা হবে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আল-আমিন বেলা সাড়ে ৯টার দিকে বলেন, “আমাদের সমন্বিত তিনটি টিম নির্বাচনী এলাকায় টহলে রয়েছেন। কোথাও কোনো ধরনের গোলযোগ, ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়নি। ইভিএমে ভোটও স্মুদলি হচ্ছে। সকালের তুলনায় ভোটার উপস্থিতিও বেড়েছে।”

তিনি বলেন, “ইভিএমে ভোট দিতে বিলম্ব বা ইভিএম নষ্ট হয়েছে এমন অভিযোগও আসেনি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী ফোন করে ইভিএমের বিষয়ে কথা বলেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলে তা সমাধান করা হয়েছে। আশা করি, কোথাও কোনো অসুবিধা হবে না; কেন্দ্রে কেন্দ্রে সাপোর্ট স্টাফও রয়েছে।”

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget