Articles by "স্বাস্থ্য"


গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি রোগী। এ নিয়ে টানা তিন দিন ১৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন আরও ১৫ জন। এ সময়ে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩১ শতাংশের বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৮০৭ জন। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) ১৫ হাজার ৫২৭ জন ও মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) ১৬ হাজার ৩৩ জন রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল অধিদফতর।

সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হলেন ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩১ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ২৮ হাজার ২৮৮ জন।

করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৩৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৭৯টি, পরীক্ষা হয়েছে ৪৯ হাজার ৪২৫টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ৬৭৭টি। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৮৩ লাখ ৮৩ হাজার ৯৮৭টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৬২ শতাংশ।


স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, ১০ জন নারী। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৮ হাজার ৮০ জন আর নারী ১০ হাজার ২০৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী চার জন, ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী তিন জন, ৪১ থেকে ৫০ আর ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী দুজন, ১১ থেকে ২০, ২১ থেকে ৩০, ৩১ থেকে ৪০ এবং ৯১ থেকে ১০০ বছর বয়সী একজন করে। 

অধিদফতর জানাচ্ছে, মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা বিভাগের। এ বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আট জন। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের তিন জন, রাজশাহী বিভাগের দুজন আর বরিশাল ও রংপুর বিভাগের মারা গেছেন একজন করে।

এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে আট জনের। বাকি সাত জনের মৃত্যু হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে।


দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে সংক্রমণ বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ২টার দিকে এক ভার্চুয়াল বুলেটিনে এ কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম। 

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি ও বিএসএমএমইউয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার ডেলটা ধরনের পাশাপাশি অধিকতর সংক্রামক ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হচ্ছে।’

রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে অমিক্রনের ধরন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ‘ওমিক্রনের অন্য উপসর্গ কী আছে, তা বের করতে কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশে ওমিক্রনের কারণে সংক্রমণ বেশি হচ্ছে। এর জন্য একটি ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে।’


নতুন বছরের প্রথম দিন আগের ২৪ ঘণ্টায় (১ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত) ৩৭০ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্তের তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেদিন নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তে হার ছিল দুই দশমিক ৪৩ শতাংশ। 

একই সময়ে চার জনের মৃত্যুর কথাও জানানো হয়। আর তিন সপ্তাহ শেষে গতকাল রবিবার (২৩ জানুয়ারি) অধিদফতর জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় (২৩ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯০৬ জনের। এ সময়ে শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর এ সময়ে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।

অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, ১ জানুয়ারিতে দেশের ৪৪ জেলায় নতুন রোগী শনাক্ত ছিল না। বাকি জেলাগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র ঢাকা জেলা ছাড়া বাকিগুলোতে রোগী ছিল এক অংকের সংখ্যায়। আর ২৩ জানুয়ারিতে অধিদফতর জানাচ্ছে, ৬৪ জেলার মধ্যে মাত্র পাঁচ জেলায় এক অংকের ঘরে রোগী শনাক্ত হয়েছে। 

বাকি জেলাগুলোর মধ্যে চার অংকের সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে দুই জেলায় আর তিন অংকের সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে আট জেলায়। বাকি জেলাগুলোতে রোগী সংখ্যা দুই অংকের ঘরে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরের বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিন জন ভাইরাসটিতে শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এর ঠিক ১০ দিন পর করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি। 

এরপর প্রায় দুই বছর ধরে চলা এ মহামারির সংক্রমণচিত্রে বিভিন্ন সময়ে ওঠানামা চিত্র দেখেছে দেশ। তবে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা দেখা গিয়েছে বছরের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে। 

করোনার ধরন ডেল্টার তাণ্ডবে সেসময়ে দেশ একদিনে সর্বোচ্চ রোগী আর সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখেছে। তবে আগস্টের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শনাক্তের হার কমে আসে ১ শতাংশের কাছাকাছি। তবে বছর শেষে নতুন ত্রাসের জন্ম দেয় করোনার অতিসংক্রমণশীল ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। 

ডেল্টার তুলনায় পাঁচ থেকে ছয়গুণ বেশি সংক্রমণ ক্ষমতা নিয়ে ওমিক্রন ছড়াতে থাকে বাতাসের গতিতে। আর চলতি বছরের মধ্য জানুয়ারি থেকে সংক্রমণ ফের ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েকদিন ধরেই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।

দেশে একদিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ভয়ংকর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তাণ্ডবের সময়। সে বছরের ২৪ জুলাই অধিদফতর জানায়, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনাতে রোগী শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। যা কিনা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। আর গত ২৪ ঘণ্টায় (২৩ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত) শনাক্তের হার হার ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জায়গা একটু একটু করে নিচ্ছে ওমিক্রন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম (২৩ জানুয়ারি) অধিদফতরের ভার্চুয়াল বুলেটিনে জানিয়েছেন, ‘দেশে এখনও করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাধান্য বেশি, তবে একটু একটু করে সে জায়গাটা ওমিক্রন দখল করে নিচ্ছে।’

দেশে ওমিক্রনের সামাজিক সংক্রমণ বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওমিক্রন আগের সব রেকর্ড ভাঙ্গবে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার এখনই চলে এসেছে ডেল্টার চূড়ার কাছাকাছি।

সেইসঙ্গে প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদফতর যে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা জানাচ্ছেন সেটাও প্রকৃত সংখ্যা নয়, বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ‘ওমিক্রনে ডেল্টার মতো জটিলতা নেই বলা হলেও সামনে আরও মৃত্যু বাড়বে।’

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সংক্রমণ বাড়লে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও আনুপাতিক হারে বাড়বে। 

বর্তমানে যে মৃত্যুগুলো হচ্ছে সেগুলো আগের প্রভাব, নিদেনপক্ষে তিন সপ্তাহ আগে যারা আক্রান্ত হয়ে জটিল অবস্থায় গিয়েছে, সেসব রোগীদের মৃত্যু হচ্ছে। আর বর্তমান সময়ে যেসব রোগীদের অবস্থা জটিল অবস্থায় গিয়েছে তাদের মৃত্যুর অবস্থা দেখা যাবে আগামী তিন সপ্তাহ পর।

আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে যদি এভাবে মৃত্যু বাড়তে থাকে, তাহলে সেসব মৃত্যু ওমিক্রনে সংক্রমিত হয়েই হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে জানিয়ে মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘যদি দেখা যায় শনাক্তের হারের তুলনায় মৃত্যু কম হচ্ছে তাহলেই কেবল বলা যাবে ওমিক্রনে মৃত্যু। আর আগ পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব হবে না। 

তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, শনাক্ত যদি অনেক বেড়ে যায় তাহলে আনুপাতিক হারে মৃত্যু বাড়বে।’

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি রয়েছে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারি ১১ দফা নির্দেশনা ঠিক আছে, কারণ সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়, সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া একদম শেষ ব্যবস্থা।’

তবে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানুষকে সম্পৃক্ত করার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মনে করেন ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, ডেল্টার প্রাদুর্ভাবের সময় কিন্তু করোনা প্রতিরোধের জন্য একেবারে ওয়ার্ড পর্যায়েও কমিটি করার প্রজ্ঞাপন দিয়েছিল ক্যাবিনেট। যেখানে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সবাই ছিল। যেখানে করোনাকে প্রতিরোধ করার কাজ করার পাশাপাশি টিকার জন্যও কাজ করা হতো।

সেই নির্দেশনা গ্রামে কিছুটা হলেও শহরে একদমই বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শহরে এটা বাস্তবায়ন করার জন্য সিটি মেয়রদের কাজ করতে হবে, তারা যেন উদাহরণ তৈরি করেন। ২০২০ সালে যখন জোনাল লকডাউন হয়েছিল, তখন তারা বেশ সক্রিয় ছিলেন। সেভাবেই এখন আবার কাজ করতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য ও জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল বলেন, এখনও হাসপাতালে বেড ফাঁকা রয়েছে। কিন্তু আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহ পরে হাসপাতালগুলোতে শয্যা কতোটা ফাঁকা থাকবে- সেটা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।

সংক্রমণের এই ঊধর্ধ্বগতিতে বাণিজ্যমেলা, শপিংমল খোলা রাখার বিষয়টিকে ‘বিক্ষিপ্ত এবং এলোপাতাড়ি পরিকল্পনা’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখানে সমন্বিত এবং চিন্তা করে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।


করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও
বেসরকারি অফিসগুলোর মতো ব্যাংকেও অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। 

এ সিদ্ধান্ত আজ সোমাবার (২৪ জানুয়ারি) থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়ে চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে বলেছি। তবে যেসব ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লোকবলের সমস্যা আছে, তারা তাদের মতো করে অফিস করবেন।’ এ বিষয়ে আজকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে রোস্টারিংয়ের মাধ্যমে অর্ধেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তবে আবশ্যকীয় ব্যাংকিং সেবা অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনে স্বীয় বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাফতরিক কার্যক্রম ভার্চ্যুয়ালি সম্পন্ন করবেন।

ব্যাংকে আগত সেবাগ্রহীতাদের আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নির্দেশনা কঠোরভাবে পরিপালন করতে হবে।


গত ২৪ ঘণ্টায় এক লাফে করোনায় প্রায় চার হাজার নতুন রোগী বেড়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় বেড়েছে শনাক্তের হার ও মৃত্যু। 

গত ২৪ ঘণ্টায় (২৩ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ২৪ জানুয়ারি সকাল ৮টা) করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮২৮ জন। গতকাল (২৩ জানুয়ারি) ১০ হাজার ৯০৬ জন শনাক্তের কথা জানিয়েছিল অধিদফতর। অর্থাৎ, একদিনের ব্যবধানে নতুন শনাক্ত রোগী বেড়েছে তিন হাজার ৯২২ জন।

প্রায় সাড়ে ৫ মাস পর শনাক্ত আজ ১৫ হাজারের কাছাকাছি। এর আগে গত ৩ আগস্ট ১৫ হাজার ৭৭৬ জন রোগী শনাক্ত হন। 

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল ১৪ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। সেই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা গতকাল ছিল ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশ।

আজকের এই শনাক্তের হার গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ২৪ জুলাই শনাক্তের হার ছিল ৩২.৫৫ শতাংশ।


অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া ১৪ হাজার ৮২৮ জনকে নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে শনাক্ত হলেন ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৬৪ জন এবং ১৫ জনকে নিয়ে মোট মারা গেলেন ২৮ হাজার ২৩৮ জন।  

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৯৯৮ জন। তাদের নিয়ে মোট ১৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৫৯ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।

দেশে এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৬৬ শতাংশ।

অধিদফতর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৪৫ হাজার ৯৯৯টি এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৮০৭টি। দেশে এখন পর্যন্ত এক কোটি ২১ লাখ ৬২ হাজার ৬৮৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়েছে ৮৩ লাখ সাত হাজার ৭৪৫টি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪২টি।

মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে পুরুষ ৯ জন আর নারী ছয় জন। তাদের নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৮ হাজার ৫০ জন এবং নারী ১০ হাজার ১৮৮ জন।

১৫ জনের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে আছেন পাঁচ জন, ৬১ থেকে ৭০ ও ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন তিন জন করে, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে আছেন দুই জন এবং ৩১ থেকে ৪০ ও ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে আছেন একজন করে। 

অধিদফতর জানাচ্ছে, মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ছয় জনই ঢাকা বিভাগের। ময়মনসিংহ বিভাগের আছেন তিন জন, সিলেট বিভাগের দুই জন এবং চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আছেন একজন করে। 

এদের মধ্যে ১২ জন সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন। বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন তিন জন।


দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে ২৮ হাজার ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এ সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৬১৪ জন। ফলে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৭৪ হাজার ২৩০ জনে।


আজ শনিবার (২২ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনাক্তের হার ২৮.০২ শতাংশ।

এর আগে গতকাল শুক্রবার করোনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়। এ সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয় ১১ হাজার ৪৩৪ জন। শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়ায় ২৮.৪৯ শতাংশে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৮২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭৯ জন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৫৭টি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩৪ হাজার ২০৭টি এবং নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩১১টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ২০ লাখ ৮২ হাজার ২৬টি।


এতে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।


বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১৭ জনের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন পুরুষ এবং ছয়জন নারী। মৃত ১৭ জনের মধ্যে রয়েছেন ২১ থেকে ৩০ বছরের একজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের দুইজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের ছয়জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের সাতজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। 


দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৮৮ জন। এ নিয়ে মহামারি শুরুর পর থেকে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৮ হাজার ১৮০ জন এবং মোট আক্রান্ত বেড়ে ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৮২ জনে দাঁড়িয়েছে।

আগের দিন বুধবার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। শনাক্ত হয়েছিলেন ৯ হাজার ৫০০ জন। আগের দিনের চেয়ে মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্ত। গতকাল শনাক্তের হার ছিল ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ। আর সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশে।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫৭৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৪৫ জন। রোগী সুস্থতার হার ৯৪ দশমিক ০৫ শতাংশ।


গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ৮৯৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করার বিপরীতে ৪১ হাজার ২৯২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যেখানে মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন: করোনার পূরবের সব রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে ভারত

২৪ ঘণ্টায় যে চারজন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ একজন ও নারী তিনজন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে বিশোর্ধ্ব একজন, ত্রিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব একজন এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সী রয়েছেন একজন। মৃতদের দুজন ঢাকা ও বাকি দুজন চট্টগ্রামের বাসিন্দা।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। ওই বছরের শেষ দিকে সংক্রমণ ও মৃত্যু কিছুটা নিম্নমুখী হলেও ২০২১ সালের এপ্রিলের পর থেকে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তবে ২০২২ সালের শুরুতেই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আবারও চোখ রাঙাতে শুরু করে। দ্রুত বাড়তে থাকে সংক্রমণ ও মৃত্যু। 


ফের সাড়ে তিন লাখের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল ভারতের দৈনিক কোভিড সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৪ জন। গত বছর প্রথম বার দৈনিক কোভিড আক্রান্ত সাড়ে তিন লাখ পার করেছিল। ওমিক্রনের ধাক্কায় প্রায় ৮ মাস পর ফের দৈনিক সংক্রমণ এই পর্যায়ে পৌঁছল। খবর আনন্দবাজারের।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৮৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৭ জন।

আক্রান্তের পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে বেড়েছে দৈনিক মৃত্যু এবং দৈনিক সংক্রমণের হার।


শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, সংক্রমণের হার পৌঁছেছে ১৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার তা ছিল ১৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মৃত্যু হয়েছে ৭০৩ জনের। বৃহস্পতিবার তা ছিল ৪৯১। তবে ৭০৩ জন মৃতের মধ্যে ৩৪১ জনই কেরালার। ভারতের বাকি সব রাজ্যেই তা ৫০-এর কমই রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, মহামারি পর্বে করোনাভাইরাস মোট প্রাণ কেড়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯৬ জনের।




ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্র, কেরালা এবং কর্নাটকে দৈনিক আক্রান্ত রয়েছে ৪৫ হাজারের বেশি। তামিলনাড়ুতে সাড়ে ২৮ হাজার এবং গুজরাতে তা প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার। উত্তরপ্রদেশ ১৮ হাজার ৪২৯ ও রাজস্থানে ১৪ হাজার ৭৯ জন। তবে দিল্লি (১২,৩০৬) এবং পশ্চিমবঙ্গে (১০,৯৫৯) এ বছরের শুরুর তুলনায় আক্রান্ত অনেকটা কমেছে। তবে অন্ধ্রপ্রদেশ (১২,৬১৫), হরিয়ানা (৯,৫৫৮), মধ্যপ্রদেশ (৯,৩৮৫), পঞ্জাব (৭,৮৬২), অসমে (৭,৯২৯) আক্রান্ত কমার লাখণ নেই। গত কয়েক দিনে তেলঙ্গানা, উত্তরাখণ্ড, জম্মু ও কাশ্মীর, গোয়া, মিজোরাম, ত্রিপুরা, হিমাচল প্রভারতেও দৈনিক আক্রান্ত বেড়েছে।


করোনা সতর্কতায় আগামী ২ সপ্তাহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আজ শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কোভিড-১৯ মহামারির বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, 'সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত অর্ধেক জনবল দিয়ে চলবে। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুব শিগগির তা কার্যকর করা হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'বাণিজ্য মেলা, বইমেলা, স্টেডিয়ামে টিকা ও করোনা টেস্টের সনদ নিয়ে যেতে হবে। সামাজিক অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি যেতে পারবে না এবং তাদেরও টিকার সনদ থাকতে হবে।'

২ সপ্তাহ পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা কিংবা বন্ধ রাখার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব মো. সাবিরুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২১ জানুয়ারি থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব স্কুল, কলেজ ও সমপর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে; সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ১০০-র বেশি জনসমাবেশ করা যাবে না। 


এসব ক্ষেত্রে যারা যোগদান করবে তাদের অবশ্যই টিকা সনদ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর সার্টিফিকেট আনতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প কারখানাসমূহে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দায়িত্ব বহন করবেন। 

বাজার, শপিংমল, মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশনসহ সবধরনের সমাবেশে অবশই মাস্ক ব্যবহারসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনিটর করবে। 

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে দীর্ঘ ১৮ মাস পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার খুলে দেওয়া হয়।


দেশে একদিনে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে নয় হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সময়েল মধ্যে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ১১ শতাংশে। আর একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের।

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ হাজার ৮৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৯ হাজার ৫০০ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ। আর মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।

এই ২৪ ঘণ্টায় ২৪ ঘণ্টায় মৃত  ১২ জনের মধ্যে ১০ জন পুরুষ, ২ জন নারী। ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ৮ জন। চট্টগ্রামে ২, রাজশাহী ও সিলেটে ১ জন করে মারা গেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪৭৩ জন, এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৮ জন।

এর আগে, মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪৭৩ জন, এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৮ জন। করোনায় মৃত্যু হয় ১০ জনের। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এদিন মোট ৩৫ হাজার ৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ৯৮।

আরো পড়ুনঃ- করোনা সংক্রমণের রেড জোনে আরো ১০ জেলা

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের শেষে চীনের উহানে প্রথম করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর কয়েক মাসের মধ্যে এ ভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। আর প্রথম মৃত্যু হয় একই বছরের ১৮ মার্চ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। গত বছরের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান।


ঢাকা ও রাঙামাটির পর আরো ১০ জেলাকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের রেড জোন বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ ছাড়া হলুদ জোন বা মধ্যম ঝুঁকিতে রয়েছে ৩২ জেলা। আর গ্রিন বা সবুজ জোনে রয়েছে ১৬ জেলা।

গত এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সাত দিনে দেশজুড়ে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪০৫ জন, যা আগের সাত দিনের (৩ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি) চেয়ে ২৩ হাজার ৯৩১ জন বেশি। এই সময়ে শতাংশ হিসাবে শনাক্ত বেড়েছে ২২৮ দশমিক ৪৮।

করোনা সংক্রমণের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে ১০টি জেলাকে তালিকাভুক্ত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। জেলাগুলোতে সংক্রমণের হার অন্তত ১০ শতাংশ।

লাল তালিকাভুক্ত জেলাগুলো হলো গাজীপুর, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, বগুড়া, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, লালমনরিহাট, খাগড়াছড়ি ও পঞ্চগড়। আগের দুটি ঢাকা ও রাঙ্গামাটি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যে দেখা যায়, রাজধানীতে করোনা সংক্রমণের হার ২৮ দশমিক ১১ শতাংশ। রাঙামাটিতে করোনা সংক্রমণের হার ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ।

এছাড়া গাজীপুর করোনা সংক্রমণের হার ১০ দশমিক ৪৯, রাজশাহী ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যশোর ১১ দশমিক ২১ শতাংশ, কুষ্টিয়া ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ, বগুড়া ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ, দিনাজপুর ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১৮ দশমিক ৪৮, লালমনরিহাটে ১০ দশমিক ৭১, খাগড়াছড়ি ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ ও পঞ্চগড় ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ।


হলুদ জোন বা মধ্যম ঝুঁকিতে থাকা ৩২ জেলার শনাক্তের হার অন্তত ৫ শতাংশ।

জেলাগুলো হলো সিলেট, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, রংপুর, জামালপুর, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, নাটোর, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বাগেরহাট, মাগুরা, নড়াইল, পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, শেরপুর, ঝালকাঠি ও ঠাকুরগাঁও।


এছাড়া এখনো করোনা থেকে ঝুঁকিমুক্ত আছে ১৬ জেলা। এই জেলাগুলোতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

ঝুঁকিমুক্ত জেলাগুলো হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, ভোলা, নেত্রকোণা, গাইবান্ধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বরগুনা, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী ও মেহেরপুর।


ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিদিনই বাড়ছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৯ জনের শরীরে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

সোমবার সকালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী সোমবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ভারতে মৃত্যু হয়েছে ৩৮৫ জনের। এতে দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৪৫১।

এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ২ লাখ ৭১ হাজার ২০২ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে ভারতে নতুন রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ২৫৩ জনে। এদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৩৭ হাজার ৪৬১ জন।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে সংক্রমিতের সংখ্যা ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৩ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে ভারতে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণও বাড়ছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে করোনার এই ধরনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ২০৯ জনে।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ভারতের ২৯টি প্রদেশে করোনার ওমিক্রন ধরনটি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মহারাষ্ট্র, রাজস্থান ও দিল্লিতেই ওমিক্রনের সংক্রমণ বেশি।


দেশে নতুন করে আরও ২২ ব্যক্তি করোনার অমিক্রন ধরনে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁরা প্রত্যেকেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানের বাসিন্দা। এ নিয়ে দেশে ৫৫ জন অমিক্রন ধরনে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

দেশে আরও ২২ জনের দেহে করোনার আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট ৫৫ জন ওমিক্রনে আক্রাক্ত হয়েছেন।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) নতুন এই ২২ রোগীর ওমিক্রনে আক্রান্তের খবর দিয়েছে জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা (জিআইএসএআইডি)। 

নতুন আক্রান্ত ২২ জনের মধ্যে ১২ জনই রাজধানীর মহাখালী এলাকার বাসিন্দা। বাকিদের মধ্যে উত্তরার চার জন, বাসাবোর দুই জন এবং চাঁনখারপুল এলাকার বাসিন্দা চার জন।

জানা গেছে, নতুন করে ওমিক্রন শনাক্তদের ১২ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। এদের মধ্যে ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরীও রয়েছেন।

এর আগে ১০ জানুয়ারি দেশে তিনজন নতুন ওমিক্রন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।



গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত করতে ২৪ হাজার ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৩ হাজার ৪৪৭ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এর আগের দিনও (শুক্রবার) করোনা শনাক্তের হার ছিল ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ। সেদিন থেকে এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪ জন এবং নারী ৩ জন। মৃতদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৪ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩ জন মারা যান। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ১৩৬ জনে।


দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এ পর্যন্ত দেশে ২৮ হাজার ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৪৪৭ জন। ফলে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ১২ হাজার ৪৮৯ জনে।

আজ শনিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আজ শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৪.৩৫ শতাংশে। 

এর আগে গতকাল শুক্রবার করোনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়। শনাক্ত হয় চার হাজার ৩৭৮ জন। শনাক্তের হার ছিল ১৪.৬৬ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ২৯৪ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ জন।

এতে আরো বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ২৩ হাজার ২১১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ২৪ হাজার ২৮টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৪.৩৫ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩.৬৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে চারজন পুরুষ, তিনজন নারী। ঢাকা বিভাগে মারা গেছে চারজন। বরিশালে এক ও সিলেটে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।


করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনে কাবু বিশ্ববাসী। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬২ জন মানুষের শরীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৬৯৮ জনের।

এর আগে গতকাল শনিবার আগের করোনার ইতিহাসে সব রেকর্ড ভেঙে বিশ্বে এক দিনে সর্বোচ্চ ৩৩ লাখ মানুষের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, রোববার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ কোটি ৬৭ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৩ জন এবং মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩৪ জনে। আর সুস্থ হয়েছেন ২৬ কোটি ৬৪ লাখ ৩২ হাজার ৩৭৪ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। নতুন করে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৪৩০ জন এবং মারা গেছেন ২ হাজার ১২৯ জন। দেশটিতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮ লাখ ৭৩ হাজার ১৪৯ জনের।

আক্রান্তে দ্বিতীয় এবং মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত করোনায় ৩ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬১ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৯৪ জনের।

আক্রান্তে তৃতীয় ও মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমিত হয়েছেন ২ কোটি ২৯ লাখ ৭৫ হাজার ৭২৩ জন এবং এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৭ জনের।

আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ১ কোটি ৫১ লাখ ৪৭ হাজার ১২০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৯ জন।

পঞ্চম স্থানে থাকা ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৫ জন। মারা গেছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৬৯ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২২৪টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে কোভিড-১৯।


সারাদেশে টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজারের বদলে মডার্নার টিকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শুধুমাত্র স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ এবং যারা প্রথম ডোজ ফাইজার পেয়েছিলেন, তাদের জন্য দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে ফাইজারের টিকা সংরক্ষণ করতে হবে।

বুধবার সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, সিটি কলেজের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সরকারি জেনারেল হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা এবং সব পৌরসভার মেডিকেল অফিসারদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএএইচের লাইন ডিরেক্টর ও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. শামসুল হকের পাঠানো ওই নির্দেশনায় বলা হয়, “কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে দেশের সকল পর্যায়ে ভ্যাকসিনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে তৃতীয় ডোজ হিসেবে ফাইজারের পরিবর্তে মডার্নার কোভিড-১৯ টিকা প্রদানের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হল।

“এক্ষেত্রে ফাইজার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন শুধুমাত্র স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের (১২-১৭ পূর্ণ বছর বয়সী) উভয় ডোজ এবং যারা প্রথম ডোজ হিসেবে ফাইজার ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন তাদের জন্য দ্বিতীয় ডোজ সংরক্ষণের বিষয়ে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।”

গত ২৮ ডিসেম্বর সারাদেশে করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং যারা কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে আছেন, তাদের করোনাভাইরাসের টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া হচ্ছে। টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ছয় মাস পরে তারা বুস্টার ডোজ বা তৃতীয় ডোজ নিতে পারবেন।

যে আগে যে হাসপাতাল থেকে দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন, সেই হাসপাতাল থেকে তার মোবাইলে বুস্টার ডোজের তারিখ জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। সেই কেন্দ্রে নির্ধারিত দিনে গিয়ে তৃতীয় ডোজ নিতে হচ্ছে। 

দেশে এখন প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে ফাইজার, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সিনোফার্ম এবং সিনোভ্যাকের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে বুস্টার ডোজ হিসেবে ফাইজার, মডার্না অথবা অ্যাস্ট্রাজেনেকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল কমিটি-নাইট্যাগ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৫২৬ জনকে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৬২ জন পেয়েছেন ফাইজারের টিকা।

এছাড়া ২ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩০ জন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং ২২ হাজার ৭৩৪ জন মডার্নার টিকা পেয়েছেন বুস্টার ডোজ হিসেবে।


করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ভাবছে না সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হচ্ছে না। যেভাবে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলো চলছিল, ঠিক সেভাবেই চলবে।’

সোমবার করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এখন শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ টিকা নিয়েছে এবং চলতি মাসের মধ্যে অন্তত এক ডোজ টিকার আওতায় সবাই চলে আসবে। সেই পরিস্থিতিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করব না।’

শিক্ষামন্ত্রী তথ্য দেন, দেশে মোট শিক্ষার্থীর ৪৪ লাখকে করোনার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই সব শিক্ষার্থীর টিকার প্রথম ডোজ সম্পন্ন করব। টিকা নিতে না পারা শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবে না। তারা বাসায় অনলাইনে ও টিভিতে ক্লাস করবে আর অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেবে। যাদের টিকা নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে, তারাই ক্লাসে আসবে। 

 

করোনাকালে এর আগে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সময় আমাদের সংক্রমণের হার ৭ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। নতুন করে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এখন আবার সেটি ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে তখনকার তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক ভালো। কারণ তখন কোনো শিক্ষার্থী টিকা নেয়নি। আমরা এখন যতটুকু মনিটরিং করতে পারছি, তাতে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কাজ চলছে। সেটিকে আরও বেশি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। এর আগে শুধু স্কুলগুলোতে মনিটরিং করা হতো। এখন বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাকি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবুবকর ছিদ্দীক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক প্রমুখ।


করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরক্ষিত রেখে সংক্রমণ কীভাবে এড়াতে পারি। যারা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে বা হয়ে যাচ্ছে, তারা গুজব ছড়াচ্ছেন। সব সময়ই এমন গুজব ছড়ানো হয়। আপনারা গুজবে কান দেবেন না।

আজ রবিবার (৯ জানুয়ারি) সাভারের আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নবম সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এসময় করোনা পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে আজ বিকেলে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠক রয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আজ কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে আমাদের মিটিং রয়েছে। শিক্ষার্থীদের করোনার টিকাদান কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে। সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে এসে কিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যায়, সে চেষ্টাই করছি আমরা। তবে, এটাও ঠিক, যদি মনে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখলে সংক্রমণ বাড়বে, তখন আমরা বন্ধ করে দেবো হয়তো।

শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাক এই আশা ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতেই হয়, তখন আমরা ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করে দেবো। কিন্তু যতক্ষণ সে প্রয়োজন অনুভব না হবে, আমরা বন্ধ করব না। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাক।



করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেশে ফের বাড়তে শুরু করেছে।উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রমণ। 
এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রোববার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

শনিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ কথা জানিয়েছেন।

করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমাদের মন্ত্রণালয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ আছে। আগামীকাল (রোববার) কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটির সঙ্গে বৈঠক আছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা ছিল, মার্চে গিয়ে সংক্রমণ বাড়বে। কিন্তু এখন জানুয়ারির গোড়ায় বাড়তে শুরু করেছে। কাজেই যে পরিকল্পনা, তাতে কিছুটা সমন্বয়ের দরকার হবে। কিন্তু আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাই না বরং আমরা চাই প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন করোনার টিকা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে। সেটিরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

‘হয়ত একটু অসুবিধা হতে পারে, তাদের জন্য, যারা ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী। সেসব বিষয় নিয়েও আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget