Articles by "স্বাস্থ্য"

 



মাঙ্কিপক্স কী?

মাঙ্কিপক্স একটি ভাইরাস যা ইঁদুর এবং বানর গোত্রীয় বন্য প্রাণীর মধ্যে দেখা যায় এবং মাঝে মাঝে মানুষের দেহেও এর সংক্রমণ ঘটে। বেশিরভাগই মধ্য এবং পশ্চিম আফ্রিকার মানুষের ক্ষেত্রে এই রোগটি দেখা গিয়েছে। ১৯৫৮ সালে গবেষণার জন্য রাখা বানরদের মধ্যে গুটিবসন্তের মতো রোগের দু’টি প্রাদুর্ভাব ঘটলে বিজ্ঞানীরা এই রোগটি প্রথম শনাক্ত করেন। এই কারণেই ভাইরসাটির নাম মাঙ্কিপক্স। প্রথম মানব সংক্রমণ ঘটে ১৯৭০ সালে কঙ্গোর প্রত্যন্ত অংশে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর দেহে।

বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ শেষ না হতেই আরেক সংক্রামক ভাইরাস মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মাঙ্কিপক্স একটি ‘একেবারে বিরল ও স্বল্প পরিচিত’ রোগ, যা মাঙ্কিপক্স প্রজাতির ভাইরাসের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ইঁদুর ও কাঠবিড়ালির মতো প্রাণীর মাধ্যমে সাধারণত এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তা ছাড়া মানুষ থেকে মানুষেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। গবেষণা বলছে, মাঙ্কিপক্স ভাইরাসটি বায়ুবাহিত এবং প্রায় চার দিন পর্যন্ত বাতাসে টিকে থাকতে পারে। এর অর্থ এই সময়কালে এটি সংক্রামকও হতে পারে।

৭ মে প্রথম একজন ইউরোপীয় নাগরিকের দেহে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার উষ্ণ ও আর্দ্র বনাঞ্চলের বানররা ছিল এ রোগের প্রথম শিকার। এরপর একসময় মানবদেহেও সংক্রমণ ঘটায় এই ভাইরাসটি। সাধারণত হালকা ভাইরাল সংক্রমণের জন্য দায়ী এই ভাইরাস। ভাইরাসটি গুটিবসন্তের মতো ভাইরাল প্রজাতির সদস্য। এই প্রজাতির মধ্যে রয়েছে ভেরিওলা ভাইরাস, ভ্যাক্সিনিয়া ভাইরাস ও কাউপক্স ভাইরাস


করোনাভাইরাসের পর নতুন আতঙ্ক হিসেবে বিশ্ববাসীর সামনে হাজির হয়েছে মাঙ্কিপক্স।

 বৃটেন সহ ইউরোপের অনেক দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইসরাইলে দেখা দিয়েছে এই পক্স বা বসন্ত। মাঙ্কিপক্স ভাইরাস দ্বারা এই রোগের সৃষ্টি হয়। জলবসন্ত সৃষ্টি করে যে ভাইরাস, সেই একই পরিবারের সদস্য এই ভাইরাস। তবে এর ভয়াবহতা অনেকটা কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঙ্কিপক্ষে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কম। সাধারণত এই রোগ দেখা দেয় রেইনফরেস্ট এলাকার কাছে মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এই ভাইরাসের দুটি স্ট্রেইন আছে। তাহলো পশ্চিম আফ্রিকান এবং মধ্য আফ্রিকান। প্রথমেই এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ফুলে যেতে পারে, ব্যাকপেইন, মাংসপেশীর ব্যথা, নিঃরস ভাব।



ইতিমধ্যে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সর্বশেষ মধ্যপ্রাচ্যেও এই রোগটি শনাক্ত হয়েছে। আফ্রিকার বাইরে ‘মাঙ্কিপক্সের’ এই অস্বাভাবিক বিস্তার বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্রমতে, এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১১৫ জনের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে বা সন্দেহভাজন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, ইতালি, স্পেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশও রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দেশে শিগগিরই এই ভাইরাস ছড়াতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে সতর্ক করা হচ্ছে। এই সংস্থাটি ইতিমধ্যে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন আক্রান্ত দেশসহ অন্যান্য দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা শুরু করেছে। জীবনঘাতী এই ভাইরাসের শনাক্তকরণ, নজরদারি ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতার জন্য কাজ করছে এই সংস্থাটি।


আরো পড়ুন:


 করোনায় তিনজনের মৃত্যু শনাক্ত ৩২৭

327 deaths were identified in Corona


করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ হাজার ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে।


একই সময় নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩২৭ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৯ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৮ জনে। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৯১ শতাংশ।


বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আরো পড়ুন: সন্তানের সামনে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় আদালতে মামলা

এর আগের ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) একজনের মৃত্যু এবং ৩২৩ জন নতুন রোগী শনাক্তের তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে দৈনিক শনাক্তের হার ছিল ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের ৮৭৮টি ল্যাবরেটরিতে ১৭ হাজার ৯৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ১৭ হাজার ১০৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট এক কোটি ৩৬ লাখ ৩৮৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।


এদিকে, একদিনে আলোচ্য সময়ে করোনা থেকে সেরে উঠেছেন দুই হাজার ৪৭৯ জন। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ২৪৯ জন।

আরো পড়ুন: যা থাকছে নিপুণের ওয়েব সিরিজ ‘সাবরিনা’য় (ভিডিও)

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত তিনজনই পুরুষ। তাদের দুজন ঢাকা বিভাগের ও একজন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। তিনজনই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।


২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।


আরো পড়ুন:


২৪ ঘণ্টায় টিকা নিলেন ৬ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৬ জন

6 lakh 80 thousand 336 people were vaccinated in 24 hours


 দেশে এক কোটি মানুষকে করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হচ্ছে আজ (শনিবার)। টিকা পেতে কোনো ধরনের নিবন্ধন কিংবা কাগজপত্রের প্রয়োজন হচ্ছে না। 

তবে এই কর্মসূচি বৃদ্ধি করা হবে কিনা তা সন্ধ্যায় জানা যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব লোকমান হোসেন মিয়া।


শনিবার সকালে টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা জানান। 

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, শেষ মুহূর্তে বিপুলসংখ্যক মানুষকে টিকাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে দেখা যাচ্ছে। প্রথম ডোজের জন্য এক কোটি টিকা দেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি দেওয়া হবে আজ। বিরতিহীনভাবে আজ চলবে এই টিকা কার্যক্রম।


তিনি বলেন, প্রচুর মানুষ টিকা নিতে এসেছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে। তবে আমাদের আশঙ্কা, আজ অনেকেই টিকা দিতে পারবে না।

আরো পড়ুন: পুতিনের বেপরোয়া পদক্ষেপ ইউরোপকে সরাসরি হুমকি দিচ্ছে


সে ক্ষেত্রে সময় বাড়ানো হবে কিনা গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো টিকা দেওয়া। আমরা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত কার্যক্রম দেখি, তারপর যদি প্রয়োজন হয় আমরা সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করব।


জানা গেছে, দেশের ২৮ হাজার বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে আজ। এসব বুথে টিকা দেওয়ার কাজে নিযুক্ত আছেন স্থাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাসহ মোট এক লাখ ৪২ হাজার জন। 


দেশের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে নির্ধারিত টিকাকেন্দ্রের বাইরেও পাঁচটি করে ভ্রাম্যমাণ দল রয়েছে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রতিটি অঞ্চলে ৩০ থেকে ৫০টি করে বুথে টিকা দেওয়া হচ্ছে। 

আরো পড়ুন: Russia Ukrain: বাংলাদেশি জাহাজে হামলার জন্য ইউক্রেনকে দুষছে রাশিয়া

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে করোনার গণটিকাদান শুরু হয় ২০২১ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি। করোনাভাইরাসের টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন ১০ কোটি ৯ লাখ ১১ হাজারের বেশি মানুষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের মতো।


তাদের মধ্যে সাত কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ দ্বিতীয় ডোজ এবং ২৬ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি মানুষ তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।


এর মধ্যে গতবছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে ৭৬ লাখ ডোজের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছিল একদিনে।  


আরো পড়ুন:

 করোনায় আরও ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪৪৬ 


7 more died in Corona, 446 identified


গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৯৬ জনের।

একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৪৪৬ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৪৮ হাজার ১৪৮ জন।

মঙ্গলবার (০৮ মার্চ) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৬২ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৯৪৬ জন। সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৭৮টি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২০ হাজার ১৫৪টি এবং নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৯ হাজার ৯৬৪ নয়টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক কোটি ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯১৪টি।


এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার দুই দশমিক ২৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।


আরো পড়ুন: ইউক্রেনে নাজুক অবস্থায় পড়ে গেছি: প্রতিমন্ত্রী


বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় মৃত সাতজনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ এবং দু’জন নারী রয়েছেন। মৃত সাতজনের ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে একজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে তিনজন রয়েছেন।  

     

এতে আরও বলা হয়, মৃত সাতজনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ছয়জন, সিলেট বিভাগের একজন মারা গেছেন। এদের মধ্যে ছয়জন সরকারি হাসপাতালে এবং একজন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান।


এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৭৬ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৪৬ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন চার লাখ ৪২ হাজার ৫৪১ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন চার লাখ তিন হাজার ৮৩০ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৩৮ হাজার ৭১১ জন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে।


আরো পড়ুন:

 প্রতারণা করেছেন জায়েদ খান: ইলিয়াস কাঞ্চন


Cheated by Zayed Khan: Ilyas Kanchan


সেক্রেটারি পদে জায়েদ খানের শপথ গ্রহণ অবৈধ ঘোষণা করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন। পাশাপাশি গত শুক্রবারের শিল্পী সমিতির প্রথম মিটিংও বাতিল ঘোষণা করেছেন সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন। তাঁর দাবি, জায়েদ খান আদালতের অন্য রায়ের ‘পুরোনো কাগজ’ দেখিয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন। সেটি রীতিমতো প্রতারণার শামিল।


সোমবার সন্ধ্যায় এফডিসির বাগানে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। জায়েদ খানের শপথ গ্রহণ অবৈধ ঘোষণা করেন সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘৯ ফেব্রুয়ারির অন্য রায়ের কোর্টের একটি কাগজ দেখিয়ে শপথ নেন জায়েদ খান। নতুন কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি৷ তড়িঘড়ি করে শুক্রবার শপথ নিয়েছেন। তিনি শিল্পী সমিতির সঙ্গে, সভাপতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। একই সঙ্গে মিডিয়ার সঙ্গেও ছলনা করেছেন। তাঁর শপথ গ্রহণ আমি অবৈধ ঘোষণা করলাম।’

তিনি বলেন, যেহেতু শপথ অবৈধ, তাই গত মিটিংয়ে জায়েদ খানের উপস্থিতিও অবৈধ। এ কারণে মিটিংয়ের কোরামও পূর্ণ না হওয়াতে শুক্রবারের মিটিংও বাতিল করা হলো।


এদিকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সেক্রেটারি অনুপস্থিত থাকলে তাঁর দায়িত্ব পালন করেন সহসেক্রেটারি। যেহেতু শিল্পী সমিতিতে আপাতত সেক্রেটারি কেউ নন, তাই আপাতত সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করবেন সহসাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী নায়ক সাইমন। 


ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, পরে মিটিং ডেকে বাকি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সাইমনের সেক্রেটারি হওয়ার বিষয়টি পাস করা হবে। যত দিন জায়েদ-নিপুণের সেক্রেটারি পদ আদালত থেকে প্রক্রিয়াধীন থাকবে, আগামী মিটিংয়ের পর থেকে তত দিন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাইমন সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করবেন।

এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জায়েদ খান। তিনি বলেন, ‘আমি কোনোভাবেই প্রতারণার আশ্রয় নিইনি। নিয়ম অনুযায়ী রায় পাওয়ার পরে যে কেউ তাঁর আইনজীবীর কাছ থেকে ল ইয়ার সার্টিফিকেট নিতে পারেন। আদালতের রায় হয়ে গেছে সবাই জানেন। আমি ল ইয়ার সার্টিফিকেটও জোগাড় করেছি। এটা বৈধ।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমি যদি ভুয়া কাগজ জোগাড় করে শপথ নিই, তাহলে নিপুণ কি ভুয়া কাগজ দেখিয়ে আপিল করলেন? রায় হয়েছে বলেই তো সেটার প্রমাণ দেখিয়ে আপিল করেছেন তিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতে আমাদের শিল্পী সমিতির জন্য শপথ জরুরি না; বরং সেদিন আমাদের সভা বৈধ। সেখানে কোরাম পূর্ণ হয়েছিল।’


এদিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খোরশেদ আলম, সাইমন সাদিক প্রমুখ।


আরো পড়ুন:


শনাক্তের হার কমে দুইয়ের কাছে, মৃত্যু ৪

The detection rate decreased to two, death 4



দেশে গত এক দিনে মহামারি করোনাভাইসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৪৩৬ জন। এতে শনাক্তের হার নেমেছে এসেছে দুইয়ের কাছাকাছি। গত এক দিনে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২.১৮ শতাংশ। রবিবার ছিল ২.৬৩ শতাংশ ও শনিবার ছিল ২.৯১ শতাংশ।

এ দিকে গত এক দিনে করোনাভাইরাসে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৫৪৬ জন।

সোমবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত এক দিনে ২০ হাজার ১৩২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৯ লাখ ৪৭ হাজার ৭০২ জন। মোট শনাক্তের হার ১৪.৩৮ শতাংশ।

গত এক দিনে মারা যাওয়া ৪ জনের মধ্যে ১ জন পুরুষ এবং ৩ জন নারী। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৮৯ জনে গিয়ে দাঁড়ালো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, নতুন সুস্থ হওয়া ৩ হাজার ৫৪৬ জনকে নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৮৮৪ জন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। গত বছরের ২০ নভেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো এবং ৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো করোনায় মৃত্যুহীন দিন দেখে বাংলাদেশ। এছাড়া বাকি সব দিনই মৃত্যু দেখেছে বাংলাদেশ।

 করোনায় মৃত্যু বেড়ে দ্বিগুণ, শনাক্ত কমে ৩৬৮


Deaths in Corona doubled, detection decreased to 368


রাজধানীসহ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭ জন ও নারী ৬ জন। মৃত ১৩ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ১ জন মারা যান।


এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৭৭ জনে। মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

আজ শনিবার (৫ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।


একই সময়ে করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষায় নতুন ৩৬৮ জন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২ দশমিক শূন্য ১১ শতাংশ।


 সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি ৮৭৬টি ল্যাবরেটরিতে ১৭ হাজার ৪১৪টি নমুনা সংগ্রহ ও ১৭ হাজার ৪৬৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৭ জনে। আর মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৬ হাজার ৮০৯টি।


২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত ও ১৮ মার্চ করোনা আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়। ৫ মার্চ পর্যন্ত মোট মৃত ২৯ হাজার ৭৭ জনের মধ্যে পুরুষ ১৮ হাজার ৫৬০ জন ও নারী ১০ হাজার ৫১৭ জন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ থেকে চলতি বছরের ৫ মার্চ পর্যন্ত নতুন রোগী শনাক্তের হার ১৪ দশমিক শূন্য ৪১ শতাংশ।


গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে ৪ হাজার ১৮ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৮ জনে। রোগী সুুস্থতার হার ৯৪ দশমিক ৫২ শতাংশ।


২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ১৩ জনের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ১ জন, পঞ্চাশোর্ধ ৫ জন, ষাটোর্ধ্ব ৩ জন, সত্তরোর্ধ্ব ২ জন এবং আশি বছরের বেশি বয়সী ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।


বিভাগীয় হিসেবে করোনায় মৃত ১৩ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮ জন, চট্টগ্রামে ১ জন, বরিশালে ২ জন, রংপুর এবং ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছেন।


চলমান গণটিকায় গত ১৩ দিনে দুই কোটি ৩২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই করোনা টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে। একই সময়ে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে এক কোটি সাত লাখ মানুষকে। এ ছাড়া ১০ লাখ মানুষ বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছে।

সেই হিসাবে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত মোট তিন কোটি ৪৯ লাখ মানুষকে করোনা টিকা দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানানও হয়।


বুলেটিনে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. শামসুল হক এ সব তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এসব টিকা দেওয়া হয়। ক্যাম্পেইনের সময় বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনার বিষয়টি নজর দেওয়া হয়। ’

তিনি জানান, দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় এসেছে ১২ কোটি ৪৭ লাখ মানুষ।


দেশে গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।


গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৫ জনের। এ সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৩২ জন। ফলে মোট করোনায় আক্রান্তের হয়েছে ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ৩০৯ জন।

আজ বুধবার (২ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শনাক্তের হার ৩ দশমিক ২২ শতাংশ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।


এর আগে গতকাল মঙ্গলবার করোনাভাইরাসে ৮ জনের মৃত্যু হয়। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ৭৯৯ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৮২৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৯৪৯ জন। এ সময়ে ২২ হাজার ৭২৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ২২ হাজার ৭১৬টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ দশমিক ২২ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ।


গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৩, রাজশাহীতে ১, বরিশালে ২ ও রংপুরে ২ জন মারা গেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।


যারা এখনো করোনা টিকার প্রথম ডোজ নেননি, তারা দেশের স্থায়ী টিকা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুধবার (২ মার্চ) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএএইচ ইউনিটের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক এ কথা জানান। 


তিনি বলেন, যারা এখনও টিকার প্রথম ডোজ নেননি, তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল বা এনজিও পরিচালিত হাসপাতাল, যেখানে টিকাদান কার্যক্রম চলছে, সেখানে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনে টিকাদান কর্মসূচি বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে বলে জানান ডা. মো. শামসুল হক। 

তিনি বলেন, এছাড়া, দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ কর্মসূচি যথারীতি চলবে।


দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯৯৫ জনে। এ সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ২৯৮ জনের। ফলে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৫ জনে।

আজ বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শনাক্তের হার ৫.৫৮ শতাংশ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


এর আগে গতকাল মঙ্গলবার করোনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়। করোনা শনাক্ত হয় এক হাজার ৫৯৫ জনের। শনাক্তের হার ছিল ৬.৭৭ শতাংশ।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে আট হাজার ৭২ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৭ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় ২৩ হাজার ৯২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ২৩ হাজার ২৭৪টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫.৫৮ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪.৫৯ শতাংশ।



করোনা মহামারির কারণে মানুষের চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ প্রায় দেড় মাস পর মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) থেকে তুলে নিচ্ছে সরকার। এ দিন থেকেই মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে।

তবে যে শিক্ষার্থীরা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে তারাই কেবল শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে পারবে।


বিধিনিষেধ তুলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও করোনা সংক্রমণ রোধে ঘরের বাইরে গেলে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরতে গুরুত্বারোপ করা হবে।


চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ১১ দফা দিয়ে ১৩ জানুয়ারি থেকে সরকারি বিধিনিষেধ শুরু হয়। সেই বিধিনিষেধ বাড়ানো হয় ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

বিধিনিষেধগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল-হোটেল-রেস্তোরাঁয় টিকা সনদ নিয়ে খাবার গ্রহণ, গণপরিবহনের চালক-সহকারীদের টিকা সনদ প্রদর্শন, সভা-সমাবেশ বন্ধ ইত্যাদি।


আর সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় ২১ জানুয়ারি থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।


টানা এক মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) খুলছে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলবে ২ মার্চ। কিন্তু প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এখনই খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুয়ার।

চলমান বিধিনিষেধ তোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাস্ক সর্বাবস্থায় পরতে নির্দেশনা দেন।


বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, স্কুল (মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়) খোলা হবে। সবাই যেন মাস্ক পরে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে যাবে, যে অনুষ্ঠানে যাবে সবাই যেন মাস্ক পরে, এটা বার বার অনুরোধ করা হয়েছে। কেবিনেট মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, সবাইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমরা যেন আয়েসী না হই।


এদিকে, মধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল-কলেজ খোলার আগে ২০ দফা নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।



নির্দেশনাসমূহ:

১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যে সকল শিক্ষার্থী কোভিড-১৯ টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছে সে সকল শিক্ষার্থী সশরীরে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখসহ অন্যান্য স্থানে কোডিড-১৯ অতিমারি সম্পর্কিত সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে করণীয় বিষয়সমূহ ব্যানার বা অন্য কোন উপায়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা।

৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে সকল শিক্ষক-কর্মচারী-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা ও তা পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা করা।

৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনায় অনলাইন ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফরমে শিখন-শেখানো কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

৫. শিক্ষার্থীদের জন্য বিতরণকৃত অ্যাসাইনমেন্টসমূহের কার্যক্রম যথারীতি অব্যাহত থাকবে।

৬. শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুটিন ইতোপূর্বে পাঠানো নির্দেশনা মোতাবেক প্রণয়ন করতে হবে।

৭. শিক্ষার্থীদের ভিড় এড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের সবগুলো প্রবেশ/প্রস্থান মুখ ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা। যদি কেবল একটি প্রবেশ/প্রস্থান মুখ থাকে সেক্ষেত্রে একাধিক প্রবেশ/প্রস্থান মুখের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা।

৮. প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শ্রেণি কার্যক্রমে স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা করা।

৯. প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবে এবং বাসা থেকে যাওয়া আসা করবে সেই বিষয়ে তাদেরকে শিক্ষণীয় ও উদ্বুদ্ধকারী ব্রিফিং প্রদান করার ব্যবস্থা করা।

১০. প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে প্রস্তুত রাখা।

১১. প্রতিষ্ঠানের সকল ভবনের কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ এবং আঙ্গিনা যথাযথভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করা।

১২. প্রতিষ্ঠানের সকল ওয়াশরুম নিয়মিত সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা।

১৩. প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, অভিভাবকসহ অন্য কেউ প্রবেশ/অবস্থান/প্রস্থানের সময় সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করা।

১৪. প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী এবং অন্য কেউ সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান করার বিষয়টি নিশ্চিত করা।

১৫. প্রতিষ্ঠানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা।

১৬. শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা। এক্ষেত্রে পারস্পরিক তিন ফুট শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করা।

১৭. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান যথাযথভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা এবং কোথাও পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা।

১৮. প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা নিরুপণ করা।

১৯. প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দঘন শিখন কার্যক্রমের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত করা।

২০. প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের সাথে সভা করে এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বিতরণ।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন, বন্ধের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেভাবে সংক্ষিপ্ত ক্লাল চলছিল, সেভাবেই শুরু হবে।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget