Latest Post


ঘূর্ণিঝড় ‌‘জাওয়াদ’ এর প্রভাবে দেশের অনেক জায়গায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ ‍বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘণীভূত হয়ে ৩ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় একই এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’-এ পরিণত হয়েছিল। এরপর এটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ ৪ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‌‘জাওয়াদ’ এর প্রভাবে শনিবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বরিশাল ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সারাদিন মেঘলা রয়েছে আকাশ। তবে কোথাও কোথাও সূর্যের দেখা মিলেছে কিছু সময়ের জন্য।

আবাহাওয়াবিদরা বলছেন, এবারের নিম্নচাপের কারণে এই বৃষ্টির পর রাতের তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি কমতে পারে। অর্থাৎ রাতে শীত বাড়বে। কিন্তু দিনের তাপমাত্রা কমার লক্ষণ নেই। ১৫ ডিসেম্বরের পর শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে। 


বছরের শেষ সূর্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে শুরু হয় এই সূর্যগ্রহণ, যা চলবে দুপুর ৩টা ৭ মিনিট।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যমতে, অ্যান্টার্কটিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে স্পষ্ট দেখা গেছে এই চন্দ্রগ্রহণ। তবে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে এ গ্রহণ দেখা যাবে না।

সূর্যগ্রহণকে এমনিতেই জ্যোতিষমতে অশুভ বলে মনে করা হয়। তাই এ সময় কিছু নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।

সতর্কতা

  • সূর্যগ্রহণ দেখার সময় যথাযথ চোখের সুরক্ষা নিতে হবে। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকালে তাতে চোখের ক্ষতি করতে পারে
  • গ্রহণ দেখার জন্য লেন্সে একটি বিশেষ সৌর ফিল্টার প্রয়োজন 
  • সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়। পানিতে সূর্যের প্রতিফলনের দিকে তাকাবেন না 
  • গ্রহণ দেখার জন্য সাধারণ সানগ্লাস ব্যবহার করবেন না।


পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরো উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে একই এলাকায় (১৪.৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) ঘূর্ণিঝড় 'জাওয়াদ' এ পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এটি আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১১০৫ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৫৫ কিমি দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯৫ কিমি দক্ষি-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৯০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, এটি আগামীকাল নাগাদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশ্যা উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি শেষ পর্যন্ত ওড়িশ্যা উপকূলে আঘাত করলে এর প্রভাবে বাংলাদেশের খুলনাসহ কিছু এলাকায় ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিপাত হতে পারে। এখন যে অবস্থায় আছে তাতে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কিছু দেখছি না। কিন্তু আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত মন্তব্য করা কঠিন। তাই আমরা সতর্কভাবেই পর্যবেক্ষণ করছি।' 

তবে ভারতীয় উপকূলে আঘাত করলেও বাংলাদেশে এর প্রভাবে অন্তত দু'দিন বৃষ্টিপাত কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে, ঘূর্নিঝড় জাওয়াদ নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে এটির নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ায় আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবহাওয়া দপ্তর সাইক্লোনের জন্য সতর্ক সংকেতও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এখন দুই নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্য বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিশাখাপত্তম থেকে ৭৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে নিম্নচাপটির সৃষ্টি হয়, যা এখন উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছে।

এটি আরও পরের দিকে ঘনীভূত হয়ে শুক্রবার সকাল নাগাদ বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমে এসে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। এরপর এটি শেষপর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।



কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মো. সোহেল ও তাঁর সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম (২৮) বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে কুমিল্লার গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ–সংলগ্ন চানপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শাহ আলমের বাড়ি নগরের সুজানগর বউবাজার এলাকায়। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহান সরকার প্রধান আসামি শাহ আলম নিহত হওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন।

শাহ আলমের নামে হত্যা, অস্ত্র–মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ নানা অভিযোগে অন্তত ছয়টি মামলা আছে।

এর আগে গত সোমবার রাতে কুমিল্লার গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ–সংলগ্ন সংরাইশ বালুমহাল এলাকায় একই মামলার আরও দুই আসামি মো. সাব্বির হোসেন (২৮) ও সাজন (৩২) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। সাব্বির ছিলেন হত্যা মামলার ৩ নম্বর ও সাজন ৫ নম্বর আসামি। নিহত মো. সাব্বির হোসেনের বাড়ি নগরের সুজানগর পানির ট্যাংকি এলাকায়। তিনি ওই এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে। সাজনের বাড়ি নগরের সংরাইশ রহিম ডাক্তারের গলির ভেতরে। তিনি ওই এলাকার কাঁকন মিয়া ওরফে চোরা কাঁকনের ছেলে।

পুলিশের ভাষ্য, গতকাল রাত ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে তারা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, কয়েকজন দুষ্কৃতকারী গোমতী নদীর চানপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় অবস্থান করছে। খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক একটার পরে পুলিশ সদস্যরা বেড়িবাঁধের কাছে পৌঁছান। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে দুষ্কৃতকারীরা। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলির একপর্যায়ে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তির হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি কাউন্সিলর সোহেল ও সহযোগী হরিপদ সাহা হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহ আলম। গোলাগুলিতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। তাঁদের কুমিল্লা পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 


নয় বছর আগে শবেবরাতের রাতে সাভারের আমিনবাজারে ছয় ছাত্রকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আরো ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইসমত জাহান এ রায় ঘোষণা করেন। মোট ৫৭ জন আসামির মধ্যে ৩২ জনকে কারাদণ্ড দিলেন আদালত। বাকি আসামি খালাস পেয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আব্দুল মালেক, সাঈদ মেম্বার, আব্দুর রশিদ, ইসমাইল হোসেন রেপু, জমছের আলী, মীর হোসেন, মজিবুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, রজ্জব আলী, আলম, মোহাম্মদ রানা, আব্দুল হানিফ, আসলাম মিয়া। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহিন আহমেদ, ফরিদ খান, রাজিব হোসেন, ওয়াসিম, সাফফার, সেলিম, মনির, আলমগীর, মোবারক হোসেন, অখিল খন্দকার, বসির, রুবেল, নুর ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, টুটুল, মাসুদ, মোখলেস, তোটুল ও সাইফুল।

গত ২২ নভেম্বর ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইসমত জাহান রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় দেওয়া হলো।

২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবেবরাতের রাতে আমিনবাজারের বড়দেশি গ্রামের কেবলার চরে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন ধানমণ্ডির ম্যাপললিফ স্কুলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শাম্মাম, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল, বাঙলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশ, তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান, মিরপুরের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবীর মুনিব এবং বাঙলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান।


নিরাপদ সড়কের দাবিতে রামপুরায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন করে ১১ দফা দাবি তুলে ধরেছেন।


আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রামপুরায় অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা এই দাবি তুলে ধরেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবি গুলো হল-

১. সড়কে নির্মম হত্যার শিকার নাঈম ও মাঈনউদ্দিনের হত্যার বিচার করতে হবে। তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গুলিস্তান ও রামপুরা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পথচারী পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে।

২. সারা দেশে সকল গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ পাস সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। হাফ পাসের জন্য কোনো সময় বা দিন নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে না। বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। সকল রুটে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।

৩. গণপরিবহনে ছাত্র-ছাত্রী এবং নারীদের অবাধ যাত্রা ও সৌজন্যমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. ফিটনেস ও লাইসেন্স বিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্স বিহীন চালককে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএ'র দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. সকল রাস্তায় ট্রাফিক লাইট, জেব্রা ক্রসিং নিশ্চিত করাসহ জনবহুল রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ এর সংখ্যা বাড়াতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. বাসগুলোর মধ্যে বেপরোয়া প্রতিযোগিতা বন্ধে এক রুটে এক বাস এবং দৈনিক আয় সকল পরিবহন মালিকের মধ্যে তাদের অংশ অনুয়ায়ী সমান ভাবে বণ্টন করার নিয়ম চালু করতে হবে।

৭. শ্রমিকদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র নিশ্চিত করতে হবে। চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করতে হবে। চুক্তি ভিত্তিতে বাস দেওয়ার বদলে টিকিট ও কাউন্টারের ভিত্তিতে গোটা পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামাগার ও টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. গাড়ি চালকের কর্মঘণ্টা একনাগাড়ে ৬ ঘণ্টার বেশি হওয়া যাবে না। প্রতিটি বাসে দুইজন চালক ও দুইজন সহকারী রাখতে হবে। পর্যাপ্ত বাস টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। পরিবহন শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৯. যাত্রী-পরিবহন শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে সড়ক পরিবহন আইন সংস্কার করতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

১০. ট্রাক, ময়লার গাড়ি সহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত করে দিতে হবে।

১১. মাদকাসক্ত নিরসনে গোটা সমাজ জুড়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চালক-সহকারীদের জন্য নিয়মিত ডোপ টেস্টের ও কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।


গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা আজ থেকে কার্যকর হবে। সকাল ৭টা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া দেওয়া যাবে। তবে ছুটির দিনে শিক্ষার্থীদেরও পূর্ণ ভাড়াই দিতে হবে। আবার ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিদিনই পূর্ণ ভাড়া আদায় করবে বলে জানিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।

খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ১২০টি পরিবহন কোম্পানির চেয়ারম্যান ও এমডি এবং সব শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আলোচনার পর ছাত্রদের বাসে হাফ ভাড়া কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। তবে হাফ ভাড়া প্রদানের সময় নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ছুটির দিন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌসুমি ছুটি এবং অন্যান্য ছুটির সময় শিক্ষর্থীদের হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না। এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ঢাকা মেট্রো এলাকায় কার্যকর থাকবে। কোনোভাবে ঢাকার বাইরে কার্যকর হবে না।

চট্টগ্রাম বা অন্যান্য শহরে কেন হাফ ভাড়া নেওয়া হবে না এমন প্রশ্নে এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, হাফ ভাড়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু ঢাকা শহরের জন্য কার্যকর হবে। অন্যান্য শহরের জন্য নয়। কারণ এই দাবি শুধু ঢাকার শিক্ষার্থীদের ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সাদেকুর রহমান হিরু, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আজমল আহমেদ সবুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 


ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্ত শনাক্ত:

উত্তর আফ্রিকার একটি দেশ থেকে আসা এক যাত্রীর দেহে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত করার কথা ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। এটি দেশটিতে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত শনাক্তের প্রথম ঘটনা। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এখবর জানিয়েছে।

 সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার সংস্পর্শে আসা মানুষদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় দেশটির মানুষকে টিকা নেওয়া সম্পূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সব ভ্রমণকারীদের সেলফ-আইসোলেশন ও পরীক্ষা নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, অনেক বেশি মিউটেট হওয়া ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এতে সংক্রমন বৃদ্ধির হুমকি রয়েছে। অনেক জায়গায় গুরুতর পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

২৪ নভেম্বর আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই অঞ্চলে দ্রুত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এরপর থেকে এক ডজনের বেশি দেশে ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছে। অনেক দেশই আফ্রিকার ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে। 


 করোনাভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকান ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় অধিকতর সতর্কতার অংশ হিসেবে ১৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

রবিবার (২৮নভেম্বর) অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ ও লাইন পরিচালক মো. নাজমুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়

ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অন্যান্য দেশে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন (বি.১.১৫২৯) এর সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

চিঠিতে নির্দেশনাগুলোকে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপারে সব দেশকে সতর্ক করেছে। যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশ এরমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি ও লেসোথোর সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ করেছে।



স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা ১৫ দফা নির্দেশনা হলো—

১. দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, লেসোথোসহ যেসব দেশে ওমিক্রনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, সেসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে।

২. সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে।

৩. প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে গেলে প্রত্যেককে বাড়ির বাইরে সব সময় সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম আসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. সকল প্রকার জনসমাবেশ, পর্যটন স্থান, বিনোদনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল/থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে (বিয়ে, বৌভাত, জন্মদিন, পিকনিক পার্টি ইত্যাদি) ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে।

৬. মসজিদসহ সকল উপাসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

৮. যেসব দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, সেসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।

৯. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ মাদ্রাসা, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোচিং সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

১০. সকল স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে সেবাগ্রহীতা, সেবা প্রদানকারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঠিকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।


১১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

১২. কোভিড উপসর্গ/লক্ষণযুক্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত করোনা রোগীর আইসোলেশন ও কোভিড পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে আসা অন্যান্যদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।

১৩. কোভিড-১৯ এর লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা এবং তার নমুনা পরীক্ষার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা করা যেতে পারে।

১৪. অফিসে প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন সময়ে বাধ্যতামূলকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

১৫. কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস করতে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতা তৈরির জন্য কমিউনিটি পর্যায়ে মাইকিং ও প্রচার চালানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মসজিদ/মন্দির/গির্জা/প্যাগোডার মাইক ব্যবহার করা যেতে পারে এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর/ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।


করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে প্রথম সতর্কতা জারি করা দক্ষিণ আফ্রিকার চিকিৎসক অ্যাঞ্জেলিক কোয়েৎজি জানিয়েছেন, তার কাছে চিকিৎসা নেওয়া সন্দেহভাজন কয়েকজন ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর শরীরে শুধু মৃদু উপসর্গ দেখা গেছে। তারা হাসপাতালে ভর্তি না হয়েই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। খবর এএফপির।

দক্ষিণ আফ্রিকা মেডিকেল এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অ্যাঞ্জেলিক কোয়েৎজি আরও বলেন, গত ১০ দিনে অন্তত ৩০ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি, যারা করোনা পজিটিভ ছিলেন। তাদের শরীরে সামান্য যে অপরিচিত উপসর্গ দেখেছি, সেটি হলো চরম ক্লান্তি। তবে তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গ ছিল একেবারে অস্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, রোগীদের বেশিরভাগই পুরুষ, যাদের বয়স ৪০ বছরের নিচে। তাদের অর্ধেকই করোনা টিকার পূর্ণ ডোজ নিয়েছিলেন। তাদের পেশীতে মৃদু ব্যথা, গলায় খুসখুস ভাব ও শুকনো কাশি ছিল। মাত্র অল্প কয়েকজনের শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বেশি ছিল।

অ্যাঞ্জেলিক কোয়েৎজি গত ১৮ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের করোনার নতুন ধরনের বিষয়ে প্রথম সতর্ক করেন। ওই সময় তিনি ৩০ জন করোনা রোগীর মধ্যে সাতজনের শরীরে অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখতে পান; যা করোনার অন্যান্য ধরনের উপসর্গের চেয়ে ভিন্ন।

করোনার নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অপরদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (ডব্লিউএইচও) শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত এই ধরনকে ‘উদ্বেগজনক ভ্যারিয়েন্ট’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ভ্যারিয়েন্টটির আচরণ বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, বতসোয়ানা, হংকং ও ইসরায়েলসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে ওমিক্রন আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget