Articles by "শিক্ষা"


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সাতদিন ধরে চলা অনশন ভাঙিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। 

সঙ্কট সমাধানে বিভিন্ন পর্যায় থেকে শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এরই অংশ হিসেবে জনপ্রিয় এই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।


বুধবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে একাত্তর টেলিভিশনের নিয়মিত অনুষ্ঠান একাত্তর জার্নালে অংশ নিয়ে তিনি এমন কথা জানান। মিথিলা ফারজানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, এটিএন বাংলার বার্তা প্রধান জ ই মামুন ও বাংলা ট্রিবিউনের বার্তা প্রধান মাসুদ কামাল।


অনুষ্ঠানের শুরুতেই ড. জাফর ইকবাল যুক্ত হয়ে জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নিজেই সেখানে যেতে চাইছিলেন। পরে সরকারের ‘উপর মহলের’ ঘটনাক্রমে কথা হলে সেখান শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া মেনে নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর তিনি শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে সেখানে যান এবং শিক্ষার্থীরা তার কথা রেখেছে।

সরকার সঙ্কট সমাধানে আগে কেন পদক্ষেপ নিল না- এমন প্রশ্নে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সবকিছুর একটা উপযুক্ত সময় থাকে। আমরা এর আগে গেলে এটি (অনশন আন্দোলন) এভাবে সমাধান হতো কি না- সেটা বলতে পারি না। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, গতরাতে জাফর ইকবাল ভাই নিজে গিয়েছেন এবং আজ শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙিয়েছেন, আমরা মনে করি, ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি হয়েছে।’


একই প্রসঙ্গ টেনে জ ই মামুন শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, আজকে জাফর ইকবাল উপর মহলের নির্দেশে সেখানে গেলেন, তাহলে উপর মহল নিজেরাই কেন উদ্যোগ নিলেন না। এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। এরকম যে কোনও সংকটে অনেকরকম তৎপরতা সেখানে থাকে, অনেক ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিছু সামনে আসে, কিছু আড়ালে থাকে। এ সংকটটি সমাধানেও অনেক লোকই অনেকভাবে কাজ করেছে, সবার কথা বলেও শেষ করা যাবে না। 

সেরকম নানারকম প্রস্তুতির একটা পর্যায়ে গিয়ে মনে হয়েছে, জাফর ইকবাল ভাইয়ের হাতেই এটা হলে ভালো হবে এবং এটা সঠিকভাবে হবে। তারপর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ আমরা নিতে পারবো। এর আগে আমার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার কথা হয়েছে। পরে আরও কথা হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝখানে অন্য একটি উদ্যোগ নিয়ে জাফর ইকবাল ভাইকে নিয়ে আসা হয়েছে এবং সেটাকে প্রয়োজন মনে করা হয়েছে বলেই নিয়ে আসা হয়েছে।’


শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী শাবির উপাচার্য পদত্যাগ কিংবা অপসারণ করা হবে কি না, এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আন্দোলনটা মূলত ভিসির অপসারণের দাবিতে ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানারকম সমস্যা থাকে। যদি সেসব সমস্যা সমাধান হয়ে যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি বড় কোনও সমস্যা না, যদি ভিসি নিজে কোনও বড় সমস্যার কারণ না হন।


শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঘটনার সবকিছু খতিয়ে দেখতে চাই। এতে যারই দায় বা দোষ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর উপাচার্যের পদত্যা আচার্যের বিষয়, সেটা আচার্য দেখবেন। তার মানে এই নয় এই দাবি মানছি বা মানছি না।’


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদে উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে খাবার নিয়ে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন কয়েকজন শিক্ষক। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। শিক্ষকদের ফিরে আসতে হয়েছে গেট থেকেই।

জানান গেছে, সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষক উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বলেন, তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন অনশনকারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবি জানিয়ে এলেও শিক্ষকেরা অনশনকারীদের সামনে বারবার খাবার নিয়ে আসছেন।


এসব কথা বলার পর শিক্ষকেরা উপাচার্যের বাসভবনের দিকে প্রবেশ করতে যান। এ সময় শিক্ষার্থীরা বাসভবনের সামনে মানব দেয়াল তৈরি করে প্রক্টরসহ শিক্ষকদের পথরোধ করে ভিতরে প্রবেশে বাধা দেন।


বাসভবনে ঢুকতে না পেরে প্রক্টর আলমগীর কবির সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্য হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এর জন্য তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন। কয়েক দিন ধরে তিনি বাসভবনে থাকায় ওষুধপত্র শেষ হয়ে এসেছে। এ ছাড়া রোববার রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়ায় অন্ধকারে কাটিয়েছেন। বাসভবনের ভেতরে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে দেখা করতে চেয়েছিলাম।

এর আগে রোববার সন্ধ্যা থেকেই উপাচার্যের বাস ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। পুলিশ ছাড়া কাউকে ভবনের ভিতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না তারা এবং ভবন থেকেও কাউকে বের হতে দিচ্ছেন না।


এ বিষয়ে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা রোববার থেকে ঘোষণা দিয়েছি পুলিশ কিংবা সংবাদকর্মী ছাড়া কাউকে উপাচার্যের বাসভবনে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এদিকে আমরা এক দফা দাবি জানিয়ে প্রায় ১২৫ ঘণ্টা ধরে টানা অনশন করা আসছি। এরপরও শিক্ষকেরা বারবার খাবার নিয়ে আসছেন। এগুলো অমানবিক।


আন্দোলনের সূচনা

১৩ আগস্ট থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও সামনে আসে আন্দোলনে।


গত রোববার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।


এরপর ১৯ জানুয়ারি বিকেলে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার বাসভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করে ২৩ জন শিক্ষার্থী। একই দাবিতে পরদিন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকশো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল বের করেন। ১২৭ ঘণ্টা টানা অনশনে এখন পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে ১৬ শিক্ষার্থী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া বাকিদের স্যালাইন দেয়া হচ্ছে।


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের জন্য জাবি শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে জাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের কাছে মোবাইল ফোনে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান তিনি। জাবির জনসংযোগ কার্যালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাঁর বক্তব্য সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এতে জাবির শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জাবির শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট সকলেই আহত হয়েছেন। তিনি এ বিষয়টি অনুধাবন করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, জাবির উদার ও প্রগতিশীল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ তাঁকে ক্ষমা করে দেবেন। সোমবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের কাছে মোবাইল ফোনে দুঃখ প্রকাশ করেন ও ক্ষমা চান তিনি।

এর আগে, শাবিপ্রবিতে মেয়েদের হল সারা রাত খোলা রাখার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে উপাচার্যের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও ক্লিপে তাঁকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে শোনা যায়। অডিও ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই ঘটনায় ক্ষোভ, প্রতিবাদ জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে অনশনের পাশাপাশি এবার কাফনের কাপড় পরে মৌন মিছিল করেছেন প্রায় ২ শতাধিক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী।

মৌন মিছিলের পূর্বে আন্দোলনকারীদের একজন মুখপাত্র বলেন, 'আমাদের সহযোদ্ধারা আমরণ অনশন করে যাচ্ছেন, কিন্তু কেউ অনশন ভাঙেননি। আমাদের অনশনরত ২৩ জনের প্রাণের বিনিময়ে কেউ যদি তার পদ ধরে রাখতে চান তবে তিনি স্বাভাবিক নন। রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আমাদের সহযোদ্ধাদের জীবন বাঁচান।'

তিনি আরও বলেন, 'এই উপাচার্যের জন্য যদি মরতে হয়, তাহলে শুধু এই ২৪ জন মরবে না। আমরা হাজারো শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে আছি, আমরাও তাদের সঙ্গে মরব ।'

অনশনের ৭২ ঘন্টা পর ১৫ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এবং ৮ জন শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশন করছেন। অন্য এক শিক্ষার্থীর বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে দ্রুত বাড়ি যেতে হয়েছে। 


এ যেন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ড। প্রায় ৬০ ঘণ্টার অনশনে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মাথার পাশে স্ট্যান্ড আর তাতে ঝোলানো স্যালাইন শিক্ষার্থীদের শরীরে পুশ করা। তাদের পাশে বসেই বন্ধু, সহপাঠী, জুনিয়র কিংবা সিনিয়রদের গভীর মমতায় যত্ন নিচ্ছে কেউ কেউ। কখনও কখনও অনশনরত শিক্ষার্থীর কষ্ট দেখে নীরবে চোখের পানি ফেলছেন অনেকেই। এ দৃশ্য যেন এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)।


তিনদফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, গুলি আর সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ার পর শিক্ষার্থীরা গত সোমবার থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগে দাবিতে আন্দোলন করছে। এ দাবিতে গত বুধবার দুপুর দুইটা ৫০ মিনিটে ২৪ জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসে। অনশনের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এক এক করে ১৪ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ ছাড়া বাকি অনশনরত শিক্ষার্থীদের শরীরে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।

অসুস্থ ১৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে কাজল দাস ও আব্দুল্লাহ আর রাফি শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে ফিরে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন। কাজল দাস জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে এবং আব্দুল্লাহ আর রাফি এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল। 

আব্দুল্লাহ আর রাফির স্বাস্থ্যের বিষয়ে ওসমানী মেডিকেলের চিকিৎসক মো. জাহিদ আহমেদের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় না খাওয়ার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে। এভাবে না খেয়ে থাকলে শারীরিক সমস্যা আরও বাড়বে।’

আব্দুল্লাহ আর রাফি বলেন, প্রেশার লো, সুগার লো এবং শরীর নিস্তেজ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে আসতে হয়েছিল।


এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফের অনশনে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে রাফি বলেন, ‘শরীর একটু স্বাভাবিক বোধ করায় আমি আবার এসেছি। আমার সঙ্গের এরা এখানে শীতের মধ্যে কষ্ট করছে, আমি যতক্ষণ স্বাভাবিক আছি ততক্ষণ এখানে থাকতে চাই। আর ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমি অনশন চালিয়ে যাবো।’


এদিকে শাবিপ্রবিতে চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে বসে কথা বলতে চান। এজন্য মন্ত্রী তাদের ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানান। প্রথমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল ঢাকায় যাওয়ায় কথা বললেও পরবর্তীতে অনশনরত এক শিক্ষার্থী আলোচনায় অংশ নিতে চাইলে তাকে ছেড়ে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। পরে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আলোচনার ইচ্ছে প্রকাশ করে, অন্যথায় মন্ত্রীকে ক্যাম্পাসে এসে তাদের দেখতে এবং কথা বলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। 

শিক্ষার্থীরা না গেলেও শিক্ষকদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে ঢাকা গেছেন বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অনশন ও অসুস্থতা নিয়ে সিন্ডিকেট সদস্য এবং সেন্টার অব এক্সিলেন্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. মস্তাবুর রহমান সমকালকে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়েই তো ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের আগে বাঁচাতে হবে। এখানে চিন্তা করার মতো কিছু নেই। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষার্থীদের সুন্দরভাবে বাঁচিয়ে রেখে তারপর অন্য চিন্তা করতে হবে। 


অনশন ভাঙানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের চেষ্টা চলছে। আমি নিজেও একজন সাস্টিয়ান। এটি আমার অনুভূতির সঙ্গে একাত্মতা। পুলিশি আক্রমণের ন্যাক্কারজনক এমন ঘটনা অতীতে তো ঘটেনি। আমি ওইটাই চাই, যারা দায়িত্বশীল জায়গায় ছিল তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।

বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্টের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্দোলন শুরু হয়। 


সেখানে প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার পর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে।

রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। তখন শিক্ষার্থীরা ইট পাটকেল ছুড়তে থাকলে পুলিশ রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারাও।


এ ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নাম উল্লেখ না করে মামলা করেছে পুলিশ।


জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. আবু খালেদ মামুন বলেন, রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসসিটি ভবনের সামনে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং ক্যাম্পাসে অশান্ত পরিবেশ নিয়ে সোমবার এ মামলা করা হয়। সেখানে দুই থেকে তিনশ জনকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।


এ ছাড়া রোববার সন্ধ্যায় জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করার পর সোমবার দুপুর বারোটার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হলে তালা ঝুলিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর পর থেকেই ভিসির বাসভবনের সামনে আমরণ অনশনে রয়েছে শিক্ষার্থীরা।



করোনা সতর্কতায় আগামী ২ সপ্তাহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কোভিড-১৯ মহামারির বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, 'সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত অর্ধেক জনবল দিয়ে চলবে। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুব শিগগির তা কার্যকর করা হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'বাণিজ্য মেলা, বইমেলা, স্টেডিয়ামে টিকা ও করোনা টেস্টের সনদ নিয়ে যেতে হবে। সামাজিক অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি যেতে পারবে না এবং তাদেরও টিকার সনদ থাকতে হবে।'

২ সপ্তাহ পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা কিংবা বন্ধ রাখার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব মো. সাবিরুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২১ জানুয়ারি থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব স্কুল, কলেজ ও সমপর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে; সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ১০০-র বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না। 


এসব ক্ষেত্রে যারা যোগদান করবে তাদের অবশ্যই টিকা সনদ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প কারখানাসমূহে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দায়িত্ব বহন করবেন। 

বাজার, শপিংমল, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ সবধরনের সমাবেশে অবশই মাস্ক ব্যবহারসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনিটর করবে। 

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে দীর্ঘ ১৮ মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার খুলে দেওয়া হয়।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে অনড় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে গত ২০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তারা অনশন করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখবেন তারা। আজ সকালের দিকে অনশনস্থলের পাশে এম্বুলেন্স এনে রাখা হয়েছে। কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে পড়লে তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে নিতে এম্বুলেন্স আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।


এদিকে ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ তার বাসভবনে অবস্থান করছেন।

ভিসির বাসভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


ওদিকে গত রাতে অনশনস্থলে শতাধিক শিক্ষক এসে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলেন, ভিসির পদত্যাগের সাথে একমত হলেই শিক্ষকদের কথা শুনবেন তারা।

শিক্ষকবৃন্দ কথা বলার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা কথা না শোনার জন্য বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় হ্যান্ডমাইকে শিক্ষকবৃন্দ শিক্ষার্থীদের অনেকবার বুঝানোর চেষ্টা করেন।

আরো পড়ুনঃ- ভিসির কুশপুত্তলিকা: হাতে পিস্তল, টাকার থলে


বুধবার রাত পৌনে ৯টায় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুলশি কুমার দাশের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট সদস্য, অনুষদের ডিন, বিভাগের প্রধানসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষক ভিসির বাস ভবনের সামনে এসে আন্দোলনকারীদের বুঝানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় শিক্ষকবৃন্দ বলেন, এই ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষক, ভিসি স্বৈরাচারি আচরণ করতে পারবে না। হামলার বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হবে।


এই ঘটনায় জড়িত থাকলে ভিসিকে চলে যেতে হবে। কেউ গুলি মারা, বোমা মারার সংশ্লিষ্টতা থাকলে চলে যেতে হবে।' এ সময় মামলায় শিক্ষার্থীদের কিছু হবে না বলে আশ্বস্ত করেন তারা।

এছাড়া অনশন ভাঙার জন্য অনুরোধ করেন এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এক সাথে খাবার আয়োজনের প্রস্তাব করেন। কিন্তু শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রস্তাবে শিক্ষার্থীরা সাড়া না দেয়ায় রাত সাড়ে ১১টায় শিক্ষকবৃন্দ আন্দোলনস্থল ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, গতকাল বিকাল ৩টা থেকে ২৪ জন শিক্ষার্থী অনশনে বসেছেন। আজ অনশনস্থলে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী




দেশে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের কারণে শিগগির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে আগামী ৩০ দিনের জন্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট আবেদন করেছেন। রিটের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী নিজে।

তিনি বলেন, করোনা শুরু হলে তখন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। তাই শিক্ষার্থীরা কম আক্রান্ত হয়েছে। এখন আবার করোনা বাড়ছে। তবে এখন সব খোলা থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুল, মাদরাসা, কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে। 


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার জন্য গণপরিবহন ব্যবহার করতে হয়। এতে অনেকেই হয়তো করোনাভাইরাস নিয়ে বাসায় ফিরবে। যার ফলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩০ দিনের জন্য বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করা হয়েছে।

ইউনুছ আলী আকন্দ আরও বলেন, আবেদনটি হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি হতে পারে। এর আগে ২০২০ সালের ১৫ মার্চ তিনি এ সংক্রান্ত একটি রিট দায়ের করেছিলেন বলেও জানান।

ওই রিটে সব বিমানবন্দর, নৌবন্দর ও স্থলবন্দরে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্তে এবং সব বন্দরের প্রবেশমুখে মনিটরিংয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছিল। এছাড়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশনা, সব বিমানবন্দর, নৌবন্দর ও স্থলবন্দরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্তে এবং সব বন্দরের প্রবেশমুখে মনিটরিংয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা জারির আর্জি জানানো হয়েছিল।


মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, শিক্ষা সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ওই রিটে বিবাদী করা হয়। 

সেই রিটের শুনানি নিয়ে একই বছরের ১৯ মার্চ আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বিদেশফেরতদের বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখতে ও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা করতে তাদেরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ও পররাষ্ট্র সচিবের প্রতি নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের বাস্তবায়ন প্রতিবেদন এখনও পাননি । তাই সেই রিটটি আজ আদালতে উপস্থাপন করেছেন। আদালত বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) এ বিষয়ে আদেশের জন্য রেখেছেন।

এছাড়া ওই রিটের সম্পূরক হিসেবে অবিলম্বে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩০ দিনের জন্য চেয়ে আবেদন করেছেন বলেও জানান ইউনুছ আলী আকন্দ।

এদিকে দেশে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের কারণে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে ভার্চুয়ালি চলছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম ভার্চুয়ালি শুরু হয়েছে।


উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি)। এই আন্দোলনের মধ্যেই ফরিদ উদ্দিন আহমেদের একটি কুশপুত্তলিকা তৈরি করেছেন শিক্ষার্থীরা। বাঁশ, পাটের বস্তা ও সোলা দিয়ে বানানো কুশপুত্তলিকাটি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে রাখা হয়েছে।

কুশপুত্তলিকার মাথার অংশে রয়েছে উপাচার্যের ছবি। তার মাথায় দৈত্যের মতো দুটি শিং রয়েছে। কুশপুত্তলিকার ডান হাতে প্রতীকী পিস্তল এবং অন্য হাতে টাকার ব্যাগ রয়েছে। এর মাঝের অংশে তিনশ’ কোটি টাকা লেখা রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শিক্ষার্থীরা কুশপুত্তলিকাটি তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি আরেকটি বড় প্ল্যাকার্ড তৈরি করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে লেখা রয়েছে- ‘হীরক ভিসির শেষে’। তাতে হীরক রাজার যেমন পতন হয়েছিল, তেমন ইঙ্গিত দিয়ে ছবি আঁকা রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত উপাচার্যের বাসার সামনে অবস্থান করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে আবার তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হতে শুরু করেছেন।


গত সোমবার থেকে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য পদত্যাগ না করলে তারা আমরণ অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে মঙ্গলবার রাতে এ ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মোহাইমিনুল বাশার।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল কারণঃ

সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার পরও মেসভাড়ায় কোনো ছাড় না দেওয়াসহ একাধিক ‘অন্যায্য’ সিদ্ধান্তে অনেক দিন ধরে তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। হলের ছাত্রীদের বিক্ষোভ শুরুর পর সেই ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এ আন্দোলনের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েকশ’ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে ছাত্রলীগ হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ও তাদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার ঘোষণা দিলেও শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।


করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, আমরা এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ভাবছি না। আজ রোববার দুপুরে সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (পিএটিসি) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের টিকাদান কর্মসূচিটাও খুব জোরদারভাবে চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে সেই টিকাদান কর্মসূচিতে ভাটা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা পর্যালোচনা করছি, পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা এখনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সংক্রমণের খবর পাইনি। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও এ বিষয়ে নজর রাখছে। আমরা জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগে আছি, আমরা এখনো ভাবছি না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কথা।


তিনি আরও বলেন, যতদূর সম্ভব জীবন স্বাভাবিক রেখে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই করোনা মোকাবিলা করতে হবে। সেটাই সিদ্ধান্ত। অতএব আমরা এই মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ভাবছি না। তবে যদি তেমন বড় প্রয়োজন দেখা দেয় তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব।


আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও রাবার বুলেট ছুড়ে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদকে দুই ঘণ্টা পর মুক্ত করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় রাতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আজকের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিলো। পুলিশ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে মহিলা পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

 বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের প্রভোস্টের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকাল ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা এম ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবনের ভেতরে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। অবরোধের পর থেকে তারা আইসিটি ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এদিকে- সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পুলিশ বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ চালায়। আইসিটি ভবনের ফটকের কাছে ঘেরাও করে শিক্ষার্থীদের পেটায় পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীরা পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়লে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে শিক্ষার্থীরা আইসিটি ভবনের সামনে থেকে পিছু হটলে পুলিশি পাহারায় ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমদকে তার বাসভবনে পৌঁছে দেয়া হয়। এরপর থেকে ভিসি বাসভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে- পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ, রাবার বুলেটের আঘাতে অন্তত ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। 

রাবার বুলেটে আহত কয়েকজনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় এম্বুলেন্সে করে গুরুতর আহত এক মহিলা পুলিশ কনস্টেবলকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংঘর্ষের পুলিশের ডিসি আজবাহার আলী শেখ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমদ, শিক্ষার্থী সজল কুণ্ডও আহত হন। 

ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকা ছাত্রলীগ কর্মীরা জানিয়েছে- পুলিশের লাঠিচার্জের সময় তাদের কয়েকজনও আহত হয়েছেন। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আজবাহার শেখ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশও পাল্টা লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

এদিকে- শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন- পুলিশ দিয়ে ছাত্র পিটিয়ে ভিসি তার বাস ভবনে গেছে। অতীতে কোনো ভিসি এ ধরনের ঘটনার জন্ম দেননি। ঘটনায় আহতদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি চার দফা দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। শাবির দ্বিতীয় হল বলে পরিচিত বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হল। এই হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জাফরিন আহমদ করোনা আক্রান্ত হয়ে বাসায় রয়েছেন। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে হল প্রভোস্টের পদত্যাগ, হলের ভেতরে নানা অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা দূর করা ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন হল প্রভোস্ট নিয়োগ করাসহ তিন দফা দাবিতে কনকনে শীত উপেক্ষা করে বিক্ষোভ শুরু করে ওই হলের ছাত্রীরা। প্রথমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলেও ওই রাতে ভিসির বাসভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করে। 

রাত আড়াইটার দিকে ভিসি বেরিয়ে এসে পরদিন গত শুক্রবার আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে ছাত্রীরা ভোররাতে হলে ফিরে। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যস্ত ছাত্রীদের একাংশ গিয়ে ভিসির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ছাত্রীরা তাৎক্ষণিক দাবি মেনে নেয়ার দাবি জানালেও ভিসি সময় চান। ফলে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় গত শুক্রবার দুপুর থেকে সিরাজুন্নেছা হলের শিক্ষার্থীরা ফের বিক্ষোভ শুরু করে। ওইদিন সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ছাত্রীরা হলে ফিরে যায়। 

কিন্তু আল্টিমেটামের মেয়াদ গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের দাবি মানা হয়নি। এ কারণে গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্রীরা। এ সময় তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের বেশকিছু ছাত্র এসে একাত্মতা প্রকাশ করেন। 

ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে একটি এম্বুলেন্স বাইরে বের হওয়াকে কেন্দ্র ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি; ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের মারধর করেছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হেনস্তারও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পর তিন দফা দাবিকে চার দফায় রূপান্তরিত করে গত শনিবার রাত ১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে। 

তাদের দাবির শেষ দফা হচ্ছে; আন্দোলনে হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মীদের বিচার দাবি। রাত ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা গতকাল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে হলে ফিরে। এদিকে- গতকাল সকাল হতেই বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী হলের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। 

শতাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের গোলচত্বরের প্রবেশমুখে অবস্থান করার কারণে ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে কোনো যানবাহন বের হতে পারেনি কিংবা প্রবেশ করতে পারেনি। এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেক বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়েছে। আর ছাত্রী বিক্ষোভের কারণে প্রায় অর্ধেক বিভাগে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। দুপুরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলশী কুমার দাস বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের কাছে এসে দাবি মেনে নেয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময় চাইলে ছাত্রীরা সে দাবি মানেনি। 


দাবি মেনে না নিলে তারা আন্দোলনে থাকবে বলে ঘোষণা দেয়। তাদের এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকাল ৩টা পর্যন্ত ভিসি রেজিস্ট্রার ভবনে একাডেমিক বৈঠক করেন। বৈঠক শেষ করে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ বেরিয়ে গেলে ছাত্রীরা তার পিছু নেয়। এ সময় ভিসি আইসিটি ভবনে ঢুকে পড়েন। ভিসির পিছু পিছু শিক্ষার্থীরা ওই ভবনের ভেতরে ঢুকতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের বাধা দেন। 

আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা এম ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবনের ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে তারা ফটকে তালাও ঝুলিয়ে দিয়েছে। শতাধিক ছাত্রী ভিসিকে ওই ভবনের ভেতরে রেখে বাইরে বিক্ষোভ করে। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে কয়েকজন শিক্ষক গিয়ে আইসিটি ভবনের কলাপসেবল ফটক খুলতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বাধা প্রদান করে। 

শিক্ষকরা ভেতরে ঢুকতে চাইলে তাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিসি ভবনের ভেতরেই অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন- যেহেতু হল প্রভোস্ট করোনা আক্রান্ত, সে কারণে আমরা ছাত্রীদের কাছ থেকে বিষয়টির সুরাহা করার জন্য এক সপ্তাহের সময় চেয়েছিলাম। 

কিন্তু শিক্ষার্থীরা সে দাবি মানেনি। তিনি বলেন- দাবি একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে মেনে নিতে হয়। এই সময়ও দিচ্ছে না ছাত্রীরা। এদিকে- ভিসি অবরুদ্ধ হওয়ার পর ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা বিক্ষোভ স্থল, আইসিটি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে। 

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েনের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের সামনেই বিক্ষোভ চলছিলো শিক্ষার্থীদের। সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা জানিয়ে দিয়েছে- ঘোষিত চার দফা দাবি মেনে নিলে তারা হলে ফিরবে। নতুবা ক্যাম্পাসে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। যতই বাধা আসুক তারা আন্দোলনে থাকবে বলে জানায়। 


মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন ২১ ভর্তিচ্ছু। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনা করেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির প্রথমবর্ষে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নিতে নির্দেশনা দেওয়া ছিল। তবে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগ থেকে হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে তাদের ১৫ মিনিট দেরি হয়ে যায়। তারা পৌঁছান দুপুর সোয়া ১২টায়। এতেই স্বপ্নভঙ্গ হয় ২১ জনের।

ভুক্তভোগী ভর্তিচ্ছুদের অভিযোগ, বাসচালক ও সুপারভাইজারের (শ্যামলী পরিবহন) গাফিলতির কারণে তারা নির্ধারিত সময়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারেননি।

অপেক্ষমাণ তালিকায় ১০১ নম্বর সিরিয়ালে থাকা মোস্তফা গালিব বলেন, ‘হাবিপ্রবিতে ভর্তি হওয়ার জন্য খুবি, ইবি ও শাবিপ্রবিতে ভর্তি হইনি। হাবিপ্রবির কৃষি অনুষদ আমার লক্ষ্য ছিল। বাসচালক যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করায় অনেক সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য হাবিপ্রবি প্রশাসন আমাদের মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিলো না। আমি কোনোভাবেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না।’

অপেক্ষমাণ তালিকায় ৮৮২ নম্বর সিরিয়ালে থাকা মারুফ ইসলাম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘বুধবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় বাসে ওঠার পরও সঠিক সময়ে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারলাম না। বাসায় গিয়ে বাবা-মাকে কী বলবো? যেহেতু আমাদের দোষ ছিল না তাই কর্তৃপক্ষ চাইলেই বিষয়টি মানবিকতার খাতিরে আমলে নিতে পারতো। আমরা সত্যিই জিএসটি (গুচ্ছ) ভর্তি পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে হতাশ। এখন পর্যন্ত অনেক টাকাই নষ্ট হলো কিন্তু কোথাও ভর্তি হতে পারলাম না।’সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয় রিপোর্টিং কার্যক্রম। ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া একাডেমিক ভবনে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রিপোর্টিং কার্যক্রম চলে। এতে অংশ নেন ৮৬২ জন ভর্তিচ্ছু।

রিপোর্টিং কার্যক্রম শেষে দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয় (৭৮৭ জনের)। ফলাফল প্রকাশের পরপরই ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় ছয়টি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে সবকিছু একটা নিয়মের মধ্য দিয়েই চলে। আমরা বেশ কয়েকদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞপ্তি, মেসেজ কিংবা ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমেও বিষয়গুলো ভর্তিচ্ছুদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে এসেছি। তারপরও এমন ঘটনা সত্যিকার অর্থে দুঃখজনক। আমরা চাই না এমন ঘটনা পরবর্তী সময়ে আবারও ঘটুক।


করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ভাবছে না সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে না। যেভাবে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলো চলছিল, ঠিক সেভাবেই চলবে।’

সোমবার করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখন শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ টিকা নিয়েছে এবং চলতি মাসের মধ্যে অন্তত এক ডোজ টিকার আওতায় সবাই চলে আসবে। সেই পরিস্থিতিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করব না।’

শিক্ষামন্ত্রী তথ্য দেন, দেশে মোট শিক্ষার্থীর ৪৪ লাখকে করোনার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই সব শিক্ষার্থীর টিকার প্রথম ডোজ সম্পন্ন করব। টিকা নিতে না পারা শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবে না। তারা বাসায় অনলাইনে ও টিভিতে ক্লাস করবে আর অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেবে। যাদের টিকা নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে, তারাই ক্লাসে আসবে। 

 

করোনাকালে এর আগে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সময় আমাদের সংক্রমণের হার ৭ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। নতুন করে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এখন আবার সেটি ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে তখনকার তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক ভালো। কারণ তখন কোনো শিক্ষার্থী টিকা নেয়নি। আমরা এখন যতটুকু মনিটরিং করতে পারছি, তাতে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কাজ চলছে। সেটিকে আরও বেশি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। এর আগে শুধু স্কুলগুলোতে মনিটরিং করা হতো। এখন বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাকি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবুবকর ছিদ্দীক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক প্রমুখ।


করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরক্ষিত রেখে সংক্রমণ কীভাবে এড়াতে পারি। যারা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে বা হয়ে যাচ্ছে, তারা গুজব ছড়াচ্ছেন। সব সময়ই এমন গুজব ছড়ানো হয়। আপনারা গুজবে কান দেবেন না।

আজ রবিবার (৯ জানুয়ারি) সাভারের আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নবম সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এসময় করোনা পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে আজ বিকেলে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠক রয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজ কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে আমাদের মিটিং রয়েছে। শিক্ষার্থীদের করোনার টিকাদান কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে। সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে এসে কিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যায়, সে চেষ্টাই করছি আমরা। তবে, এটাও ঠিক, যদি মনে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখলে সংক্রমণ বাড়বে, তখন আমরা বন্ধ করে দেবো হয়তো।

শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাক এই আশা ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতেই হয়, তখন আমরা ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করে দেবো। কিন্তু যতক্ষণ সে প্রয়োজন অনুভব না হবে, আমরা বন্ধ করব না। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাক।



করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেশে ফের বাড়তে শুরু করেছে।উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রমণ। 
এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রোববার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ কথা জানিয়েছেন।

করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমাদের মন্ত্রণালয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ আছে। আগামীকাল (রোববার) কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটির সঙ্গে বৈঠক আছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, মার্চে গিয়ে সংক্রমণ বাড়বে। কিন্তু এখন জানুয়ারির গোড়ায় বাড়তে শুরু করেছে। কাজেই যে পরিকল্পনা, তাতে কিছুটা সমন্বয়ের দরকার হবে। কিন্তু আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাই না বরং আমরা চাই প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন করোনার টিকা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে। সেটিরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

‘হয়ত একটু অসুবিধা হতে পারে, তাদের জন্য, যারা ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী। সেসব বিষয় নিয়েও আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’


টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেমা খাতুন ভাসানী হলের বিবাহিত আবাসিক ছাত্রীদের হলের সিট ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার সন্ধ্যায় আলেমা খাতুন ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রোকসানা হক রিমি স্থগিতের এ নোটিশ দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ১১ ডিসেম্বর হলের নোটিশ বোর্ডে বিবাহিত ছাত্রীদের হল ছেড়ে দেওয়ার নোটিশটি দিয়েছিলেন প্রভোস্ট।

এতে তিনি উল্লেখ করেন- হলের নিয়ম অনুযায়ী বিবাহিতা ছাত্রীদের হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ নেই। এ অবস্থায় আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে বিবাহিত ছাত্রীদের সিট ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হলো। কোনো ছাত্রী বিবাহিতা হলে অবিলম্বে হল কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। না জানালে নিয়ম ভঙ্গের কারণে জরিমানাসহ সিট বাতিল করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

কর্তৃপক্ষের এ নোটিশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি বিবেচনা করে সোমবার সন্ধ্যায় পুনরায় নোটিশ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এআরএম সোলায়মান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বিবাহিতদের আবাসিক হোস্টেলে থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এ আইনটি আর ব্যবহৃত হয় না। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ১১ ডিসেম্বর বিবাহিতাদের হোস্টেলে প্রবেশ নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীদের মাঝে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নোটিশটি স্থগিত করা হয়েছে।


শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে কাল রবিবার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। অন্তবর্তীকালীন পাঠ পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বড়দিন ও শীতকালীন ছুটি ২৪ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ছুটি শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিন এ ধরনের নির্দেশনা আসায় বিপাকে পড়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা জানান, মন্ত্রণালয়ের পূর্ব নির্ধারিত ছুটির তালিকার পর নতুন কোনো নির্দেশনা না আসায় আমরা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলেছি। শিক্ষার্থীদের অনেকেই দূর-দূরান্তে বেড়াতে গেছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় স্কুল খোলা রাখলেও এর তেমন কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।

আজ শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ শাখা থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন (বড় দিন) ও শীতকালীন অবকাশ বর্ষপঞ্জিতে উল্লেখিত ১৯-২৯ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখের পরিবর্তে ২৪-২৯ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ পর্যন্ত পুনঃনির্ধারণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।


জানা যায়, শনিবার সকালে প্রাথমিকের বিভাগীয় উপ-পরিচালকরা প্রধান শিক্ষকদের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্লাস চালিয়ে নিতে নির্দেশ দেন। হঠাৎ করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসায় ব্যাপারটি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এরপর বিকেলে মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জুলফিকার আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের ছুটির বিষয়টি আগে থেকেই জানিয়েছি। আজ স্কুল খোলার শেষদিন হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীই স্কুলে আসেনি। কেউ কেউ আত্নীয় স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। এ অবস্থায় কাল থেকে স্কুল খোলা রাখলে শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে ডেকে আনতে হবে। তারপরও পাওয়া যাবে না। তাই ছুটি পুর্নবিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।’

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget