Latest Post



কিশোরীকে নদীতে ফেলে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় আসামির রিমান্ড মঞ্জুর ! 


ঠাকুরগাঁওয়ে মাহফুজা আক্তার (১৮) নামে এক কিশোরীকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নদীতে ফেলে হত্যাচেষ্টা মামলায় গুলজান বেগম (ফিরোজাকে) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১ আগস্ট) মামলায় গ্রেফতার আসামি গুলজান বেগমকে আদালতে হাজির করা হলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস রমেশ কুমার ডাগা এ নির্দেশ দেন। 


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক এসআই পিযুষ চন্দ্র সরকার।


গত ২১ জুলাই ভোরে বস্তাবন্দি করে ওই কিশোরীকে নদীতে ফেলে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়রা শহরের টাংগন নদীর পাশ থেকে ওই কিশোরীকে বস্তাবন্দি অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে।


উদ্ধার হওয়া কিশোরী দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার কবিরাজহাট এলাকার বিজয়পুর গ্রামের মোস্তফা কামালের মেয়ে।


 স্থানীয়রা জানান, ঘটনার এক মাস আগে মাহফুজা আক্তারকে লেখাপড়ার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি মাদরাসায় ভর্তি করায় পরিবার। ভর্তির পর ঈদের ছুটি কাটিয়ে মাদরাসায় ফিরলে ২০ জুলাই দিবাগত রাতে মাহফুজাকে একদল যুবক কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে নির্যাতন করে হত্যার উদ্দেশে হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে শহরের টাংগন নদীতে ফেলে দেয়। কিন্তু বস্তা গড়িয়ে নদীর ধারে আটকে থাকে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


ওই কিশোরীর পরিবারের স্বজনরা জানান, মাহফুজাকে মাদরাসায় ভর্তির আগে গ্রামের বাড়ির ভাড়াটিয়া গুলজান বেগম নামে এক নারী মাহফুজার আপত্তিকর ছবি তুলে বিভিন্ন জনের কাছে ছড়িয়ে দেয়। আর সেই ছবি নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা চালায় একদল যুবক।


আরো পড়ুন:



 



কী হলো ভোট দিয়ে, দালান ঘরে থাকা হলো না মা সুরাইয়া


আর কোনোদিনই কোলে উঠবে না বোনটি আমার, বায়নাও ধরবে না কোনকিছুর। কোলে ওঠার জন্য আর কাঁদবেও না সে কখনোই। গ্রামের সব শিশুরা এখনো জেগে আছে, শুধু ঘুমিয়েছে মাটির কোলে বোন সুরাইয়া।’ এই বলে ডুকরে কাঁদছে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া সুমাইয়া আক্তার ।


মেয়ের এমন বুক ফাটা কান্নায় বাদশাহ মিয়াও নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না । তখনি চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমার প্রাণ আর কোনদিনও জাগবে না। আমায় ডাকবে না আর বাবা বলে! ঘুমিয়ে গেছে মাটির কোলে। মিনারা (বাদশার স্ত্রী) যদি ভোটকেন্দ্রে না যেত, তাহলে কী আমার ছোট্ট মাকে আজ হারাতে হতো ? কী হলো ভোট দিয়ে!’ 



বাদশার এমন আকুতিতে ভেঙে পড়েন তাঁর স্ত্রী মিনারা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘কয়েক দিন পর দালান ঘরে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু মা হামার মাটির ঘরে রেখেনু’—

'দালান ঘরে থাকা হলোনা আমার মা সুরাইয়া'র. এই বলে আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন মিনারা। তাঁদের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার আকাশ বাতাস। 


আজ রবিবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে নির্বাচনী সহিংসতায় পুলিশের গুলিতে নিহত সুরাইয়ার বাড়িতে গেলে এই দৃশ্য চোখে পড়ে। শনিবার কুলখানির পর শিশুটির কথা মনে করেই পরিবারের সদস্যসহ স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।


গত বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনের ফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে মীরডাঙ্গী মহেষপুর গুচ্ছ গ্রামের বাদশা মিয়ার ৯ মাসের শিশু সুরাইয়া আক্তার নিহত মারা যায়। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের ফল ঘোষণা শেষে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইভিএম মেশিন নিয়ে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। 


নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী দুই গ্রুপের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শিশু সুরাইয়া নিহত হয়। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পান শিশুটির মা মিনারা বেগম। 


স্থানীয়রা জানান, ভোট দিয়ে মিনারা বেগম তাঁর ফুফুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ভোট শেষে ফলাফল জানার জন্য শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে ওই ইউনিয়নের ভাংবাড়ির ভিএফ নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের আশপাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সে সময় মেম্বারপ্রার্থী আজাদ আলী ও খালেদুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। আহত হন আরও কয়েকজন। 


এ ঘটনা সম্পর্কে রানীশংকৈল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ  বলেন, ‘পুলিশের গুলিতে একটি শিশু মারা গেছে। স্থানীয়রা ভোটের ফল উপজেলায় নেওয়ার পথে বাধা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে গুলি ছুড়তে বাধ্য হয় পুলিশ। এ সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।’ 


রানীশংকৈল উপজেলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘ভোট গণনা শেষে ইভিএমসহ প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের পৌঁছে দেওয়ার পরে পরাজিত মেম্বারপ্রার্থীর সমর্থকেরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ব্যবস্থা নেয় এবং গুলি ছোড়ে। 


অপরদিকে উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নে ভবানিডাঙ্গী এলাকায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ ৯ জন আহত হন। আহতদের ঠাকুরগাঁও এবং রানীশংকৈল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’ 


শিশু সুরাইয়া পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনার সত্যতা উন্মোচনে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রামকৃষ্ণ বর্মণকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন—ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম। 


গত আট মাসে তৃতীয় ও শেষ ধাপে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) অনুষ্ঠিত নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় শিশু ও কলেজশিক্ষার্থীসহ পাঁচজন পুলিশের গুলিতে নিহত হন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে পুলিশসহ ৩০ জন। মামলা হয়েছে প্রায় ১২০০ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে। আসামিরা পুলিশের হয়রানি ও গ্রেপ্তারের ভয়ে বাড়ি ছেড়েছেন। 


ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নির্বাচনী ফলাফল মেনে না নেওয়ার প্রবণতা থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা বেশি ঘটছে। পরাজিত চেয়ারম্যান ও মেম্বারপ্রার্থীর সমর্থকেরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণে লিপ্ত হয়। তবে এ জন্য তিনি পরমত সহিষ্ণুতা কামনা করেন। 


ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সহিষ্ণুতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলের অভাব। আমাদের সুষ্ঠু ধারার সংস্কৃতি লালন এবং পরস্পরের প্রতি আস্থা তৈরি করা প্রয়োজন


আরো পড়ুন:



 



ঝিনাইগাতীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী নিহত


শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ফজল হক (৬৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছে। তিনি উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ডাকাবর গ্রামের মৃত কাজিম উদ্দিনের ছেলে। 

৩০ জুলাই শনিবার রাতে উপজেলা সদরের ডাকাবর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ফজল হক ঝিনাইগাতী - শেরপুর সড়কের ডাকাবর ব্র্যাক অফিসের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় রাংটিয়া থেকে আগত দ্রুতগামী একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়।


এতে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে  শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এদিকে ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনা কবলিত এলাকা থেকে মোটরসাইকেলসহ চালক শান্তকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করে । শান্ত শেরপুর জেলা সদরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।  

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফজল হকের লাশ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল রয়েছে।  ঘটনা’র সত্যতা নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল আলম ভূইয়া বলেন লাশের ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 


আরো পড়ুন:



 



পীরগঞ্জে কবর থেকে ১৯ মৃতদেহের কঙ্কাল চুরি! 

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে রাতের আধারে কবরস্থানের কবর খুরে ১৯টি মৃতদেহের 
১৯টি লাশের কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৯ জুলাই) রাতে উপজেলার পৌর-শহরের পীরডাঙ্গী গোরস্থানে এ ঘটনাটি ঘটে। 


 কবরস্থানে মাটি দিতে আসা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি আমার নানী শাশুড়ীর দাফন সম্পন্ন করার জন্য করবস্থানে আসি ৷ মাটি দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলাম একসাথে অনেকগুলো কাপড় পরে আছে। 
তিনি বলেন, ‘ প্রথমে একটু ভয় পেয়েছিলাম। পরে কয়েকজনকে ডাকলাম। তারা এলে কাছাকাছি গিয়ে দেখি সেখানে তোয়ালে, টাউজারসহ অনেকগুলো পোশাক পড়ে আছে আর কবরগুলোর বেড়া ভাঙা। ভেতরে গিয়ে দেখি ১৯টি কবর থেকে কঙ্কাল চুরি হয়ে গেছে। 


স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কঙ্কাল চুরির পর হয়তো পোশাক পরিবর্তন করে এখান থেকে চলে যায়।


বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই খবরটি পাওয়া মাত্রই আমি গোরস্থান পরিদর্শনে করেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত  জানাতে কিছু সময় লাগবে।


আরো পড়ুন:



 



ঝিনাইগাতীতে চাঞ্চল্যকর মিম হত্যা মামলার মূল আসামী গ্রেপ্তার - র‍্যাবের প্রেস ব্রিফিং


শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বস্তাবন্দি অবস্থায় পুকুরের পানি থেকে মিম আক্তার নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আল আমিন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ঘাগড়া কামারপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


আজ বুধবার সকালে শেরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং এ র‍্যাব-১৪ সিপিসি-১ কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান জানায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ভিকটিমকে ফুসলিয়ে নিয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলার বাকাকুড়া এলাকার কালঘোষা নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। 


পরে ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে ভিকটিমের গলায় উড়না পেচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মিমের লাশ বস্তাবন্দি করে পার্শ্ববর্তী সাঈদ মিয়ার পুকুরে নিয়ে ফেলে রাখে। র‍্যাবের নিজস্ব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামি আল আমিনকে দ্রততম সময়ের মধ্যে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।


উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রোববার বিকেলে উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের বাকাকুড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে বাকাকুড়া আদর্শগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মিম আক্তারের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় স্কুলছাত্রীর পিতা মমিন মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ঘটনার বিষয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাবে-১৪।


আরো পড়ুন:



 



এই ভোট আমার নিষ্পাপ শিশুটিকে কেড়ে নিল 


চিকিৎসাধীন স্বামীর বেডের পাশে বসে আহাজারি করছেন নিহত শিশুটির মা মিনারা বেগম। পুলিশের গুলিতে নিহত শিশু সুরাইয়া বেগমের মা মিনারা বেগমের কান্না থামছেই না। রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন স্বামীর বিছানার নিচে বসে অনবরত কান্না করছেন তিনি। আত্মীয়স্বজন কাউকে দেখলেই ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠছেন। পাগলের প্রলাপের মতো বলছেন, ‘আমার মা তো সকাল হলেই খেলাধুলা করত, ঘুরে বেড়াত। এ নির্বাচন আমার মাকে কেড়ে নিল। এই ভোট আমার নিষ্পাপ শিশুটিকে কেড়ে নিল।’ 



প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হলে মিনারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘নির্বাচন শেষে আমি ভাংবাড়ি ব্রিজের পাশের বাড়িতে আমার মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ব্রিজের কাছে খুব হট্টগোল শুরু হলে আমি আরেকটু সরে দাঁড়াই। এ সময় পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সংঘর্ষে লেগে গেলে আমি একটি বাড়ির দরজায় গিয়ে দাঁড়াই। একপর্যায়ে পুলিশ গোলাগুলি শুরু করে। আচমকা একটি গুলি এসে আমার মেয়ে সুরাইয়া বেগমের মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই আমি চিৎকার দিয়ে মেয়েকে নিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। ঘটনাস্থলেই আমার মেয়ে মারা যায়।’ 


মিনারা বেগম আরও বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে সুরাইয়া সবার ছোট। বড় মেয়ে সুমাইয়ার বয়স আট বছর। সে মীরডাঙ্গী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ছেলে মেরাজুল ইসলাম সবার বড়। সে মীরডাঙ্গী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। আমরা মীরডাঙ্গী ঈদগাহ বস্তি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা। মূলত আমরা স্বামী স্ত্রী মিলে ভাংবাড়ি ভিএফ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে গিয়েছিলাম। ভোট শেষে ফলাফল শুনে আসার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।’ 



শিশুটির বাবা বাদশাহ জানান, ঘটনাস্থলে তিনিও ছিলেন। পুলিশের টিয়ারশেল ও গুলির ভয়ে তিনি দৌড়ে পালান। একপর্যায়ে তিনি শুনতে পান তাঁর ছোট মেয়ে পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। পরে তিনি কাছে এসে দেখেন তাঁর মেয়ের মাথা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে মরদেহ পড়ে আছে। তা দেখে তিনি তাৎক্ষণিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। 


শিশুটির বাবা হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে প্রতিবেদককে বলেন, ‘গতকাল বুধবার রাতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উঠে সবার প্রথম আপনার সঙ্গেই কথা বলছি। আপনাকে বোঝাতে পারব না আমার ভেতরে কী হচ্ছে। এভাবে পুলিশ আমার শিশুটিকে গুলি করে মেরে দিল, আর তা আমাদের চেয়ে চেয়ে দেখতে হলো। এ যেন অসহ্য যন্ত্রণা। বারবার মায়ের মুখ আমার চোখের সামনে ভাসছে। তাকে যে আমি ভুলতে পারছি না। কি করে যে আমার মিষ্টি মায়ের মুখখানা ভুলব তা ভাবতে পারছি না। আল্লাহ আমার মাকে যেন পরপারে সুখে রাখেন।’ 


উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার ভোটগ্রহণ শেষে তালা প্রতীকের প্রার্থী বাবুল প্রার্থীকে ইউপি সদস্য হিসেবে জয়ী ঘোষণা করেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা খতিবর রহমান। ফলাফল ঘোষণার পর মোরগ প্রতীকের প্রার্থী খালেদুর রহমান ও ফুটবল প্রার্থী আজাদ পুনরায় ভোটগণনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেন। এ সময় তাঁরা অনুরোধ রাখার আশ্বাস দিলেও হঠাৎ করেই নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে কেন্দ্র থেকে চলে আসতে চাইলে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকেরা তাঁদের গাড়ি আটকে দেন। এ সময় পুলিশ প্রথমে টিয়ারশেল পরে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। সেই গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় শিশু সুরাইয়া। 


এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় পুলিশের একটি মাইক্রোসহ দুজন পুলিশকে বেধড়ক মারধর করেন উত্তেজিত জনতা। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহার নেতৃত্বে রানীশংকৈল থানার ওসিসহ দুই গাড়ি বিজিবি ও পুলিশ সদস্য গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।


আরো পড়ুন:



Holy Foods ads

Holy Foods ads

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget